নির্মাণশৈলীতে বিশ্বসেরা সিডনি অপেরা হাউস

সিডনি অপেরা হাউস আধুনিক স্থাপত্যের অনুপম এক নিদর্শন, যা আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। সিডনি অপেরা হাউস অস্ট্রেলিয়ার জনগণের গর্বের স্মারক। এটির অবস্থান সিডনি হারবার ব্রিজের কাছে সিডনি বন্দরে। নৌকার পাল আকৃতির এ স্থাপনাটি তরুণ এক স্থপতির অমর সৃষ্টি। ডেনিস স্থাপত্যশিল্পী জন উটজন সিডনি অপেরা হাউসের মূল নকশাকার। অসাধারণ সিডনি হারবারকে আরও কীভাবে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা যায় তার সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়েছিলেন তিনি তাঁর নকশায়। এটি এমন একটি নির্মাণশৈলী, যা দিনের আলোয় ঝকমকে ও রাতের আলোয় চকচকে দ্যুতি ছড়ায়।

সিডনি অপেরা হাউসের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ১৯৫৮ সালে। তৎকালীন অস্ট্রেলিয়ান সরকার অপেরা হাউসটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে যা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ১৯৭৩ সালের ২০ অক্টোবর সিডনি অপেরা হাউসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। যদিও অবকাঠামোটি নির্মিত হয়েছিল একক ভেন্যু হিসেবে। কিন্তু বর্তমানে এটিতে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। প্রতিবছর এখানে প্রায় এক হাজার ৫০০টি বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে প্রায় ১২ লাখ দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।

সিডনি অপেরা হাউস বিংশ শতকের সবচেয়ে স্বকীয় স্থাপনার একটি। এটি বিশ্বের বিখ্যাত আর্ট সেন্টার। অসাধারণ এ স্থাপত্যকর্মটি অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম শিল্প-সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থান করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ানদের হৃদয়ের মণিকোঠায়। অপেরা হাউসের স্থপতি জন উটজন ভাষ্যে, ‘To me it is a great joy to know how much the building is loved, by Australians in general and by Sydneysiders in particular.’

নির্মাণের ইতিকথা

উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশরা যখন তাদের শাসন গুটিয়ে নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে, সিডনি অপেরা হাউস তৈরির ভাবনার উৎপত্তি ঠিক সেই সময়ে। সিডনি শহরে তখন বড় বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কেন্দ্র ছিল সিডনি টাউন হল। সে সময় নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সংস্কৃতিচর্চার প্রাণপুরুষ ছিলেন ইউগিন গুসেন্স। শহরে বড় একটি সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র খোলার স্বপ্নটা প্রথম এসেছিল গুসেন্সের মাথা থেকেই। সেই ভাবনাটি নিউ সাউথ ওয়েলস প্রশাসনের অনুমোদন পেল ১৯৫৪ সালে। সিডনি অপেরা হাউস কোথায় হবে সেই স্থান নির্বাচন প্রাথমিকভাবে করে দিয়েছিলেন গুসেন্স। তাঁর ইচ্ছে ছিল সমুদ্রের খাঁড়ির ধার ঘেঁষে এমন একটা জায়গায় সেটি তৈরি হোক, যাতে সিডনি হারবার ব্রিজ, বোটানিক্যাল গার্ডেন, রেলস্টেশনÑ সব মিলিয়ে নতুন একটা পর্যটনস্থলের চেহারা নেয়। ঠিক হয়, সিডনি ট্রাম কোম্পানির স্থান বদল করে সেখানেই গড়ে উঠবে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। সিডনি অপেরা হাউস। কিন্তু নকশা তৈরি করবে কে? প্রস্তাবিত ওই অপেরার নকশা কী হবে তা ঠিক করতে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা হলো। ১৯৫৫ সালে বিশ্বের ৩২টি দেশ থেকে মোট ২৩৩টি নকশা এসে পৌঁছাল। অপেরায় ঠিক কী কী হবে, কতগুলো প্রেক্ষাগৃহ থাকবে, কোন প্রেক্ষাগৃহে কী হবে, সেগুলোর আসনসংখ্যা কত হবে, উচ্চতা কত হবে তা নকশা তৈরির শর্তের সঙ্গে লিখে দেওয়া হয়েছিল। দুই বছর ধরে বিভিন্ন বিচারক নকশাগুলো ঘেঁটে ১৯৫৭ সালে একটিকে চূড়ান্ত করলেন। পাঁচ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের সেই পুরস্কার জিতে নিলেন ৩৮ বছরের ড্যানিশ স্থপতি জন উটজন। ১৯৫৯ সালের মার্চে শুরু হয় সিডনি অপেরার কাজ। ঠিক হয়েছিল ১৯৬৩ সালের ২৬ জানুয়ারি (অস্ট্রেলিয়া দিবস) কাজ শেষ হবে। মোট খরচ ধরা হয়েছিল ৭০ লাখ ডলার। ১৯৭৩ সালের ২০ অক্টোবর ধুমধাম করে উদ্বোধন হলো সিডনি অপেরা হাউসের। ১৯৯৬ সালে সিডনি অপেরা হাউসের কিছু অংশের পুনর্গঠন করা হয়।

