নির্মাণশিল্পে স্টেইনলেস স্টিল বা এসএস পাইপ অন্যতম নির্মাণ উপকরণ। শৌখিন অনেকেই এখন স্থাপনার সৌন্দর্যে প্লাস্টিক ও জিআই পাইপের বদলে এসএস পাইপ ব্যবহার করছেন। তা ছাড়া এসএসের তৈরি বিভিন্ন পণ্য প্রযুক্তির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে দিনকে দিন। রেলিং, গ্রিল, দরজা, গৃহস্থালির গ্যাস লাইন, পাম্প, পানি সরবরাহের লাইন, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার, সেতু, আসবাব, শোপিস, যানবাহনসহ বিভিন্ন কাজে এসএস পাইপ ব্যবহৃত হচ্ছে দেদারসে। অন্যান্য পাইপের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি হলেও এই পাইপের ঔজ্জ্বল্যের কারণে আজকাল বিশ^ব্যাপী দিন দিন বাড়ছে এসএসের তৈরি বিভিন্ন পণ্য ও পাইপের জনপ্রিয়তা।
স্টেইনলেস স্টিল (এসএস)
স্টেইনলেস স্টিল মূলত সংকর ধাতু। এতে লোহার সঙ্গে ক্রোমিয়াম, নিকেল ও কার্বন মেশানো থাকে। স্টেইনলেস স্টিল তৈরির জন্য লোহার কার্বনের পাশাপাশি তুলনামূলক বেশি মাত্রার ক্রোমিয়াম (অন্তত ১০ দশমিক ৫ শতাংশ) এবং নিকেল মেশানো হয়। এগুলো সহজে অন্য রাসায়নিকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না, ক্ষয়ে যায় না, মরিচা পড়ে না এবং সহজে জীবাণুমুক্ত করা যায়। স্টেইনলেস স্টিলের উৎপাদনের শতকরা সংযুক্তির হার লোহা ৭৩ শতাংশ, ক্রোমিয়াম ১৮ শতাংশ, নিকেল ৮ শতাংশ ও কার্বন ১ শতাংশ।
স্টেইনলেস স্টিল উপকরণ
- বার (ফ্লাট, অ্যাঙ্গেল)
- পাইপ ও ফিটিংস
- রড
- প্লেট
- রেইনফোর্সিং বার
- শিট
- স্ট্রিপ
- কয়েল
- তার
- ফয়েল
- অ্যালয়
- টিউব
- মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ।
স্টেইনলেস স্টিলের উদ্ভাবন
স্টেইনলেস স্টিল উদ্ভাবনের ইতিহাস দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল। নানা ঘাত-প্রতিঘাত, সাফল্য-ব্যর্থতা, সমকালীন প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার অদম্য স্পৃহায় সম্পৃক্ত সেই কাহিনি দারুণ কৌতূহলোদ্দীপক। মরিচারোধী ইস্পাত তৈরির দীর্ঘ ও দুষ্কর কর্মকাণ্ডের সূচনা হয়েছিল ইংল্যান্ডে। সালটা ছিল ১৮১৯। ছুরি, ক্ষুর, কাঁচি এসবের গুণমান উন্নত করার লক্ষ্যে নানা মিশ্র ধাতু (অ্যালয়) নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে ও জেমস স্টোডার্ট। লোহা আর ক্রোমিয়ামসহযোগে প্রস্তুত করেন ‘ফেরোক্রোম’। ক্রোমিয়ামের সংযুক্তি লোহায় ক্ষয়রোধক গুণ (করোশন রেজিসট্যান্স) বাড়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি তাঁরাই সর্বপ্রথম জানান। আর এভাবেই দিয়ে যান মরিচারোধক মিশ্র ধাতু অন্বেষণের সঠিক দিশা।
ফেরোক্রোমের ঠিক দুই বছর পর এল ক্রোমিয়াম স্টিল। ইস্পাতের সঙ্গে ফেরোক্রোম মিশিয়ে নতুন জিনিসটা বানালেন ফরাসি মণিকবিদ বার্থিয়ের। ভরের হিসাবে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ ক্রোমিয়ামযুক্ত এই অ্যালয় দিয়ে যে ছুরি ও ক্ষুর তৈরি হলো, সেগুলো ছিল খুবই উন্নতমানের। বার্থিয়ের প্রত্যয়ের সঙ্গে ঘোষণা করলেন, ছুরি, কাঁটা এসব ‘কাটলারি’ সামগ্রী বানানোর জন্য ক্রোম স্টিল ভবিষ্যতে খুবই উপযুক্ত উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
