আধুনিক স্থাপত্যের পথিকৃত মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ্  

শিল্প হচ্ছে জীবনের গল্প, প্রতিটি শিল্পেরই রয়েছে অন্তর্নিহিত প্রাণ। শিল্পীর সৃষ্ট ছবি, গান, ভাষ্কর্য মানুষের মনকে আন্দোলিত করে। স্থাপত্যও এক অনন্য শিল্প। জীবনের সঙ্গে এর সম্পর্ক ওতপ্রোত। তাহলে স্থাপত্য কেন ইট, রড, কংক্রিটের মত নিরেট ও গম্ভীর হবে! স্থাপত্য হবে খোলামেলা; নান্দনিক, যা মানুষকে আহবান করবে, জানাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা। স্থাপনাটিকে সবাই ছুঁতে চাবে, ইচ্ছে হবে কাছে যেতে। যুগের আবেদনে স্থাপত্য হবে আধুনিক; বুদ্ধিদীপ্ত। এসব অনুভুতি থেকেই দেশের স্বনামধন্য স্থপতি মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ্ গড়ে তোলেন তাঁর স্থাপনা। আধুনিক স্থাপত্যে এ পথিকৃত ভলিউমজিরো এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রিন্সিপ্যাল আর্কিটেক্ট।

মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ্ ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৬ সালে ঢাকার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। বাবা মরহুম একেএম ওয়ালিউল্লাহ্ ও মা সুলতানা বেগম। তাঁর বাবা পেশাজীবন শুরু করেন সরকারি চকরীর মাধ্যমে। পরবর্তীতে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে মাধ্যমিক এবং ১৯৮৫ সালে উচ্চমাধ্যমিকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। এরপর ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগে। স্নাতক সম্পন্ন করেন ১৯৯৩ সালে। একই বছর যোগ দেন বুয়েটের প্রভাষক হিসেবে। ১৯৯৭ সালে সম্পন্ন করেন স্নাতকোত্তর। কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ায় সেরা শিক্ষার্থীর স্বীকৃতিস্বরুপ লাভ করেন আহসানুর রহমান স্বর্ণ পদক। ১৯৯৮ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে নিবেদিতভাবে মনোনিবেশ করেন স্থাপত্যচর্চায়।

বাল্যকাল থেকেই সুকুমার বৃত্তির প্রতি দারুণ আগ্রহ ফয়েজ উল্লাহ্র। ক্যাডেট কলেজে ভর্তির পর জড়িয়ে যান আঁকাআঁকি, গল্প-কবিতা লেখা, আবৃতি, বিতর্ক ও দেয়াল পত্রিকার সঙ্গে। আঁকাআঁকিতে দারুণ আগ্রহ; ছবিও আঁকেন চমৎকার। নিয়মিত বিতর্ক ও কবিতা আবৃতি করতেন। আবৃতিতে ছিলেন ক্যাডেট কলেজ চ্যাম্পিয়ন। খেলাধুলাও ছিল সমান আগ্রহ। শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে এসব সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়েই পেরিয়ে যান মাধ্যমিকের গণ্ডি। উচ্চমাধ্যমিকে পরিচিত হন শিল্প, চারু ও কারুকলা অঙ্গনের সঙ্গে। ক্যাডেট কলেজের পড়ালেখার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্ট, মেটালিক আর্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রইং প্রভৃতি বিষয়ে পড়ানো হত। তাঁর ভালো লেগে যায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্ট। সে ভালো লাগা থেকেই সিদ্ধান্ত নেন স্থাপত্য পড়ার; স্বপ্ন দেখেন একজন স্থপতি হবেন। যদিও বাবার ইচ্ছে ছিল ছেলেকে একজন সেনা অফিসার হিসেবে দেখার। কিন্তু শিল্পে মিশে রয়েছে যাঁর প্রাণ সে কীভাবে মনের আবেদনকে অস্বীকার করবে! আবেগটাই তবে মুখ্য ছিল না কিছু যৌক্তিক কারণও ছিল। উন্নয়শীল এ দেশে স্থপতিদের যথেষ্ট কাজের সুযোগ রয়েছে। দেশ গড়তে নিজেকে উজাড় করে দেয়া যাবে। স্বপ্ন সত্যি করতে উচ্চমাধ্যমিকের পর পরপরই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্থাপত্যে ভর্তির প্রস্তুতি নেন। তাঁর তীব্র আকাঙ্খা, পরিশ্রম ও একান্ত প্রচেষ্টা সার্থক হয়, সুযোগ পান প্রত্যাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্যে অধ্যায়নের। এবার স্বপ্নগুলো ডানা মেলার পালা।

