স্থাপনার প্লাস্টারে কী কী ধরনের ত্রুটি দেখা দেয়?
স্থাপনার প্লাস্টারে নানা ধরনের ত্রুটি দেখা যায়। এসব ত্রুটির মধ্যে অন্যতম-
- ব্লিস্টারিং (Blistering): চুনের দানা দেরিতে ফোটার ফলে প্লাস্টারে মাঝে মাঝে ফোমকা ওঠে। একেই ব্লিস্টারিং বলে।
- ক্রাকিং (Cracking): স্থাপনার কাঠামো ত্রুটি, ব্যাক গ্রাউন্ড ত্রুটি, তাপমাত্রার পরিবর্তন, প্লাস্টার সারফেসের প্রসারণ ও সংকোচন, প্লাস্টারের স্তর অতিরিক্ত পুরু, মিস্ত্রির কাজ ত্রুটিপূর্ণ হলে ক্রাকিং বা ফাটলের সৃষ্টি হতে পারে।
- ক্রেজিং (Crzzing): উল্লেখিত কারণে দেখা দিতে অসংখ্য হেয়ার ক্রাক, যা ক্রেজিং নামে পরিচিত।
- পুষ্পায়ন (Efflorescence): নির্মাণসামগ্রীতে লবণাক্ততার জন্য অথবা লবণ-পানি ব্যবহারের ফলে দেয়াল সারফেসে যে সাদা স্ফটিকতুল্য পদার্থ সৃষ্টি হয়, তাকে পুষ্পায়ন বলে।
- ফ্লেকিং (Flaking): একাধিক প্লাস্টার স্তরের মধ্যে কম বন্ডের জন্য অনেক সময় দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ে। একেই ফ্লেকিং বলে।
- পিলিং (Peeling): বন্ডের স্বল্পতার কারণে পূর্ণ পুরুত্বে ও প্লাস্টারের কিছু অংশ খসে পড়তে পারে।
- পাপিং (Popping): প্লাস্টার সারফেসে কনিক্যাল হোল হওয়াকে পপিং বলে।
- মরিচাজনিত দাগ (Rust Stains): মেটাল ল্যান্ডের ওপর প্লাস্টার করলে, মরিচার দাগ প্লাস্টার ভেদ করে বেরিয়ে আসে। ফলে প্লাস্টার বিবর্ণ হয়ে যেতে পারে।
- অসম সারফেস (Uneven Surface): মিস্ত্রির অদক্ষতার জন্য সারফেস অসমান থাকতে পারে।
প্লাস্টারে এসব ত্রুটির কারণ কী?
- প্লাস্টারে বালুর পরিমাণ বেশি হলে অথবা নিম্নমানের বালু ব্যবহার করলে প্লাস্টারে ফাটল ধরতে পারে।
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত বা কম সিমেন্ট ব্যবহার করা।
- প্লাস্টার দ্রুত শুকিয়ে গেলে ফাটল দেখা দিতে পারে।
- পানি প্রবেশ করলে স্যাঁতসেঁতে হয়ে আস্তে আস্তে খসে পড়ে।
- প্লাস্টার ব্যাকগ্রাউন্ডে ভালোভাবে না আটকালে আস্তে আস্তে খসে পড়ে।
- প্রথম স্তর শুকানোর আগেই দ্বিতীয় স্তরের কাজ করলে প্লাস্টারে ফাটল বা হেয়ার ক্রাক দেখা দিতে পারে।
- দ্রুত ফিনিশিং দেওয়ার জন্য শুকনো মসলা ব্যবহার করলে।
- সঠিকভাবে এবং নিয়মানুযায়ী কিউরিং না করলে।
- দেয়ালের গায়ের ছত্রাক, ফাঙ্গাস, তেল, রং প্রভৃতি ভালোভাবে পরিষ্কার না করা হলে।
- গাঁথুনির জয়েন্ট ভালোভাবে রেকিং এবং সি.সি. ও আর.সি.সি. পৃষ্ঠকে চিপিং না করলে।
- মসলায় সিমেন্ট কম ব্যবহার করলে অথবা গুণগত মানের সিমেন্ট ব্যবহার না করলে।
- দেয়াল কিংবা সিলিংয়ে চাপ দিয়ে মসলা প্রয়োগ না করলে।
- একাধিক স্তরের বন্ড ভালো না হলে।
- মসৃণ ফিনিশিংয়ের ওপর প্লাস্টার করলে।
- মিস্ত্রির কাজে দক্ষতার অভাবে।
কীভাবে প্লাস্টারের ত্রুটিসমূহ দূর করা যায়?
