Image

কংক্রিট ভাইব্রেটর

কংক্রিটকে ফার্মে স্থাপনের পর প্রয়োজন হয় দৃঢ়করণ বা কম্পাকশন। কংক্রিট থেকে অনুপ্রবেশকারী বাতাসকে বিতাড়িত করে এবং মিশ্রণের উপাদানগুলোকে উপযুক্ত স্থানে পৌঁছানোর মাধ্যমে কংক্রিটের ঘনত্ব তথা শক্তি বৃদ্ধির জন্যই দৃঢ়করণের কাজটি করতে হয়। সবচেয়ে বেশি ঘনত্বের কংক্রিট পাওয়ার জন্যই করা হয় এই কম্পাকশন প্রক্রিয়া। আর এ কাজটি করতেই ব্যবহার করা হয় ভাইব্রেটর। কংক্রিটের ওপরের পৃষ্ঠে যতক্ষণ পর্যন্ত না ক্রিমের মতো দেখায়, ততক্ষণ পর্যন্ত কম্পাকশন করতে হয়। অতিরিক্ত কম্পাকশনের জন্য কংক্রিট সেগ্রিগেশন হতে পারে এবং অল্প কম্পাকনের জন্য এয়ার ভয়েড থাকতে পারে। কম ঘনত্বের কংক্রিট অর্থাৎ ৫ শতাংশ ভয়েডের উপস্থিতিতে কংক্রিটের শক্তি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

কম্পাকশন দুভাবে করা যেতে পারে-

১.     হ্যান্ড কম্পাকশন

২.    মেকানিক্যাল  কম্পাকশন

হ্যান্ড কম্পাকশন

রডিং, টেম্পিং বা হ্যাম্পারিং অথবা র‌্যামিংয়ের সাহায্যে করা হয়।

মেকানিক্যাল কম্পাকশন

যান্ত্রিক উপায়ে দৃঢ়করণ করতে ভাইব্রেটর ব্যবহার করা হয়। সব গুরুত্বপূর্ণ কাজে, বিশেষ করে যেখানে রিইনফোর্সমেন্টগুলো খুব ঘন থাকে, সেসব ক্ষেত্রে যান্ত্রিক ভাইব্রেটর ব্যবহার একান্ত আবশ্যক। কার্যকরী কম্পাকশনের জন্য ভাইব্রেটর প্রতি মিনিটে ৩ হাজার ৬০০ বার কম্পন সৃিষ্ট হওয়া উচিত।

যান্ত্রিক ভাইব্রেটরের সুবিধা  

  • অল্প পানি-সিমেন্ট অনুপাতে উত্তম গুণসম্পন্ন কংক্রিট পাওয়া যায়
  • প্রস্তুতকৃত কংক্রিট অধিক অপ্রবেশ্য এবং ঘনত্বের হয়
  • কংক্রিটের ওপর গাদ সৃষ্টি হ্রাস করে। ফলে একাধিক স্তরের সংযোগস্থলের দুর্বলতা কমায়
  • ছোট ওপেনিং বা পাতলা সেকশন বা ক্যাভিটি স্থানে ব্যবহার করা সুবিধাজনক
  • দ্রুততার সঙ্গে কংক্রিট স্থাপন করা যায়। যার ফলে স্টিল রড এবং কংক্রিটের মধ্যে উত্তম বন্ধন সৃষ্টি করে
  • সংকোচন এবং ক্রিপ হ্রাস করে
  • উত্তম কম্পাকশনের কারণে সমতল এবং সুষম পৃষ্ঠদেশ পাওয়া যায়
  • যান্ত্রিক ভাইব্রেটর ব্যবহারের ফলে শ্রম, মালমাল ও সময়ের অপচয় কম হয়।
ইন্ডিয়া মার্ট

কংক্রিটের ঘনত্ব তথা শক্তি বৃদ্ধির জন্য যান্ত্রিক উপায়ে দৃঢ়করণে জন্যই মূলত ভাইব্রেটর ব্যবহার করা হয়। যান্ত্রিক ভাইব্রেটর চার প্রকার। যথা-

(১)   অভ্যন্তরীণ ভাইব্রেটর (Internal Vibrator)

(২)   বাহ্যিক ভাইব্রেটর (External Vibrator)

(৩)  পৃষ্ঠতলীয় ভাইব্রেটর (Surface Vibrator)

(৪)   ভাইব্রেটং টেবিল (Vibrating Table)

