রঙে রাঙা রঙিন শহরে

একটি শহরের সৌন্দর্য্য কী? এটি বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন: অবকাঠামো, স্থাপত্যশৈলী, পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ, বসবাসকারী বাসিন্দাদের ওপর। রংও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে একটি শহরের বৈচিত্র্য আনতে; তাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে। আজ আমরা জানব পৃথিবীখ্যাত রঙিন ১০ শহরকে। যেগুলো শুধু রঙের কারণে পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণস্থলে পরিণত হয়েছে। এই রঙিন শহর বিশ্লেষণে দেখা যায় বেশির ভাগ শহরই সাধারণ মানের আর ১০টা শহরের মতোই। কিন্তু রং এখানে বড় প্রভাবক। সাধারণ একটি শহরকে করে তুলছে অসাধারণ। আমাদের মনে রঙের প্রভাব চিরন্তন, এটিকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। পর্যটনকেন্দ্রিক শহরগুলো তাই পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য রংকে প্রাধান্য দিচ্ছে। এখানে যে ১০টি শহরের বৃত্তান্ত তুলে ধরা হয়েছে সেগুলো ছাড়াও আরও কিছু শহর রয়েছে, যেগুলোতে উজ্জ্বল রঙের আধিক্য প্রবল। ১০টি শহরকে বেছে নেওয়া হয়েছে পর্যটকদের আকর্ষণের ভিত্তিতে। চলুন তবে ঘুরে আসি পৃথিবীখ্যাত রঙিন ১০ শহর থেকে।

শেপসোয়ান, মরক্কো

নীল আপনার প্রিয় রং? অথবা আপনি নীলের রাজ্যে হারিয়ে যেতে চান? তাহলে আপনাকে যেতে হবে মরক্কোর নীল নগরী শেপসোয়ানে। মরক্কোর উত্তর-পশ্চিম অংশে রিক পর্বতমালার পাদদেশে ছোট্ট সুন্দর নগরী শেপসোয়ানের অবস্থান। ছবির মতো সুন্দর এই নগরীতে বাস ৪০ হাজারের মতো লোকের। এখানে রাস্তার দুপাশে ফুটপাত, অলিগলি-ঘরবাড়ি সবই নীল রঙে রাঙানো। কীভাবে এই শহর নীল রঙে রাঙালো? এই শহরে নীল রঙের আগমন ১৯৩০ সালে ইহুদি উদ্বাস্তুদের হাত ধরে। ইহুদি ধর্মমতে, নীল রংকে আকাশ আর স্বর্গের প্রতীক হিসেবে ধরা হয় আর এর মাধ্যমে প্রকাশ ঘটে, মানুষকে অবশ্যই তাদের জীবন আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে কাটানো উচিত। যদিও অন্য একটি মতবাদও প্রচলিত আছে যে অতিরিক্ত মশার উৎপাত থেকে বাঁচতেই প্রথমে ঘরবাড়ি নীল রঙে রাঙানো হয়।

শেপসোয়ানের অধিবাসীরা নিয়মিত স্থাপনা নীল রঙে রাঙায় তাদের পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে। দিনের বিভিন্ন সময়ে এই শহর বৈচিত্র্যময় রূপে সেজে ওঠে। বিশেষ করে বৃষ্টিস্নাত অবস্থায় শেপসোয়ান পরিণত হয় স্বচ্ছ নীল পানির রাজ্যে। শান্ত, স্নিগ্ধ ও নিরিবিলি এই শহরে ভ্রমণকারীরা খুব অল্প খরচে বসবাস, খাওয়া-দাওয়া ও কেনাকাটা করতে পারে। তাই তো এটি মরক্কোর প্রধান ভ্রমণস্থান হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত।