লৌহ পাত্রে ক্রোমিয়ামের উপস্থিতির পরিণাম নিয়ে অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হলেন অনেকেই। কিন্তু গোল বাধল একটা ব্যাপারে। ক্রোমিয়ামের মাত্রা বাড়ালেই দেখা দিত বিপত্তি। আসলে সেই সময় ক্রোমিয়ামের সঙ্গে অপদ্রব্য হিসেবে মিশে থাকত কার্বন। বেশি মাত্রায় ক্রোমিয়াম বাড়িয়ে দিত কার্বনের পরিমাণও। বেশি মাত্রায় কার্বনের উপস্থিতিতে ঘাতসহতা (ডাকটিলিটি) অত্যন্ত কমে যাওয়ায় মিশ্র ধাতুটি হয়ে পড়ত মাটির পুতুলের মতোই ভঙ্গুর।
মুশকিল আসান হলো ১৮৯৫ সালে। জার্মানির হান্স গোল্ডসমিড কার্বনবিমুক্ত বিশুদ্ধ ক্রোমিয়াম নিষ্কাশনের পদ্ধতি উদ্ভাবন করলেন। ঘুচল কার্বনঘটিত ভঙ্গুরত্বের বাধা। গবেষণায় এল নতুন জোয়ার। ১৯০৪ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী লেও খুলিত স্টেইনলেস স্টিল উদ্ভাবন করেন। তবে মজার ব্যাপার হলো, খুলিত স্টেইনলেস স্টিল উদ্ভাবন করলেও তিনি ব্যাপারটি ঠিকমতো সবার সামনে প্রকাশ করতে পারেননি। জার্মানির মোনার্টজ ও বোরচার্স ১৯১১ সালে ক্রোমিয়ামের পরিমাণের সঙ্গে ক্ষয়রোধক ক্ষমতার পারস্পরিক সম্বন্ধ নিরূপণ করেন। এই গবেষণা থেকে জানা যায়, অন্যূন ১০ দশমিক ৫ শতাংশ ক্রোমিয়াম-সংযুক্তি মিশ্র ধাতুর ক্ষয়রোধক ক্ষমতায় আনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
স্টেইনলেস স্টিল যুগের সূচনা
হ্যারি ব্রিয়ারলি (১৮৭১-১৯৪৮) রিসার্চ মেটালর্জিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন ইংল্যান্ডের শেফিল্ডের একটি গবেষণাগারে। হ্যারি একবার বন্দুকের ক্ষয়ের মাত্রা কীভাবে কমানো যায় তা নিয়ে কাজ করছিলেন। বন্দুকের ব্যারেলগুলো সাধারণত সর্পাকৃতির হয়। এতে বন্দুক থেকে ঘুরতে ঘুরতে বের হওয়া বুলেটের গতি স্থিতিশীলতা পায়। কিন্তু এ বের হওয়ার সময় যে ঘর্ষণ হতো তাতেই ব্যারেলটি খুব দ্রুত ক্ষয়ে যেত। ব্রিয়ারলি এই সমস্যা থেকে মুক্তির পথ খুঁজছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি কাজ করছিলেন স্টিলের বিভিন্ন অ্যালয় নিয়ে।
১৯১২ সালের এক মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি খেয়াল করলেন যেসব অ্যালয়ের নমুনা নিয়ে তিনি কাজ করছেন তার মধ্যে একটি বেশ উজ্জ¦ল। এমনকি মরিচা পর্যন্ত ধরেনি। পাতিলেবুর রস, ভিনিগারসহ অনেক তরলে ডুবিয়ে রেখেও কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া না ঘটায় ব্রিয়ারলি প্রভূত বিস্মিত হন। ছুরি, কাঁটা, চামচ ইত্যাদি প্রস্তুতকারী শিল্পে (কাটলারি ইন্ডাস্ট্রি) এই মিশ্র ধাতুটি ব্যবহারের সম্ভাবনা যে অত্যন্ত প্রবল, তা তিনি উপলব্ধি করেছিলেন। নতুন এ অ্যালয়টিকে দেখে তিনি বিস্মিত হলেন। স্টিল ও ১২ শতাংশ ক্রোমিয়ামের সেই মিশ্রণটি বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পাতলা রক্ষাকারী এক আবরণ গঠন করেছিল। এ জন্যই সেখানে মরিচা ধরেনি। হাতে যেন চাঁদ পেলেন ব্রেয়ারলি। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গেলেন ছেলেবেলার বন্ধু স্টিল ফ্যাক্টরির পরিচিত ম্যানেজারের কাছে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর পর তাঁরা অ্যালয়টির অদ্ভুত এ ধর্ম সম্পর্কে নিশ্চিত হন। নতুন এ অ্যালয়টির নাম দেওয়া হয় স্টেইনলেস স্টিল। এভাবেই দুর্ঘটনাবশত অপরকে হত্যার যন্ত্র তৈরি করতে গিয়ে জন্ম হলো স্টেইনলেস স্টিলের।
ব্রিয়ারলি চেয়েছিলেন মিশ্র ধাতুটির নাম হোক ‘রাস্টলেস স্টিল’। কিন্তু মিশ্র ধাতুটি দিয়ে কাটলারি প্রস্তুতকারী সংস্থার ম্যানেজারের বিপণন জ্ঞান ছিল বেজায় টনটনে। তিনি ভাবলেন, শুধু মরচে কেন, এতে তো পড়ে না কোনো দাগ-ছোপও। এই অভিনবত্ব আভাসটুকু থাকুক নামেও। ‘স্টেইনলেস স্টিল’ নামটি তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত। নামটি শ্রুতিমধুরও বটে। বলা নিষ্প্রয়োজন, চালু হয়েছে ম্যানেজারের দেওয়া সেই লাগসই (ক্যাচি) নামটাই। তবে স্টেইনলেস স্টিলকে সবার সামনে নিয়ে আসেন এডওয়ার্ড ম্যরের এবং বেনো স্ট্রস নামের দুই জার্মান। জার্মানির এসেনে অবস্থিত ক্রপ স্টিল ওয়ার্কস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় তাঁরা নতুন করে স্টেইনলেস স্টিল উদ্ভাবন করেন। ম্যরের ও স্ট্রসের তৈরি স্টেইনলেস স্টিল ছিল অধিক নিকেলসমৃদ্ধ। এই দুই জার্মানের উদ্ভাবনের পরপরই স্টেইনলেস স্টিল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ব্যবহার শুরু হয় শিল্পপণ্য হিসেবে।
স্টেইনলেস স্টিল প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
আগে চীন, তাইওয়ান, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এ দেশে আমদানি হতো স্টেইনলেস স্টিল। তবে বর্তমানে আমদানির পাশাপাশি দেশেই তৈরি হচ্ছে পণ্যটি। তবে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। যেসব কোম্পানি এসএস পাইপ ও অন্যান্য উপকরণ তৈরি করছে এর মধ্যে অন্যতম এসএস স্টিল, স্টিলটেক, এসকেবি, হাতিম, আরএফএল, লিরা, ন্যাশনাল, বসুন্ধরা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
স্টেইনলেস স্টিলের ব্যবহার
স্টেইনলেস স্টিল পাইপ, তার ও অন্যান্য উপাদান স্থাপনা, অবকাঠামো, শিল্পকারখানার যন্ত্রাংশ, মেডিকেল উপকরণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। ভবনের সিঁড়ির রেলিং, বারান্দার গ্রিল, মসজিদের গ্রিলে, বাড়ির প্রধান ফটকে, জানালা, ছাদের রেলিং, জানালার পর্দার পাইপ, গ্যাস লাইন, কলের লাইনসহ খাট তৈরিতেও ব্যবহার করা হয় এসএস পাইপ। এই পাইপ যেসব কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্যÑ
