আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা অনুষঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে প্লাস্টিকসামগ্রী। বাহারি রং, বর্ণিল ডিজাইন, হালকা ওজন ও নানা উপযোগিতার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের তালিকায় পণ্যটি রয়েছে শীর্ষে। গৃহস্থালির ব্যবহার্য, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিকসামগ্রী, খেলনা, পণ্যের মোড়ক প্রভৃতিতে পণ্যটির ব্যবহার সীমাবদ্ধ থাকলেও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এর বহুমুখী ব্যবহার। কাঠের বিকল্প ফার্নিচার তৈরিতে, লোহা-কাঁসা-পিতলের বিকল্প তৈজস এমনকি কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড ও শিরা-উপশিরা তৈরিতেও ব্যবহৃত হচ্ছে ফাইবার ও অন্যান্য উপাদানসমৃৃদ্ধ প্লাস্টিক কম্পোজিট। দিনে দিনে প্লাস্টিক পণ্য হয়ে উঠছে বৈচিত্র্যময় ও জনপ্রিয়। ধাতব ও উদ্ভিদজাত পণ্যের চেয়ে প্লাস্টিক কম্পোজিট অপেক্ষাকৃত হালকা, ক্ষয়রোধী, অধিক শক্তিসম্পন্ন, সাশ্রয়ী, নান্দনিক ও টেকসই। এতসব গুণের কারণেই আধুনিক স্থাপত্য ও অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে প্লাস্টিক কম্পোজিটের নানা উপকরণ। ইট-কাঠের ঐতিহ্য ভেঙে স্থাপনাগুলো সাজছে নতুন রঙে; নতুন ঢঙে।
প্লাস্টিক কম্পোজিট যৌগ
প্লাস্টিক একধরনের সিনথেটিক রেসিন। ফাইবার রেইনফোর্সড বা ফাইবার রেইনফোর্সড পলিমার (FRP) হিসেবেই এটির পরিচিতি। যৌগটি থার্মোসেটিং ও থার্মোপ্লাস্টিক, এই দুই ভাগে বিভক্ত। ফর্ম দুটি একটি রিজিট অন্যটি ফ্লেক্সিবল। থার্মোসেটিং বা রিজিট ফর্মের মধ্যে ফেনোলিক ও মেলামাইন-জাতীয় উপাদান রয়েছে, যা অত্যন্ত শক্ত এবং পূর্ণ জীবনকালে কখনো নমনীয় হয় না। এই উপকরণগুলো পলিভিনাইল ক্লোরাইড বা পিভিসি (PVC) পাইপ, দরজা-জানালা ফ্রেম ও অন্যান্য কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। থার্মোপ্লাস্টিকের মধ্যে পলিথিলিন (PE), পলেস্তেরিন (PS), পলিপ্রোপাইলিন (PP) উল্লেখযোগ্য। এগুলো কোমল পানীয়ের বোতল, আইডেনটিটি কার্ড, ইলেকট্রিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন উপকরণ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। পরিমাণমতো তাপ প্রয়োগ করে এ উপাদানগুলোকে নমনীয় ও বিভিন্ন আকারে রূপান্তর করা যায়। সাধারণত প্লাস্টিক কম্পোজিট স্বাভাবিক অবস্থায় ভঙ্গুর প্রকৃতির। এ জন্য উভয় ধরনের পলিমারে প্রাকৃতিক নানা ফাইবার ব্যবহার করা হয় প্রস্তুতকৃত উপকরণসমূহকে তুলনামূলক মজবুত, দৃঢ় ও উচ্চক্ষম করতে। ফলে প্রস্তুতকৃত যৌগ পরিণত হয় অধিক চাপ ও ভারবাহীতে। তবে এতসব উপাদান মেশালেও প্লাস্টিক পণ্য ভারী হয় না বরং হালকাই থাকে। কারণ, প্রাকৃতিক ফাইবার হালকা হলেও অধিক শক্তিশালী। এমনকি প্লাস্টিককে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন করতে ব্যবহার করা হয় কার্বন ফাইবার।
