আমেরিকার পুরোনো স্টেট ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস শহরটি ছবির মতো সাজানো। এর মধ্যভাগে ডাউনটাউনের পরিচিতি এক অর্থে ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির প্রদর্শিত কেন্দ্র হিসেবে। উত্তর-দক্ষিণমুখী হোপ স্ট্রিট, গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউ, অথবা পূর্ব-পশ্চিমমুখী প্রথম স্ট্রিট বা দ্বিতীয় স্ট্রিট ধরে এগোতে থাকলে একে একে চোখে পড়বে জন ফেরারো বিল্ডিং, আহম্যানসন থিয়েটার, ডরোথি চান্দলার মিউজিক হল, কলবার্ন স্কুল অব পারফর্মিং আর্টসহ আরও কিছুর। তবে যেদিক থেকেই আসুক না কেন, হাইওয়ের ইন্টার ক্রসিংয়ে এলে সবকিছু ছাপিয়ে দৃষ্টি কাড়বে দুমড়ানো-মোচড়ানো স্টিলের এক ধ্বংসস্তূপ। না ধ্বংসস্তূপ ঠিক বলা যাবে না তবে অচেনা নতুন পর্যটকেরা প্রথম দেখায় ধ্বংসস্তূপ ভাবতেও পারেন। বস্তুত স্থপতি ফ্রাঙ্ক ওয়েন গেহরির কাজের ধরনটাই এমন। চলমান স্থাপত্য ধারার এক অনন্য সংযোজন টাইটানিয়মের পাতলা শিটে মোড়ানো ইচ্ছেমতো আঁকানো-বাঁকানো অদ্ভুত আকারের এই স্থাপত্যকর্ম। একটু স্থির হয়ে দেখলে এর মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় অন্তর্নিহিত নান্দনিক এক ছন্দ। অনেকগুলো জাহাজের পাল দখিনা বাতাসে যেন পেট ফুলিয়ে আছে। দাঁড়িয়ে আছে একে অন্যের সঙ্গে নিবিড় বন্ধুতায়। জাহাজের মাস্তুল হারিয়ে গেছে পালের আধিক্যে। স্বাপ্নিক স্থপতি ফ্রাঙ্ক এই পালের নাম দিয়েছেন ‘ভালোবাসার পাল’। আমেরিকানদের ভালোবাসায় ধন্য এ স্থাপনাটি ইতিমধ্যে আমেরিকার সর্বকালের সেরা দশ স্থাপত্যের তালিকায় ঢুকে পড়েছে এর ব্যতিক্রমী অবয়বের কারণে, যা আদতে একটি কনসার্ট হল। নাম ওয়াল্ট ডিজনি কনসার্ট হল।
ওয়াল্ট ডিজনি কনসার্ট হলের মূল উদ্যোক্তা লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি করপোরেশন। লস অ্যাঞ্জেলেস মিউজিক সেন্টারের ব্যবহারের জন্য যখন চতুর্থ হল তৈরির চিন্তা করা হয়, তখন আর্থিক বিষয়টা বড় হয়ে দাঁড়ায়। বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ স্টেটটির সংস্কৃতিপ্রেমী ধনাঢ্য অধিবাসীদের খুঁজতে থাকে। এমনই এক পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন লিলিয়ান ডিজনি। শাশুড়ি ওয়াল্ট ডিজনির নামে বিশাল অঙ্কের অর্থের জোগান দেওয়ার নিশ্চয়তা দেন তিনি। মিসেস ডিজনির চাওয়া ছিল দৃষ্টিনন্দন কিছু একটা করার। এই চাওয়া পূরণের ভার এসে পড়ে সমকালীন বিখ্যাত স্থপতি ফ্রাঙ্ক ওয়েন গেহরির কাঁধে।
স্থপতি ফ্রাঙ্ক গেহরি তাঁর গগেনহাম মিউজিয়ামের সুবাদে আমেরিকাজুড়ে দারুণ পরিচিত। একটু ভিন্ন চিন্তার স্থপতি হিসেবে কারও কারও পছন্দের তালিকায়ও আছে তাঁর নাম। তবে সাধারণের জন্য তিনি মজার হলেও নির্মাতাদের জন্য তাঁর ডিজাইন ছিল রীতিমতো আতঙ্কের বিষয়। গেহরি নিজেও তাঁর এই ডিজাইনকে ঠিক নির্মাণের উপযোগী নকশায় রূপান্তরিত করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিশেষ কম্পিউটার সফটওয়্যারের সাহায্য নিলেন। কম্পিউটার এইডেড থ্রি-ডাইমেনশনাল ইন্টার্যাকটিভ অ্যাপ্লিকেশন (CATIA) নামক বিশেষ এই সফটওয়্যারটি ফরাসি যুদ্ধবিমানের ডিজাইন ও নির্মাণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই সফটওয়্যারটিই ঠিক ঠিকভাবে গেহরির ডিজাইনকে স্তরে স্তরে সাজিয়ে দিয়েছে।
