পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির পাশাপাশি সামগ্রিক আর্থসামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এখন একধরনের স্পর্শকাতর ভূমিকায়। বিশাল বিশাল যত পোশাক কারখানাই দেখা যাক, আদতে এর বেশির ভাগেরই সূচনা কিন্তু ছোট্ট পরিসরে। শতাব্দীর গল্প আসলে সেই রকমই সূচনা বিন্দুর অনন্য এক উদাহরণ। শতাব্দীর অবস্থান মালিবাগে। অপরিকল্পিত এই এলাকায় আবাসিক পরিসরের পাশাপাশি অস্থায়ী আর স্বল্প পরিসরের ব্যবসা ক্রমাগত বাড়ছে। এটি মতিঝিল থানার আওতাধীন ঘনবসতি এলাকা, যেখানে এমন দৃশ্য অস্বাভাবিক কিছু নয়। বেশ কিছুদিন থেকেই শতাব্দীর একটি উৎপাদন ও সরবরাহকেন্দ্র ছিল মালিবাগের আবাসিক এই এলাকায়। ‘শতাব্দী’ এমন একটি জাতিগত পোশাক ব্র্যান্ড, যারা পাঞ্জাবি উৎপাদন করে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মূল শিকড়ে অংশ নেয়। সময়ের পরিক্রমায় এর আরেকটু বিস্তার ও কলেবর বৃদ্ধির প্রয়োজন অনুভূত হয়। তা ছাড়া ভঙ্গুর গঠন, নিরাপত্তার অভাব, অপর্যাপ্ত আলো ও বায়ু চলাচল ইত্যাদি সমস্যার কারণেও এর মেরামত কিংবা পুনর্নির্মাণ অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। স্থপতি সাব্বির আহমেদ রাজু তাঁর প্রতিষ্ঠান জিওমেট্রিক্স আর্কিটেক্টস নিয়ে এই ছোট্ট প্রকল্পকে দাঁড় করানোর দায়িত্ব পান।
শতাব্দী প্রকল্পটি মোটামুটি বর্গাকার ধরনের। দক্ষিণ ধারে লম্বা জায়গাজুড়ে সিঁড়ি ও মুক্ত পরিসর। করিডরের একপাশে কিছু সার্ভিস এলাকা। দুটি তলা মিলে বাকি পরিসর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে উৎপাদনমুখী কাজের জন্য। আর বাকিটা কাপড় কাটা, সেলাই, যাচাই-বাছাই এবং একদম প্যাকেট করে অস্থায়ীভাবে এক জায়গায় সাজিয়ে রাখতে। প্রকল্পের পুরোনো সুবিধাগুলোকেই একটু নতুন বিন্যাসে সংস্থান করা হয়েছে এখানে। পাশাপাশি একটি ছোট্ট রান্নাঘর, স্বাস্থ্যকর টয়লেট আর নিরাপত্তাকর্মীর থাকার জায়গা সংযোজন করা হয়েছে। খুব ছোট্ট একটি স্থাপনা কিন্তু এর সামগ্রিক স্থাপত্যসজ্জায় গভীর চিন্তা আর মনোনিবেশের প্রকাশ স্পষ্ট।
পুরো ঢাকা শহরের অবয়ব অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে চলেছে; এর সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন আর আধুনিকতা নিজের মতো করে একে অপরের সঙ্গে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অন্য অপরিকল্পিত এলাকার মতো মালিবাগও একই রকম একঘেয়ে স্থাপত্য চরিত্র ধারণ করেছে। প্রত্যেকেই তাঁর নিজস্ব আঙিনার চূড়ান্ত ব্যবহারে সচেষ্ট। তাই ভূমি সীমানায় ন্যূনতম ছেড়ে দেওয়ার নিয়ম মানতেও অনীহা। শহুরে সুবিধার দিকে খেয়াল না রেখেই বিশাল বিশাল অট্টালিকায় ঠাস বুনট বেড়েই চলছে অবিরাম। এ রকম একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সবুজের হাহাকার খুব স্বাভাবিক। প্রতিটি ভবনই নানা অপর্যাপ্ততা নিয়ে দাঁড়িয়ে। শতাব্দীর মতো ছোট একটি প্রকল্পের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং পরিবেশ। স্থপতিকে তাই এগুতে হয়েছে অনেক কিছু বিবেচনায় নিয়ে। কাজ শুরু করার আগে সূর্যের গতিপথ অধ্যয়ন করেছেন, বাতাসের প্রবাহ নিয়ে ভেবেছেন, তাপীয় পরিবেশ নিয়ে ছক এঁকেছেন। এমনকি একপাশে থাকা গাছটাকে কীভাবে বাঁচানো যায় তা নিয়ে যথেষ্ট কসরত করতে হয়েছে।
