নান্দনিক সিঁড়ি

নানা রকম সিঁড়ি
সিঁড়ির যত কথা

বহুতল ভবনের একতলা থেকে অন্য তলায় বা এক মেঝে থেকে অন্য মেঝেতে নিরাপদে ও অনায়াসে যাতায়াতের জন্য কতকগুলো ধাপের সাহায্যে যে পথ নির্মাণ করা হয়, তাকে সিঁড়ি বা স্টেয়ার বলে। অর্থাৎ কোনো দালানের একতলা থেকে অন্য তলায় যাতায়াত করার জন্য এক সেট স্টেপকে স্টেয়ার বা সিঁড়ি বলে। আর নির্দিষ্ট মাপের এ পথ নির্দিষ্ট উচ্চতা ও চওড়ায় হয়। এটা একটা স্থায়ী কাঠামো এবং অনেক ধাপের সমন্বয়ে গঠিত। এটা এমনভাবে ডিজাইন করা হয়, যাতে সহজে ওপরে ওঠা এবং নিচে নামা যায়।

সিঁড়ির অবস্থান

বিল্ডিংয়ের ধরনের ওপর সিঁড়ির অবস্থান নির্ভর করে। যদি আবাসিক ভবনের সিঁড়ি হয় তবে সিঁড়ির অবস্থান হবে কেন্দ্রস্থলে। পাবলিক বিল্ডিং হলে সিঁড়ির অবস্থান হবে রাস্তার দিকে। যাতে সহজেই লোকজন রাস্তা থেকে দালানের বিভিন্ন তলায় যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন সিঁড়িঘরে সহজে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। আবাসিক দালানে দুটি সিঁড়ি হলে দালানের দুদিকে বসানো উচিত। আবাসিক দালানের ক্ষেত্রে সিঁড়ির প্রশস্ততা ৯০ সে.মি. এবং পাবলিক বিল্ডিংয়ে ১.৫০ মিটার দেওয়া উচিত।

ভালো সিঁড়ির বৈশিষ্ট্য

সিঁড়ি তৈরির সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রাখতে হয়-

অবস্থান : ভালো সিঁড়ির জন্য অবশ্যই এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে, যেখানে প্রচুর আলো-বাতাস পাওয়া যায় এবং সেখান থেকে সহজেই ভবনের বিভিন্ন তলায় ওঠানামা করা যায়।

সিঁড়ির প্রস্থ : সিঁড়ি দিয়ে সহজে এবং নিরাপদে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রশস্ত হওয়া দরকার। আবাসিক ভবনের জন্য সিঁড়ির প্রস্থ ৯০ সে.মি. এবং পাবলিক বিল্ডিংয়ের জন্য সিঁড়ির প্রস্থ ১.৫ মিটার হতে ১.৮ মিটারের মধ্যে হওয়া উচিত।

সিঁড়ির ঢাল : ওঠানামার সুবিধার জন্য সিঁড়ি যেন বেশি খাড়া না হয়। অর্থাৎ সিঁড়ির ধাপতল যেন বেশি খাড়াই কোণে না থাকে। কারণ, আনুভূমিক পথের চেয়ে উল্লিম্বিক পথে চলার জন্য দ্বিগুণ পরিশ্রম হয়। তাই সিঁড়ির ঢাল ৩০০-৪৫০ কোণে থাকা উচিত।

ফ্লাইটের দৈর্ঘ্য : ওঠানামার সুবিধার জন্য অর্থাৎ আরামপ্রদ করার জন্য প্রতিটি ফ্লাইটে ১০-১২টি ধাপ রাখা শ্রেয়। আর তিনটির কম রাখা উচিত নয়।

আরসিসি সিঁড়ি

হেড রুম : সিঁড়িতে যথেষ্ট হেড রুম থাকা উচিত, যাতে লম্বা লোকের মাথায় ল্যাগেজ নিয়ে ওঠানামা করতে অসুবিধা না হয়। তাই এটা কমপক্ষে ২.১ মিটার থেকে ২.৩ মিটার হওয়া উচিত।

ল্যান্ডিং : ল্যান্ডিংয়ের চওড়া যেন ফ্লাইটের চওড়ার চেয়ে কম না হয়।

ত্রিকোণ ধাপ : সিঁড়িতে ত্রিকোণ ধাপ যতদূর সম্ভব এড়ানো উচিত।

রেইলিং : সিঁড়ি থেকে যাতে পড়ে না যায় সে জন্য অবশ্যই সিঁড়িতে রেইলিং ব্যবহার করতে হবে।