অভ্যন্তরীণ ভাইব্রেটর

বৃহদায়তন ও চওড়া উপরিতল (ফ্লোর স্লাব) বিশিষ্ট স্ট্রাকচারের কংক্রিট দৃঢ়করণের জন্য অভ্যন্তরীণ ভাইব্রেটর ব্যবহার হয়। এতে ভাইব্রেটিং হেড হিসেবে একটি ধাতব দণ্ড সংযুক্ত থাকে, যা সম্পূর্ণরূপে কংক্রিটের মধ্যে নিমজ্জিত করে ইঞ্জিনের সাহায্যে দণ্ডটিকে কম্পন সৃষ্টি করা হয়। দুই ধরনের অভ্যন্তরীণ ভাইব্রেটর বাজারে পাওয়া যায়। যথা-

  • নমনীয় শ্যাফট-চালিত (Flexible Shaft Driven Type)
  • ভাইব্রেটিং হেড হিসেবে বৈদ্যুতিক মোটর (Motor in Head Type)

নমনীয় শ্যাফট-চালিত ভাইব্রেটর সংকুচিত বায়ু বা মোটর অথবা গ্যাসোলিন ইঞ্জিন দ্বারা চালিত হয়। অন্য দিকে ভাইব্রেটিং হেড হিসেবে মোটর বৈদ্যুতিক উপায়ে বা বায়ুচালিত ব্যবস্থায় চালানো হয়। একটি অবস্থানে ভাইব্রেটরকে ততক্ষণ পর্যন্ত নিমজ্জিত করে রাখতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তার চারপাশের কংক্রিট সম্পূর্ণরূপে দৃঢ় হয়। যখন ভাইব্রেটরের চারপাশে বৃত্তাকারে লেইটেন্স দেখা দেবে, তখনই ওই স্থানের কংক্রিট দৃঢ় হয়েছে বুঝতে হবে।

গ্লোবাল গিলসন

বাহ্যিক ভাইব্রেটর

ক্ল্যাম্পিং সরঞ্জামের সাহায্যে বাহ্যিক ভাইব্রেটরকে ফর্মওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। কংক্রিট ঢালাই করার পর ফর্মের কম্পনের মাধ্যমে কংক্রিটকে দৃঢ় করা হয়।

পৃষ্ঠতলীয় ভাইব্রেটর

এটা প্ল্যাটফর্ম ধরনের বস্তু, যা দ্বারা কংক্রিট স্বস্থানে স্থাপনের পর তার পৃষ্ঠতলে আঘাত করে দৃঢ়করণ ও সমতল করা হয়। সাধারণত কংক্রিটের রাস্তা বা ব্রিজের ফেøারের উপরিতল সমতল ও দৃঢ় করার জন্য এ ধরনের সারফেস ভাইব্রেটর ব্যবহৃত হয়। 

ভাইব্রেটিং টেবিল

কোনো পূর্বে ঢালাইকৃত (Pre-Cast) মেম্বরকে দৃঢ়করণ করার জন্য ভাইব্রেটিং টেবিল ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতিতে বিশেষভাবে নির্মিত টেবিলে কংক্রিট স্থাপন করে যান্ত্রিক উপায়ে দৃঢ়করণ করা হয়।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৮৯তম সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৭।

Related Posts

স্মার্ট বিল্ডিং নয় মাটির দেয়ালে হোক আরামদায়ক আবাসন

সময়ের ব্যবধানে ভবনের দেয়ালগুলো আধুনিক হয়ে উঠছে। কাদামাটি আর চুনসুরকির প্রলেপ নয় প্রযু্ক্তির ছোঁয়ায় স্মার্ট হয়ে উঠেছে আমাদের…

আগামী দিনের নির্মাণ উপকরণ (পর্ব ১)

আধুনিক সময়ের সাথে তাল মিলিয়েই চলতে হচ্ছে আমাদের। প্রতিদিন বিশ্বের বুকে গড়ে উঠছে কোন না কোন আকাশচুম্বী ভবন।…

ইরান যুদ্ধের অজুহাতে আকাশচুম্বী নির্মাণ পণ্যের দাম

ইরানের যুদ্ধ শুধু ইরান আর ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ থাকলো না। শেলের আঘাতে বিদ্ধস্ত পক্ষ-বিপক্ষ। তবুও আগুন ছড়িয়ে গেছে সারা…

নির্মাণে উচ্চশক্তির রড ব্যবহারে বিএনবিসি কোড

কি সত্যিই অন্তরায়? ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে উঠে আসা পৃথিবীর ১৯৫টি দেশের মধ্যে ৩২তম শক্তিশালী দেশ বাংলাদেশ।…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *