দালালপুর সেতু
অধ্যাপক ক্যানিংহাম তাঁর এক বিবরণীতে ‘দালালপুর সেতু’ সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন-ক্যানিংহামের বিবরণে (১৮৭৯-১৮৮০) সেতুর অভ্যন্তরভাগে ইট নির্মিত দুটি প্রবেশপথ স্তম্ভের উল্লেখ রয়েছে। এতে বসানো রয়েছে ধাপ হিসেবে খোদাই করা ফুলেল নকশা শোভিত একটি কৃষ্ণ পাথর। স্থাপত্যরীতির বিবেচনায় সেতুটি মোগল আমলে নির্মিত বলে মনে করা হয়। পঙ্খীরাজ খালের ওপরে নির্মিতব্য আরেক দৃষ্টিনন্দন মোগল স্থাপনা হলো ‘দালালপুর সেতু’ বা, ‘দালালপুর পুল’। এই সেতুটি স্থানীয় লোকজনের কাছে দৌলতপুর সেতু নামেও পরিচিত। পানাম নগরীর উত্তর পাশের পঙ্খীরাজ খালসংবলিত স্থানে এই সেতুটি অবস্থিত। এই সেতুটি আমিনপুর থেকে যাত্রা শুরু করে দালালপুর কোম্পানি কুঠি পর্যন্ত বিস্তৃত। বলা চলে, পঙ্খীরাজ খালের দ্বিতীয় সংযোগ সেতু এই সেতু।
দালালপুর সেতুর গাঠনিক বৈশিষ্ট্য
দালালপুর সেতুটি ইট নির্মিত। এটি প্রায় পাঁচ ফুট ব্যাসবিশিষ্ট। তবে এতে কালো ব্যাসাল্ট পাথরের কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রাচীন এই সেতুটি ত্রি-খিলানবিশিষ্ট, মধ্যবর্তী খিলানটি পার্শ্ববর্তী খিলান দুটি থেকে অপেক্ষাকৃত বড় আকৃতির। নিচে রয়েছে জলযোগের দারুণ ব্যবস্থা। নৌকা চলাচলের সুবিধার জন্য অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত ও উঁচু করে নির্মিত।
পানামনগর পুল
ঐতিহাসিক পানামনগরীর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পানামনগর পুল। অপর মোগল স্থাপনা দালালপুর সেতু এই সেতু থেকে কয়েক গজ দূরবর্তী। সম্প্রতি স্থাপিত পাকা রাস্তা এই সেতুর পূর্ব দিকে অবস্থিত। তবে পানাম পুল এখন আর টিকে নেই। কালের বিবর্তনে এখন হারিয়ে গেছে।
ইতিহাস
স্থাপত্যরীতি অনুযায়ী, মোগল আমলের এই সেতু স্থাপনাটি পানাম সেতু ও দালালপুর সেতু নির্মাণের পরবর্তী সময়ে নির্মিত।
পানামনগর পুলের গাঠনিক বৈশিষ্ট্য
পানামনগর সেতুটি ছোট একটি পরিখার ওপরে অবস্থিত। তাই সেতুটিও সংকুচিত গঠনশৈলীর। মোগল আমলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা-পাগলা সেতুর মতো এই সেতুর দুই পাশে দুটি টাওয়ার ছিল। প্রতিটা টাওয়ারে ফটক বসানো ছিল। বর্তমানে এই টাওয়ার দেখা যায় না। কালের আবর্তে বহু বছর আগেই হারিয়ে গেছে এই টাওয়ার। একটি মাত্র খিলানবিশিষ্ট ছোট এই সেতু। যাতে অপরাপর সেতুর মতো দুই পাশে ছোট খিলান নেই। সেতুটির এক-তৃতীয়াংশ ইটের গাঁথুনিতে তৈরি। তবে সেতুর নিম্নভাগে কালো ব্যাসাল্ট পাথরের একটি বড় আকারের স্তম্ভ সমতলভাবে স্থাপিত। এই স্তম্ভ স্থাপনার ওপরেই ইটের গাঁথুনি ও আস্তরণ। পানামনগর সেতুর দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ৯৫ মিটার, প্রস্থ ৪ দশমিক ৭২ মিটার। সেতুটির অভ্যন্তরভাগে খিলানের উচ্চতা। খিলানপথে এখনো জলযোগ রয়েছে।
পিঠাওয়ালীর পুল, সোনারগাঁ
সোনারগাঁ কাজী ফজলুল হোক উইমেন্স কলেজ-এর প্রধান ফটকের সামনে অবস্থিত এই পিঠাওয়ালীর পুল, যেখান থেকে ‘সোনারগাঁয়ের লোকশিল্প জাদুঘর’ ও ‘পানামনগরী’র অবস্থান কাছাকাছি। দুই পাশে সড়কের অবস্থা এমন যে এই পুলটিকে বর্তমানে একটি কচ্ছপের পিঠ বলে মনে হয়। কচ্ছপের পিঠের মতো দেখতে, তাই এই পুলের নাম পিঠাওয়ালীর পুল। বর্তমানে, পুলটির অবস্থা একেবারেই নাজুক। কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার সময় বুঝি আসন্ন।
ইতিহাস
ঐতিহাসিকগণের মতে, এই সেতুর নির্মাণকাল ও নির্মাতা সম্পর্কে দ্বিমত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, ৪০০ বছরের পুরোনো এই সেতুটি সম্রাট শের শাহের শাসনামলে নির্মাণকাজ শুরু হয়, ঈশা খাঁর রাজত্বের শেষ দিকে এর পত্তন হয়।
গাঠনিক কাঠামো
পিঠাওয়ালীর পুল একটি মাত্র খিলানবিশিষ্ট। এই সময়ের সড়কের পাশে লাগোয়া সেতুর যে অংশটুকু দেখা যায় তাতে যে প্যানেল ও খিলানের মস্তকবিন্দু যাচাই করা যায়, তা থেকে এ কথা স্পষ্ট যে এই সেতুটির ছোট দুই খিলান নেই। প্যানেলের দৈর্ঘ্য ১৪ ফুট ৮ ইঞ্চি। এর গভীরতা ২ ইঞ্চি। পিঠাওয়ালীর সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৬ ফুট। সেতুর উপরিভাগের কেন্দ্রস্থল মধ্যবর্তী স্থান থেকে দুই পাশে ক্রমেই ঢালু হয়ে নেমে গেছে। তবে অপরাপর সেতুর মতো এই সেতুর ঢালুর তীব্রতা অতো বেশি নয়। সেতুর প্রস্থ ১৪ ফুট, ২ ইঞ্চি। সেতুর দুই পাশের দেয়ালের পুরুত্ব ২ ফুট।
ত্রিবেণী পুল
পুলটি সোনাকান্দা দুর্গসংলগ্ন। ‘ত্রিবেণী’ শব্দটি ‘ত্রিবৃত্ত’ ও ‘ত্রিবেদ’ শব্দ থেকে উদ্ভূত। বাংলা ‘ত্রিবেণী’ অর্থ তিন নদীর সঙ্গমস্থল বা মোহনা। নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার অন্তর্গত সোনাকান্দা (প্রাচীন সুবর্ণকান্দি) গ্রামে অবস্থিত এই ত্রিবেণী সেতু। ইতিহাস বিখ্যাত ‘তারিখ-ই-ঢাকা’ গ্রন্থে এই ত্রিবেণী খাল ও সেতু সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে।
সত্যিই কি ত্রিবেণী খাল ও পুল ছিল?
প্রাচীন ‘সুবর্ণকান্দি‘ (পরিব্রাজক ইবনে বতুতা তাঁর বইতে উল্লেখ করেছেন এই নাম তথা বর্তমান ‘সোনাকান্দা’ গ্রাম পশ্চিম দিকে শীতলক্ষ্যা নদী রেখে মোগল আমলের ঐতিহাসিক ‘ত্রিবেণী খাল’ হয়ে ‘সুবর্ণগ্রাম’ তথা ‘সোনারগাঁ’ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই ঐতিহাসিক খালের ওপরে সর্বাপেক্ষা চিত্তাকর্ষক স্থাপনা ছিল এই পুল বা সেতু। ইতিহাসবেত্তা দুর্গাদাস লাহিড়ী তাঁর রচিত ‘পৃথিবীর ইতিহাস – চতুর্থ খণ্ড’ গ্রন্থের ২৫৭ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন এই সেতুর কথা।
প্রাচীন এই ত্রিবেণী খাল পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদী হয়ে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা খাল, বিল, নদী-নালা হয়ে পূর্বে ব্রহ্মপুত্র আবার কোথাও কোথাও মেঘনা নদীর সংযোগস্থলে মিলিত হয়েছে। তাই এই স্থানটির নাম ‘ত্রিবেণী’, বোঝা গেল।
একসময়ে সওদাগরদের আনাগোনা থাকলেও আজ এই খ্যাতি শ্রীহীন। বন্দর থানাসংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদী হতে মিরকুণ্ডী বিবিজোড়াস্থ ধলেশ্বরী নদী পর্যন্ত ত্রিবেণী খালের কোনো অস্তিত্ব এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। ত্রিবেণী খালসংলগ্ন ত্রিবেণী সেতুও আজ নেই। সম্প্রতি পুরোনো জবুথবু হয়ে যাওয়া সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়াস চলছে।
কেল্লার পুল
নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিমপাড়ে অবস্থিত প্রাচীন ‘খিজিরপুর দুর্গ’ (বর্তমানে, হাজীগঞ্জ কেল্লা নামে পরিচিত)। এই কেল্লা থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত ‘কেল্লার খাল’। এই খাল বা পরিখা দিয়ে একসময় মোগল সম্রাট ও শাসকগণ নৌকাযোগে যোগাযোগ করতেন বলে জানা যায় প্রাচীন নথি-বইপত্রে। পরবর্তী সময়ে মোগলরা এখানে একটি সেতু নির্মাণ করেন। ‘কেল্লার খাল’-এর ওপরে নির্মিত এই সেতু, তাই তার নাম ‘কেল্লার পুল’। এই পুল নারায়ণগঞ্জ থেকে চিটাগাং রোড ও ডেমরা যাওয়ার মাধ্যম। বর্তমানে নব নির্মিত পুল দেখা যায়। তবে স্থানীয় বহু বয়োজ্যেষ্ঠ লোকজনের মতে, এখানে মোগল আমলের নির্মিত একটি সেতু ছিল, যা তাঁরা স্বচক্ষে দেখছিলেন, কিন্তু আজ নেই। এই সেতু সম্পর্কিত তেমন তথ্য আর কোথাও পাওয়া যায় না।
ত্রিমোহনী সেতু
ঈশা খাঁ ত্রিমোহনীতে প্রাচীন সেতু নির্মাণ করেছেন বলে অনেকের অভিমত। তবে সে সম্পর্কিত কোনো নথি, তথ্যাদি বা দলিল নেই।
কদমপুর পুল
প্রাচীন এই ‘কদমপুর পুল’ এর সন্ধান মেলে রেনেলের ম্যাপে। প্রাচীন সুবর্ণকান্দি দুর্গ (সোনাকান্দা কেল্লা) ও খিজিরপুর দুর্গ (হাজীগঞ্জ কেল্লা) এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই কদমপুল পুল। অনুমান করা যায়, প্রাচীন কত্রভূতে এর অবস্থান। বাস্তবে এই পুলের কোনো হদিস নেই।
চাপাতলীর ইটের পুল
নারায়ণগঞ্জ জেলার ইস্পাহানি বাজারসংলগ্ন চাপাতলী গ্রামে অবস্থিত এই চাপাতলীর ইটের পুল। মোগল আমলে নির্মিত স্থানীয় লোকজন এই পুলকে গায়েবি সেতু নামে অবহিত করে থাকে। পুলটি পুরোটাই ইটে তৈরী। এই পুলের মধ্যে ইটের প্যাটার্ন বেশ বৈচিত্র্যময়। প্যাটার্নে দুই ধরন দেখা যায়। যেমন: লম্বালম্বিভাবে ইটের আধান, আড়াআড়িভাবে ইটের আধান। ইটের প্যাটার্নে রো-চারটি। বাম দিক থেকে ২ নম্বর রো-টি অনেক ছোট, ৩ ও ৪ নম্বর রো-টি সর্বাপেক্ষা বড়। ইটের আকৃতি বেশ লম্বালম্বি। ইটের দৈর্ঘ্য ৭ ইঞ্চি, প্রস্থ ২ ইঞ্চি।