ঘর সাজানোর শোপিস: ঘরের সৌন্দর্য অনেকটাই বাড়িয়ে তোলে নানা ধরনের শোপিস। স্টেইনলেস স্টিলের জগ, কলস, মগ, হাঁড়ি-পাতিলের সেট, সুরাইদানি, শরবতের গ্লাস, টিস্যু বক্স, ফুলদানি, জীবজন্তুর প্রতিকৃতি, ঘোড়ার গাড়িসহ নানা ধরনের শোপিস রয়েছে। এসব শোপিস অনেক বেশি চাকচিক্যময় হওয়ায় সহজেই নজর কাড়ে। তেমনই ঘরে সাজিয়ে রাখলে তা ঘরকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে।
রেলের বহরে কোচ: বাংলাদেশ রেলওয়েকে আধুনিকায়ন করার জন্য রেলের বহরে যুক্ত হয়েছে স্টেইনলেস স্টিলের বিলাসবহুল কোচ। ভারত থেকে আমদানি করা এ কোচগুলো। আট বছর পর রেলওয়ের বহরে যুক্ত হলো নতুন কোচ। তবে এবারই প্রথম দেশে আনা হয়েছে স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি কোচ।
স্মার্টওয়াচ ৩-এ বেল্ট: সনির ‘স্মার্টওয়াচ ৩’-এর সঙ্গে এখন ব্যবহার করা যাবে স্টেইনলেস স্টিলের বেল্ট। লাসভেগাসে চলতি কনজিউমার ইলেকট্রনিকস শোতে স্টেইনলেস স্টিলের বেল্টসহ ‘স্মার্টওয়াচ ৩’-এর উন্নত সংস্করণ দেখিয়েছে সনি। এ ছাড়া ডিভাইসটিতে যোগ হয়েছে নতুন আরও কিছু অ্যাপ।
আইফোন ৮-এ: আইফোন-৮-এ অ্যালুমিনিয়াম ব্যাক কভারের বদলে ফোনটিকে স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে মুড়ে দেওয়া হচ্ছে। সামনে থাকবে কাচ, যা ঘেরা থাকবে ধাতব ফ্রেম দিয়ে। চীনা সংবাদপত্র ডিজিটাইমে প্রথম প্রকাশিত হয় এই তথ্য। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সময় ও খরচ কমানোর জন্যই ব্যবহার করা হচ্ছে স্টেইনলেস স্টিল। এর ফলে খরচ কমছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। এটি হবে অ্যাপল সিরিজের সব থেকে পোক্ত স্মার্টফোন।
সাইজ ও দাম
সাধারণ ১/২ ইঞ্চি থেকে ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত এসএস পাইপ বাজারে পাওয়া যায়। তবে পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার করে যেকোনো সাইজের এসএস পাইপ তৈরি করা যায়। বাংলাদেশে সাধারণ ১/২ ও ১.৫ ইঞ্চি এসএস পাইপের ব্যবহারই বেশি। এ ছাড়া ৩/৪ ইঞ্চির পাইপও ব্যবহার করেন শৌখিন অনেকেই। তবে এর বাইরেও অনেকে নানা কাজে এসএসের তৈরি পণ্য ব্যবহার করে থাকে। কোম্পানি ও সাইজভেদে এসএস পাইপের দরদামÑ
| সাইজ (ইঞ্চি) | হাতিম দাম (প্রতি ফুট) | আরএফএল দাম (প্রতি ফুট) | লিরা দাম (প্রতি ফুট) |
| ১/২ | ৩০-৩৫ | ৩২-৩৬ | ৩০-৩৫ |
| ৩/৪ | ৩৫-৪০ | ৪০-৪৫ | ৩৫-৪০ |
| ১.৫ | ১১০-১২০ | ১২০-১৪০ | ১১০-১২০ |
স্টেইনলেস স্টিলের সুবিধা
- অগ্নিরোধী
- মরিচারোধী
- ক্ষয়রোধী
- জীবাণুরোধী
- সহজ স্থাপন
- দীর্ঘস্থায়ী
- শক্তিশালী
- দৃষ্টিনন্দন।
স্টেইনলেস স্টিলের উৎপাদন
