• Home
  • অ্যাওয়ার্ড
  • সীমাবদ্ধতা যখন স্থাপত্যের শক্তি হয় তখনও মিলে পুরস্কার
Belgium

সীমাবদ্ধতা যখন স্থাপত্যের শক্তি হয় তখনও মিলে পুরস্কার

স্থপতিদের গুণের শেষ নেই, মননশীলতারও শেষ নেই। তারা অসম্ভবকে সম্ভব এবং সম্ভাবনাময় করে তুলতে পারে চিন্তা ও কর্মে। ব্রাসেলসের AgwA এবং Architecten Jan de Vylder Inge Vinck প্রকল্পে স্থপতিরা এমনই এক আশ্চর্য কান্ড দেখিয়েছেন।

বেলজিয়ামের শারলেরোই প্যালে দে এক্সপোজিশন একটি প্রায় পরিত্যাক্ত ভবন। দেশটির সরকার যাকে গ্রিন পার্ক বানানোর কথা ভাবতো আজ তা রূপ নিয়েছে বিশ্বমানের একটি প্রদর্শনী কেন্দ্রে। ১৯৫০ সালে নির্মিত এ ভবনটি সংস্কারে সময় লেগেছে ৭ বছর। সম্প্রতি রূপান্তরিত এ ভবনটি  জিতেছে মিয়েস ভ্যান ডি রোহে পুরস্কার ২০২৬।

বেলজিয়ামের শারলেরোই-তে অবস্থিত কমপ্লেক্সটির আয়তন ৫০,০০০ বর্গমিটার। এটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছিলো ৪বছর। প্রতিযোগিতার জুরি সদস্যরা জানান, স্থপতিদের সাহসী ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির স্বীকৃতিস্বরূপ এই ভবনটি এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হয়।

তারা জানান, “একটি অস্থায়ী অবস্থাকে একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী স্থাপত্য নিদর্শনে রূপান্তরিত করার এবং একটি পরিত্যক্ত শিল্প কমপ্লেক্সকে একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক অবকাঠামোতে সক্রিয় করে তোলার ক্ষমতার জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।”

তারা আরও বলেন, “ধারাবাহিক সুনির্দিষ্ট ও স্বল্প-বাজেটের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রকল্পটি স্থায়িত্ব ও পুনঃব্যবহারের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে এবং ধারাবাহিক নমনীয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থান তৈরি করে।”

Award
বেলজিয়ামের শারলেরোই প্যালে দে এক্সপোজিশনের ভেতরের বর্তমান অবস্থা। ছবি: dezeen.com

“প্রতিস্থাপনের পরিবর্তে, এটি সীমাবদ্ধতাকে গ্রহণ করে, ভবনটির অন্তর্নিহিত গুণাবলীর সাথে সংযোগ স্থাপন করে। শুধু তাই নয় সাহসী অথচ উদ্ভাবনী পদ্ধতি তৈরি করে স্থানটিকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন স্থপতিরা। এ প্রকল্পে স্থপতিরা স্বল্পতাকে সুযোগে এবং মেরামতকে একটি শক্তিশালী নকশা কৌশলে পরিণত করে।”

মিয়েস ভ্যান ডার রোহে পুরস্কারটি ইউরোপীয় কমিশন এবং ফান্ডাসিও মিয়েস ভ্যান ডার রোহের যৌথ উদ্যোগে প্রতি দুই বছর অন্তর এ পুরষ্কার প্রদান করা হয়। স্থাপত্য বিভাগে পাঁচটি চূড়ান্ত প্রতিযোগীর মধ্য থেকে শার্লেরোই প্যালে দে এক্সপোজিশনকে ২০২৬ সালের বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।

ভবনটি সংস্কার করতে স্টুডিওগুলো কেন্দ্রীয় হলের সম্মুখভাগে সরিয়ে একটি আচ্ছাদিত বহিরাঙ্গন তৈরি করেন স্থপতিরা। এর দক্ষিণ অংশকে একটি বহুতল গাড়ি পার্কিং-এ রূপান্তরিত করা হয়েছে।

মূল স্থাপত্য পুরস্কারের পাশাপাশি, এ বছরের উদীয়মান স্থাপত্য পুরস্কার বিজয়ীর নামও ঘোষণা করা হয়েছে। এই পুরস্কারটি জিতেছে স্লোভেনিয়ান ডিজাইনের একটি থিয়েটার, যার নকশা করেছে স্থাপত্য স্টুডিও ভিডিক গ্রোহার আরহিটেকটি।

ইউরোপের সেরা স্থাপত্য প্রকল্পগুলোকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য ১৯৮৮ সালে বার্সেলোনায় মিয়েস ভ্যান ডার রোহে পুরস্কারটি প্রবর্তিত হয়েছিল।

এ বছরের পুরস্কারের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছিল ফ্রান্সের আর্লেসে অবস্থিত অ্যাসেম্বল এবং বিসি আর্কিটেক্টস স্টুডিওর তৈরি একটি উনিশ শতকের ট্রেন ডিপো। বর্তমানে এটি  একটি ডিজাইন ল্যাবে রূপান্তরিত হয়েছে, এবং স্পেনে এইচ আর্কিটেক্টেস-এর একটি রেট্রোফিট ডেভেলপমেন্ট।

চিলির স্থপতি এবং ২০২৬ সালের প্রিৎজকার স্থাপত্য পুরস্কার বিজয়ী স্মিলিয়ান রাদিচের সভাপতিত্বকে এ বছরের জুরির সদস্যরা প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন এ বছর প্রতিটি প্রকল্পই “মানুষের জন্য অর্থবহ স্থান” তৈরি করেছে।

Related Posts

ইরানের প্রাচীন বিষ্ণু মন্দিরে ভারতীয় ঐতিহ্যের ছাপ

সম্প্রতি ভারতের কালজয়ী অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানের বন্দর আব্বাসে অবস্থিত ১৩৪ বছরের পুরনো একটি প্রাচীন…

মন্ট্রিলে বাড়ি বানাতে যত জটিলতা

মানুষ বাড়ছে, বাড়ছে জীবনের বৈচিত্রতা। মানুষের জন্য আবাসন বাড়ছে, বাড়ছে আবাসনেরও জটিলতা। কোথায় বানাবেন বাড়ি? প্রতিবেশির বাড়ির সাথে…

অন্ধকারে আলো হয়ে উঠা স্টকহোমের নতুন রেস্তোরাঁ ‘স্‌লুপোর্তেন’

ব্রিজ, ফ্লাইওভার জাতীয় নগর অবকাঠামোর নিচের অংশ সাধারণত মানুষের কাছে অনিরাপদ, অন্ধকার কিংবা অব্যবহৃত স্থান হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু…

মিলানের প্রযুক্তি নগরে এক আধ্যাত্মিক স্থাপত্য

বর্তমান বিশ্বে দ্রুতগতির নগরজীবন মানুষকে যেমন প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে নিচ্ছে, তেমনি তাকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্নও করে তুলছে আত্মজিজ্ঞাসা ও…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *