বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনার ক্ষেত্রে নির্মাণের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা উচিত

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলগত ডিজাইনের সঙ্গে শিক্ষার পরিবেশগত সম্পর্ক কতটুকু?

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলগত ডিজাইনের সঙ্গেই শিক্ষার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এর প্রভাব অনেক। কারণ, উচ্চতর শিক্ষা গবেষণা ও বাস্তব জ্ঞাননির্ভর। এসব বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ধরন অনুযায়ী প্রকৌশলগত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়। এই মাষ্টার প্ল্যানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক, একাডেমিক, আবাসিক, বিনোদন ইত্যাদি ভবন ও অবকাঠামোর স্বতন্ত্র ডিজাইন করা হয়। ভবন নির্মাণকৌশল, শিক্ষার্থীর আবাসিক হল, লাইব্রেরি, অডিটরিয়াম, ভাস্কর্য, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত প্রাঙ্গণসহ প্রতিটি বিষয়কেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক মান ও পরিবেশ বিবেচনা করেই মাস্টারপ্ল্যান প্রনয়ণ করা হয়। একটি ভবন থেকে আরেকটি ভবনের দূরত্ব, প্রতিটি কক্ষে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস প্রবেশ, বিশেষ ধরনের গবেষণাগার প্রভৃতি শিক্ষার সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করে। এগুলো যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে না থাকে, তাহলে শিক্ষার সঠিক পরিবেশ যেমন নিশ্চিত হবে না তেমনি মানও উন্নত হবে না। শিক্ষার্থীরা ডিগ্রী অর্জন করলেও বঞ্চিত হবে সঠিক শিক্ষা থেকে। এমনকি মনের সংকীর্নতাও দূর হবে না।

তা ছাড়া প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েরই স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন- আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী স্থাপত্যের রীতি অনুসরণ করে নির্মিত। প্রতিটি ভবনেও স্থাপত্যিক এ ছাপ লক্ষণীয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের সময়ই এটা যে ইসলামী স্থাপনা, তা অনুভব করা যাবে সহজেই। এরপর ভবনগুলো দেখলে তা আরও স্পষ্ট হবে। তেমনি বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, মেডিকেল প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধরন, সংস্কৃতি, মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা অনুযায়ীই তা ডিজাইন ও নির্মাণ করা হয়।

বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি পরিকল্পিতভাবে নির্মিত হয়েছে বা হচ্ছে?

সরকারিভাবে স্থাপিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেকটা পরিকল্পনামাফিক নির্মিত কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশেই তা মানা হচ্ছে না। বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বৈশিষ্ট্যগতভাবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক মিল আছে। কিন্তু বেসরকারিগুলোর নেই। একটি ভবনেই চলছে পুরো একটি বিশ্ববিদ্যালয়। খেলার মাঠ, বড় অডিটরিয়াম, উন্মুক্ত স্থান, সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছাড়াও কতগুলো আবশ্যিক বিষয় থাকে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য এসব বিষয় যদি তারা না পায় তাহলে ভালো শিক্ষা পাবে কীভাবে? তাই আমি মনে করি, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনার ক্ষেত্রে অন্তত মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ বজায় রেখে নির্মাণ করা উচিত।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবন, ভাস্কর্য ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে আপনাদের বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো সুপারিশ থাকে কি না, যদি থাকে তাহলে সরকারের তরফ থেকে তা কি মানা হয়?

যখন একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়, তখন তার মাষ্টার প্ল্যান ও আর্কিটেকচারাল, স্ট্রাকচারাল ডিজাইনের জন্য আমরা কনসালট্যান্ট আহ্বান করি। অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য কনসালট্যান্ট বা কনসালন্ট্যান্সি ফার্মকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন কীভাবে এবং কী ধরনের বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করে নির্মিত হবে, সে দিকনির্দেশনা আমরা বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই দিয়ে থাকি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও কতিপয় দিকনির্দেশনা রয়েছে। এসবের মধ্যে একাডেমিক ও অন্যান্য ভবন, শহীদ মিনার, ভাস্কর্য, উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ, প্রতিটি বিষয়ই উল্লেখ থাকে। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন অনেকটাই আলাদা ও স্বতন্ত্র। এখানে গবেষণাগার, একাডেমিক ভবন, শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি, আবাসিক হল ও ভবন প্রভৃতি কেমন হবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই ডিজাইনের ধারণা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার পর সব অবকাঠামোর নির্মাণ, মেরামত, বর্ধিতকরণ, সংরক্ষণ, সংস্কার ইত্যাদি কার্যক্রম আমাদের বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীদের দেখতে হয়। এগুলোর ডিজাইন, বাস্তবায়ন ও তদারকি করতে হয় আমাদেরকেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অবকাঠামো নির্মাণে মানসম্মত পণ্য, অভিজ্ঞ ঠিকাদার এবং দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয় কি? নিয়োগপ্রক্রিয়াই বা কেমন?