প্রসিডা, ইতালি। উইকিপিডিয়া

প্রসিডা, ইতালি

ইতালির নেপলসের সমুদ্র তীরবর্তী শহর প্রসিডা। দ্বীপটির আয়তন মাত্র ১ দশমিক ৫ বর্গমাইল, যা একসময় জেলেদের সাধারণ এক গ্রাম ছিল আজ তা ইতালির প্রধান ১০টি জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থানের অন্যতম; শুধু এর রঙিন ঘরবাড়ির জন্য। রঙের প্রতি মানুষের যে চিরন্তন আকর্ষণ তার উজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত এই প্রসিডা। খুব সাধারণ একটি জেলে গ্রাম থেকে আজকের এই অবস্থানে প্রসিডা আসতে পেরেছে রঙের প্রতি মানুষের প্রবল আকর্ষণবোধের কারণেই। জনশ্রুতি আছে যে প্রসিডা দ্বীপে বসবাসকারী জেলেরা সমুদ্র থেকে সহজেই তাদের বাড়ি সনাক্ত করতেই এই উজ্জ্বল রঙের প্রথম ব্যবহার শুরু করে তাদের বাড়ি থেকেই।

সেই ঐতিহ্য তারা আজও ধারণ ও বহন করে চলেছে। এখানকার সরু সরু রাস্তার দুই ধারে দেখা মিলবে বিভিন্ন রকম উজ্জ্বল রঙে রঙিন ঘরবাড়ির। সমুদ্র থেকে প্রসিডাকে দেখলে মনে হবে আপনার সামনে সমুদ্র তীরে রঙের মেলা বসেছে, যা আপনাকে দুর্বার আকর্ষণে কাছে টানবেই। ইতালিতে ঘুরতে গেলে প্রসিডায় এই রঙের জগতে একটা চক্কর দিতে ভুলবেন না কিন্তু!

বো-কাপ, কেপটাউন, দক্ষিণ আফ্রিকা। উইকিপিডিয়া

বো-কাপ, কেপটাউন, দক্ষিণ আফ্রিকা

ঐতিহাসিক ও রঙিন বো-কাপ শহরটি কেপটাউনের সিগনাল পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। এই আবাসিক এলাকাটি এর উজ্জ্বল রঙে রঙিন ঘরবাড়ি আর পাথরের তৈরি সরু সরু রাস্তার জন্য বিখ্যাত। এখানকার বাড়িগুলো জর্জিয়ান ও ডাচ স্থাপত্যশৈলীর এক অনুপম নিদর্শন। বো-কাপের ইতিহাসও এরই মতো রঙিন। ১৬ ও ১৭ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকে বিপুল পরিমাণে ক্রীতদাস কেপটাউনে আনে ডাচেরা। যারা ‘কেপ মালয়’ নামে পরিচিত। ১৭৬০ সালে এখানে কিছুসংখ্যক ঘরবাড়ি তৈরি করা হয়, যা দাসদের ইজারা দেওয়া হয়। পরে এই দাসেরা এই ঘরবাড়িগুলোকে বিভিন্ন উজ্জ্বল রঙে রং করে তাদের স্বাধীনতা ও আনন্দ প্রকাশের জন্য।

বো-কাপ জাদুঘর এই শহরের সব থেকে পুরোনো স্থাপনা, যা ১৭৬০ সালের আগেই তৈরি হয়েছিল এবং এখনো সেই আদি রূপই ধরে রেখেছে। জাদুঘরটির বিশেষত্ব হলো এটি বো-কাপ এবং কেপ মালয়দের জীবনের ইতিহাসের উজ্জ্বল এক দলিল। বো-কাপ কেপটাউনের অন্যতম পুরোনো আবাসিক এলাকা ও অন্যতম প্রধান ভ্রমণ কেন্দ্র।

বুরানো দ্বীপ, ভেনিস, ইতালি। উইকিপিডিয়া

বুরানো দ্বীপ, ভেনিস, ইতালি

ভেনেটিয়ান লেগুনের (উপহ্রদ) উত্তর পাশের ছোট্ট দ্বীপ বুরানো। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি দ্বীপপুঞ্জ, যা চারটি ছোট ছোট দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। এটি সেতু দ্বারা পরস্পর যুক্ত। বুরানো দ্বীপের বিশেষত্ব বলতে সবুজ পানির খালের দুপাশে বিচিত্র উজ্জ্বল রঙে রঙিন ঘরবাড়ি, যা দেখতে আঁকা ছবির মতো। আগে মাছ ধরাই ছিল বুরানো দ্বীপের অধিবাসীদের প্রধান পেশা। শীতের সময় প্রচণ্ড কুয়াশার কারণে জেলেদের নিজেদের বাড়ি চিনতেই অসুবিধা হতো আর তাই তারা সিদ্ধান্ত নিল তাদের বাড়ি ভিন্ন ভিন্ন উজ্জ্বল রঙে রং করার; অদ্ভুত শোনালেও এটাই বুরানো দ্বীপের রঙিন ঘরবাড়ির ইতিবৃত্ত।