প্লাস্টিক কম্পোজিটের বহুমুখী ব্যবহার প্রকৌশল জগতে রাখছে অনন্য অবদান, বিশেষ করে পুরকৌশল ও স্থাপত্যে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে প্লাস্টিক কম্পোজিট, যার অধিকাংশই প্লাস্টিক বর্জ্য। সাধারণত সড়ক নির্মাণে বিটুমিনাস বা রিজিটÑ এই দুই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহৃত হলেও উভয় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ত্রুটি হলেই তা ক্রমেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তা ছাড়া ভারী বর্ষণ, তাপমাত্রা ও তুষারপাত সড়কের নানা ধরনের ক্ষতি করে। ফলে গবেষকদের চেষ্টা ছিল কীভাবে এ প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে দীর্ঘস্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা যায়। সমস্যার সমাধানে অবশেষে উদ্ভাবন হয় প্লাস্টিক কম্পোজিট। প্লাস্টিকের কম্পোজিট বন্ডিং গুণাগুণের কারণে এ ধরনের সড়ক সাধারণ এসফেল্টসহ অন্যান্য মিশ্রণের তৈরি রাস্তা থেকে দীর্ঘস্থায়ী। এ ছাড়া অধিক ভারবাহী গাড়ি চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। অধিক বৃষ্টিপাত ও অতিরিক্ত তাপমাত্রায়ও সড়কের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় থাকে। ফলে হাইওয়ে নির্মাণে প্রতিস্থাপক হিসেবে প্লাস্টিক অত্যন্ত কার্যকরী।
শুধু সড়কেই নয়, যেকোনো নির্মাণে প্রথাগত নির্মাণসামগ্রীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্লাস্টিক কম্পোজিটের ব্যবহার। পশ্চিম ইউরোপের ৬০ শতাংশেরও বেশি বার্ষিক উৎপাদনের ব্যবহার নির্মাণশিল্পে। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পকারখানার ভবন, কারখানা, গুদাম, বিনোদনকেন্দ্র প্রভৃতি নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে প্লাস্টিক কম্পোজিট প্যানেল, বোর্ড ও অন্যান্য উপকরণ। রিটেইনিং ওয়ালের জন্য সিট পাইলিং, ওয়াল, বিম, পাটাতন, ছাদসহ ভবনের কাঠামোগত উপাদানসমূহকে অতিরিক্ত সাপোর্ট দিতেও ফাইবার রেইনফোর্সড পলিমার ব্যবহৃত হচ্ছে। প্লাস্টিক কম্পোজিটসমূহ প্রি-ফেব্রিকেটেড এবং মডুলার বিল্ডিংয়ের নির্মাণকাজে ইটের গাঁথুনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ভবনের ইন্টেরিয়র কাজে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক কম্পোজিটের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।
প্লাস্টিক কম্পোজিট প্যানেল
প্লাস্টিক কম্পোজিট প্যানেল ভবনের বিভিন্ন অংশে মোড়কে আবৃত করতে ব্যবহৃত হয়। কম্পোজিটের মধ্যে রয়েছে থার্মাল ইনস্যুলেটিং প্যানেল, ওএসবি, এমডিএফ, পিবি, স্ট্র বোর্ড এবং লেমিনেটেড ভেনার লাম্বার। ভবনের মেঝে, ছাদ ও কাঠামোতে আস্তরণ প্রদানের জন্য ওএসবি বোর্ডের সঙ্গে প্লাস্টিক রেসিন প্রয়োগ করা হয়। ওএসবি বোর্ড বা প্যানেলসমূহকে কয়েকটি স্তরে সুসজ্জিত করে স্থাপন করলে তা ভারবাহী ক্ষমতা অর্জন করে। স্যান্ডউইচ পদ্ধতিতে প্যানেল কাঠামো তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিক কম্পোজিটের ফ্রেমের মধ্যে পাতলা ও কম ওজনের দ্রব্যাদি প্রবেশ করিয়ে নির্দিষ্ট আকার-আকৃতির প্যানেল তৈরি করা যায়। কাঠের আঁশ, চূর্ণ বা ছোট টুকরো ও ধানের আঁশ বা খোসা প্রভৃতি উচ্ছিষ্ট ফিলার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্যানেল বিভিন্ন রঙে তৈরি হয় বিধায় ভবনের বাহ্যিক সৌন্দর্য অনেক বেড়ে যায়। উচ্চতাপ ও বৈরী আবহাওয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে বিধায় স্থপতিদের কাজে এর রয়েছে বিশেষ চাহিদা। বিশেষভাবে তৈরি করা এসব প্যানেল বিভিন্ন আকার ও নকশায় তৈরি হয় এবং এতে কোনো বাড়তি রং প্রয়োগ বা বিশেষভাবে পরিষ্কারক দ্রব্যের প্রয়োজন পড়ে না।
দরজা ও জানালায়
দরজা ও জানালার প্রথাগত নির্মাণ উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে কাঠ, স্টিল, লোহা, বাঁশ। অথচ দেশে যে হারে ভবন ও অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা বাড়ছে, সে হারে বাড়ছে না কাঠের জোগান। এরপরও চাহিদার জোগান কিছুটা পূরণেও কাটা হচ্ছে গাছ; উজাড় হচ্ছে বনভূমি। এ ছাড়া ধাতব উপকরণের মূল্য বেড়ে যাওয়া ও একঘেয়েমি দূর করতে বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে প্লাাস্টিক ও প্লাইউডের দরজা। যেখানে ভালো কাঠ দিয়ে তৈরি একটি দরজার দাম পড়ে ১৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা, সেখানে একটি প্লাস্টিক দরজার দাম মাত্র ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। দামে সাশ্রয়ী হলেও স্থায়িত্ব, গুণগতমান বা সৌন্দর্যের কমতি নেই। খোদাই কাঠের নকশা করা দরজার মতোই, যা শৈল্পিক ও দৃষ্টিনন্দন। ডিজাইনের মধ্যে রয়েছে ফুল, লতাপাতা, অ্যাবস্ট্রাক্ট প্রভৃতি। কিছু প্লাস্টিক দরজায় কাচের সমন্বয়েও বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। তা ছাড়া এসব দরজায় প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক উন্নত। অত্যাধুনিক মেশিনে তৈরি হওয়ায় বাহ্যিক সৌন্দর্য ও মানের বিচারে অনেক সময় কাঠকেও হার মানায়। এই দরজার প্রধান বৈশিষ্ট্য, এটি হালকা ও সহজেই বহনযোগ্য। এ ছাড়া আকার ও আকৃতিতে রয়েছে ভিন্নতা।
বিশ্বে প্লাস্টিক দরজা ও জানালার বহুল ব্যবহার লক্ষ করা গেলেও এ দেশে বাথরুম ও রান্নাঘরেও এ ধরনের দরজার ব্যবহার বেশি। এর প্রধান কারণ প্লাস্টিক পানিরোধক। এ ছাড়া ভবনের বিভিন্ন অংশে প্লাস্টিক ব্যবহৃত হলেও জানালায় সাধারণ কাঠ, কাচ ও টিনের ব্যবহারই বেশি। দরজা ও জানালার চৌকাঠ হিসেবে প্লাস্টিক কম্পোজিট ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়েছে। ইউপিভিসি দরজা ও চৌকাঠ খুবই উন্নতমানের প্লাস্টিক রেজিন ও থার্মো প্লাস্টিকে তৈরি। ভিনাইল জানালাগুলো কাচের মতো তাপ পরিবাহী নয়, কাঠের মতো বৃষ্টির পানিতে পচে না; ঘুণেও ধরে না। আবার টিন বা স্টিলের মতো মরিচাও ধরে না। উন্নতমানের এ দরজাগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় বলে ফিটিংস কখনো খুলে আসে না কিংবা পাল্লা ঝুলে পড়ে না। কাঠের দরজার মতো এ দরজায় রং বা বার্নিশের প্রয়োজন হয় না। এ ছাড়া দরজা-জানালাগুলো আগুন সুপরিবাহী নয়। ফলে সহজে আগুন ধরে না।
প্লাস্টিক দরজা ও ফ্রেম ব্যবহারে যত সুবিধা
- পানিরোধক হওয়ায় ক্ষয় হয় না, ফুলে ওঠে না
- নমনীয় বলে রোদে ও তাপে বেঁকে যায় না
- রং নষ্ট হয় না
- ঘুণে ধরে না
- রং বা বার্নিশের প্রয়োজন হয় না
- দীর্ঘস্থায়ী; সহজে ভাঙে না
দেয়ালে