বুয়েট মানেই ভিন্ন জগৎ, জ্ঞান ও মুক্ত চিন্তার আবাদস্থল। সেই তীর্থে শিখেছেন স্থাপত্যের নানাদিক। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ছাত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। সুকুমারবৃত্তি চর্চার জগৎটা সেখানেও পেয়ে যান। যুক্ত হন ডিবেটিং ক্লাবে। আন্তবিশ্বদ্যিালয় ছাড়াও জাতীয় প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নেন। নিজ ডিপার্টমেন্ট, হল, বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ও তাঁর দল সবসময়ই সেরা ছিল। জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দীর্ঘ একযুগ পর বুয়েটে হলকে চ্যাম্পিয়ান করেন। এই ক্লাবটির উন্নয়নে সবসময় উৎসাহ যুগিয়েছেন। শিক্ষক হয়েও বিতর্কের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেননি। শিক্ষার্থীদের বিতর্কের বিষয়ে সব ধরণের সহযোগিতা করেছেন। বুয়েট হলের হকি দলেও তিনি খেলেছেন। চেতনায় তাঁর সাম্যবাদ। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাই জড়িয়ে পড়েন ছাত্র রাজনীতিতে। ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। বুয়েটের এবং ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কিমিটির সদস্য ছিলেন। বিতর্কের সুবাদে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা গড়ে ওঠে। তাঁদের সঙ্গে নানা বিষয়ে আলোচনা হতো। প্রতিটি বিষয়ের প্রতি তাঁদের যে দখল ও জ্ঞান, তাঁদের সামাজিক মর্যাদা তাঁকে মুগ্ধ করে। মহান এ পেশাটির প্রতি তিনি তীব্র আকর্ষন অনুভব করেন এবং শিক্ষক হবেন বলে মনস্থির করেন।  কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক উত্তীর্ণ হওয়ায় সে ইচ্ছেটিও পূরণ হয়। স্থাপত্য পাশ করার পর আত্নীয় ও পরিচিতজনেরা কাজ নিয়ে আসেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতার জন্য স্থাপত্য পেশাগত চর্চাও বজায় রাখেন। তাঁর সঙ্গে একই সময় শিক্ষকতায় যোগ দেন বিভাগের অগ্রজ মুস্তাফা খালিদ পলাশ (বর্তমান প্রিন্সিপাল আর্কিটেক্ট, ভিস্তারা আর্কিটেক্টস)। কিছুদিনের মধ্যেই দু’জনের বেশ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। স্থপতি পলাশ যেহেতু আগেই পাস করেছিলেন তাই তিনিও স্থাপত্যচর্চার মধ্যেই ছিলেন। কাজের চাপ বাড়তে থাকলে ফয়েজ উল্লাহ্ তাঁকে একসঙ্গে স্থাপত্যচর্চার প্রস্তাব দেন। আগ্রহ নিয়েই রাজী হন স্থপতি পলাশ। শুরু হয় যৌথ স্থাপত্যচর্চা। স্থাপত্যচর্চা যখন হচ্ছেই তখনতো একটা নাম-পরিচয়ও থাকা চাই। দু’জনে অনেক ভেবে নাম রাখলেন ‘ভিস্তারা আর্কিটেক্টস ইঞ্জিনিয়ার্স’।