তবে তার আগে প্রাথমিক ধারণা নিয়ে গেহরি বারবার সময় দিয়েছেন মিসেস ডিজনিকে। মিসেস ডিজনি ডিজাইন বুঝতেন না, তবু গেহরি চেষ্টা করতেন তাঁকে যতটা সম্ভব কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে। তাই প্রতিটি পদক্ষেপে যতটা পারা যায় ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা দিতেন। মিসেস ডিজনি বাগান ও ফুল পছন্দ করতেন। স্থপতি গেহরি তাঁর পছন্দমতো হলের বহিরাঙ্গনে বাগানের ডিজাইন করলেন, পদ্মফুলের মতো দেখতে পাথরের কিছু বসার জায়গাও তৈরি করলেন। শুধু বসার জায়গা নয়, পুরো কনসার্ট হলটিকেই কখনো কখনো ফুলের সঙ্গে তুলনা করা হতো। ফ্রাঙ্ক ও গেহরি পুরো প্রজেক্টের নকশা শেষ করতে বেশ সময় নেন। নির্মাণকাজের প্রস্তুতি সত্ত্বেও বারবার পিছিয়ে যেতে থাকে নকশার কাজ শেষ না হওয়ায়। ভালোবাসার পাল অথবা পদ্মফুলের সুবাসিত প্রত্যাশায় অবশেষে ১৯৯২ সালে ২ হাজার ২৬৫ আসনবিশিষ্ট ৩ লাখ ৬৭ হাজার বর্গফুটবিশিষ্ট এ কনসার্ট হলের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
ডিজনি কনসার্ট হলের ভেতরের নকশা খুবই সাধারণ। চতুর্দিকে হাইওয়ে বেষ্টিত বর্গাকৃতির জায়গার ঠিক মাঝখানে মূল কনসার্ট হল। বাইরে থেকে দেখতে জটিল হলেও নকশায় হলের আকৃতি একটি সরল চতুর্ভজ, যা কিনা ৪৫ ডিগ্রি কোণে বসানো। চতুর্ভুজের উত্তর-পূর্ব কোণে প্রধান প্রবেশপথ। সিঁড়ি বেয়ে খোলা চত্বরে উঠলে সামনেই চোখে পড়বে স্টিলের পালের আড়ালে স্বচ্ছ কাচের দেয়াল। ভেতরে জমকালো লবি ও লাউঞ্জ। পূর্ব ও উত্তর পাশে আরও দুটো ভিন্ন ভিন্ন প্রবেশপথ। মূলত তিনটি লেভেলে পুরো কমপ্লেক্সটি বিন্যস্ত। একদম ভিত্তি লেভেলে আছে সার্ভিস এরিয়া। আরও আছে রেস্টুরেন্ট, ছোট্ট মিটিং রুম, অফিসকক্ষ। একদম ওপরের লেভেল হচ্ছে অডিটরিয়াম গ্যালারি। লবি লাউঞ্জ ও এন্ট্রান্স প্লাজার অবস্থানকে মধ্য লেভেল ধরা যায়। এই লেভেলে আরও কিছু খোলামেলা পরিসর আছে, যা প্রয়োজনে প্রদর্শনী ও অস্থায়ী গ্যালারি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। একদম ওপরে অডিটরিয়াম হল বাদ দিলে বাকি চতুর্দিকে রয়েছে খোলা ছাদ। খোলা ছাদের সঙ্গে আছে বসার জায়গা, এম্পি থিয়েটার বা উš§ুক্ত গ্যালারি। মধ্য লেভেল থেকে খোলা সিঁড়ি দিয়ে এই ছাদে ওঠা যায়। ছাদ থেকে আবার নেমে সরাসরি যাওয়া যায় বাগানে। কমপ্লেক্সের পশ্চিমে বাগানের অবস্থান। উত্তর পাশের ফার্স্ট গ্র্যান্ড স্ট্রিট থেকে একটি সিঁড়ি দিয়েও সরাসরি বাগানে এসে বসা যায়। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে কিছু সময় গল্পে কাটানোর কার্যকর এক ব্যবস্থা এটি। কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশে রয়েছে আরেকটি দ্বিতল ভবন। এটি অবশ্য একদমই সোজাসাপ্টা। লা ফিলের অফিস এটি। কনসার্ট হলের মূল ব্যবহারকারী আসলে এই এই লা ফিল।