ভবনের দেয়াল নির্মাণে সাধারণত ব্যবহৃত হয় ইট ও রিইনফোর্সড কংক্রিট ঢালাই। কিছু ক্ষেত্রে কাচ ও পার্টিকেল বোর্ডও ব্যবহৃত হয়। উপাদানগুলো বেশ ভারী ও তাপ সুপরিবাহী। ইট, কংক্রিট ও কাচ সৌরতাপ ধরে রাখে। ফলে ঘর অত্যন্ত গরম হয়ে ওঠে। ঠান্ডা রাখতে তাই এসি ও বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবহার করতে হয়। প্লাস্টিক কম্পোজিট প্যানেলের ব্যবহার সমস্যাগুলোর সমাধানে টনিকের মতো কাজ করে। বিশেষ করে স্যান্ডউইচের মতো স্ট্র্যাকচারারল ইনস্যুলেটিং প্যানেলে। দেয়ালে সাধারণত পাঁচ ধরনের থার্মাল বোর্ড ব্যবহৃত হয়।
- প্লাস্টিক মোড়ক
- স্ট্র্যাকচারারল ইনস্যুলেটিং প্যানেল
- প্লাস্টিক স্প্রে
- রিজিট ফোম
- প্লাস্টিক ইনস্যুলেশন।
এই বিশেষ প্যানেল পাতলা, মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী। তেমনি এগুলো বিশেষ ধরনের অন্তরক হিসেবে কাজ করে। কারণ, এই স্যান্ডউইচ প্যানেলের মধ্যকার চেম্বার বাতাস ধরে রাখে এবং তাপ প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে ঘর ঠান্ডা থাকে। বিদ্যুতের অপচয় কমায়। ভূমিকম্প ও দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইট ও কংক্রিটের দেয়ালের পরিবর্তে এ দেয়ালগুলো দারুণ কার্যকর। এগুলো ঝোড়ো বাতাস সহ্য করে টিকতে সক্ষম। সবচেয়ে বড় সুবিধা, বৃষ্টিতে ভবনের দেয়ালে ফাঙ্গাস ও ছত্রাক আক্রমণ এবং ড্যাম হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। তা ছাড়া বছর বছর রং করার ঝামেলা থেকেও মুক্তি দেয়। রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী হওয়াই এই পণ্যগুলো সর্বত্রই ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ছাদে
মাথার ওপর চাই নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী ছাদ। বর্ষার পানি জমে ছাদ ড্যাম হবে না; চুইয়ে পানি পড়বে না। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা কি হয়? নির্মাণত্রুটি, নিম্নমানের পণ্য ব্যবহার, যথাযথ কিউরিংয়ের অভাবসহ নানা কারণে ছাদ লিকেজ হতে পারে। পানিই যে ছাদের একমাত্র সমস্যা তাও কিন্তু নয়, তাপও কম যায় না। দিনের অধিকাংশ সময়ই ছাদ সূর্যতাপ পায় বা রোদ থাকে। তাই ছাদ যেমন গরম হয় তা ঘরগুলোকেও গরম করে তোলে। খুব জটিল প্রক্রিয়া ছাড়া সমস্যাটির সমাধান তেমন নেই। তবে প্লাস্টিক কম্পোজিটে তৈরি বোর্ড ও অন্যান্য উপকরণ হতে পারে এর খুব সহজ সমাধান। রাবার, প্লাস্টিক, সেলুলোজ ফাইবারসহ বিভিন্ন উপাদানে নির্মিত বোর্ড বেশ কার্যকরী। আঠালো পলিমার দিয়ে দৃঢ়ভাবে যুক্ত এই বোর্ড অনেকটা প্লেট টাইলসের মতো। এগুলো তাপ নিয়ন্ত্রণ করে শীতল পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া তাক লাগানো প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে পলিউরিথেনিং ফোম স্প্রে (polyurethane foam spray). বিশেষ এই ফোম স্প্রে আর্দ্রতা মোকাবিলা করে ছাদের স্থায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়। এই ফোম কোটিং বা প্রলেপ হালকা রঙের হওয়ায় এবং বিকিরণ ক্ষমতা থাকায় ভবনের অভ্যন্তরে তাপ প্রবেশ ব্যাহত করে। বৃষ্টির পানিও জমতে দেয় না। ফলে ছাদ থেকে শেওলা, ফাঙ্গাস ও ভেজাভাব দূর হয়। এ ছাড়া এই ফোম স্প্রে ছাদের বিভিন্ন সূক্ষ¥ ফাটল বা হেয়ার ক্র্যাক রোধে অত্যন্ত কার্যকরী, যা জলছাদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে।