মালামাল : সিঁড়ি নির্মাণে এমন মালামাল নির্বাচন করা উচিত, যাতে সহজে আগুন ধরে না এবং যথেষ্ট শক্তিশালী হয়।

ধাপের আকার : দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ট্রেড ও রাইজারের মধ্যকার সম্পর্ক ঠিক রাখা উচিত।

ট্রেড ও রাইজারের মধ্যকার সম্পর্কগুলো নিম্নরূপ-

একটি গোয়িং এবং দুটি রাইজারের সমষ্টি ৫৬ থেকে ৬১-এর মধ্যে হবে।
গোয়িং (ট্রেড) + ২ + রাইজ = ৬০ সে.মি.

ট্রেড এবং রাইজারের গুণফল ৪০০ থেকে ৪৫০-এর মধ্যে হবে।

ট্রেড রাইজ = ৪০০ থেকে ৪৫০

একটি ট্রেড এবং রাইজারের যোগফল ৪০ থেকে ৪৫-এর মধ্যে হবে।

ট্রেড + রাইজার = ৪০ থেকে ৪৫

আবাসিক গৃহের স্টেপ ১৬X২৬ সে.মি.

হাসপাতালের স্টেপ ১০X৩০ সে.মি.

পাবলিক বিল্ডিংয়ে সিঁড়ির প্রচালিত মাপ ২৭X১৫ সে.মি.  থেকে ৩০X১৪ সে.মি. হয়।

বসত বাড়ির প্রচলিত মাপ ২৫X১৬ সে.মি.।

সিঁড়ির শ্রেণী বিভাগ

আকার আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে সিঁড়িকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

পেঁচানো সিঁড়ি

একমুখী সিঁড়ি

টার্নিং সিঁড়ি

টার্নিং সিঁড়ি আবার পাঁচ প্রকারের

১। কোয়ার্টার টার্ন সিঁড়ি

নিউয়েল কোয়ার্টার টার্ন সিঁড়ি

জিওমেট্রিক্যাল কোয়ার্টার টার্ন সিঁড়ি

২। হাফ টার্ন সিঁড়ি

ডগ্-লেগড্ বা নিউয়েল হাফটার্ন সিঁড়ি

ওপেন নিউয়েল হাফটার্ন সিঁড়ি

জিওমেট্রিক্যাল হাফটার্ন সিঁড়ি

৩। থ্রি-কোয়ার্টার টার্ন সিঁড়ি

৪। বাইফারকেটেড সিঁড়ি

৫। কনটিনিউয়াস বা জিওমেট্রিক্যাল সিঁড়ি

সার্কুলার সিঁড়ি

স্পাইরাল সিঁড়ি

হেলিক্যাল সিঁড়ি

হরেক রকমের সিঁড়ি

একমুখী সিঁড়ি

যেসব সিঁড়ির ধাপগুলো একই দিকে থাকে অর্থাৎ সিঁড়ির ধাপগুলো একমুখী। সিঁড়িগুলো বাড়ির এক তলা থেকে অন্য তলায় সোজা হয়ে উঠে যায় অথবা ওপরে ওঠার সময় বিশ্রাম নেওয়ার জন্য মাঝে একটি অথবা দুটি ল্যান্ডিং আছে, এ ধরনের সিঁড়িকে একমুখী সিঁড়ি বলে। এ ধরনের সিঁড়িতে মোড় ঘুরতে হয় না। এ ধরনের সিঁড়ি সাধারণত পুকুর ঘাটে, নদীর ঘাটে, পাহাড়ি এলাকায় উঁচু স্থানে ওঠানামার জন্য ব্যবহার করা হয়। যেসব জায়গায় লোক চলাচল কম বা সিঁড়ি নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায় না, সেখানে এ ধরনের সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়।

হরেক রকম কাঠের সিঁড়ি

নিউওয়েল কোয়ার্টার টার্ন সিঁড়ি

যখন ফ্লাইটের দিক সমকোণে অর্থাৎ ৯০ ডিগ্রিতে পরিবর্তন করা হয়, তখন তাকে কোয়ার্টার টার্ন সিঁড়ি বলে। দিক পরিবর্তনের সময় কোয়ার্টার স্পেস ল্যান্ডিং ব্যবহার করা হয়।