ভিস্তারা আর্কিটেক্টস ইঞ্জিনিয়ার্স তখনকার সময়ের অন্য ফার্মগুলো থেকে ব্যতিক্রম ছিল। এ প্রতিষ্ঠানটিই বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল স্থাপত্য অফিস। ড্রয়িং, ডিজাইন ও উপস্থাপনার কাজে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ব্যবহার শুরু করেন কম্পিউটার। প্রথমে ফার্মটি মালিকানাধীন থাকলেও ১৯৯৮ সালে লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয়। একটি ঘরেই দুজন স্থপতি বসে কাজ করতেন, ফাঁকে ফাঁকে চলত আড্ডা, শিল্প তথা সুকুমার বৃত্তির চর্চা। প্রায় প্রতিদিনই প্রকল্প পরিদর্শনে যেতেন। প্রকল্পের খুটিনাটি বিষয়গুলোকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। প্রকৌশলী, ঠিকাদার এমনকি শ্রমিকদের কাজ বুঝিয়ে দিতেন যেন নিখুঁতভাবে কাজটি সম্পন্ন হয়। সে সময় ধানমণ্ডিতে লেকপাড়ে নির্মাণ করেন স্পেইস লেক ক্যাসেল নামে একটি অনবদ্য আবাসিক স্থাপত্য। গুলশানে করেন আরেকটি আবাসিক স্পেইস শ্যালে। বারিধারাতে নির্মাণ করেন ইউনিক লফ্ট অ্যাপার্টমেন্ট। অংশ নেন পিপলস ইন্সুরেন্স ভবনের ডিজাইন প্রতিযোগিতায়। ডিজাইনে প্রথম হওয়ায় এ প্রকল্পটির কাজের অনুমোদন পান ও সাফল্যের সাথে তা সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে লাভ করেন আইএবি একসেলেন্স ইন ডিজাইন অ্যাওয়ার্ড। এভাবেই দুজন মিলে সৃষ্টি করে চললেন একের পর এক আধুনিক স্থাপনা।

১৯৯৭ সালে পান্থপথে নির্মাণ করেন ইউনিক ট্রেড সেন্টার (ইউটিসি)। ২০ তলাবিশষ্ট এ স্থাপনাটিই দেশের প্রথম নিরাপদ কাচের সুউচ্চ ভবন। শুধু তা-ই নয়, এটিই দেশের প্রথম ‘ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং’। সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় ডিজাইন করা হয় এ স্থাপনাটিকে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ভবন ব্যবস্থাপনা বিশিষ্ঠ এ ভবনে ইন্টেলিজেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় রাখা হয় এসি, লাইটিং, অগ্নিনিয়ন্ত্রন ব্যবস্থাপনাসহ সব ধরণের সেবা। অর্থাৎ ভবন পরিচালনা ও রক্ষনাবেক্ষন মানুষ ছাড়াই করা সম্ভব হয়। এ ভবনেই দেশে প্রথম নিরাপদ কাচের ব্যবহার করা হয়। কার্টেইন গ্লাস প্রযুক্তির সর্বাধুনিক পন্থা প্রয়োগ করা হয় এ ভবন নির্মাণে। দূর্ঘটনাবসত কাচ ভেঙে গেলেও নিচে পড়বে না। এমনকি ভূমিকম্প হলেও কাচগুলো স্বঅবস্থানেই থাকবে। অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয় প্রকল্প। তৎকালীন বিশ্বের প্রেক্ষিতেও অনন্য একটি সমসাময়িক স্থাপত্য কর্ম হিসেবে এটি মর্যাদা পায়। প্রখ্যাত গ্লাস স্ট্রাকচার বিশেষজ্ঞ প্রকল্পটির সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখেন এ স্থপতিদ্বয়। এ স্থাপনাটি বানিজ্যিক ভবনের রূপ বদলে দেয়। এ ধরণের স্থাপনা তৈরীতে অনেক উদ্যোক্তা অনুপ্রাণিত হন। স্থপতি সমাজেও কাজটি বেশ আলোচিত ও প্রশংসিত হয়।