ছাদ বাগান তৈরিতে
নগরায়ণের ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ বাগান। বাগানের ঠায় হচ্ছে অনেকের বাসাবাড়ির ছাদে। এই ছাদকে বলা হয় গ্রিন রুফ। পরিবেশবান্ধব ও শীতল স্থাপনার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির তুলনা নেই। অথচ বাগান করতে স্বাভাবিকভাবে মাটি ভরাট ও নিয়মিত পানি দিতে হয়, যা ছাদের স্থায়িত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ জন্য প্রয়োজন হয় জলনিরোধী স্তর। আর এই স্তরের বিশেষ ম্যাট তৈরি হচ্ছে প্লাস্টিক ফাইবারে। অসংখ্য ছিদ্র বা রন্ধ্রযুক্ত এই ম্যাট যেমন পানি প্রণালির মতো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি অতিরিক্ত পানি ড্রেনেজের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। ম্যাট স্তর বেশ পুরু ও শক্তিশালী হওয়াই ছাদ ভেজে না এবং গাছের শিকড়ও তা ভেদ করতে পারে না।
স্থাপনার সৌন্দর্যে আর্কিটেকচারাল রুফিং
আধুনিক স্থাপত্যে বদলে যাচ্ছে প্রথাগত ছাদের চিত্রপট। ভারী কংক্রিটের বদলে স্থান পাচ্ছে প্লাস্টিক ফাইবার ও ফাইবার কাচের নান্দনিক ছাদ। এই ফাইবার ছাদগুলো স্বচ্ছ, বর্ণিল, মসৃণ ও ডিজাইনসমৃদ্ধ। বিভিন্ন স্টেডিয়ামের গ্যালারির হলরুম, স্টোররুম, পাকিং লট প্রভৃতি স্থাপনার ছাদ নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে এই ফাইবার গ্লাস বোর্ড। এ ছাড়া সুইমিংপুল, ইনডোর স্টেডিয়াম, টেনিস কোর্টসহ বিভিন্ন খেলার মাঠকে বৃষ্টিমুক্ত রাখতে পুরোটা জুড়েই নির্মিত হচ্ছে ফাইবার গ্লাস ও পলিমার ছাদ। এই ছাদ স্টেডিয়ামে প্রাকৃতিক আলোর প্রবেশে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করে না। স্প্যান জোড়া দিয়ে তাতে মেমব্রেন যুক্ত করে অনায়াসে এই ছাদকে যেমন খুশি আকার দেওয়া যায়। স্টেডিয়াম বা অন্যান্য গ্যালারিতে সাধারণ ছাদের ক্ষেত্রে আগে মোটা মোটা কলাম নির্মাণ করা হতো। এগুলো দর্শকদের খেলা উপভোগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত। কিন্তু দীর্ঘ স্প্যানের ফাইবার রুফ নির্মাণে অতিরিক্ত কলাম না থাকায় পরিসর থাকে বেশ খোলামেলা; ঘিঞ্জি মনে হয় না। ফলে দর্শকেরা নির্বিঘ্নে বিনোদন উপভোগ করতে পারে। এই প্রযুক্তি স্থাপত্যে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। ফ্লেক্সিবল বা বাঁকানো যায় বিধায় অস্থায়ী তাঁবু, সৈনিক ব্র্যাক, স্কুলসহ নানা স্থাপনার ছাদ নির্মাণসহ অন্য প্রয়োজন শেষে তা সহজেই খুলে ফেলা যায়, যা কংক্রিট বা অন্য উপকরণে চিন্তাও করা যায় না।
পাইপ ও ফিটিংসে