অপেরা হাউসটি যেমন

সিডনি অপেরা হাউসের নৌকার পাল আকৃতির বাইরের খোলসটি প্রিকাস্ট কংক্রিটে নির্মিত। প্রতিটি বলয় বা পরিসরের ব্যাসার্ধ ৭৫ দশমিক ২ মিটার বা ২৪৬ ফুট ৮ দশমিক ৬ ইঞ্চি, যা মূল অপেরা হাউসের ছাদ হিসেবে কাজ করে। সম্পূর্ণ ভবনটির অবস্থান প্রায় ১ দশমিক ৮ হেক্টর বা ৪ দশমিক ৪ একর জমিতে এবং এটি প্রায় ১৮৩ মিটার বা ৬০০ ফুট লম্বা এবং ১২০ মিটার বা ৩৯৪ ফুট চওড়া। সম্পূর্ণ কাঠামোটি কংক্রিটের তৈরি ৪৮৮টি পিয়ারের (Pier) ওপর নির্মিত এবং পিয়ারগুলো সমুদ্রের তলদেশে ২৫ মিটার বা ৮২ ফুট নিচে নিমজ্জিত।

সিডনি অপেরা হাউসের ছাদ দেখতে অনেকটা খোলসের মতো, যা দূর থেকে দেখতে সাদা রঙের মনে হলেও মূলত এটা সূক্ষ্ম বর্গাকারের মতো এবং যা দুটি ভিন্ন রঙের ১০ লাখ ৫৬ হাজার ছয়টি টাইলসে নির্মিত। এতে মূলত উজ্জ্বল সাদা ও ম্যাট ক্রিম রঙের টাইলস ব্যবহৃত হয়েছে। অপেরা হাউসের মূল ছাদের টাইলস ছাড়া বড় হলঘরের খোলা জায়গাগুলো কাচে আবৃত। সম্পূর্ণ ভবনের বাইরের অংশ কংক্রিটের প্যানেলে ঢাকা। এগুলো গোলাপি রঙের গ্রানাইট দ্বারা সম্পূর্ণ মোড়ানো এবং অপেরা হাউসের ভেতরের অংশ অফ ফরম কংক্রিট ও সাদা রঙের প্লাইউডে আবৃত।

অপেরা হাউসের দুটি বৃহৎ জায়গার একটি কনসার্ট হল, যা বাইরের খোলসের পশ্চিমের দিকে অবস্থিত এবং পূর্বদিকে জন সাদারল্যান্ড থিয়েটার। অপেরা হাউসের শেলগুলোর উচ্চতা এর অভ্যন্তরের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট করা। এর নিচু অংশগুলো মূলত অপেরা হাউসের প্রবেশদ্বার এবং সেলের উঁচু অংশগুলো দর্শকদের সিট বা বসার স্থান। ছোট ছোট ভেন্যু যেমন: ড্রামা থিয়েটার, খেলাঘর, স্টুডিও প্রভৃতি পডিয়াম বা মঞ্চের কনসার্ট হলের নিচে অবস্থিত। ছোট ছোট কিছু শেল দিয়ে আবৃত পশ্চিম অংশে বেনলং রেস্টুরেন্ট অবস্থিত। পডিয়ামটির চারদিকে খোলা জায়গা এবং পাথর দিয়ে বাঁধানো বৃহৎ জায়গাটি নিয়মিত অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ব্যবহৃত।