- প্ল¬াস্টার কাজের বালু তুলনামূলকভাবে কিছুটা দানাদার (এফএম ১.৫) হওয়া ভালো।
- বালু অবশ্যই কাদা-মাটি, খড়-কুটা, কাঠ-কয়লা, লবণ ইত্যাদি মুক্ত হতে হবে।
- বালু ব্যবহারের আগে চালনি দিয়ে চেলে নেওয়া ছাড়াও প্রয়োজনে পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া অত্যাবশ্যক।
- প্লাস্টার করার আগে পৃষ্ঠকে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে এবং ভেজাতে হবে।
- মসৃণ করার জন্য পৃষ্ঠকে উষা দিয়ে অতিরিক্ত ঘষা যাবে না।
- দেয়ালের গায়ের ছত্রাক, ফাঙ্গাস, রং প্রভৃতি দূর করতে তারের ব্রাশ দিয়ে ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
- মসলায় কোনোভাবেই লোনাপানি ব্যবহার করা যাবে না।
- দেয়ালকে ব্রাশ করে বারবার ওয়াশ করলে পুষ্পায়ন কিছুটা দূর করা সম্ভব। জিংক সালফেট এবং পানির মিশ্রণ প্রয়োগ করে অথবা হাইড্রোক্লোরিক বা সালফিউরিক অ্যাসিডকে পাঁচ গুণ আয়তনের পানির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়াল ওয়াশ করলে পুষ্পায়ন দূর করা সম্ভব।
- পুষ্পায়ন দূরীভূত না হওয়া পর্যন্ত পৃষ্ঠতলকে পানি দিয়ে ওয়াশ করা উচিত নয়। তা না হলে পুনরায় পুষ্পায়ন ঘটার আশঙ্কা থাকে।
- পৃষ্ঠদেশ পুস্পায়ন মুক্ত হলে রং করা উচিত।
- আর্দ্রতা নিরোধক স্তর সঠিকভাবে দেওয়া উচিত।
- রেকিং আউট বা চিপিং করতে হবে
- উন্নতমানের সিমেন্ট ও বালু সঠিক অনুপাতে মেশাতে হবে।
- প্রাথমিক সেটিং শুরু হওয়ার আগেই ব্যবহার শেষ করতে হবে।
- সিলিংয়ে চিপিংয়ের পর ভিজিয়ে নিতে হবে এবং সিমেন্ট গ্রাউটিং প্রয়োগের পর প্লাস্টার করতে হবে।
- একাধিক স্তরে প্লাস্টার করার ক্ষেত্রে ১ম স্তর প্রয়োগের পর ঝাড়ু দিয়ে পৃষ্ঠকে অপসৃত করে নিতে হবে।
- কুর্নির সাহায্যে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে মসলা প্রয়োগ করতে হবে যেন অরপ ঞৎধঢ়-এর সৃষ্টি না হয়।
- গাঁথুনির কাজে ভালো মানের ইট ব্যবহার করতে হবে।
- সঠিক নিয়মে কমপক্ষে সাত দিন নিয়মিত কিউরিং করতে হবে।
- সব সময় দক্ষ মিস্ত্রি দিয়ে কাজ করানো উচিত।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ৮৪তম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৭।