পানি, বিদ্যুৎ, পয়োনিষ্কাশন, গ্যাস, রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিংসহ নানা কাজে পিভিসি পাইপের তুলনা হয় না। নানা উপযোগিতার কারণে প্লাস্টিক পাইপের জনপ্রিয়তা ও ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। আগে পাইপ তৈরি হতো ধাতব উপাদানে। এগুলো অত্যন্ত ভারী, ক্ষয়িষ্ণু ও মরিচাপ্রবণ হওয়ায় ইউপিভিসি এখন বহুল ব্যবহৃত। এমনকি উন্নতমানের ফাইবারসমৃদ্ধ পিভিসি পাইপ গ্যাস লাইনে লোহার পাইপের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে অনেক দেশে, যা সাশ্রয় করছে বিপুল অর্থ। এ ছাড়া ঘরের তাপমাত্রা কমাতে মেঝের তলদেশে পাইপ লাইন স্থাপন করে তাতে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাথরুম ও রান্নাঘরে কাস্ট প্লাস্টিক পলিমার ফিটিংস ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রথাগত ফিটিংসের তুলনায় এই কম্পোজিট অনেক বেশি শক্তিশালী এবং অপেক্ষাকৃত কম ভঙ্গুর।
পিভিসি পাইপের সুবিধা
- সহজে কাটা যায়
- ড্রিল করা যায়
- ছিদ্র হলে সহজে ঠিক করা যায়
- মরিচা ধরে না
- ক্ষয় হয় না
- স্থাপন, পরিবহন ব্যয় কমে
- চুরির আশঙ্কা কম।
ডেক, বেড়া ও রেলিংয়ে
ডেক, বেড়া ও রেলিং নির্মাণে সাধারণত ব্যবহৃত হয় কাঠ, বাঁশ ও ধাতব বস্তু। কিন্তু প্রতিটি উপকরণেরই কিছু না কিছু সমস্যা আছে। যেমন, কাঠ ও বাঁশ বৃষ্টির পানিতে পচে যায়, মাটিতে উইপোকা ধরে এবং ধাতবসামগ্রীগুলো মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে প্লাস্টিক কম্পোজিট অত্যন্ত কার্যকর। বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্লাস্টিক কম্পোজিটে বিভিন্ন প্যানেল ছাড়াও তৈরি করছে বিভিন্ন কাঠামো, দণ্ড, নেট প্রভৃতি। এগুলো দিয়ে ডেকের পাটাতান, বেড়া, গেট, রেলিংসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যায়। এগুলো পানি, পোকা, ফাঙ্গাস, মরিচা ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী। তা ছাড়া পর্যাপ্ত ভার বহনে সক্ষম।
ইন্টেরিয়রের নান্দনিকতায়
স্থাপনার অন্দরসাজ রুচিবোধের বহিঃপ্রকাশ। সবাই চায় অন্দর সাজে ভিন্নতা। কাঠ ও স্টিলসামগ্রীর পাশাপাশি প্লাস্টিক ফাইবার ভিনাইল বোর্ড ডিজাইনারদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্লাস্টিক ফার্নিচারের পাশাপাশি শেলফ, কর্নার, কেবিনেটসহ বিভিন্ন সজ্জায় ব্যবহৃত হচ্ছে উপকরণসমূহ। ফলস সিলিং, সিঁড়ি, রেলিং ও অন্যান্য পরিসর রাঙিয়ে তুলতে বোর্ডের নানামুখী ব্যবহার ইন্টেরিয়রের প্রথাগত ধারা বদলে দিচ্ছে নান্দনিক ও নতুনত্বের ছোঁয়া।
প্লাস্টিক কম্পোজিট উপকরণের উপযোগিতা
একুশ শতকের নতুন ডিজাইন উদ্ভাবনে প্লাস্টিক অনন্য এক উপকরণ। যৌগটির প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে এর উপযোগিতা। দিন দিন নির্মাণসামগ্রী, শ্রমিক মজুরি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ যে হারে বাড়ছে, তাতে এই পণ্যটি এখনো বেশ সাশ্রয়ী যা সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। প্লাস্টিক কম্পোজিট উপকরণের রয়েছে বহুমুখী উপযোগিতা। এগুলোর মধ্যে অন্যতম-
- উপকরণগুলো হালকা অথচ শক্ত
- দীর্ঘস্থায়ী
- সহজে স্থাপনযোগ্য
- তাপ, ক্ষয় ও মরিচারোধী
- বর্ণিল রং ও ডিজাইন
- বিদ্যুৎ অপরিবাহী
- শব্দরোধী
- সহজে বহনযোগ্য
- সহজ অপসারণযোগ্য
- নমনীয়
- পুনর্ব্যবহারযোগ্য
- নিরাপদ।
তবে এরও রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতা
- নিম্নমানের কম্পোজিট অতিরিক্ত সূর্যালোকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
- অগ্নি ঝুঁকি রয়েছে
- ভারবাহী ক্ষমতা কম
- রং নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক কম্পোজিট
বিশ্বময় জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তনে হুমকির মুখে পৃথিবী। অকৃপণের মতো প্রকৃতি নিধনের ফলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৃথিবী। তাই সচেতন হতে শুরু করেছে মানুষ। স্থাপনাগুলোকে করে তুলছে পরিবেশবান্ধব। নির্মিত হচ্ছে সাসটেইনেবল গ্রিন বিল্ডিং। মূলত বৈশ্বিক উষ্ণতা ও কার্বন ফুট প্রিন্ট কমানোই এর প্রধান লক্ষ্য। জিরো কার্বন স্থাপনার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়, তার মধ্যে স্থাপনার পার্শ্বদেয়াল, ছাদ, মেঝে ইত্যাদি এমনভাবে আচ্ছাদিত করতে হবে যেন শক্তির অপচয় কম হয়। সহজেই চলাচল করতে পারে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস। ভবনে প্লাস্টিক কম্পোজিটের নানা উপকরণ ব্যবহারে কার্বন নিগর্মন অনেকটা কমানো যায়। উন্নতমানের পিভিসি উপকরণ বিষাক্ত রাসায়নিকমুক্ত পলিমারে তৈরি হয় বিধায় তা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি করে না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক বছরের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভবনে প্লাস্টিক উপকরণ ব্যবহারে ৪৬৭.২ ট্রিলিয়ন বিটিইউ (British Thermal Unit) এনার্জি সাশ্রয় হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্রবর্তী উপকূলীয় প্লাবন সমস্যা এবং মরিচা সমস্যার সমাধানে প্লাস্টিক কম্পোজিট অত্যন্ত কার্যকরী।
প্লাস্টিক মাটিতে মেশে না, ফলে নষ্টও হয়। নিঃসন্দেহে তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। তবে প্লাস্টিক সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানের রিসাইক্লিং উপাদান। কখনোই এর জীবনকাল শেষ হয় না যদি একে পুনরায় রূপান্তরিত করা যায়। এই বর্জ্যকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে তা পরিবেশদূষণের কারণ না হয়ে হবে পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক অনুষঙ্গ। কমবে গ্রিন হাউস গ্যাস, কার্বন ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাসের নির্গমন। একে আরও আধুনিক ও অধিক ব্যবহারের উপযোগী করতে চলছে সোলার সিস্টেম সংযোজনের চেষ্টা। তাই ভবিষ্যতের প্লাস্টিক কম্পোজিট প্যানেল হবে আরও প্রযুক্তিসমৃৃদ্ধ।
প্লাস্টিক শিল্প প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্লাস্টিকশিল্প। দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি ও অর্থনৈতিক খাত হিসেবে এরই মধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে শিল্পটি। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ২৩টি দেশে নিয়মিত ও অনিয়মিতভাবে ৬০টি দেশে প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমই) মতে, প্রতিবছর সরাসরি ৮০০ কোটি ও প্রচ্ছন্নভাবে ৩ হাজার কোটি মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হয়। প্লাস্টিক রপ্তানিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম। বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ। অভ্যন্তরীণভাবে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এ খাতে। ফলে এ শিল্প দেশের অর্থনীতি এনেছে নতুন মাত্রা। এ খাত থেকে সরকার প্রতিবছর রাজস্ব পাচ্ছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।
