স্থাপনার সৌন্দর্যে টাইলসের জুড়ি মেলা ভার। আর তাই স্থাপনা নির্মাণে টাইলস এখন অত্যন্ত জনপ্রিয় নির্মাণ উপকরণ। সব ধরনের ভবনে এখন সিরামিক, গ্রানাইট, মার্বেল ও ক্লে টাইলসের ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণে। আগে মর্টারের সাহায্যে টাইলস স্থাপিত হলেও অধিক কার্যকর হওয়ায় এখন ব্যবহৃত হচ্ছে টাইলস অ্যাডহেসিভ। টাইলস অ্যাডহেসিভের আদ্যন্ত এবারের আয়োজনে।
টাইলস অ্যাডহেসিভ
অ্যাডহেসিভ হচ্ছে এক ধরনের আঠালো উপাদান, যা সিমেন্ট ও বালুর সঙ্গে মিশিয়ে টাইলস স্থাপন ও ফিনিশিংয়ের কাজ করা হয়। অ্যাডহেসিভকে কেউ কেউ কনবেসও বলে থাকে। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির রেডিমেড অ্যাডহেসিভ পাওয়া যায়। উন্নত দেশে সাধারণত এই অ্যাডহেসিভ দিয়েই টাইলস লাগানো হয়। বাংলাদেশের বাজারে বার্জার, খাদেম, কনবেসসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অ্যাডহেসিভ পাওয়া যায়। সাধারণত ২৫ কেজির প্যাকেটেই বিক্রি হয় এই নির্মাণ উপকরণটি।
কাভারেজ
২৫ কেজির এক প্যাকেট অ্যাডহেসিভ দিয়ে ২০-২৫ বর্গফুট টাইলস লাগানো যায়। সাধারণত টাইল লাগানোর সময় ৫-৮ মিলিমিটার পুরুত্বে লাগাতে হয়। বালু, সিমেন্ট ও অ্যাডহেসিভ মিশিয়ে টাইল লাগানোর ক্ষেত্রে বালু ৩ ঘনফুট, সিমেন্ট ৫০ কেজি ও অ্যাডহেসিভ ১০ কেজি একত্রে মিশিয়ে টাইলস লাগাতে হয়। ৫-৬ মিলিমিটার পুরুত্বে ২-২.১ বর্গফুটের জন্য মিশ্রণ প্রয়োজন হয় ১ কেজি।
টাইলস অ্যাডহেসিভের দরদাম
| ক্রমিক | কোম্পানি | ওজন | দাম |
| ১ | বার্জার | ২৫ কেজি | ৫২৫-৬০০ টাকা |
| ২ | খাদেম | ২৫ কেজি | ৬০০-৬৫০ টাকা |
| ৩ | কনবেস | ২৫ কেজি | ৬০০-৬৫০ টাকা |
এর বাইরেও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির অ্যাডহেসিভ বাজারে পাওয়া যায়। তবে আমাদের দেশে মিস্ত্রিরা এই তিন কোম্পানির অ্যাডহেসিভই বেশি ব্যবহার করেন।
অ্যাডহেসিভ নিয়ে দুটি কথা
সনাতন পদ্ধতিতে শুধু সিমেন্ট-বালু দিয়ে টাইলস লাগালে টাইলস থিকনেস হয় সাধারণত দুই থেকে তিন ইঞ্চি পুরু। এতে ভবনের ওপরে লোড বেড়ে যায়, যা পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। আর টাইলস অ্যাডহেসিভ দিয়ে টাইল লাগালে পুরুত্ব হয় ৩-৮ মিলিমিটার। এতে ভবনের ওপর লোডও পড়ে কম, অপর দিকে টাইলসের স্থায়িত্বও হয় বেশি। এ ছাড়া টাইলস অ্যাডহেসিভ দিয়ে টাইলস লাগালে মাত্র ২৪ ঘণ্টা পরেই ব্যবহারের উপযোগী হয়। সনাতন পদ্ধতিতে যা লাগে ৮-১০ দিন। ফলে অ্যাডহেসিভে সাশ্রয় হয় মূল্যবান সময়। অ্যাডহেসিভ আঠালো হওয়ায় টাইলসকে দিনের পর দিন সঠিক জায়গায় রাখে।
অ্যাডহেসিভের নানা ব্যবহার
বালু ও সিমেন্ট জমাট বাঁধতে সময় লাগে বলে অনেকে আজকাল বালু ও সিমেন্টের বদলে অ্যাডহেসিভ ব্যবহার করে থাকেন; যা মূলত নির্মাণ অ্যাডহেসিভ। টাইলস লাগানো ছাড়াও অ্যাডহেসিভের বহুমুখী ব্যবহার হলো-
- প্লাস্টারের কাজে
- কংক্রিটের কাজে
- মোজাইকের কাজে
- পুরোনো টাইলসসহ বিভিন্ন ধরনের টাইলস লাগাতে
- গাঁথুনির কাজে
- পানির ট্যাংকের কাজে
- দ্রুত জমাট বাঁধতে ড্রেনেজের কাজে
- ঘরের ভেতর ও বাইরের উভয় দেয়ালে।
টাইলস অ্যাডহেসিভ ব্যবহারের যত সুবিধা
- উচ্চ আঠালো ও স্থিতিস্থাপক শক্তিসম্পন্ন
- সহজেই পানি মিশিয়েই ব্যবহার করা যায়
- বিভিন্ন ধরনের টাইলসের ক্ষেত্রে আদর্শ
- সহজেই পুরোনো টাইলসের ওপর নতুন টাইলস লাগানো যায়।
টাইলস অ্যাডহেসিভ তৈরিকরণ
- প্রথমে প্যাকেটের মুখ খুলে ভেতরের পলি প্যাকটি বের করতে হবে
- এবার ২৫ কেজি অ্যাডহেসিভে ৫ লিটার পানি মেশাতে হবে
- এরপর পানি ঢেলে মিক্সার মেশিন দিয়ে তা ভালো করে মেশাতে হবে
- অ্যাডহেসিভ প্রস্তুত করা হলে প্রয়োগের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে
- অ্যাডহেসিভ মিশ্রণ তৈরির ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যে ব্যবহার করতে হবে।
টাইলস অ্যাডহেসিভের প্রয়োগ
- প্রথমে দেয়াল কাঠের স্কেভার দিয়ে ঘষে নিতে হবে
- দেয়াল পানি দিয়ে ভালোভাবে ভিজিয়ে নিতে হবে
- টাইলস লাগানোর আগে সুতা দিয়ে লেভেলিং করতে হবে
- অ্যাডহেসিভ লাগানোর আগে টাইলসটি পরীক্ষা করতে হবে
- খাঁজকাটা কুনি দিয়ে ভালোভাবে লাইন টেনে নিতে হবে
- এরপর টাইলস লাগাতে হবে
- টাইলস ব্যবহারের স্থানকে ভালোভাগে পরিষ্কার করতে হবে
- মিশ্রণকে খাঁজকাটা গুঁড়ি দিয়ে ভালোভাবে লাইন টেনে নিতে হবে
- এবার তার ওপরে টাইলস লাগাতে হবে
- রাবার হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দেখতে হবে টাইলস ঠিকমতো লেগেছে কি না।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ১১৯তম সংখ্যা, মার্চ ২০২০।