কাচের জিনিস ঝকঝকে রাখতে…

রুচি ও সৌন্দর্যের অংশ হিসেবে বাসাবাড়ি কিংবা অফিসে বাড়ছে কাচের ব্যবহার। দরজা-জানালার থাইগ্লাস, সিঁড়ি, চিলেকোঠা, আসবাব, ফুলদানি বা শোপিচ, তৈজসপত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাচের বহুল ব্যবহার সহজেই দৃশ্যমান। কাচের তৈজসপত্র ঘরে আনে আভিজাত্য। তবে এসব কাচসামগ্রী দীর্ঘদিন ঝকঝকে তকতকে রাখতে দৈনন্দিন ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজন নিয়মিত যত্নের। ভঙ্গুর প্রকৃতির হওয়ায় এ ধরনের সামগ্রী পরিষ্কার করার কৌশলও কিছুটা ভিন্ন। কাচ জিনিস বা সামগ্রী পরিচ্ছন্ন রাখতে যা যা করবেন-

  • অধুনা অধিকাংশ ভবনের জানালায় লাগানো হচ্ছে থাইগ্লাস। ভবনের বাইরের অংশে সহজেই ধুলা, ময়লা জমে; শিশির পড়লে এতে একধরনের ছোপ ছোপ দাগ পড়ে। আর এটি পরিষ্কার করতে লম্বা মপ (একধরণের ব্রাশযুক্ত লাঠি) ব্যবহার করতে হয়। তবে কাচ সরাসরি না ধুয়ে, আগে ব্রাশ দিয়ে ধুলা ঝেড়ে তারপর ভেজা কাপড় অথবা মপ দিয়ে মুছে ফেলতে হয়।
  • রান্নাঘরের জানালা প্রায়ই তেল চিটচিটে হয়। তাই রান্না শেষে প্রতিদিনই জানালা পরিষ্কার করা উচিত। আর সপ্তাহে অন্তত এক দিন কুসুম গরম পানির সঙ্গে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে পরিষ্কার করে নিলে তেল চিটচিটে ভাব কম হয়।
  • জানালার কাচে কঠিন দাগ পড়লে ফ্লানেলের টুকরো গ্লিসারিনে ভিজিয়ে দাগ ধরা জানালার কাচে ঘষুন। দাগ দূর হবে।
  • দরজা বা জানালার কাচ ঝকঝকে করতে মিহি চকগুঁড়োর সঙ্গে পানি আর স্প্রিট বা কেরোসিন মিশিয়ে কিছুক্ষণ কাচের ওপর মাখিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে খবরের কাগজ দিয়ে মুছে ফেলুন।
  • অনেকেই ডুপ্লেক্স বাড়িতে কাচের সিঁড়ি ব্যবহার করেন। পরিষ্কার না রাখলে ঘটতে পারে নানা রকম দুর্ঘটনা। এ ক্ষেত্রে সপ্তাহে অন্তত একবার সাবান-পানি দিয়ে এবং মাসে একবার গ্লাস ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করাটা অত্যন্ত জরুরি। তবে গ্লাস ক্লিনার তোয়ালে বা নরম কাপড়ে স্প্রে করে ব্যবহার করা উচিত।
  • প্রাত্যহিক জীবনের নিত্যসঙ্গী আয়না। ঝকঝকে পরিষ্কার আয়না মনকে রাখে প্রফুিল্লত। আয়নাকে চকচকে করে তুলতে ভিনেগার ও পানি মিশিয়ে বোতলে ভরে আয়নার ওপরে স্প্রে করুন। এবার মাইক্রোডাইবার ক্লথ বা সুতি কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। আয়নাটি হয়ে উঠবে ঝকঝকে।
  • এক চা-চামচ বেকিং সোডা একটি কাপড়ে নিয়ে পুরো আয়নায় ভালোভাবে ঘষে নিন। এবার একটি ভেজা তোয়ালে দিয়ে আয়নাটি ভালো করে মুছে ফেলুন। তবে আয়নাকে ঝকঝকে করতে ডিস্টিল ওয়াটারের জুড়ি নেই, যা সাধারণ পানি থেকে অধিক কার্যকর। একটি কাপড়ে ডিস্টিল ওয়াটার নিয়ে আয়না ভালো করে মুছে নিন। চকচকে হয়ে উঠবে আয়নাটি।
