বৈশাখ মানেই উৎসব। বৈশাখ মানেই কৃষকের ঘরে ঘরে আনন্দের জোয়ার। তবে বৈশাখ শুধু কৃষকের ঘরেই থেমে নেই্। ছড়িয়ে গেছে গোটা বিশ্বের বাঙালির প্রাণে প্রাণে।
আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। ভোর শুরু হতে না হতেই তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে চারদিকে বৈশাখী উৎসব পালনের। সেজে উঠেছে শিল্পকলা, চারুকলা আর ঘরের অন্দর। আপনার অন্দরমহল কি বৈশাখের ছোঁয়া পেয়েছে?
বাঙালি নারী শুধু ঘরের শোভাই নয়। ঘরের শোভা বর্ধনে নারীদের কসরত অনেক। সব কসরতের সবচেয়ে প্রধান হলো গৃহসজ্জা। স্রষ্টা নারীদের যেনো শিল্পী হিসেবেই পাঠিয়েছেন দুনিয়াতে।
ঘর সাজাতে নারীর নিপুণ হাতের জাদুকরী ছোঁয়া থাকতেই হয়। উৎসবের রঙে ঘরকে কিভাবে রঙিন করে তুলতে তারা তা ভালোই জানেন। বৈশাখী অন্দরে নারীর হাতের সজ্জা আমাদের জানান দেয় ষোলআনা বাঙালিয়ানার কথা। বৈশাখী উৎসবের কথা তো বলাই বাহুল্য।
তবে অনেকেই আছেন যাদের কোন ধারণা নেই বৈশাখে কিভাবে সাজাবেন অন্দর। তাদের জন্যই কিছু ধারণা দিচ্ছি।
নারী-পুরুষ বিভেদ নেই। অন্দরসজ্জায় হাত লাগাতে পারেন যে কেউই। তবে পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির প্রাণের স্পন্দন। সব জরাজীর্ণ দূরে ঠেলে নতুন সাজে সাজিয়ে নিতে হবে।
বৈশাখের অন্দর সজ্জায় বাহারি রঙে রঙিন করতে হবে ঘর। বসার ঘর, রান্না ঘর, শিশুদের ঘর, বৈঠকখানা এমনকি বাড়ান্দায় আনতে পারেন সাজের বৈচিত্রতা।
প্রথমেই রঙিন পর্দায় ঠেকে ফেলতে পারেন দেয়ালে ঝুলানো জানালাগুলো। পর্দার কাপড় যে কোন মানেরই হোক পর্দায় রঙের ব্যবহারের আধিক্য যেনো থাকতেই হবে।
বসার ঘরে (ড্রয়িং রুমে) সোফার পুরনো কুশনগুলো বদলে ফেলুন। হাতি, ঘোড়া, হাতপাখা, ঘুড়ি ইত্যাদি বাঙালিয়ানার প্রতীকী নকশাযুক্ত কুশন ব্যবহার করতে পারেন। হোক সেগুলো সুঁই-সুতোর কাজ কিংবা জলরঙের।
ড্রংয়িং রুমে দুয়েকটা শিকা রাখতেই পারেন। পাটের তৈরি রঙিন শিকায় আল্পনায় রাঙা দুয়েকটি মাটির কলস ঝুলে থাকা মন্দ না। দামি বার্মাটিক সেগুনের বুক সেলফের পাশাপাশি একটি বাঁশের তৈরি বাহারী রঙের বেতর নকশা করা বুক সেলফ দেয়ালের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলবে বহুগুণে।
বসার ঘর তো হয়েই গেলো। বাকি থাকলো ডাইনিং টেবিল। মাটির বাসন বাঙালির শত সহস্র বছরের পুরনো ঐতিহ্য। বছরে আর কোনদিন ব্যবহার না করলেও অন্তত এ দিনে ডাইনিং টেবিল সাজাতে পারে মাটির বাসন, বাটি, চামচ আর জগ, গেলাসে।
প্লাস্টিকের টেবিল ম্যাটটি আর কত দিন? সাদা কাপড়ে রঙিন সুতোর সুঁই ফোঁড়ে কিছু লতাপাতা সাজাতে পারেন টেবিল টপের শোভা বর্ধনে। ঘরে যদি ডাইনিং টেবিলই না-ই থাকে তবে কোন ব্যাপারই নয়। শীতলপাটি নিশ্চয়ই আছে?
বৈশাখী অন্দর সজ্জায় আল্পনার কথা কী আর বলবো। বাড়ান্দার সিড়ি থেকে শুরু করে পুরো বাড়ান্দায় আল্পনা না থাকলে যেনো বুঝাই যায় না বৈশাখ এসেছে। সাদা, লাল, হলুদ, নীল আর কলাপাতা রঙের আল্পনায় বাড়ান্দা রাঙিয়ে নিতে ভুল করেননি তো?
তবে বাড়ান্দায় আরও কিছু সজ্জা করাই যায়। সিড়ির দুই পাশে টবে লাগানো দুটি সবুজ গাছ লাগবেই। টবটি পাথর আর বাহারি রঙের আল্পনায় সাজালে আরও ভালো লাগবে। আল্পনা না হলে অন্তত চুনা পাথরের শুভ্রতায় ঢেকে দিন টব ও গাছের গুড়ির কিছু অংশ। বাড়ান্দায় পাটের ছোট ছোট শিকায় মাটির হাড়ি ঝুলাতে পারেন।
শোবার ঘরে বেশি কিছু না করলেও অন্তত উজ্জ্বল রঙের বিছানার চাদর, বালিশের কভার ব্যবহার করতে পারেন। যদি হালকা রং ব্যবহার করতে চানই তবে অবশ্যই মোটিফসের ডিজাইন আছে এমন কিছু ব্যবহার করার পরামর্শ থাকলো। কিছু আভিজাত্য তো বজায় রাখতেই হবে মেঝেতে। সহজেই আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলতে মেঝেতে পেতে দিন বাহারি রঙের শতরঞ্জি।
বৈশাখে ঘর সাজাতে এই টিপসগুলো আশা করি আপনার অন্দরের চেহারা বদলে দেবে। বাংলা নববর্ষ আপনার অন্দরে বয়ে আনুক অবারিত সুখ, শান্তি আর সমৃদ্ধি। শুভ বাংলা নর্ববর্ষ।