যাত্রা হলো শুরু

বিশ্বের কোটি কোটি পর্যটকের আকর্ষণের কেন্দ্রস্থল সিডনি অপেরা হাউস। অপেরা হাউসটি মহাসাগরের এক প্রান্তে তৈরি করা হয়েছে, যা দেখতে অনেকটা উপত্যকার মতো। ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ২০ অক্টোবর ১৯৭৩ সালে আধুনিক স্থাপত্যকলার অন্যতম পদচিহ্ন সিডনি অপেরা হাউসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বিপুলসংখ্যক আগ্রহী দর্শনাথী এতে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু স্থপতি জন উটজনকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি কোথাও তাঁর নাম পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি। পৃথিবীর কোটি কোটি দর্শক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখে বিমোহিত হয়। আতশবাজি ফোটানো হয় বিটোফোনের ৯ নম্বর সিম্ফনি পরিবেশের মাধ্যমে।

অংশ যখন বিশ্ব ঐতিহ্যের

তিন দিকে সাগরের নীল জলরাশি পরিবেষ্টিত সিডনি হারবারের বেনেলং পয়েন্টে অবস্থিত পালতোলা জাহাজ আকৃতির জটিল স্থাপত্যশৈলীটি ২০০৭ সালের জুন মাসে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়। ইউনেসকোর মতে, সিডনি অপেরা হাউস বিংশ শতকের অভূতপূর্ব স্থাপনা। এটি বহুমুখী সৃজনশীলতার প্রতিনিধিত্বকারী স্থাপনাগুলোর অন্যতম। স্থাপত্য ও গুণগত নকশায় এটি আইকনিক ভবন হিসেবে পরিচিত। বিশ্বসাহিত্য সমিতির বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘শুধু বিংশ শতকেরই নয়, মানব ইতিহাসে সন্দেহাতীতভাবে এই ভবনটি সৃজনশীলতার মাইলফলক।’ আর আমেরিকার স্থপতি লুইস কানের মতে, ‘সূর্য নিজেই জানত না যে তার আলো কত সুন্দর যত দিন পর্যন্ত না তার আলো এই ভবনে প্রতিফলক হয়ে দ্যুতি ছড়িয়েছে।’

নান্দনিক নকশা ও গঠন কাঠামো

সিডনি অপেরা হাউসের গঠনশৈলী স্থাপত্যবিদ্যার এক বিস্ময়, যা মানুষের মনকে বিমোহিত করে। এ ভবনটির ছাদ নির্মিত হয়েছে কতগুলো পরস্পর সংযুক্ত ধনুকাকৃতির শেলের দ্বারা, যা একটা বিশাল চত্বরের ওপর স্থাপন করা হয়েছে। এই চত্বরটি মূলত চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত। সিডনি অপেরা হাউসের দুটি প্রধান হল পাশাপাশি অবস্থিত। যেগুলো পরস্পরের দিকে সামনা-সামনি ঝুলে আছে। সাধারণত উত্তর দক্ষিণ দিকে প্রসারিত অডিটরিয়ামটি দক্ষিণমুখী। ভবনটির সম্মুখভাগে বিশাল ফাঁকা জায়গা রয়েছে, যেখান থেকে সিঁড়ি বেয়ে দর্শকেরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। এই সিঁড়িগুলো মূলত ১০০ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত। ধনুকাকৃতির শেলগুলোর নকশা করেছেন স্থপতি নিজেই; তাঁর সঙ্গে ছিল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নির্মাণপ্রতিষ্ঠান অভি অরুপা অ্যান্ড পার্টনারস। কাচের দেয়াল এ ভবনের অন্যতম আকর্ষণ কিন্তু এটি স্থপতি জন উটজনের উত্তরসূরি পিটার হল কর্তৃক নির্মিত।

অপেরা হাউসের নির্মাণশৈলী

সিডনি অপেরা হাউসের নকশা এবং নির্মাণ কাঠামো একটি অপরটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রধান প্রকৌশলীর মূল ভূমিকা হচ্ছে সৃজনশীলতা ও ব্যতিক্রমতায়। নির্মাণের ক্ষেত্রে শুধু শেলগুলোর নকশা কাঠামো ঠিক করতে সময় লেগে যায় আট বছর। বিশেষভাবে এই নির্মাণের জন্য তৈরি করা বিশেষ টাইলসগুলো তৈরি করতে সময় লাগে আরও তিন বছর। এই তিন বছর সময় সম্পূর্ণ প্রকল্পটির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শেলগুলো তৈরি করা ছিল কঠিন ইঞ্জিনিয়ারিং কাজগুলোর অন্যতম। এই বৈপ্লবিক ইঞ্জিনিয়ারিং ধারণা সফল করার জন্য প্রয়োজন পড়েছিল বৈপ্লবিক ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশলের। বিখ্যাত নির্মাণসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কেপটাউন হার্নিব্রক। যাদের ওপর গুরুদায়িত্ব পড়েছিল ছাদের শেল, ভেতরের কাঠামো এবং ফিটিংস তৈরির। পরবর্তী সময়ে এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের নামের প্রতি সুবিচার করে কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার অস্টেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কমিশনের অনুরোধে একটি কনসার্ট হল তৈরি কওে, যা মূলত সিম্ফনি কনসার্টের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। দর্শক চাহিদা বেশি থাকার কারণে মূল উদ্যোক্ততা হিসেবে কাজ করে স্বয়ং অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কমিশন।