বর্তমানে বুরানো দ্বীপের ঘরবাড়ি রং করার ক্ষেত্রে বিশেষ এক পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়, যা একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মনে করুন, আপনি বুরানো দ্বীপের বাসিন্দা। আপনি আপনার বাড়ি রং করাতে চাইছেন। সে ক্ষেত্রে আপনাকে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। তখন কর্তৃপক্ষ আপনার বাড়ি পরিদর্শন করে একটি নির্দিষ্ট রং নির্ধারণ করে দেবে। আপনি তখন সেই নির্দিষ্ট রঙে আপনার বাড়ি রাঙাতে পারবেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি পাগলামি বলে মনে হলেও এটিই এই দ্বীপটিকে করে তুলেছে অনন্য।

লা বোকা, বুয়েন্স আয়ার্স, আর্জেন্টিনা। উইকিপিডিয়া

লা বোকা, বুয়েন্স আয়ার্স, আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের নিকটবর্তী প্রধান শহর লা বোকা। লা বোকা রঙিন কাঠের ঘরবাড়ি আর পরিবেশবান্ধব ফুটপাতের জন্য পৃথিবী বিখ্যাত। এটি আর্জেন্টিনার প্রধান শিল্প ও সংস্কৃতি কেন্দ্র। এখানে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় আর্জেন্টিনার সর্ববৃহৎ চিত্র প্রদর্শনীর। এটি আরও একটি কারণে বিখ্যাত। আর্জেন্টিনা তথা সারা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবলার ম্যারাডোনার ক্লাব বোকা জুনিয়রস এখানে অবস্থিত। তাই লা বোকা সারা বছরই ভ্রমণকারীদের পদভারে মুখর থাকে। আর লা বোকা দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় এর ছবির মতো সুন্দর কাঠের রঙিন ঘরবাড়ির জন্য। এখানে চিত্রশিল্পীদের জন্য বেশ কিছু কলোনি আছে। এখানে সারা বছরই বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর চিত্রশিল্পী আসে শিক্ষানবিশ হিসেবে। তাঁদের ক্যানভাসের ব্র্যাকগ্রাউন্ডে এই রঙিন কাঠের ঘরবাড়ির ব্যবহার প্রমাণ করে এগুলো কতটা আকর্ষণীয়। লা বোকার প্রায় প্রতিটা বাড়ির দেয়ালেই রঙিন ব্র্যাকগ্রাউন্ডের ওপরে চিত্রকর্ম দেখা যায়।

লা বোকার আরও একটি প্রধান আকর্ষণ এর ট্যাংগো নাচ। লা বোকা শহরের প্রায় প্রতিটা স্থানেই আপনি ট্যাংগো নাচ দেখতে পাবেন। লা বোকার ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায় এর রঙিন ঘরবাড়ির ধারণা এসেছে এখানকার বাসিন্দাদের শিল্পসত্তা থেকে। বাজারে যত রং পাওয়া যায়, একজন দুজন করে সবাই প্রায় প্রতিটা রংই ব্যবহার করে ফেলেছে তাদের ঘরবাড়ি রাঙাতে। এটি এখানকার বাসিন্দাদের শিল্পসত্তা ও রঙিন মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। যার ফলাফল আজকের রঙিন লা বোকা।