স্থপতি সাব্বির আহমেদের কথায় প্রকল্পের স্থাপত্য ভাবনা আসলে উৎসরিত হয়েছে প্রয়োজন আর প্রাপ্তির হিসাবনিকাশ থেকে। খুবই আটসাঁট একটি স্থানে কীভাবে সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক আলোর সংস্থান করা যায়, সেটাই প্রথমত বেশি প্রভাবিত করেছে। এর সঙ্গে এক চিলতে সবুজ আঙিনা, একটু আলোকিত জমিন, জানালার পাশে একটি গাছ, হঠাৎ গায়ে লাগা সামান্য বাতাসÑছোট ছোট এই সব প্রায় অসম্ভব ইচ্ছাকে মনে পুষে রেখে নকশা তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়। বিভিন্ন তলায় বিন্যাসের মাধ্যমে খোলা জায়গা এবং আবদ্ধ জায়গার অনুপাত নিয়ে চলে হিসাবনিকাশ। মূল সড়ক থেকে নেমে আসা সরু গলি এমনকি পাশের ভবনের বারান্দা এবং উন্মুক্ত ছাদও এসেছে হিসেবে। যেহেতু প্রকল্প এলাকা আগে থেকেই চতুর্দিকে ঘেরা, তাই প্রাকৃতিক বায়ুপ্রবাহের সংস্থান ছিল গুরুত্বপূর্ণ এক চ্যালেঞ্জ। বায়ুপ্রবাহ একদিকে যেমন দরকার এই ক্ষুদ্র কারখানার ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতার জন্য, তেমনি প্রয়োজন কর্মসংস্থানের তাপীয় পরিবেশের জন্য। প্রকল্পটি একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত বিধায় প্রকল্পের স্বত্বাধিকারীর চাহিদা ছিল এটাকে কিছুটা আবাসিক চরিত্র নিয়ে তৈরি করা, যাতে আশপাশের ভবনের সঙ্গে একাত্মতা তৈরি করতে পারে এবং প্রকল্পটি অন্যত্র সরিয়ে নিলেও এই ভবনের উপযোগিতা কমে না যায়।
একটু ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখলে একই সীমানায় চারটি ভবন যেখানে একত্র হয়েছে ‘শতাব্দী’ সেখানে তার একটি কর্নারকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। ঠিক যেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়। উন্মুুক্ত কর্নারে মূল প্রবেশপথ। ওপরে খোলা সিঁড়ি চৌকি। দোতলায় উঠলে পুরো সিঁড়িটাই আসলে বারান্দায় রূপ নেয়। শেষ প্রান্তে একটু সবুজের পরশ। সিঁড়ির চৌকির একটা অংশকেও সবুজ করা হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যকর এবং আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করে। দক্ষিণ অবস্থানের কারণে সারা দিন যতক্ষণ সূর্য আছে ততক্ষণ রোদের খেলা। এই সবুজ আলোকিত আনন্দকে প্রতিবেশীরাও যেন উপভোগ করতে পারে, তাতে চেষ্টার কোনো কমতি নেই।
প্রকল্পের অবস্থানগত সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে পুরোপুরি। পশ্চিমে আকাশচুম্বী ভবনের অবস্থান, অর্থাৎ সরাসরি পশ্চিমা রোদের সুযোগ নেই, তাই আলো ও তাপের পরিমাণ সহনীয় থাকবে আপনাতেই। অপর দিকে উত্তরের জানালা থেকে নরম আলোর প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। আলোর এই কাজ চমৎকার পরিবেশ তৈরি করে। সিঁড়িচৌকির ওপরে ভয়েড বা শূন্যস্থান তৈরি করা হয়েছে। যাতে সেখান থেকে আলো করিডোরে প্রবেশ করে সহজেই। দেয়ালে জানালা এমনভাবে বসানো হয়েছে, যাতে বাতাস খুব সহজেই প্রবাহমান থাকে। সুইং কাঠের দরজা ব্যবহার করা হয়েছে এই উদ্দেশ্যে। এত ছোট জায়গার মধ্যেও চারপাশের পরিবেশ এবং সবুজের সঙ্গে সংযোগ তৈরির চেষ্টা আছে। বর্তমানে থাকা সবুজ গাছ আর ল্যান্ডস্কেপকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়েছে। নিচতলার প্রবেশপথ এবং এর পরের অংশকে নতুন করে সবুজায়নের চিন্তা করা হয়েছে।