২০১৫ সালে উৎপাদিত হয়েছে ৪ কোটি ১৭ লাখ টন অপরিশোধিত স্টেইনলেস স্টিল, যা ২০১৩ সালের তুলনায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এমইপিএস ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী ৪ কোটি ৩৩ লাখ টন অপরিশোধিত স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে, যার পরিমাণ ২০১৫ সালের চেয়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ২০১৭ সালে পণ্যটির উৎপাদন বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি টনে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস জানিয়েছে স্টিলের সবচেয়ে বড় তথ্যভান্ডার এমইপিএস। তবে এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পণ্যটির উৎপাদন কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের প্রথমার্ধে তাইওয়ানে স্টেইনলেস স্টিলের উৎপাদন পুনরুদ্ধার করা হয়। ২০১৬ সালে দেশটিতে পণ্যটির মোট বার্ষিক উৎপাদন ৭২ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান, যা ২০০৬ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০১৫ সালে তাইওয়ানে স্টেইনলেস স্টিলের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায়। তাইওয়ানে ২০১৬ সালের প্রথমার্ধে পণ্যটির উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়ে বেড়েছে। তবে ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে তা ৪ শতাংশ বাড়াবে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিশ্বে স্টেইনলেস স্টিলের বৃহৎ উৎপাদক দেশ হিসেবে চীনের আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে। ২০০৬ সালে বৈশ্বিক স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদনে চীনের অংশ ছিল ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আর ২০১৬ সালে তা বেড়ে ৫৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালে এটি আরও ৫ শতাংশ বাড়তে পারে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) স্টেইনলেস স্টিলের চাহিদা কমেছে। তিন বছর যাবৎ এ অঞ্চলটিতে পণ্যটি উৎপাদনের পরিমাণ ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। ২০১৬ সালে ইইউতে স্টেইনলেস স্টিলের মোট উৎপাদন দাঁড়ায় ৭১ লাখ ৫০ হাজার টনে, যা ২০১৫ সালের চেয়ে কম। তবে ২০১৭ সালে ইইউতে স্টেইনলেস স্টিলের উৎপাদন ৫০ হাজার টন বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রেও পণ্যটির ব্যবহার স্থিতিশীল রয়েছে। ২০১৬ সালে দেশটিতে মোট ২৩ লাখ টন স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদনের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ কম। তবে ২০১৭ সালে দেশটিতে ২০১৫ সালের সমপরিমাণ স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে এমইপিএস।
২০১৬ সালে জাপানে স্টেইনলেস স্টিলের উৎপাদন দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়াতে পারে ৩০ লাখ ৫০ হাজার টনে। তবে ২০১৭ সালে এর চেয়ে পণ্য উৎপাদন বাড়তে পারে ৫০ হাজার টন বেশি।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ৮৬তম সংখ্যা, জুন ২০১৭।