উইলেমস্টাড, কুরাকো। উইকিপিডিয়া

উইলেমস্টাড, কুরাকো

কুরাকোর রাজধানী উইলেমস্টাড একটি ঐতিহাসিক শহর। এই শহরের প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনে ভরপুর। রঙিন সরকারি ভবন, বিপণিবিতান, আবাসিক বাড়িঘর, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসাকেন্দ্রের জন্য এর খ্যাতি জগৎজোড়া। উইলেমস্টাডে প্রায় ৭৫০টির মতো রঙিন ভবন আছে, যা দেখতে অস্বাভাবিক সুন্দর। এই রঙের বিপ্লবের শুরু দেশটির গভর্নর জেনারেল আলবার্ট কিককার্টের হাত ধরে। আর এর পেছনের গল্পটি খুবই চমৎকার। ১৯ শতকে আলবার্ট কিককার্টের শাসনামলে তিনি মাইগ্রেনে ভুগতেন বলে জানা যায়। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে উইলেমস্টাডের সাদা রঙের ভবনগুলোতে সূর্যরশ্মির বিকিরণ এর একটি বড় কারণ। তখন আলবার্ট কিককার্ট সরকারি আদেশ জারি করেন যে উইলমেস্টেড শহরের প্রাণকেন্দ্রের সব ভবন সাদা ব্যতীত অন্যান্য রঙে রাঙাতে হবে। সাধারণ বাসিন্দারাও অনুধাবন করতে পেরেছিল যে সাদা ভবনের দেয়ালে বিকিরিত সূর্যরশ্মি তাদের চোখের সমস্যা সৃষ্টি করে। আর তাই তো তারা আজও আলবার্ট কিককার্টের আদেশ মেনে তাদের ভবনগুলো সাদা বাদে অন্যান্য রঙে রঙিন করে তোলে।

উইলেমস্টাডে প্রায় শতাধিক ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে, যেগুলো ডাচ স্থাপত্যশৈলীর অনুপম নিদর্শন। এখানকার হারবার এ এখনো এমন কিছু পোর্ট আছে, যেগুলো ১৭ শতকে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক নির্মিত। ঐতিহাসিকভাবে সমাদৃত ও সুন্দর এই নগরী দেখতে প্রতিবছর প্রায় লক্ষাধিক ভ্রমণপ্রিয়াসী এখানে আসে।

সান্তরিনী, গ্রিস। উইকিপিডিয়া

সান্তরিনী, গ্রিস

গ্রিসের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান সুন্দর দ্বীপ সান্তরিনীর। দ্বীপটি ১৫টি ছবির মতো সুন্দর গ্রাম নিয়ে গঠিত। সাদা রঙের নয়নাভিরাম ভিলা ও খোয়া বিছানো সরু সরু রাস্তা এই গ্রামগুলোকে করেছে অনন্য সাধারণ। নয়নাভিরাম এই ভিলাগুলোর উন্মুক্ত বারান্দা থেকে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে অতুলনীয় অবর্ণনীয়। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন ১৯ শতকের গোড়ার দিকে সাদা রঙের ব্যবহার শুরু হয় এখানকার বাড়িতে। এর কারণ হচ্ছে সাদা রং অন্যান্য রঙের তুলনায় সস্তা ও দীর্ঘস্থায়ী। বর্তমানে এটাই এখানকার ঐতিহ্য সাধারণ এই স্টাইলটাই সান্তরিনীকে করে তুলেছে অসাধারণ।

আপনি যখন গ্রিসের সান্তরিনী দ্বীপের কথা চিন্তা করবেন তখন আপনার ভাবনায় দুইটা রংই শুধু ভেসে উঠবে আর তা হলো সাদা আর নীল। উজ্জ্বল স্বচ্ছ নীল পানির লোনিয়ান সাগরের কোলে নীল আকাশের নিচে সাদা ধবধবে সান্তরিনী দ্বীপ মুগ্ধ করবে যেকোনো সৌন্দর্য্যপিপাসুর মন।

অলিন্ডা, ব্রাজিল। উইকিপিডিয়া

অলিন্ডা, ব্রাজিল

আটলান্টিক মহাসাগরের পাড়ে ব্রাজিলের পূর্বদিকে অবস্থিত ‘অলিন্ডা’ ইউনেসকো কর্তৃক স্বীকৃত ঐতিহাসিক এক শহর, যা সরু সরু সিঁড়িপথ, এর দুই পাশে অবস্থিত উজ্জ্বল রঙে রঙিন ও লাল টালির ছাদবিশিষ্ট বাড়ির জন্য বিখ্যাত। অলিন্ডা ব্রাজিলের অন্যতম প্রধান সংরক্ষিত ও পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা। ১৫৪৫ সালে পর্তুগিজরা প্রথম অলিন্ডা শহরটি প্রতিষ্ঠা করে এর ভবনগুলো উজ্জ্বল রঙে রং করে। যদিও এর সুস্পষ্ট কোনো কারণ ইতিহাসে নেই। বর্তমানে অলিন্ডা পৃথিবীব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে, যেগুলো আবার সবার জন্য উন্মুক্ত। আর তাই তো ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে অলিন্ডা প্রিয় এক নাম। এখানকার আটলান্টিকের পাড়ে নয়নাভিরাম ভিলাই বসে সাম্বা নাচ দেখার সুযোগ কেই বা ছাড়তে চায়?

কাম্পাং, পেলেঙ্গি, ইন্দোনেশিয়া। উইকিপিডিয়া

কাম্পাং, পেলেঙ্গি, ইন্দোনেশিয়া

কাম্পাং ইন্দোনেশিয়ার রংধনু গ্রাম হিসেবে পর্যটকদের কাছে সুপরিচিত ও সমাদৃত। শুধু ঘরবাড়ি নয়, এখানকার সব স্থাপনাই রংধনুর রঙে রাঙানো। এটি মূলত পর্যটনকেন্দ্রিক গ্রাম। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে অধিকহারে পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য এখানকার কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ গ্রামটি আবার নতুন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এখানকার কর্তৃপক্ষ আইন করে যে প্রতিটি স্থাপনা তৈরিতে কমপক্ষে তিনটি রং ব্যবহার বাধ্যতামূলক। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তাদের পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে কাজে লেগেছে। বর্তমানে এটি ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। এখানকার কর্তৃপক্ষ এটিকে আরও বিস্তৃত ও রঙিন করে পর্যটকদের কাছে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে।

নাইহাভন, কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক। উইকিপিডিয়া

নাইহাভন, কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক

নাইহাভন মূলত ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনের একটি হারবার বা বন্দরনগরী। সরু খালের দুপাশে অবস্থিত সারি সারি বিভিন্ন রঙে রাঙানো পুরোনো ঘরবাড়ি আর কাঠের তৈরি রঙিন নৌকা এখানকার প্রধান আকর্ষণ। ছবির মতো সুন্দর নাইহাভনের বেশির ভাগ ভবনই ১৭ শতকে নির্মিত এবং সেগুলো সেই আদি রূপেই এখনো দাঁড়িয়ে আছে। এখন অবশ্য পর্যটকদের কথা চিন্তা করে অনেক পুরোনো ভবনই রেস্তোরাঁ ও কফিশপে বদলে ফেলা হয়েছে। এখানকার সব থেকে পুরোনো ভবনটি ১৬৬১ সালে নির্মিত এবং এখনো সেটি সেভাবেই আছে যেভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। নাইহাভনের বেশির ভাগ মালিকানাই ডেনমার্কের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী, কবি ও লেখকদের দখলে। এই নগরীর সৌন্দর্য্যই তাঁদের এখানে আসতে বাধ্য করেছে। অন্যান্য বিখ্যাত শহরগুলোর মতোই কোপেনহেগেন ভ্রমণ আপনাকে কিছু অসাধারণ মুহূর্ত উপহার দেবে। আর নাইহাভন ছাড়া কোপেনহেগেন ভ্রমণ অসম্পূর্ণ। কাঠের তৈরি সুন্দর রঙিন ছোট ছোট নৌকায় করে আপনি যখন নাইহাভনের খাল ধরে রঙিন ঘরবাড়ির মাঝ দিয়ে যাবেন, তখন আপনার নিজেকে চমৎকার একটি স্থিরচিত্রের চলমান অংশ বলে মনে হবে। যে অনুভূতি আপনি পৃথিবীর খুব কম জায়গাতে গিয়েই পাবেন।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ১০০তম সংখ্যা, আগস্ট ২০১৮।

আশিক মাহমুদ
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top