প্রকল্পের অবস্থান হচ্ছে একটি আবাসিক জোনে সুতরাং এটাকে আবাসিক এলাকার সীমিত শক্তি ও সম্পদকে ব্যবহার করে কাজ করতে হয়। যেহেতু অবস্থানগত কারণে পশ্চিমা সূর্যকে সরিয়ে রাখা যাবে এবং প্রচলিত টেকসই উপাদানকে ব্যবহার করা সম্ভব। সুতরাং তাপীয় পরিবেশকে ঠান্ডা রাখতে অল্প এনার্জিও ব্যবহার নিশ্চিত করার সুযোগ আছে। একই কম্পাউন্ডে প্রকল্পটি তার আবাসিক অংশের সঙ্গে পানি এবং গ্যাস সরবরাহ শেয়ার করতে পারছে। ব্যবহৃত পানি এবং পয়োনিষ্কাশনও একইভাবে হচ্ছে। কারণ, এখানে প্রসেস করার দরকার এমন কোনো ক্ষতিকর বিষাক্ত বর্জ্য তৈরি করছে না।
এই প্রকল্পের নির্মাণ উপকরণ এবং অন্যান্য কিছু সিদ্ধান্তের পেছনে অর্থনৈতিক কার্যকারিতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আগের ভবন ভাঙা হলে বর্তমানে চলমান ব্যবস্থাপনাকে অস্থায়ীভাবে কোথাও স্থাপন করতে হবে, তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল যে নতুন নির্মাণ হতে হবে অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর, পাশাপাশি দ্রæততর। নতুন ভবনকে তাই ভার সহনশীল ইটের গাঁথুনি কাঠামোতে তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এর ফলে নির্মাণকাজ দ্রæততর হয়। যেখানে সম্ভব পাঁচ ইঞ্চি ইটের দেয়াল ব্যবহার করা হয়েছে। একদম ওপরে একটি মেটাল ছাদ ব্যবহার করা হয়েছে, যা কংক্রিটের ছাদের চেয়ে প্রায় তিনভাগের দুইভাগ খরচ বাঁচিয়েছে। বহিঃ আবরণে গ্যাস প্রস্তুত ইট ব্যবহার করা হয়েছে। বহিঃ দেয়ালে পলেস্তারা দেওয়া হয়নি। লাল ইটের পরিচ্ছন্ন ব্যবহার ভিন্নতা এবং নিজস্বতা তৈরি করেছে। আবার ভেতরের দেয়াল সাদা করা হয়েছে, যাতে জীবন্ত এবং আলোকিত কর্মপরিবেশ তৈরি হয়। নেট সিমেন্টের মেঝে এবং চলাচলের পথে ইটের সোলিং। ছাদের তলদেশে রং করা হয়েছে, তবে কোনো ফিনিস ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়নি। শুধু টয়লেট এবং এমন কিছু জায়গায় টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে, যা সব সময় সংস্কারযোগ্য নয়। প্রধান গেট এবং সেফটি গ্রিল মেটাল বারে তৈরি কাঠের ফ্রেমে কাচের ব্যবহার হয়েছে জানালার পাল্লা হিসেবে। সবকিছুতেই রয়েছে খরচের বাহুল্য রোধ আর সাশ্রয়ী চিন্তার প্রকাশ। পুরোনো ভবনের থেকে উদ্বৃত্ত উপকরণ যেমন কাঠের পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে।
একটি ব্যবহারিক স্থাপত্যের ব্যাপারে এমনটা আশা করা হয় যে নতুন ভবন কেবল একটি উন্নত কাঠামোই তৈরি করবে না বরং এটি একই সঙ্গে একটি সাংস্কৃতিক উপাদান, যা আমাদের স্থাপত্য ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করার সম্ভাবনা তৈরি করবে। স্থাপত্যকে আসলে একই প্ল্যাটফর্মে যৌগের সামাজিক-সাংস্কৃতিক মিশ্রক্রিয়াগুলোর সংশ্লেষণ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। এই বিবেচনায় শতাব্দী প্রকল্প গুরুত্বের দাবি রাখে। স্থপতি সাব্বির আহমেদ মনে করেন প্রকল্পটি শুরু হয়েছে এমন একটি উদ্দেশ্য নিয়ে যে তা আর্থসামাজিক কর্মকাÐকে উৎসাহিত করবে একই কমপ্লেক্সে অন্যান্য আবাসিক উপাদানের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে। এভাবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে। একটি উন্নয়নশীল ব্র্যান্ড ও শিল্পের জন্য ভালো সুযোগ তৈরি করে দেওয়াটা জরুরি। একই সঙ্গে এর আদি, সংস্কৃতি এবং প্রচলনের শিকড় বেড়ে ওঠার জ¦ালানির ভূমিকা পালন করবে। অন্যান্য সামাজিক সূচকের সঙ্গে একাত্ম্য হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। শতাব্দীর বুদ্ধিদীপ্ত স্থাপত্য সমাধান বাংলাদেশি সংস্কৃতির রেফারেন্সে কিছুটা হলেও নতুন চিন্তার জন্ম দেয়। এই প্রকল্প একটি ক্ষুদ্র দৃষ্টান্ত কীভাবে একটি একঘেয়ে নাগরিক পরিসরকে এর দায়িত্বশীল আবহে আলোচিত পরিসরে পরিণত করা যায়।