এ প্রকল্পটির সফলতা আরও একটি মহাপ্রকল্প নির্মাণে সহায়ক হয়ে ওঠে। সেটি বসুন্ধরা সিটি। মজার ব্যাপার হল স্থপতি ফয়েজ উল্লাহ্ তাঁর এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান এবং সেই সুবাদে এই বৃহৎ প্রকল্পের কাজটির প্রস্তাব পান। প্রকল্পের বিশালতা দেখে স্থপতিদ্বয় বিষ্মিত হন কিন্তু বিচলিত না হয়ে সাহসের সাথে এর বাস্তবায়নে নেমে পড়েন। ইউটিসি ভবন ও অন্যান্য প্রকল্পের সফলতা তাঁদের অনুপ্রেরণা যোগায়। পূর্ব অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই শুরু করেন ড্রয়িং-ডিজাইন। আধুনিক মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়।  বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির নানান আকর্ষনীয় ফিচার দেখে বেশ অবাক ও মুগ্ধ হয়। ড্রয়িং- ডিজাইনের মত নির্মাণ কাজ ততটা সহজ ছিল না। বিরাট চ্যালেঞ্জ তাঁদের জন্য। প্রায় ২০ লক্ষ বর্গফুট আয়তনের বিশাল এই স্থাপনার জন্য প্রকল্প স্থানেই বসানো হয় ব্যাচিং ও কংক্রিট প্ল্যান্ট। তাঁদের সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রকৌশলী দল ও অসংখ্য শ্রমিকের দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রমে চলে বিশাল এ কর্মযজ্ঞ। স্থাপনাটিকে বিশ্বমানের করার জন্য তাঁরা প্রযুক্তিস্থানান্তরের লক্ষ্যে প্রচুর বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করেছেন। দু’জন স্থপতি যৌথভাবে কাজ করায় দ্রুততার সঙ্গে এগোয় প্রকল্পটি। কাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হবার পর শুরু হয় স্থাপনার ইন্টেলিজেন্স অটোমেশন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজ। পুরো প্রকল্পটি যেন সংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রন করা যায় সে ব্যবস্থা করা হয়। মাত্র চার বছরেই প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়। শপিং মলটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে দেশের স্থাপত্য জগতের প্রেক্ষাপট বদলে যায়। বাংলাদেশের স্থপতিদের কাজের সক্ষমতা সম্পর্কে বদলে যায় বৈশ্বিক স্থপতিদের ধারণা। এই কাজটি স্থপতিদ্বয় এবং তাঁদের ফার্মের জন্য অনেক গৌরব বয়ে আনে। ম্যাকগ্র-হিল পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত প্রফেসর মোহাম্মদ সালেহ উদ্দিন এর ডিজিটাল আর্কিটেকচার শীর্ষক সংকলনে বিশ্বের ৫০ টি সেরা ডিজিটাল স্থাপনার একটিতে স্থান পায়। তবে সবচেয়ে বড় পাওয়া ছিল সর্বস্তরের মানুষের ভালো লাগা। সফল এ প্রকল্পটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করে যা আরো অনেক বড় প্রজেক্টের দ্বার খুলে দেয়।  

আরো একটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে হোটেল ওয়েস্টিন। ২০০০ সালে নির্মিত এ স্থাপনাটি শুরু ছিল আরেকটি চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প। কারণ তখন পর্যন্ত বাংলাদেশী কোন স্থপতির পাঁচ তারকাবিশিষ্ট হোটেল করার বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল না। আন্তজার্তিক মানের হোটেলে থাকে অনেক নিয়ম-কানুন বেষ্টিত প্রক্রিয়া। ফ্রন্ট অব হাউসে এক ধরণের কাজ, ব্যাক অব হাউসে আরেক ধরণের। এজন্য তাঁদের প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়েছে, বিশ্বের নামকরা সব হোটেলে গিয়ে সরেজমিন ধারণা নিয়েছেন। ফল স্বরূপ এটিও সম্পন্ন হয় আরেকটি সফল ল্যান্ডমার্ক হয়ে। এ হোটেলটির ইন্টেরিয়র ডিজাইন করেছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান হার্স বেডনার অ্যাসোসিয়েটস (এইচবিএ)। ২০০৫ সালে নির্মাণ করেন গ্রামীণফোন কর্পোরেট হেড কোয়ার্টার। এ স্থাপনাটিতে তাঁরা এমন কিছু ফিচার স¤ৃ^দ্ধ করেন যা অফিসের গতানুগতিক কর্মপরিবেশ বদলে দেয়, যোগ করে এক অনন্য মাত্রা। জলাধার, খোলামেলা পরিসর, বসার স্থান, প্রতি ফ্লোরে ক্যাফেটেরিয়া সব মিলে দুর্দান্ত কর্মপরিবেশ। অফিসটিতে সবাই স্বাধীনভাবে কাজ করে, কফি খায়, আড্ডা দেয়, অনেকটা লাইফ স্টাইল অফিসের মতো। প্রকল্পটির সঙ্গে তাঁদের সহযোগী ছিলেন প্রয়াত স্থপতি সাইফুল কাদের মান্না। এ অসাধারণ স্থাপত্য কর্মটি জয় করে বার্জার এক্সসেলেন্স ইন আর্কিটেকচার অ্যাওয়ার্ড (কমেনডেশন) ও হোলসিম গ্রিন বিল্ট অ্যাওয়ার্ড ফর ডিজাইন। এসময়ে গুলশান অ্যাভিনিউতে বাংলালিংক ভবন ও শান্তা ওয়েস্টার্ণ টাওয়ারও তাঁদের উল্লেখযোগ্য প্রকল্প। এছাড়াও ২০০৯ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ডিজাইনের জন্য লাভ করেন ক্রিটিক অ্যাওয়ার্ড। এটি অবশ্য ভলিউমজিরো সূচনা হওয়ার পরবর্তী কাজ।