জিওমেট্রিক্যাল কোয়াটার টার্ন সিঁড়ি

এ জাতীয় সিঁড়িতে কনটিনিউয়াস হ্যান্ড রেইল থাকে। এতে কোনো ল্যান্ডিংয়ে কোনো নিউয়েলপোস্ট ব্যবহার করা হয় না। এতে সব ধাপ উইন্ডার ধাপ। এটা পাবলিক বিল্ডিংয়ে ব্যবহার করা হয়। (ঋরম)

ডগ্-লেগড সিঁড়ি

যখন এক ফ্লাইট থেকে অন্য ফ্লাইটে যেতে হলে বিপরীতমুখী হয়ে বা ১৮০ ডিগ্রি কোণে দিক পরিবর্তন করতে হয়, তখন ডগ্-গেলড সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়। ওপেন নিউয়েল হাফ টার্ন সিঁড়ি

যখন একই সিঁড়িঘরে সিঁড়ি নির্মাণ এবং লিফট সংস্থাপনের প্রয়োজন হয় তখন এ জাতীয় সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়। লিফট বসানোর জন্য আয়তকার জায়গা রেখে তার চতুর্দিকে ঘুরিয়ে ফ্লাইট তৈরি করা হয়। প্রতিটি ফ্লাইটের দিক পরিবর্তনের স্থানে ল্যান্ডিংয়ের জায়গা দেওয়া হয়। সাধারণত পাবলিক বিল্ডিংয়ে এ ধরনের সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়।

থ্রি-কোয়ার্টার টার্ন সিঁড়ি

একতলা থেকে অন্য তলায় যাওয়ার জন্য যেসব সিঁড়িতে তিনবার সমকোণে দিক পরিবর্তন করতে হয়, তাকে থ্রি-কোয়ার্টার টার্ন সিঁড়ি বলে। যখন সিঁড়িঘরের দৈর্ঘ্য সীমিত থাকে এবং দুই মেঝের মধ্যবর্তী উচ্চতা খুবই বেশি থাকে, তখন এ জাতীয় সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়।

বাইফারকেটেড সিঁড়ি

যে সিঁড়িতে প্রথমে এক সেট চওড়া ধাপের মাধ্যমে ল্যান্ডিং পর্যন্ত উঠে তার দুই বিপরীত প্রান্ত থেকে অপেক্ষাকৃত কম চওড়াবিশিষ্ট দুটি ফ্লাইটের সাহায্যে উপরিতলে ওঠার ব্যবস্থা থাকে, তাকে বাইফারকেটেড সিঁড়ি বলে। এ সিঁড়ির প্রথম সারির সোজা ধাপ চওড়ায় অপেক্ষাকৃত বড় হয়। তারপর ল্যান্ডিংয়ের প্রান্ত থেকে সমকোণে দুই সারি ধাপ দুই পার্শ্বে উঠে যায় আর চওড়া অপেক্ষাকৃত ছোট হয়। অত্যাধুনিক অভিজাত পাবলিক বিল্ডিংয়ে এ সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়। তা ছাড়া পাবলিক বিল্ডিংয়ের হলরুমের প্রবেশপথে, মার্কেটে, ওভারব্রিজে ব্যবহার করা হয়।

কাচ-স্টিল ফ্রেমের নান্দনিক সিঁড়ি

জিওমেট্রিক্যাল সিঁড়ি

নিউয়েল পোস্টবিহীন, অবিচ্ছিন্ন হ্যান্ড রেইল এবং স্ট্রিংয়ের সমন্বয়ে জ্যামিতিক সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়। এতে কোনো ল্যান্ডিং থাকে না। এটা বৃত্তাকার পাইরাল ও হেলিক্যাল আকারের থাকে।

বৃত্তাকার সিঁড়ি

মধ্যখানে বৃত্তাকার জায়গা রেখে তার চারদিকে ঘুরিয়ে সিঁড়ি প্রদান করাকে বৃত্তাকার সিঁড়ি বলে। এ প্রকার সিঁড়ির প্রতিটি ধাপে উইন্ডার হবে। প্রয়োজনীয় জায়গা না থাকলে পোস্টের চতুর্দিকে ওয়াইন্ডার ধাপ প্রদান করে সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়, তাকে পাইরাল সিঁড়ি বলে। অর্থাৎ সিঁড়ি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া না পাওয়া গেলে তখন কাঠামোর বাইরে কোনো সু-উচ্চ স্থানে আরোহণের জন্য এ স্পাইরাল সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়। এটা সাধারণত আরসিসি বা কাঠের অথবা মেটালের হয়। বৃত্তাকার সিঁড়ি দেখতে খুবই সুন্দর হয়। এটা কাঠামোর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। পানির ট্যাংকের ওপরে ওঠার জন্য, মসজিদের মিনারে ওঠার জন্য, দালানের সামনে বা পেছনের দিকে ইত্যাদি জায়গায় এ জাতীয় সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়।