একনজরে শতাব্দী
স্থপতি: সাব্বির আহমেদ রাজু
সহ স্থপতি: সানিয়া আক্তার
স্থাপত্য পরামর্শক: জিওমেট্রিক্স আর্কিটেক্টস
কাঠামো প্রকৌশলী: আর কে এম শামসুল হক
সময়কাল: আগস্ট ২০১৬ – ডিসেম্বর ২০১৬
প্রকল্প আয়তন: ১০৪৫ বর্গফুট
মোট নির্মাণ এলাকা: ১৩৩৮ বর্গফুট
নির্মাণ খরচ: ২৫৬২৫ মার্কিন ডলার
স্থপতির সাতকাহন
স্থপতি সাব্বির আহমেদ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি. আর্ক সম্পন্ন করে স্থাপত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। পেশাজীবনের প্রথম পাঁচ বছরে কাজ করেন তানিয়া করিম এন. আর. খান অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসে। পাশাপাশি নিজের মতো করে সাজাতে থাকেন তাঁর স্বপ্নগুলো। একসময় পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে পড়েন নিজস্ব প্রতিষ্ঠান জিওমেট্রিক্স আর্কিটেক্টস নিয়ে। পেশাগত চর্চার পাশাপশি এম. আর্ক করছেন আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
দেশীয় ঐতিহ্য, আবহাওয়ার প্রচলিত ধারাকে সঙ্গে নিয়ে সাব্বির কাজ করেন। সব কাজেই যতœশীল বলেই পর্যাপ্ত সময় দেন। ছাত্রজীবন থেকেই স্থাপত্য বিষয়ে মেধার স্বাক্ষর রাখেন, ২০০৭ সালে ফার্নিচার প্রতিষ্ঠান হাতিল আয়োজিত স্টুডেন্ট ফার্নিচার ডিজাইন কম্পিটিশনে পুরস্কৃত হন। এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছেন এখনো। শতাব্দী প্রকল্পের ডিজাইনের জন্য ২০১৭ সালে বার্জার অ্যাওয়ার্ড অব এক্সেলেন্স নোটাবল মেনশন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। ২০১৭ সালে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স কমপ্লেক্স ডিজাইন প্রতিযোগিতায় কমেন্ডেশন পুরস্কার পান। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে করা তাঁর বিভিন্ন প্রকল্প প্রশংসিত হয়েছে।
ব্যবহারিক চর্চার পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সমানভাবে কাজ করছেন। ২০১২ সাল থেকে শিক্ষকতা করছেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগে, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়েও ক্লাস নিচ্ছেন। বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপে অংশ নিচ্ছেন, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে স্থাপত্যবিষয়ক গবেষণা প্রবন্ধ। স্থপতি নুরুর রহমান খান সম্পাদিত মাজহারুল ইসলাম সিলেক্টেড ড্রয়িং শীর্ষক বইয়ের সম্পাদনা পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।
স্থপতি সাব্বির আহমেদ তাঁর পেশাগত চর্চায় নিজস্বতা, বৈচিত্র্য এবং স্থানিকতা বিষয়ে স্পর্শকাতরতার প্রকাশ রেখে চলেছেন। তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত স্থাপত্যচর্চা বাংলাদেশি সমকালীন ধারায় কিছুটা হলেও সমৃদ্ধ চিন্তার জন্ম দেবে এমনটা আশা করাই যায়।
প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১০৪তম সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৮