একের পর এক বিখ্যাত সব স্থাপত্য নির্মাণ করলেও ফয়েজ উল্লাহ্ এক ধরণের অপূর্ণতা অনুভব করেন। নিজের আদর্শ, দর্শন ও চিন্তার বাস্তবায়নে প্রয়োজন ছিল একান্তাই নিজের একটি প্রতিষ্ঠান। সে চেতনা থেকেই ২০০৮ সালে গড়ে তোলেন ‘ভলিউমজিরো’। সাথে নেন তাঁর বাল্য বন্ধু প্রকৌশলী শহিদুল আলম চৌধুরী সোহেলকে। মহান স্থপতি লুই আই কানের স্থাপত্য ও জীবন দর্শনের একনিষ্ঠ অনুসারী তিনি। লুই কানের উদ্ভাবিত ভলিউমজিরোর বা শূন্য থেকেই সকল সৃষ্টি এ ধারণা থেকেই নামটি বেঁছে নেন। মনের মাধুরি মিশিয়ে তিনি সাজান তাঁর ফার্মটিকে। নান্দনিকতা ও আদর্শ কর্মপরিবেশের জন্য ফার্মটি অর্জন করে আইস-টুডে অ্যাকুয়া পেইন্টস ইন্টেরিয়র ডিজাইন অ্যাওয়ার্ড- ২০০৯। নতুন অফিস পরিচালনা করা তাঁর জন্য ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তিনি তা ভালভাবেই সামাল দিতে সক্ষম হন। মাত্র দু’বছর পরই কাজের চাপ এতই বাড়ে, তাঁকে আরও একটি অফিস নিতে হয়। এমনকি বছর কয়েক যেতে না যেতেই প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্যতম একটি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় যেখানে কাজ করছে সুবিশাল স্থপতি, প্রকৌশলী, ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ও অন্যান্য সহায়ক দল। অঙ্গসংগঠন রিয়েল এস্টেট কোম্পানী “স্পেইসজিরো”কে নিয়ে ডিজাইন-বিল্ড প্রজেক্টগুলো সাফল্যের সাথে এগিয়ে চলেছে। দুই ফার্মের যৌথ প্রয়াসে দূর হয়েছে অনেক প্রতিবন্ধকতা। প্রকল্পের কাজগুলো সম্পন্ন হচ্ছে আরও নিখুঁত, গোছালো ও দ্রুততার সঙ্গে।

গুলশান-তেজগাঁও লিংক রোডে নির্মাণ করেন আকিজ গ্রুপের কর্পোরেট হেড অফিস আকিজ হাউস। সময়ের একটি অনন্য বানিজ্যিক ভবন এটি। অনন্য স্থাপত্য কৌশলে নির্মিত ভবনটির স্থাপতিক প্রকাশ ভঙ্গি খুবই আধুনিক। ভবনের সামনে ল্যান্ডস্কেপের মধ্যে পানির ফোয়ারা। পানির অবিরাম কলকল শব্দে ভবনে আগতরা স্বাগত অনুভূতি পাবে। দ্বিতল উচ্চতার হাব দিয়ে অফিসে প্রবেশের সময়ই অনুভব করবে স্থাপনার মহত্ত। স্থাপনার সীমানা দেয়াল, সেটব্যাক, ছাদ ও অভ্যন্তরে যতটা সম্ভব করা হয়েছে সবুজায়ন। স্থাপনাটি যেন সরাসরি সৌরতাপ শোষণ করতে না পারে এজন্য ভবনের একটি অংশকে উত্তর দিকে ঘোরানো হয়েছে। কাচ দেয়ালের একটি বিশাল ফর্মকে জুড়ে দেয়া হয়েছে কংক্রিট দেয়ালে। স্থাপনাটি রাখা হয়েছে স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যাতে জেনারেটর, এসি, লাইটিং, অগ্নি নির্বাপনসহ অন্যান্য ব্যবস্থা সংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রন করা যাবে। সবচে বড় কথা স্থাপনাটির বেশিরভাগ নির্মাণ ও ইন্টেরিয়র উপকরণ (সিমেন্ট, টাইলস ও পার্টিকেল বোর্ড) গ্রুপটির নিজস্ব। দেশীয় উপকরণে নির্মিত এ ভবনটি স্থপতির একটি অনন্য কাজ।