ওয়াল্ট ডিজনি কনসার্ট হলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কনসার্ট হল। বাইরে থেকে দেখে যে কারও মধ্যে দুশ্চিন্তা তৈরি হবে যে এমন আঁকাবাঁকা একটি স্থাপনার মধ্যে কীভাবে অডিটরিয়ামের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করলেই অবাক হতে হয় যে অনুষ্ঠানস্থলটি একদম গোছানো, বাইরের ধ্বংসস্তূপের সঙ্গে এর কোনো মিলই নেই। একদম নিয়মিত আকারের পরিসর যেখানে সুসজ্জিত আসনবিন্যাস একটু বসে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাবে যথারীতি। আসনবিন্যাসকে যদি বৃত্তাকার ধরা যায়, তাহলে তার কেন্দ্রে অবস্থান অর্কেস্ট্রার।
মিউজিক্যাল অনুষ্ঠান হয় এমন যেকোনো স্থাপনার ক্ষেত্রে এর বাহ্যিক ডিজাইন বা নকশার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এর শব্দকৌশল। গেহরির কাজের খুব বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল নান্দনিক ও যান্ত্রিক চাওয়ার মধ্যে সমন্বয় সাধন। স্থপতি গেহরি একটি নির্দিষ্ট ডিজাইন থিম নিয়ে বহিরাঙ্গনের ডিজাইন করছেন, যার অন্দরসজ্জাও সত্যিই চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সবই অর্থহীন হয়ে যাবে যদি অ্যাকোস্টিক বা শব্দবিন্যাসে ত্রুটি থেকে যায়। একজন স্থপতি হয়েও গেহরি তাই এই কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিজস্ব শব্দ প্রকৌশলীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি পয়েন্ট সমাধান করেছেন। প্রথম যখন পরীক্ষামূলকভাবে অডিটরিয়ামে অর্কেস্ট্রা বাজানো হয়, তখন এর দর্শনার্থীদের মন্তব্য ছিল এত চমৎকার এবং স্পষ্ট ধ্বনি এর আগে আর কোনো অডিটরিয়ামে শোনা যায়নি। এর দেয়াল ও সিলিং ডেকোরেশন করা হয়েছে ডগলাস নামক দেবদারুগাছের কাঠ দিয়ে আর মেঝে বিশুদ্ধ ওক কাঠের তৈরি। পুরো হলটি যখন দর্শনার্থীতে পরিপূর্ণ থাকে তখন প্রায় দুই সেকেন্ডের মতো এর প্রতিধ্বনি শোনা যায়। নিঃসন্দেহে বলা যায়, অডিটরিয়ামটি তার নিজস্বতা নিয়েই সজ্জিত। নিখুঁত শব্দ ও আন্তরিকতার অনুভূতি নিয়ে একে ডিজাইন করা হয়েছে। যন্ত্রের উপস্থিতি এবং ধারালো ডিজাইনের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে স্থপতি গেহরি এবং শব্দকুশলী ম্যানুয়েল রোজেল বেশ দীর্ঘ আলাপের পরে একমতে পৌঁছান। মহান এই অর্গানটি কনসার্ট হলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দর্শনীয় জিনিসটিকে সাজানো হয়েছে সুন্দর বাঁকানো কাঠের পাইপ দিয়ে এবং এখানে আরও আছে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা, একটি সংযুক্ত কুলুঙ্গি এবং আরেকটি আলাদা পরিবহনযোগ্য কুলুঙ্গি। অর্কেস্ট্রার চতুর্দিকে শ্রোতার জন্য রয়েছে সুবিন্যস্ত আসনবিন্যাস।
মূলধারার কনসেপ্টেই এ সৃষ্টি তার মিসটিক্যাল উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। ভবনের সারা গায়ে ঘোলাটে ধাতব আবরণ, বিভিন্ন উচ্চতায় প্রবহমান পরিসর এবং ফাঁকে ফাঁকে অনানুষ্ঠানিক ল্যান্ডস্কেপের ওপর সূর্যরশ্মির কারুকাজ যেন অর্কেস্ট্রার সুরের সহযাত্রী হয়ে বিমূর্ত সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেসের ব্যস্ত রাস্তায়। জনবহুল কনসার্ট, অর্কেস্ট্রা প্রোগাম কিংবা মর্যাদাসম্পন্ন বক্তব্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ওয়াল্ট ডিজনি কনসার্ট হল হয়ে উঠেছে জীবন্ত। ব্যতিক্রমী শব্দশৈলী ও আকর্ষণীয় পরিবেশে জায়গা করে নিয়েছে সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের অন্তরে। শুধু শিল্প বিপ্লবোত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসই নয়, বরং যার আবেশে অভিভূত সারা বিশ্বই।