অবশ্যই! বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে মানের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সব ধরনের দরপত্র সবার জন্যই উন্মুক্ত। গতপূর্ত, সড়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রভৃতি বিভাগের কাজ যেসব অভিজ্ঞ ঠিকাদার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করে থাকে, তাদের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতাই মূলত নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায়। সে ক্ষেত্রে হয়তো ঢাকা বা বড় শহরের মতো প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আমরা পাই না, তবুও এলাকার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ঠিকাদারই নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নির্মাণকাজের মান যাচাইয়ে ও তদারকি করতে সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েরই সিভিল ও ইলেকট্রিক্যালের সমন্বয়ে নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারিং উইং থাকে। সমন্বিত এই প্রকৌশলী দল নির্মাণকাজের তদারকিসহ উদ্ভূত সমস্যা সমাধান করে মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের মান নিয়ন্ত্রনের জন্য একটি শক্তিশালী ভিজিলেন্স টিম রয়েছে। ফলে আমাদের নির্মাণ কাজের গুনগত মান স্ট্যাণ্ডার্ড ও গ্রহনযোগ্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে আপনাকে যেসব দায়িত্ব পালন করতে হয় সে সম্পর্কে যদি কিছু বলেন?

নির্মাণকাজ তো করতেই হয় কিন্তু তার পাশাপাশি ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজই প্রধান। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন উদ্ভূত সমস্যা সমাধান করতে হয়। যেমন- নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানির সেবা নিশ্চিত করতে হয়। ৪টি একাডেমিক ভবন, ৭টি আবাসিক হল, লাইব্রেরী, আবাসিক কোয়ার্টার, মসজিদ, অডিটরিয়াম, শিক্ষক ডরমেটরিসহ সবখানে সেবা দিতে হয়। এখানে বিদ্যুৎ প্রায়ই সমস্যা সৃষ্টি করে। এতগুলো হলে পানি ও বিদ্যুত সরবরাহ, বিশেষ করে ভর্তি পরীক্ষার সময় যখন ধারণক্ষমতার তিনগুণ শিক্ষার্থী অবস্থান করে, তখন তা আরও দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। দিন-রাত সজাগ থাকতে হয়। মাঝরাতেও সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হয়। এগুলোর কোনো হেরফের হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। তখন জেনারেটর সাপোর্ট দিতে হয়। এসব সুব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার কাজটি খুবই কঠিন।

টিইসি, টিওসি, পরিকল্পনা, ভিজিল্যান্স, বরাদ্দ কমিটি এর সক্রিয় সদস্য। এ ছাড়া ফাইন্যান্স ও সিন্ডিকেট সাপোর্টসহ বেশ কয়েকটি কমিটির সভায় উপস্থিত থেকে নীতিনির্ধারণ কাজে সহযোগীতা করতে হয়। দেশ-বিদেশের আগত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক দল, সংস্থাসহ সবাইকে সহযোগিতা করতে হয়। এ ছাড়া আবকাঠামো উন্নয়নের ডিপিপি প্রনয়নে এবং প্রকল্পসংক্রান্ত ব্যাপারে উন্নয়ন কতটা হলো, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে রিপোর্ট পাঠাতে হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে। যদিও মনে হয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মধ্যেই সীমিত প্রকৌশলগত কার্যক্রম। আসলে তা নয়, বরং এর ব্যাপ্তি বিশাল। এসব কাজের মধ্য দিয়েই আমাকে এগোতে হয়।

দায়িত্ব পালনকালে আপনি যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন তা কীভাবে সমাধান করেন?