সিম্পলট্রি আনারকলি, গুলশান অ্যাভিনিউতে নির্মিত ১৪ তলা এ ভবনটি এসময়ের একটি অন্যতম নান্দনিক স্থাপত্য। স্থাপতিক নন্দনতত্ত্বের নানা বৈশিষ্ট রয়েছে ভনটিতে। স্থাপনাটি নির্মাণে গ্রিণ বিল্ডিং কাউন্সিলের নিয়ম মানা হয়েছে। শক্তির অপচয় রোধ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সবুজায়ন, পানি পরিশোধন করে পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য পরিশোধন করে ড্রেনে ছাড়াসহ রাখা হয়েছে নানান ফিচার। ফলে স্থাপনাটি অর্জন করেছে বাংলাদেশে প্রথম বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে গ্রিণ বিল্ডিং কাউন্সিলের প্রি-সার্টিফাইড লিড গোল্ড সার্টিফিকেট।

স্থপতি ফয়েজ উল্লাহ্ নির্মাণ করেছেন দেশসেরা বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বানিজ্যিক কার্যালয়। এগুলোর মধ্যে অন্যতম- ইউনিলিভার বাংলাদেশের করপোরেট অফিস (বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা), বৃটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোর ফিন্যান্সিয়াল করপোরেট হেড অফিস (মহাখালী), ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (খিলক্ষেত), ইস্পাহানি ভবন (মগবাজার), ট্রান্সকম গ্রুপের করপোরেট হেড অফিস (তেজগাঁও), রুপায়ন রেড ক্রিসেন্ট টাওয়ার (মতিঝিল), লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্সিয়াল করপোরেট হেড অফিস (তেজগাঁও), আমিন মোহাম্মদ সিটি সেন্টার (ধানমন্ডি), টাওয়ার ৫২, গ্রাউন্ড ইনফিনিটি (বনানী), সায়হাম টাওয়ার (গুলশান অ্যাভিনিউ), টাওয়ার ১১৭ (তেজগাঁও), রংধনু টেলিভিশন ভবন (গুলশান), ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (উত্তরা), এমপরি ফিনানশিয়াল সেন্টার (গুলশান), সাঈদ খোকন’স অটোগ্রাফ (বনানী),  ই এইচ এল ৫৯বি (বনানী), ইএইচএল ১২৬ (গুলশান), গুলশান সেন্টার পয়েন্ট (গুলশান ২), শিখারা জলছবি (গুলশান অ্যাভিনিউ), পার্ল ট্রেড সেন্টার (প্রগতি সরণি), বে পার্ক হাইটস (ধানমন্ডি), মিকা কর্ণার ষ্টোন (উত্তরা), শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লি. (গুলশান অ্যাভিনিউ), সিম্পলট্রি লাইটহাউস (বনানী), আরহাম (উত্তরা), স্মার্ট জহির টাওয়ার (রোকেয়া সরণি), ওয়ার্ল্ড ঢ্রেড সেন্টারসহ আরো কিছু স্থাপনা। 