এক নজরে ওয়াল্ট ডিজনি কনসার্ট হল
স্বত্বাধিকারী: লস এঞ্জেলেস ফিলহারমনিক
অবস্থান: ১১১, গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউ, লস অ্যাঞ্জেলেস
প্রধান স্থপতি: ফ্রাঙ্কো গেহরি
প্রজেক্ট স্থপতি: ডেভিড পাকসং, উইলিয়াম চিল্ডার্স, ডেভিড হার্ডি, ক্রিস্টিন ওহেল
কাঠামো প্রকৌশলী: জন এ মার্টিন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস
যন্ত্র প্রকৌশলী: কজেনটিনি অ্যাসোসিয়েটস
তড়িৎ প্রকৌশলী: ফ্রেডেরিক রাসেল ব্রাউন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস
শব্দ কুশলী: ইয়াসুহিসা টয়োটা অ্যান্ড নাগাতা অ্যাকোস্টিকস
থিয়েটার কুশলী: ফিশার ডাচ্ অ্যাসোসিয়েটস
নির্মাণ সময়কাল: সূচনা ১৯৯২; সমাপ্তি: ২০০৩
ফ্রাঙ্ক ওয়েন গেহরি
আমেরিকান স্থপতি ফ্রাঙ্ক ওয়েন গেহরির জন্ম মূলত কানাডায়। তবে বড় হন লস অ্যাঞ্জেলেসে। শৈশবেই তাঁর প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায় যখন দাদির হার্ডওয়্যারের দোকানের পরিত্যক্ত কাঠ ও লোহালক্কর দিয়ে থাকার ঘর, ভবিষ্যতের শহর, বাগানের পরিকল্পনা করতেন। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে স্থাপত্যে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে শুরু করেন কর্র্মজীবন। শুরুতে কিছুদিন বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করেন। এমনকি আমেরিকান সেনাবাহিনীতেও কিছুদিন কাজ করেছেন। ২০০১ সালে গেহরি পার্টনারস নামক স্থাপত্য ফার্ম গঠন করে নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে শুরু করেন বড় বড় প্রজেক্টের কাজ। স্পেনের বিলাবোতে গগেনহাম মিউজিয়ামের উদ্বোধনের পরেই তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। গেহরি স্থাপত্যচর্চায় একটি বিশেষ স্বাতন্ত্র্য ধারা বহন করেন।
রোজ ফর লিলি
ওয়াল্ট ডিজনি কনসার্ট হল কমপ্লেক্সের পশ্চিম অংশে একটি ছোট সবুজ বাগান পত্র-পল্লবিত সৌন্দর্য নিয়ে ফার্স্ট গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউ থেকে আসা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। কনসার্ট হলের অন্যতম ডোনার লিলিয়ান ডিজনির পছন্দ অনুযায়ী এই বাগানের ডিজাইন করা হয়। কনসার্ট হলের যেকোনো অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা এখানে কিছুটা সময় অবসর কাটাতে কিংবা ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। এখানে বসেই একটু দূরে তাকালে চোখে পড়ে শান্ত পানির লেক। রাতের নীল ঝকঝকে আলো প্রতিবিম্বিত হয় লেকের পানিতে। বাগানের মাঝে রয়েছে সুন্দর বসার জায়গা, যা দেখতে অনেকটা পদ্মফুলের মতো। লিলিয়ান ডিজনি পদ্মফুল ভীষণ পছন্দ করতেন। স্থপতি গেহরি এই কৃত্রিম ফুলটিকে ডিজনির জন্য তৈরি করেন। নাম দেন রোজ ফর লিলি। ডিজনির পছন্দের বিশেষ ধরনের চীনামাটির ভাঙা টুকরো দিয়ে এটি নির্মিত।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ৬৬তম সংখ্যা, অক্টোবর ২০১৫