হেলিক্যাল সিঁড়ি

এ প্রকার সিঁড়ি দেখতে খুবই সুন্দর এবং কাঠামোগত ডিজাইন এবং নির্মাণ খুবই কঠিন। এটি আরসিসির তৈরি বেন্ডিং, শিয়ার এবং টরশন প্রতিরোধ করতে প্রচুর পরিমাণে বৃহত্তর অংশজুড়ে রড ব্যবহার করা হয়। যার ফলে এ সিঁড়ির নির্মাণ খরচ অনেক বেশি হয়। বর্তমানে সৌন্দর্যবর্ধক ডিজাইনে হেলিক্যাল সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়।

মালামালের ওপর ভিত্তি করে সিঁড়ির প্রকারভেদ 

ব্যবহৃত মালামালের ওপর ভিত্তি করে সিঁড়িকে নিম্নলিখিতভাবে ভাগ করা হয়। যথা :

১। কাঠ বা টিম্বার সিঁড়ি

২। পাথরের সিঁড়ি

৩। ইটের সিঁড়ি

৪। স্টিলের সিঁড়ি

৫। আরসিসি সিঁড়ি

টিম্বার সিঁড়ি

যেখানে সস্তায় কাঠ পাওয়া যায় সেখানে এ জাতীয় সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়। এটা তৈরি করা সহজ এবং ওজনে হালকা হয়। এটা ছোট আবাসিক দালানে ব্যবহার করা হয়। কাঠের সিঁড়িতে ব্যবহারের আগে কাঠকে পোকামাকড় প্রতিরোধক প্রলেপ লাগানো উচিত। তবে কাঠ অগ্নি-প্রতিরোধে সহায়ক নয়, তাই উচ্চ আবাসিক দালানে এবং পাবলিক বিল্ডিংয়ে এ জাতীয় সিঁড়ি ব্যবহার করা হয় না।

পাথরের সিঁড়ি

পাথর নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে সবচেয়ে মজবুত ও স্থায়িত্বশীল সামগ্রী। পাথরের সিঁড়ি অগ্নিনিরোধক এবং সৌন্দর্যবর্ধক। যেখানে পাথর সহজলভ্য ও সস্তা সেখানে পাথরের সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়।

পাথরের সিঁড়ির ধাপগুলো নিম্নলিখিত প্রকারের হতে পারে-

ক) আয়তকার ধাপ

খ) স্প্যান্ড্রিল ধাপ

গ) স্ল্যাব ট্রেড এবং রাইজার ধাপ

ঘ) ক্যান্টিলিভার ট্রেড ধাপ

ঙ) বিল্টআপ ধাপ।

ইটের সিঁড়ি

প্রবেশপথ ব্যতীত এ সিঁড়ি ব্যবহার করা হয় না। ইটের সিঁড়ি সলিডভাবে মাঝখানে আর্চ নির্মাণ করা হয়। ইটের গাঁথুনি করে আর্চের সাহায্যে দুই পাশে ইটের গাঁথুনির মধ্যে যাতায়াতের পথ রাখা হয়। বর্তমানে এ ধরনের সিঁড়ির ব্যবহার নেই বললেই চলে।

মেটাল সিঁড়ি

এ ধরনের সিঁড়ি ফ্যাক্টরি, ওয়ার্কশপ, গোডাউন ইত্যাদি জায়গায় ব্যবহার করা হয়। এটা খুবই মজবুত, টেকসই এবং অগ্নিপ্রতিরোধক গুণসম্পন্ন। সাধারণত, বসতবাড়ি বা পাবলিক বিল্ডিংয়ে এ জাতীয় সিঁড়ি ব্যবহার করা হয় না। এ সিঁড়িতে দুই পাশে আই সেকশন চ্যানেল বসিয়ে স্টিগার তৈরি করা হয়। এখানে আরএস জয়েস্ট খাড়া পিলারের কাজ করে। এ জয়েস্ট ভূমিতল থেকে সিঁড়িঘরের মাথা পর্যন্ত খাড়া চলে যায়। সিঁড়ি তৈরিতে মাইল্ড স্টিল, কাস্ট আয়রণ ব্যবহার করা হয়। রিবেট অথবা ওয়েল্ডিং করে সিঁড়ি তৈরি করা হয়।