তিনি আবাসিক প্রকল্পের কাজও করেছেন বেশ কিছু। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- আকিজ উত্তরাধীকার (ধানমণ্ডি), ৪৭ (গুলশান), ওরিয়েন্টাল এন্টিডেট (ধানমন্ডি), মির আর-রাহমা (গুলশান), সিম্পলট্রি শাহনুর (বনানী), সিম্পলট্রি আয়েশা (বনানী), সিম্পলট্রি (গুলশান), সিম্পলট্রি মিরপুর (মিরপুর- ১০), সিম্পলট্রি দিঘিরপাড় (বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা), সিম্পলট্রি উত্তরা (উত্তরা), শাহনুর (বনানী), সিম্পলট্রি হাসি (বনানী), রূপায়ন উত্তরা সিটি (উত্তরা), ইএইচএল বারিধারা (বারিধারা) শান্তা সপ্নলোক (উত্তরা), ইনোভেটিভ জারা টাওয়ার (বেইলি রোড), সুবাস্তু কুমকুম (বারিধারা)।

তিনি কয়েকটি আন্তর্জাতিক পাঁচ তারকা হোটেলের কাজও করেছেন। এগুলো হচ্ছে- দি ওয়েস্টিন এবং পরবর্তীতে এর এক্সটেনশন (গুলশান), শেরাটন (বনানী), হোটেল হায়াত (গুলশান অ্যাভিনিউ), অ্যাক্রোপলিস (গুলশান ২), ফোর পয়েন্টস শেরাটন (গুলশান), দুইটি আন্তর্জাতিক মানের হোটেলসহ ইউনাইটেড সামিট সেন্টার (কুর্মিটোলা)। এছাড়াও তিনি কতিপয় শিল্পকারখানও নির্মাণ করেছেন। এগুলো হল- আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ মিল, ঢাকা ট্যোবাকো ইন্ডাস্ট্রিজ (গাজীপুর), আকিজ ফ্লাওয়ার মিলস (নারায়নগঞ্জ), বিল্ট ট্রেড ফয়েলস ফ্যাক্টরি (ধামরাই, মানিকগঞ্জ), আকিজ এনএলটিসি (মানিকগঞ্জ), নেচারাল ডেনিম ফ্যাক্টরী (আশুলিয়া)। অন্যান্য স্থাপত্য কর্মের মধ্যে রয়েছে হসপিটালিটি ডরিন সুইটস পাবলিক এরিয়া (গুলশান), ওএফএ ক্লাব হাউস (স্বর্ণালী আবাসন, পূর্বাচল), শিখারা কৌভেন্টিনা (গুলশান), ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ গেইট (ফৌজদারহাট, চট্টগ্রাম), জাহানারা ডায়নাস্টি (গুলশান), বারবিকিউ রেস্টুরেন্ট (নর্থ অ্যাভিনিউ, গুলশান) আসমারা ইন্টারন্যাশনাল (গুলশান ২), টম টেইলর (গুলশান), ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড ইন্টেরিওর (গুলশান ২)। বসুন্ধরা স্টিল মিলে নির্মাণ করেছেন একটি ব্যাতিক্রমী মসজিদ, রেট্রোফিটিং কাজের মধ্যে আছে ব্যাংক এশিয়া জোনাল অফিস (আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম), লালমাটিয়ায় ব্যাংক এশিয়া ভবন। এছাড়াও একটি আন্তর্জাতিক স্কুলসহ অসংখ্য প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

স্থাপত্য নির্মাণে স্থপতি ফয়েজ উল্লাহ্ নিজ দর্শন মেনে কাজ করা চেষ্টা করেন। বাহুল্যবর্জিত সাবলীল ধারার কাজেই তাঁর আগ্রহ। ঢাকার মত ঘনবসতির শহরে স্থাপনায় যত কম উপকরণ ব্যবহার ততই কার্বন ফুট প্রিন্ট কমানো যাবে। এ জন্য নির্মাণের শুরু থেকেই পরিবেশ বিষয়ে চিন্তা করেন। তথাকথিত সবুজায়ন নয়, বরং পুরো স্থাপনাকে পরিবেশবান্ধব করার চেষ্টা থাকে। যথেষ্ট পরিসর ছেড়ে স্থাপনা করেন যেন ভনটি খোলামেলা হয়। তিনি বাংলাদেশের স্থাপত্যকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। বয়ে এনেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি। অনেক কাজে ব্যর্থও হয়েছেন। তবে তা থেকে শিখেছেন অনেক কিছু। তরুণ বয়সে যেসব কাজ করেছেন সেগুলো নিয়ে ভাবেন। কিছুটা সময় নিয়ে কাজগুলো করা গেলে হয়তো আরও মানসম্মত স্থাপত্য সৃষ্টি হত এমনটিই তাঁর ধারণা।

স্থপতি মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ্ বিয়ে করেন ১৯৯৩ সালে। সহধর্মিনী মোর্শেদা নাসমিন। তিনি ভলিউমজিরো ও স্পেইসজিরোর অংশীদার। সুখী এ দম্পতির এক মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ে লামিয়া ওয়ালি উপমা ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্যের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ছোট ছেলে যাহি ওয়ালি আদিত পড়ছে স্যার জন উইলসন স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে। ফয়েজ উল্লাহ্ প্রচারবিমুখ মানুষ। স্থাপত্য চর্চায় তাঁর ভালোলাগে। পেশাগত জীবনের কারণে জীবনের অনেক ভাললাগা বিষয়গুলো থেকে সরে আসতে হয়েছে। কাজ করেন সৃষ্টি সুখের উল্লাসে। এছাড়াও নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে স্থাপত্য শিক্ষা ও পেশার উন্নয়নে প্রতিবছর কিছু বাজেট রাখেন। তা থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা হয়। এছাড়াও বুয়েটসহ অন্যান্য স্থাপত্য স্কুল, আইএবির স্থাপত্যসংশ্লিষ্ট নানা আয়োজনের সঙ্গী হতে চেষ্টা করেন। আইএবি বিভিন্ন প্রকল্পে তিনি অবদান রেখে চলেছেন ।

স্থপতি মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ্ পেশাগতভাবে কিছু সংগঠনের সঙ্গেও জড়িত। এগুলোর মধ্যে অন্যতম- সদস্য, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (আইএবি), সহযোগি সদস্য, আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস, সাংগঠনিক সদস্য, ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল, প্রতিষ্ঠিাতা সদস্য, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল ইকুইটি ফাউন্ডেশন (BASE), বনানী ক্লাব, আর্মি গলফ ক্লাব, গুলশান ইয়ুথ ক্লাব, ক্যাডেট কলেজ ক্লাব লিমিটেড, ফৌজিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ও বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, আর্কিটেকচার অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এসব সংগঠনেরও সদস্য তিনি। এছাড়াও বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড-২০১২ এর অগ্নি নিরপত্তা ও প্রতিরোধ (পার্ট ৪)-এর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট এর জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ডিজাইন কম্পিটিশিনের জুরি বোর্ডের দায়িত্বও পালন করেন। কিছুদিন ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন ব্যস্ততাকে পাশে রেখে।

স্থপতি ফয়েজ উল্লাহ্ বেড়ে ওঠেন একটি স্বচ্ছল পরিবারে। অর্থনৈতিক অভাববোধ ও দৈনতা তাঁকে কখনো স্পর্শ করেনি তথাপি তিঁনি শোষণ-বঞ্চনামুক্ত সাম্যভিত্তিক সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেন। নিজের স্থাপত্য ফার্মে সে চেতনারই প্রকাশ ঘটেছে। একটি আদর্শ অফিস; অনন্য কর্ম পরিবেশ। সবাই এখানে আনন্দপূর্ণ পরিবেশে কাজ করে, টিভি দেখে, লনে খেলা করে। কাজের ব্যাপারে সবাই সচেতন ও নিবেদিত প্রাণ। সকলের একান্ত প্রচেষ্টায় তাঁর এ স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানটি জয় করেছে সকলের ভালবাসা, বিশ্বাস ও গ্রহনযোগ্যতা। তিনি ভিন্ন ধারার স্থাপত্যচর্চা পছন্দ করেন। তাই আগামী দিনের স্থাপনার স্টাইলকে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করতে চান। তাঁর সৃষ্ট এসব স্থাপনা হয়ত একটা সময়কাল পর্যন্ত টিকে থাকবে। এজন্য তাঁর অবর্তমানেও যেন এই স্থাপত্য ফার্মটি টিকে থাকে, যেখানে স্থাপত্যচর্চা করবে অসংখ্য স্থপতি, তেমনই স্বপ্ন্ন দেখেন গুণী এ মানুষটি।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৭৫তম সংখ্যা, জুলাই ২০১৬।

মাহফুজ ফারুক
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top