  • বাথরুমের আয়নায় পানির দাগ পড়ে, যা ওঠানো বেশ কঠিন। এ ক্ষেত্রে আয়নাতে শেভিং ফোম বা ক্রিম মেখে কিছুক্ষণ পর কাপড় দিয়ে মুছে ফেললে সব দাগ উঠে যাবে। তবে বেশিক্ষণ ক্রিম লাগিয়ে রাখা ঠিক নয়। পুরোনো নাইলনের মোজা দিয়ে ঘষলেও আয়নার দাগ চলে যায়। খবরের কাগজ গরম পানিতে ভিজিয়ে আয়নায় ঘষে ঘষে মুছুন। তারপর শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। এ ছাড়া নরম কাপড়ে হ্যান্ডওয়াশ নিয়ে ফেনা করে তা দিয়ে কিছুক্ষণ আয়নাটি ভালো করে ঘষে নিন। এবার ব্রাউন পেপার দিয়ে মুছে নিন। চকচকে হয়ে উঠবে আপনার প্রিয় আয়নাটি।
  • বাজারে পাওয়া যাচ্ছে গ্লাস ওয়াশিং পাউডার, যা গ্লাস ক্লিনারের বিকল্প হিসেবে অনেকেই ব্যবহার করেন। প্রয়োজনে আয়নায় স্বচ্ছ স্টিকার লাগানো যেতে পারে।
  • কাচের জিনিসপত্র থেকে দাগ তুলতে ভালো ফল দেয় লেবুর রস। পানিতে লেবুর রস দিয়ে কাচের জিনিসগুলো ধুয়ে নিন। এ ছাড়া অলিভ অয়েল ও লেবুর রসের মিশ্রণ দিয়ে কাচ পরিষ্কার করলে তা ঝকঝকে তকতকে দেখা যায়। তাই ডাইনিং টেবিল বা শোকেসের কাচে বা শোপিচ পরিষ্কারে অনেকেই এই মিশ্রণ ব্যবহার করেন। কাচের আসবাব পরিষ্কারের জন্য বিভিন্ন লিকুইড ক্লিনার বাজারে পাওয়া যায়। তবে লিকুইড ক্লিনার ব্যবহারের পরপরই তা শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলতে হবে।
  • পানিতে অল্প পরিমাণে শ্যাম্পু মিশিয়ে তা দিয়ে কাচ মুছে কিছুক্ষণ পর স্পঞ্জ দিয়ে মুছে পরিষ্কার করতে পারেন। এতে কোনো দাগ পড়বে না।
  • হালকা গরম পানিতে সাদা ভিনিগার মিশিয়ে নিন। ভিনিগার মেশানো পানিতে কাচের জিনিস ডুবিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর তা পানি থেকে তুলে কাপড় দিয়ে মুছে নিলেই একেবারে নতুনের মতো ঝকঝক করবে।
  • কাচসামগ্রী পরিষ্কার করতে অবশ্যই নরম পাতলা কাপড় ব্যবহার করুন। এতে কাচের ওপর স্ক্রাচ পড়বে না। ব্যবহার করতে পারেন টিস্যু পেপার। তাতে কাচের জিনিস ভালো পরিষ্কার হবে। প্রয়োজনে কাচসামগ্রী পরিষ্কার করতে লিকুইড ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন।
  • কাচের ওপর লাগানো স্টিকার তুলে ফেললে অনেক সময় তাতে আঠা লেগে থাকে। শুকনো কাপড় কেরোসিনে ভিজিয়ে ঘষে ঘষে মুছে ফেললে তা চলে যায়।
  • কাচ ফেটে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে চিনি গুঁড়ো করে তরল চুনের সঙ্গে মিশিয়ে গ্লু তৈরি করে তা দিয়ে দ্রুত জোড়া লাগানো যায়।
  • কাচের তৈজসপত্র পরিষ্কারের ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে, যাতে হাত থেকে পড়ে ভেঙে না যায়।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৭৮তম সংখ্যা, অক্টোবর ২০১৬।

শ্রাবন্তী সোমা
+ posts
Scroll to Top