সম্ভামনাময় এ খাতটি থেকে আরও আয় করা সম্ভব। প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ের উপযুক্ত পরিবেশ এখনো দেশে গড়ে ওঠেনি। এগুলো চীনে রপ্তানি করা হয়। অথচ দেশে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির পুনঃউৎপাদন কারখানা গড়ে উঠলে কয়েক হাজার কোটি টাকার আমদানি বিকল্প সিনথেটিক ফাইবার উৎপাদন করা সম্ভব। প্লাস্টিকশিল্পের কাঁচামাল পলিপ্রোপাইলিন, পলিইথাইলিন, এইচএপিএফ, জিপিপিএস ইত্যাদি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা দেশেই উৎপাদন সম্ভব।
১৯৫২ সাল থেকে দেশে প্লাস্টিকশিল্পের যাত্রা শুরু। গড়ে উঠেছে বড়-ছোট-মাঝারিসহ তিন হাজারেরও বেশি প্লাস্টিক কারখানা। উৎপাদিত হচ্ছে আসবাবপত্র, পলিব্যাগ, গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, খেলনা, ক্রোকারিজসহ নানাসামগ্রী। প্লাস্টিক দরজা, পিভিসি পাইপ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ছাড়া নির্মাণে ব্যবহারের উপযোগী অনেক পণ্যই এখনো রয়ে গেছে অধরা। শিল্পটি বিকাশে যদি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা যায়, তাহলে এই খাত অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নব দুয়ার খুলে দেবে। দেশে লেদার, টেক্সটাইল, সিরামিকসের জন্য বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট থাকলেও প্লাস্টিকশিল্পের জন্য তা নেই। এমনকি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিক টেকনোলজি নিয়ে পড়ানোও হয় না। সম্প্রতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা হয়েছে ‘পলিমার সায়েন্স’ নামের একটি বিষয়। অথচ বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্লাস্টিক বিষয়ে রয়েছে উন্নত লেখাপড়ার ব্যবস্থা ও বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট।
দেশে একটি পৃথক প্লাস্টিক শিল্পনগরী কিংবা বাংলাদেশ প্লাস্টিক টেকনোলজি ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ অনেক আগে নেওয়া হলেও নানা কারণে প্রকল্পটি আটকে আছে। এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠলে প্রায় ২২ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া দেশে জমা হওয়া প্রায় টন টন প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকেল করে নিত্যনতুন পণ্য উৎপাদন সম্ভব। প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সম্ভব বিশ্ববাজারে ক্রমবর্ধমান বহুমুখী প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা পূরণ করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ৬৫তম সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৫