স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য
ইটের পুলের দৈর্ঘ্য ঢালসহ ১০৮ ফুট, প্রস্থ প্রায় ১৮ ফুট, উচ্চতা প্রায় ২৪ ফুট (পানি থেকে)।
পুলের অষ্টকোনাকৃতি টাওয়ারের গঠন
- ইটের পুলের চারপাশে ৪টি অষ্টকোনাকৃতি টাওয়ারের ভগ্নদশা রয়েছে।
- এর প্রতি বাহুর দৈর্ঘ্য ৩ ফুট ৪ ইঞ্চি
- সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য ৮ ফুট
- সম্পূর্ণ প্রস্থ ৬ ফুট
- উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট (মাটি থেকে)
- ল্যান্ডিং ৭ ফুট প্রায়।
চাপাতলীর ইটের পুলের রেলিংয়ে ভগ্নদশা দেখা যায়। এই রেলিংয়ের পুরুত্ব, ১ ফুট ৮.৬ ইঞ্চি (প্রায়)
পাগলা পুল, পাগলা
মুঘল আমলে যে কয়টা নান্দনিক সেতুর কথা বলা হয়, তার মধ্যে প্রকৃষ্ট উদাহরণ ‘পাগলা সেতু’ বা, ‘পাগলা ব্রিজ’। বহু ইতিহাসবেত্তা এই সেতু সম্পর্কে গল্প করেছেন। ঢাকা থেকে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার অদূরে নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকায় বেগ মুরাদের দুর্গসংলগ্ন এই সেতুর ধ্বংসাবশেষ এখনো টিকে আছে।
ইতিহাস
বাংলার সুবেদার মীর জুমলা তাঁর সুবেদার থাকাকালীন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহ, বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ শহরে বেশ কিছু মোগল স্থাপনা গড়ে তোলেন। তাঁর নির্মিত এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে-প্রাচীন রাস্তা, পরিখা, সেতু ও সংযোগ সড়ক ইত্যাদি। ধারণা করা হয়, বাংলার সুবেদার থাকাকালীন মীর জুমলা এই বাংলায় ১৬০০ শতক থেকে ১৬৬০ শতক পর্যন্ত এই বাংলায় বেশ কটা দুর্গ নির্মাণ করেছেন। এসব দুর্গের মধ্যে রয়েছে সুবর্ণকান্দি দুর্গ (বর্তমান সোনাকান্দা দুর্গ), খিজিরপুর দূর্গ (বর্তমান হাজীগঞ্জ দুর্গ), বেগ মুরাদের দুর্গ ইত্যাদি। প্রতিটা দুর্গসমেত এলাকায় তিনি একেকটি পরিখা খনন করেন ও সেতু নির্মাণ করেন। যেমন, সোনাকান্দা দুর্গের কাছে ত্রিবেণী খাল ও ত্রিবেণী সেতু, হাজীগঞ্জ দুর্গের কাছে কেল্লার পুল ও কেল্লার পুল সেতু, বেগ-মুরাদের দুর্গের কাছে ছিল পাগলা নদী ও পাগলা পুল। ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে এই দুর্গ নির্মাণের কাজ শেষ হয়।
১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ফরাসি পর্যটক টেভারনিয়ার ঢাকায় এসেছিলেন ভ্রমণে। তখন তিনি এই পাগলা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করেছিলেন। তিনি তাঁর লেখনীতে এই পাগলা সেতুর বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, এই সেতুকে উল্লেখ করেছেন ‘ইটের একটি সুন্দর সেতু’ নামে। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ভাটিতে আছে আরেকটি নদী পাগলা। নদীর ওপর আছে সুন্দর একটি পুল, যা তৈরি করেছিলেন মীর জুমলা। তিনি আরও লিখেছিলেন, নদীর দুই পাশে ছিল বেশ কিছু টাওয়ার, যেখানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল ডাকাতদের কাটা মুণ্ডু।
১৮২৪ সালে কলকাতার লর্ড বিশপ হেবার, পাগলা পুলের সৌন্দর্যের খ্যাতি শুনে তা দেখতে এসেছিলেন। অত দিনে পাগলা নদীও মৃতপ্রায়। পাগলা সেতু তখন পরিণত হয়েছিল প্রায় ধ্বংসস্তূপে।
পাগলা সেতুর গাঠনিক উপাদান
চার্লস ডয়েলের আঁকা ছবি থেকে পাগলা সেতু সম্পর্কে অনেক ধারণা পাওয়া যায়। তাঁর ছবির বর্ণনা অনুযায়ী-
- আকর্ষণীয় টিউডার গথিক স্থাপত্যের এক চমৎকার নিদর্শন।
- তিনটি খোলা খিলানের সমন্বয়ে গঠিত এই পাগলা সেতু। উভয় পাশে খিলানযুক্ত।
- পাগলা সেতুতে ছিল পর্যবেক্ষেণ টাওয়ার। শক্রদের ওপর নজর রাখার জন্য এতে ‘পর্যবেক্ষণ টাওয়ার’ যুক্ত ছিল।
- পাগলা সেতুর প্রায় অর্ধাংশ ভেঙে গিয়েছিল। ঠিক যেন বড় রকমের ঝড় কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে পতিত হয়ে ভেঙে পড়ছে এই সেতু। পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের ওপরে ছিল গম্বুজ আকৃতিসদৃশ।
- অনেক বেশি আক্র্ লাইনের ব্যবহার
- অনেকে বেশি অলংকরণশৈলীর ব্যবহার
- মিনারের মতো অবশিষ্ট অংশ দেখা যায়
- প্রতিটি কোনায় চারটি অষ্টভুজাকার মিনার ছিল। এই মিনারগুলো ফাঁপা আকৃতির।
- সেতুর দুই পাশে রয়েছে রেলিং বরাবর স্থানের পুনঃ পুনঃ পিলারের ব্যবহার।
- পিলারের মাথায় ছোট ছোট গম্বুজের ব্যবহার।
অ্যাটকিনসনের তথ্যামতে, ‘পুলের জায়গাটিতে একধরনের আলো-ছায়ার খেলা দেখা যায়। দূরের ঢাকার ইউরোপিয়ান অধিবাসীদের সাদা ঘরবাড়িতে সূর্যের আলো ঠিকরে পড়ে যে উজ্জ্বলতার সৃষ্টি করে, তার সঙ্গে পুল ও পুলের নিকটবর্তী ভূমির ছায়া মিলে অদ্ভুত এক ভাবপ্রবণ দৃশ্যের অবতারণা করে।’
খাঁজা আম্বার পুল
প্রাচীন ‘রেনেল’-এর ম্যাপে ‘খাঁজা আম্বার পুল’-এর অস্তিত্ব দেখা যায়। ম্যাপ অনুযায়ী ঢাকার মধ্যভাগে একসময় এই সেতুর অবস্থান ছিল, যা বর্তমানে টিকে নেই। খাঁজা নাম্বার সেতু ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল বলে ধরে নেওয়া হয়।
তাঁতিবাজার পুল
তাঁতিবাজার সেতু সম্পর্কেও তেমন ধারণা পাওয়া যায় না। শিল্পী চার্লস ডয়েলের আঁকা ছবিতে এই সেতুর সুদৃশ্য দেখা মেলে। তাতে বিশাল আকৃতির খিলানের দেখা মেলে। ধারণা করা হয় এমন চারটি খিলান নিয়ে গঠিত হয়েছিল এই সেতু। সেতুর উপরিভাগে রেলিংয়ে ছোট আকৃতির ছিদ্র দেখা যায়।
টঙ্গী পুল (টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর সড়ক সংলগ্ন)
রেনেলের ম্যাপ অনুযায়ী, টঙ্গী খালের উপরে নির্মিতব্য টঙ্গী সেতু। ইতিহাস বিখ্যাত ‘তারিখ-ই-ঢাকা’ গ্রন্থে এই টঙ্গী খাল ও সেতু সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। ভারতীয় মোগল সেতু স্থাপনার ন্যায় এই সেতুতে দুই পাশে ওয়াচ টাওয়ার দেখা যায়। এই ওয়াচ টাওয়ারগুলো সুদীর্ঘ গম্বুজ আকৃতির।
তালতলা পুল
মোগল আমলের অপর দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা তালতলা সেতু সম্পর্কে তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। ধারণা অনুযায়ী, ‘মোগল আমলের এই সেতুটির নির্মাণের ধরন মীর কাদিম সেতুর মতো। ‘তারিখ-ই-ঢাকা’ গ্রন্থে এই তালতলা পুল সম্পর্কেও উল্লেখ রয়েছে। তবে বর্তমানে এই সেতুটির হদিস নেই।
স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য
- তালতলা সেতুটিতে তিনটি খিলান রয়েছে
- খিলানসমূহ বৃত্তাকার আকৃতির
- কেন্দ্রীয় খিলানটি অপেক্ষাকৃত বড় আকৃতির
- কেন্দ্রীয় খিলানের স্প্যান অনেক বড়
- পার্শ্ববর্তী খিলান দুটি ছোট আকৃতির
- পার্শ্ববর্তী খিলানের স্প্যান অনেক ছোট।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ১১৫তম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৯।