Image

টপ-ডাউন কন্সট্রাকশন সিস্টেম

টপ-ডাউন কন্সট্রাকশন সিস্টেম একটি প্রকৌশল উদ্ভাবন। ধীরে ধীরে নির্মাণ কৌশলে এই সিস্টেমের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। এই উদ্ভাবনীর দ্বারা ভূমির উপর এবং নিচের কাজ সমানভাবে করা যায়। ফলে নির্মাণ সময় এবং ব্যয় দুটোই সাশ্রয় করা সম্ভব।

 বৈশিষ্ট্য 

ইমারতের ভিত্তি নির্মাণের ক্ষেত্রে এটি একটি উন্নত প্রযুক্তি, যা গতানুগতিক কৌশল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

এই পদ্ধতিতে বেসমেন্টের কংক্রিট স্ল্যাব পরিধির দেয়ালের জন্য পার্শ্বিক সম্বন্ধ হিসেবে কাজ করে। নিচতলা ও ১ম বেসমেন্টে প্রথমে ঢালাই দেওয়া হয়। সেই সাথে আরো নিচে মাটি খোঁড়ার জন্য জায়গা রাখা হয়। আর এভাবেই যেহেতু প্রত্যেকটি স্তরের কাজ সম্পন্ন হয়, সে ক্ষেত্রে স্ল্যাবগুলো পার্শ্বিক সম্বন্ধ হিসেবে পরিধির দেয়ালের জন্য কাজ করে।

কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে এই কার্যপদ্ধতি প্রয়োগযোগ্য

  • যদি কন্সট্রাকশন সাইট লোকেশন বড় হয় এবং সেই সাথে যদি প্রচুর পরিমাণ খনন কাজ প্রয়োজন হয়।
  • যদি কন্সট্রাকশন ডিজাইনে একের অধিক বেসমেন্টের প্রয়োগ থাকে, সে ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অর্থনৈতিক সাচ্ছল্য আনে।
  • যদি পার্শ্ববর্তী ইমারত/স্ট্রাকচারের জন্য এক্সটার্নাল ব্রেসিং দেওয়া যেতে না পারে।
  • মধ্যম বা তার চেয়ে উঁচু ইমারতের জন্য এটি বেশ সাশ্রয়ী।

এই পদ্ধতির সুবিধাসমূহ

  • এটি কন্সট্রাকশন কাজকে দ্রুতগামী করে। যেমন ট্রাফিক টানেল নির্মাণে এটি বেশ সহায়ক।
  • এই পদ্ধতিতে অন্তর্বর্তী ব্রেসিং সিস্টেম প্রয়োজন হয় না, যা ভূনিম্নস্থ দেয়াল প্রস্তুতে ব্যবহৃত হতো। তাই এটি একটি ব্যয় সংকোচন পদ্ধতিও বটে।
  • নির্মাণ সময়সীমা সংকুচিত করে এই পদ্ধতি।
  • এই পদ্ধতিতে প্রস্তুতকৃত গ্রাউন্ড ফ্লোর এবং বেসমেন্ট যদি নির্মাণের প্রথমাবস্থায় করা যায় তাহলে খারাপ আবহাওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যায়।

কার্যপদ্ধতি

প্রথমে সবগুলো পাইল মাটিতে স্থাপন করতে হবে। মাটি খননের পূর্বেই ভূনিম্নস্থ’ পরিধি বরাবর প্রাচীর প্রস্তুত করতে হবে, যা সাধারণত কংক্রিটের দ্বারা তৈরি করতে হয়।

ভূগর্ভ খনন এবং স্টিল স্থাপন করতে হবে। গ্রাউন্ড ফ্লোরের স্ল্যাব ঢালাই দেওয়ার পর এর নিচের মাটি খনন করতে হয় এবং সেই সাথে স্টিল ট্রাট স্থাপন করতে হয়।

লেভেল-১-এর দেয়ালের কংক্রিট ঢালাই দেওয়া হয়। দেয়ালের স্ট্রেংথ 25Mpa-তে পৌঁছলে বেসমেন্টের মাটি খনন শুরু করতে হবে। পরবর্তীতে লেভেল-১-এর কলাম এবং দেয়াল প্রস্তুত করতে হবে।

বেসমেন্ট-১-এর স্ল্যাব ঢালাই দিতে হবে। সেই সাথে পার্টিশন দেয়ালও প্রস্তুত করা যাবে (গ্রাউন্ড ফ্লোর এবং বেসমেন্ট-১-এর মধ্যবর্তী) লেভেল-২-এর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

এবার বেসমেন্ট-২-এর জন্য মাটি খনন করতে হবে। সেই সাথে বেসমেন্ট-২-এর দেয়াল এবং ফুটিং ঢালাই দিতে হবে। লেভেল-২-এর দেয়ালও একই সময়ে ঢালাই দেওয়া যাবে।

লেভেল-২-এর ঢালাই দিতে হবে।

লেভেল-৩-এর জন্য ফ্রেম বানাতে হবে এবং স্ল্যাব ঢালাই দিতে হবে। একই সাথে বেসমেন্ট-২-এর স্ল্যাব ঢালাই দিতে হবে।

নিলয় সাহা

প্রোডাক্ট সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার

প্রকাশকাল: বন্ধন ৩২ তম সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১২

Related Posts

বর্ষায় সিমেন্ট সংরক্ষণে করণীয়

বিশে^ বহুল ব্যবহৃত নির্মাণ উপকরণ সিমেন্ট। সিমেন্ট, অ্যাগ্রিগেট, বালু ও পানির সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় কংক্রিট, যা অত্যন্ত শক্তিশালী…

প্লেট লোড পরীক্ষার সাতসতেরো

মাটি চরম ভারবহন ক্ষমতা এবং সম্ভাব্য বসে যাওয়ার পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য মাঠে প্লেট লোড পরীক্ষা করা হয়।…

ইট দেয়ালের ত্রুটি মেরামতে

বিশ্বের সর্বত্রই স্থাপনা নির্মাণে ইট অত্যন্ত জনপ্রিয় নির্মাণ উপকরণ। হাজার বছরের বেশি সময় ধরে এ দেশে ভবন নির্মাণে…

মাটির ভারবহন ক্ষমতা বাড়াতে

অধুনা বিশ্বে নির্মাণযজ্ঞের সিংহভাগ কাজই হয় ভূ-পৃষ্ঠকে ঘিরে। সড়ক, রেললাইন, ভবন ও সব ধরনের অবকাঠামোর নির্মাণকাজ পরিচালিত হয়…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

01~1
previous arrow
next arrow

Bandhan Cover

সর্বশেষ

Trending Posts

Gallery

Zabun Nesa Mosq.
BRAC
Oberio Palace
Soil
“যত মানুষ ফুটবলের ভক্ত, তত মানুষ স্থাপত্য নিয়েও আগ্রহী হোক”
হাতে তৈরি পাঁচটি আইকনিক চারু ও কারি শিল্পের বাড়ি
RIAS ২০২৬ সালের বার্ষিক পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা
গাছকে জড়িয়ে গড়া আমার ঠিকানা
শহরের শরীরে খোদাই করা এক গৃহকাব্য