হ্যাঁ, এমন অনেক সমস্যা আসে, যা সমাধান করতে হয়। বিশেষ করে কোনো প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বানের পর ও নির্মাণকালীন বিষয় নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের সঙ্গে জটিলতার সৃষ্টি হয়। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়টি কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ উভয় জেলাধীন, তাই ঠিকাদার নির্বাচনজনিত সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। নির্মাণকালীন প্রায়ই ঠিকাদারদের সঙ্গে নির্মাণশ্রমিকদের ঝামেলা বাধেঁ। সে সময় শ্রমিকদের ও ঠিকাদারদের বুঝিয়ে আবারও কাজে রাজি করানো এবং কাজ নিরবচ্ছিন্ন রাখাও বেশ চ্যালেঞ্জিং। সব জাতীয় অনুষ্ঠান, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, নবীনবরণসহ শিক্ষার্থীদের নানা অনুষ্ঠান যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য কোনো সমস্যার যেন সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক থাকতে হয়।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আধুনিক করে গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হয়। শিক্ষার্থীদের অনেক দাবি থাকে। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায় না। সরকারের কাছে আমাদের চাহিদার কথা জানালেও তার সবকিছু পাস হয় না। তারপরও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হয়। 

বিরাজমান এসব সমস্যা সমাধানে এবং প্রকৌশলকাজের মান উন্নয়নে সরকারের কাছে আপনার সুপারিশ ও দাবিসমূহ কী?

আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যেসব সুপারিশ পাঠাই, তা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে পাঠাতে হয়। তারা এগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করে। এ প্রক্রিয়ায় চলে আমাদের কার্যক্রম। আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো ধাচের অরগানোগ্রামে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য আমাদের প্রয়োজনগুলো সরেজমিনে উপলব্ধি করে ডিজিটাল ধারণা নিয়ে অরগানোগ্রাম বানাতে হবে। একসময় এ বিশ্ববিদ্যালয়  সম্পূর্ণ আবাসিক ধারনায় স্থাপিত হয়েছিল। অথচ এখন অধিকাংশ শিক্ষার্থীরই আবাসন-সুবিধা নেই, এমনকি শিক্ষকদেরও সে সুবিধা অত্যন্ত অপ্রতুল। এ ধরনের সমস্যায় উভয়ের পক্ষেই শিক্ষা কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়ে। এ জন্য সমস্যাটির আশু সমাধান প্রয়োজন। উন্নত গবেষণা ও শিক্ষার স্বার্থে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল লাইব্রেরি। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজধানী থেকে দূরবর্তী এলাকায় অবস্থিত, তাই অনেক সুবিধাই এখানে পাওয়া যায় না। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ওয়াই-ফাই জোনের আওতায় আনতে। একাডেমিকের পাশাপাশি আবাসিক সুবিধা বাড়াতে সরকারের কাছে আমাদের প্রস্তাবনাও রয়েছে। এসব বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উন্নত ও আধুনিক করতে সরকারের শুভদৃষ্টি একান্ত কাম্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রধান প্রকৌশলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর পদে থাকায় আপনার অনুভূতি কেমন?

২০০২ সাল থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ১৯৯৬ সালে প্রথম নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর উপ-প্রধান প্রকৌশলী এবং পরে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পাই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের সূচনা থেকেই আমি প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। এ প্রতিষ্ঠানের অনেক অবকাঠামোই আমার তত্ত্বাবধানে নির্মিত। এই ক্যাম্পাসকে নান্দনিক রূপ দিতে আমি আমার অভিজ্ঞতা, সীমিত জ্ঞান ও শ্রম দিয়ে তিলে তিলে গড়ে তুলেছি শহীদ মিনার, ভাস্কর্য, জিমনেশিয়াম, আন্তর্জাতিক মানের অডিটরিয়াম, একাডেমিক ভবনসহ নানামাত্রিক অবকাঠামো। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রকৌশলী হতে পারার অনুভূতি চমৎকার একই সঙ্গে গর্বের। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পদে থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও ভাগ্যবান। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তথা উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। সুদীর্ঘ ২৫ বছর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত। এটাও অত্যন্ত সৌভাগ্যের ব্যাপার। কুষ্টিয়ার এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়টি দেখবেন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় সবকিছু গোছানো ও ছিমছাম।

আপনাকে ধন্যবাদ।

তোমাকেসহ বন্ধন-এর সবাইকে ধন্যবাদ।

প্রকাশকাল: বন্ধন ৫৮তম সংখ্যা, ফেব্রুয়ারি ২০১৫

মো. মকবুল হোসেন
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top