অনুষ্ঠান ভেন্যু এবং আনুষঙ্গিক সুবিধা

সিডনি অপেরা হাউসটির আনুষ্ঠানিক ভেন্যুসমূহ

  • অপেরা হাউসের কনসার্ট হলের আসনসংখ্যা দুই হাজার ৬৭৯। এটি ‘সিডনি সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা হোম’ নামে পরিচিত এবং এখানে আয়োজন করা হয় নানা ধরনের কনসার্ট।
  • জন সাদারল্যান্ড থিয়েটার রঙ্গমঞ্চে রয়েছে এক হাজার ৫০৭টি আসনবিশিষ্ট থিয়েটার হল। ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবরের আগে এটি অপেরা থিয়েটার নামে পরিচিত ছিল।
  • ড্রামা থিয়েটার একটি রঙ্গমঞ্চ থিয়েটার, যার আসন ৫৪৪। এটি ব্যবহার করে সিডনি থিয়েটার কোম্পানি ও অন্য নৃত্যনাট্যগোষ্ঠী।
  • ৪০০ লোক একসঙ্গে কাজ করার মতো স্টুডিও এর আকার পরিবর্তন করে এসব হলের আয়তন ও আসনসংখ্যা বাড়ানো বা কমানো যায়।
  • উটজন রুম হচ্ছে ছোট আকারের মাল্টিপারপাস ভেন্যু এবং এর আসনসংখ্যা ২১০।
  • ফোরকোর্ট হচ্ছে মুক্ত আকাশের নিচে থাকা ভেন্যু, যেখানে বিভিন্ন আকারের মঞ্চ নির্মাণের ব্যবস্থা রয়েছে এবং মনুমেন্টাল স্টেপসমূহ আসন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানে মূলত সাম্প্রদায়িক অনুষ্ঠানসহ প্রধান প্রধান আউটডোর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অপেরা হাউসটির অন্য জায়গাগুলো কনফারেন্স, সামাজিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান ও উপলক্ষে ব্যবহৃত হয়।

আরও যত সুবিধা

সিডনি অপেরা হাউসে আরও রয়েছে স্টুডিও ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট, বার এবং বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রীর খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র। এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য গাইড পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রতিদিন পর্যটকদের জন্য পেছনের মঞ্চের জায়গাগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে, যা সাধারণত হাই অফিশিয়াল আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত।

এক নজরে

  • ধরন: আর্ট কমপ্লেক্স
  • স্থাপত্য স্টাইল: নৌকা বা জাহাজের পালের মতো
  • নির্মাণ শুরু: ০২ মার্চ, ১৯৫৯
  • নির্মাণ শেষ: ২০ অক্টোবর, ১৯৭৩
  • উদ্বোধন: ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, ২০ অক্টোবর, ১৯৭৩
  • নির্মাণব্যয়: ১০২ মিলিয়ন ডলার
  • অনুষ্ঠান: প্রতিবছর এখানে তিন হাজার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে
  • রুমসংখ্যা: প্রায় এক হাজার
  • নির্মাণসামগ্রী: ছাদের জন্য প্রায় এক মিলিয়ন টাইলস, ছয় হাজার ২২৫ বর্গমিটার গ্লাস, ২১৯ প্রিকাস্ট কংক্রিটের সেকশন, ৩৫০ কিলোমিটার টান বহনকারী তার এবং ৬৪৫ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক তার
  • আকার: ১৮৫ মিটার দৈর্ঘ্য, ১২০ মিটার প্রস্থ এবং ৬৫ মিটার উঁচু
  • স্বত্বাধিকারী : নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার
  • স্থপতি: জন উটজন
  • স্ট্রাকচারাল প্রতিষ্ঠান: অভি অরুপ অ্যান্ড পার্টনারস।

প্রকাশকাল: বন্ধন ৫৭তম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০১৫

প্রকৌশলী সনজিত সাহা
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top