ম্যানচেস্টারের Whalley Range (ওয়ালি রেঞ্জ) এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ব্রিটিশ মুসলিম হেরিটেজ সেন্টার (BMHC) একটি Grade II* (যুক্তরাজ্যে তালিকাভুক্ত ঐতিহাসিক ভবনের একটি সরকারি শ্রেণি) তালিকাভুক্ত ১৯শ শতকের ভবন, যা মূলত Lancashire Independent College (ল্যাঙ্কাশায়ার ইনডিপেনডেন্ট কলেজ) হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। পরে এটি বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবহার বদলে আজ মুসলিম কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
সম্প্রতি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান Ollier Smurthwaite Architects (ওলিয়ার স্মার্থওয়েট আর্কিটেক্টস) এই সাইটের জন্য একটি সম্প্রসারণ (expansion masterplan) প্রস্তাব করেছে। যার উদ্দেশ্য BMHC-কে একটি বৃহৎ, বহুমাত্রিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্যাম্পাসে রূপান্তর করা। Architects’ Journal–এ প্রকাশিত এই খবরটি মূলত সেই নতুন মাস্টারপ্ল্যানের ধারণাগত দিকগুলো তুলে ধরে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সাইটের গুরুত্ব
BMHC ভবনটি ১৮৪০-৪৩ সালে গথিক রিভাইভাল স্টাইলে নির্মিত হয় এবং পরে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ট্রেড ইউনিয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এর ফলে এটি শুধু একটি ধর্মীয় কেন্দের পাশাপাশি ব্রিটিশ সামাজিক ইতিহাসের একটি layered heritage site (বহুস্তরীয় ঐতিহ্যবাহী স্থান)। এই বিদ্যমান ঐতিহাসিক কাঠামোর ওপরই নতুন সম্প্রসারণ পরিকল্পনা দাঁড়িয়ে আছে যা heritage conservation ও contemporary intervention (ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সমকালীন স্থাপত্যিক হস্তক্ষেপ) এর মধ্যে ভারসাম্য খোঁজে।

প্রস্তাবিত মাস্টারপ্ল্যান: একটি কমিউনিটি ক্যাম্পাস
আর্কিটেক্টস জার্নাল অনুযায়ী Ollier Smurthwaite (ওলিয়ার স্মার্থওয়েট)-এর পরিকল্পনায় BMHC-কে একটি “expanded civic-religious campus” (নাগরিক সেবা ও ধর্মীয় কার্যক্রমসমৃদ্ধ সম্প্রসারিত ক্যাম্পাস) হিসেবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। মূল ধারণাগুলো হলো—
- বিদ্যমান Grade II* ভবনের সংরক্ষণ
- নতুন নির্মাণের মাধ্যমে কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ
- ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ফাংশনের সমন্বয়
- সাইটটিকে একটি উন্মুক্ত ও জনগণের জন্য প্রবেশযোগ্য কমিউনিটি হাব হিসেবে গড়ে তোলা
এখানে স্থাপত্য একটি urban civic infrastructure (নগরীয় নাগরিক অবকাঠামো) হিসেবে কাজ করার দিকে এগোচ্ছে।

প্রোগ্রামেটিক মিক্স: ধর্ম, সংস্কৃতি ও পাবলিক লাইফ
এই ধরনের সমসাময়িক ইসলামিক ইনস্টিটিউশনাল আর্কিটেকচারে সাধারণত একাধিক ফাংশন একত্রে থাকে। BMHC সম্প্রসারণ প্রস্তাবও সেই প্রবণতার অংশ:
- ধর্মীয় উপাসনা স্পেস (মসজিদ)
- কমিউনিটি ও ইভেন্ট ফ্যাসিলিটি
- শিক্ষা ও প্রদর্শনী স্পেস (heritage/exhibition functions)
- সামাজিক জমায়েত ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম
এই ধরনের প্রোগ্রামিং দেখায় যে মসজিদ বা ইসলামিক সেন্টার এখন কেবল ধর্মীয় ভবনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং multi-layered social institution (বহুমাত্রিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান)।

স্থাপত্যিক কৌশল: পুরাতনের সাথে নতুনের সংলাপ
এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্যিক দিক হলো বিদ্যমান Gothic Revival heritage ভবনের সাথে নতুন ডিজাইনের সম্পর্ক।
- পুরাতন ভবনকে সংরক্ষণ করে “anchor” হিসেবে রাখা
- নতুন ভলিউমগুলোকে তার চারপাশে সংগঠিত করা
- ক্যানোপি/লিঙ্ক স্ট্রাকচারের মাধ্যমে সংযোগ তৈরি করা
- ঐতিহাসিক ফ্যাসাড বনাম সমকালীন ফর্মের কনট্রাস্ট তৈরি করা
এইধরনের প্রচেশ সাধারণত adaptive reuse ও contextual expansion (অভিযোজিত পুনঃব্যবহার ও প্রেক্ষিতভিত্তিক সম্প্রসারণ) নামে পরিচিত, যেখানে নতুন স্থাপত্য পুরাতনকে প্রতিস্থাপন না করে বরং সহাবস্থান করে।

সাংস্কৃতিক ও নগরীয় তাৎপর্য
BMHC সম্প্রসারণ পরিকল্পনাটি শুধুমাত্র একটি বিল্ডিং প্রজেক্ট নয়, এটি ব্রিটিশ মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব, দৃশ্যমানতা এবং নগর সংহতির প্রশ্নের সাথে যুক্ত।
এই ধরনের প্রকল্পগুলো সাধারণত তিনটি স্তরে কাজ করে:
- Identity (পরিচয়): মুসলিম কমিউনিটির সাংস্কৃতিক উপস্থিতি প্রকাশ
- Integration (একীভূতকরণ): শহরের সাথে উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পর্ক
- Civic role (নাগরিক ভূমিকা): ধর্মীয় স্থাপনাকে পাবলিক লাইফের অংশ করা
এটি সমসাময়িক ব্রিটিশ আর্কিটেকচারে ইসলামিক স্পেসের বিবর্তনের একটি উদাহরণ, যেখানে মসজিদ বা ইসলামিক সেন্টারকে “urban cultural anchor” (আর্বান কালচারাল অ্যাঙ্কর) হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Ollier Smurthwaite Architects-এর BMHC সম্প্রসারণ পরিকল্পনা একটি ঐতিহাসিক ভবনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সমকালীন নগর-সাংস্কৃতিক প্রকল্প। এটি heritage preservation, community infrastructure (ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও কমিউনিটি অবকাঠামো) এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্ব এই তিনটি স্তরকে একত্রিত করার চেষ্টা করছে।
ফলে BMHC আর শুধু একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকছে না। এটি একটি বহুমাত্রিক নগরীয় ক্যাম্পাসে রূপান্তরের পথে, যেখানে ইতিহাস, ধর্ম এবং সমকালীন স্থাপত্য একসাথে কাজ করছে।
তথ্যসূত্র
আর্কিটেক্টস জার্নাল। প্রকাশকাল: ১৫ জুন, ২০২৬।


