কংক্রিটের তৈরি পুরানো সিঁড়ি

আরসিসি সিঁড়ি

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত আরসিসি সিঁড়ি। বসতবাড়ি, পাবলিক বিল্ডিং, ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপকভাবে এ সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়। এটা শক্তিশালী উত্তম ক্ষয় এবং অগ্নি প্রতিরোধক। ১ : ২ : ৪ অনুপাতে সিমেন্ট, বালু ও পাথরকুচি বা ইটের খোয়ার সংমিশ্রণে মিশ্রিত মসলায় রিইনফোর্স সহযোগে কংক্রিট ঢালাই করে প্রয়োজনীয় মাপে ধাপ, রেলিং ইত্যাদি তৈরি করা হয়। এ সিঁড়ি কাস্ট ইন সিটু হয়ে থাকে এবং বিভিন্ন প্রকারের সমাপক কাজ করা হয়। নিম্নলিখিত সুবিধার জন্য আরসিসি সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়। 

যথা :

এটা প্রয়োজনীয় আকার-আকৃতিতে তৈরি করা যায়।

এটা মজবুত, স্থায়ী, পিচ্ছিল এবং দেখতে সুন্দর।

ফ্রেমড্ স্ট্রাকচারে কেবল আরসিসি সিঁড়ি গ্রহণযোগ্য।

এটা উত্তম অগ্নিনিরোধক গুণসম্পন্ন।

যাবের পুরুত্ব কম হওয়ায় হেড রুম বেশি পাওয়া যায়।

এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ খুবই কম।

এর চিত্তাকর্ষক, মনোমুগ্ধকর সমাপনী কাজ করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়।

এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ খুবই কম।

  • প্রকৌশলী সুবীর

প্রকাশকাল: বন্ধন ৩৭ তম সংখ্যা, মে ২০১৩

Related Posts

জাপানি ভাবনায় পুনর্নির্মিত এক স্থাপত্য 

লন্ডনের ইজলিংটনে অবস্থিত একটি গ্রেড-টু তালিকাভুক্ত দেরি জর্জিয়ান টেরেস বাড়িকে Studio Hagen Hall নতুনভাবে রূপ দিয়েছে। “হেইওন হাউস”…

ডিজাইন উইকের সেরা ৮টি নতুন ফার্নিচার

ঘরের পরিবেশ, প্রতিবেশ আর সাজসজ্জা আমাদের নানাভাবেই প্রভাবিত করে। কিভাবে সাজাবেন ঘর, কেমন হওয়া উচিত গৃহসজ্জার সামগ্রী, আপনি…

বৈশাখী অন্দরসজ্জার টিপস

বৈশাখ মানেই উৎসব। বৈশাখ মানেই কৃষকের ঘরে ঘরে আনন্দের জোয়ার। তবে বৈশাখ শুধু কৃষকের ঘরেই থেমে নেই্। ছড়িয়ে…

বৈশাখী আমেজে ঘর সাজানোর সহজ উপায়

পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। নতুন বছরের প্রথম দিনে ঘরের ভেতরেও যদি লেগে থাকে লাল-সাদা রঙের উচ্ছ্বাস, লোকজ…

নির্মাণে উচ্চশক্তির রড ব্যবহারে বিএনবিসি কোড

কি সত্যিই অন্তরায়? ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে উঠে আসা পৃথিবীর ১৯৫টি দেশের মধ্যে ৩২তম শক্তিশালী দেশ বাংলাদেশ।…

প্লাস্টার ও প্লাস্টারে ফাটল

একটি ইমারতের ইটের গাঁথুনি কিংবা অমসৃণ কংক্রিটকে মসৃণ করতে সিমেন্ট-বালুর মিশ্রণে যে বহিরাবরণ দেওয়া হয়, তার নামই প্লাস্টার…

নগর পরিকল্পনায় বিবেচ্য বিষয়াদী

নগর পরিকল্পনা একটি কারিগরী ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ভূমির ব্যবহার এবং নাগরিক জীবনব্যবস্থার নকশা প্রণয়ন করা হয়।…

বৃষ্টির দিনে কংক্রিটিং

কয়েক দিন আগে একজনের কাছ থেকে জানতে পারলাম, তার বাসার তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের ৪০-৫০ মিনিট পর বৃষ্টি…

 ছাদে লিকেজ হলে…

আপনি হয়তো নান্দনিক একটি বাসায় থাকেন! কিন্তু বর্ষা এলেই অস্বস্তিতে ভোগেন। কারণ ভবনের কংক্রিট ছাদ থেকে চুইয়ে অবাঞ্ছিত…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *