House Kala

চাঁদের আলোয় ভেসে উঠা হাউস কালা

স্থাপত্যকলায় বাড়ছে জৌলুস। কোথাও উপকরণের বৈচিত্রতা আবার কোথাও পরিকল্পনার ব্যাপকতা। সব মিলে আধুনিক বাড়িগুলো হয়ে উঠছে স্বাপ্নিক। এমনই এক স্বপ্নের বাড়ি হাউস কালা। হাউসটি ইন্দোনেশিয়ার লম্বক দ্বীপের মালিম্বু হিলস এলাকায় অবস্থিত, যা গিলি দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি। দ্বীপের একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত হাউসটি, যেখান থেকে সমুদ্র এবং চারপাশের বনের প্রায় ৩৬০-ডিগ্রি দৃশ্য দেখা যায়।

ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপান্তরের এই বাড়িটি সম্প্রতি সবার নজর কেড়েছে। একই বাড়ি থেকে ৩৬০ ডিগ্রিতে সমুদ্রের দৃশ্য দেখার মতো এমন বাড়ি সত্যিই বিরল। স্থানীয় স্থাপত্য সংস্থা কারেসেস + তুস চমৎকার নান্দনিক এই বাড়িটি নির্মাণ করেছে।

হাউস কালা নামের এই বাড়িটি নির্মাণের উদ্দেশ্য হলো বাড়ির মালিকের অবকাশ যাপন। অথচ এর নান্দনিকতা এতই সুন্দর এখন তা পর্যটকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বাড়িটি গোলাকার একটি স্তম্ভের উপর নির্মিত। বাইরের দেয়ালে রয়েছে অসংখ্য ছোট বড় পাথরের গাঁথুনি যা দেখতে টেরাকোটার মতো মনে হয়।  

House Kala
কাঁচের দেয়ালে ঘেরা বসার ঘর। ছবি : ডিজেইন

এই বাড়িটির সামনের অংশ মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত কাঁচের বাকানো দেয়ালে আবদ্ধ। এ দেয়ালে কান পাতলেই শোনা যায় সাগরের তেড়ে আসা গর্জন। তবে ভেতরের অন্দর একেবারে বিপরীত যা আবদ্ধ এবং শুনশান নীরবতার চাদরে মোড়া। পাথুরে এই ছোট্ট দ্বীপের নির্বাচিত জমির গঠনের সাথেই বাড়ির নকশাটি সমান্তরাল।  

বাইরের পরিধি চারপাশের দৃশ্যের জন্য সারাক্ষণ উন্মুক্ত থাকে। যতক্ষণ সূর্য থাকে আকাশে ততক্ষণ সূর্য যেন এই বাড়িটিকেই প্রদক্ষিণ করে আর ভেতরে খেলা করে আলো-আধারী। বাড়িটির ভেতর যেন তখন এক অভয়ারণ্য।  

হাউস কালা-র স্থাপনিক বিন্যাস বাইরের দৃশ্যের কথা মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে। এর সবচেয়ে উন্মুক্ত অংশে একটি বড়, অর্ধবৃত্তাকার বসার ঘর আছে। এছাড়া খাবার ঘর এবং রান্নাঘরতো রয়েছেই। এ বাড়ির রান্নাঘর থেকেও দেখা যায় শেষ বিকেলের সূর্যাস্ত।

মোটা টেরাকোটা রঙের স্তম্ভ দ্বারা বেষ্টিত কাঁচের দরজাগুলো এই স্থানটিকে একটি টেরেসের দিকে উন্মুক্ত করে দেয়। এখানে রয়েছে একটি আলংকারিক অগভীর ইনফিনিটি পুল এবং একটি সাধারণ সুইমিং পুল।  

House Kala
বাড়ির ভেতরের গোলাকার প্রাঙ্গন। ছবি : ডিজেইন

অপরদিকে উত্তর-পূর্বের শয়নকক্ষগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে ভোরের সূর্যোদয়ও দেখা যায় এই ঘরগুলো থেকে। এর বিপরীতে একটি গেমস রুম এবং সিনেমা হল রয়েছে বিনোদনের জন্য। বাড়ির সমস্ত স্থানকে সংযুক্ত করেছে একটি বৃত্তাকার করিডোর যা অন্দরমহলকে ঘিরে রেখেছে একটি বাঁকানো দেয়াল।

অন্দরে প্রবেশের পথটি রাখা হয়েছে বাঁকানো। এ পথের পাশেই আছে সুইমিংপুল যাতে ধরে রাখা হয় বৃষ্টির পানি। এই বৃত্তাকার খোলা অংশগুলো বাড়ির সর্বত্রই বিস্তৃত। শোবার ঘর এবং লাউঞ্জের বসার জায়গার উপরে কাঁচের স্কাইলাইট রয়েছে। সে কারণেই গভীর রাতে চাঁদের আলোয় ভাসে দ্বীপান্তরের হাউস কালা।

হাউস কালা-র ভেতরের বেশিরভাগ অংশকে রঙিন করা হয়েছে টেরাকোটার রঙে। দেয়ালগুলোর সাথে চমৎকারভাবে মানিয়ে গেছে ছাদ ও শোবার ঘরের দেয়ালে করা গাঢ় রঙের কাঠের কারপেন্ট্রি। টেরাজো মেঝে এবং কালো অ্যালুমিনিয়ামের জানালার ফ্রেমও একই মিলে তৈরি করা হয়েছে।

অবকাশ যাপনে হাউজ কালা সত্যিই যেনো এক স্বপ্নের বাড়ি। নির্মাতাদের চিন্তা ও সৃজনশীলতায় নির্মিত স্বপ্নের এই বাড়িটি ভবিষ্যতের স্থাপত্যকলার এক দারুণ অনুপ্রেরণাদায়ী স্থাপত্য।

Related Posts

ভবিষ্যতের ৮টি স্টেডিয়াম যা প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে

সময়ের সাথে সাথে সবই বদলাচ্ছে। বদলাচ্ছে স্টেডিয়ামের গঠনশৈলীতে। স্টেডিয়ামগুলো এখন আর শুধু ম্যাচের দিনের জন্য ডিজাইন করা হচ্ছে…

নুহাশ পল্লী: হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের সবুজ রাজ্য

নুহাশ পল্লী বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র এবং কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এর স্বপ্নে গড়ে ওঠা একটি অনন্য সবুজ…

গ্রামীণ অবকাশ যাপনে কটেজের ইন্টেরিয় কেমন হওয়া উচিত?

ঘরের পরিবেশ আমাদের শান্ত রাখে, অশান্ত করে তোলে কখনো সংগঠিত হতেও সাহায্য করে। বলছি আমাদের মনের উপর ঘরের…

ঢাকা: এক অবিরাম অন্তবিস্ফোরণ

অ্যারন বেটস্কি ফিলাডেলফিয়ার একজন সমালোচক ও শিক্ষক। এর আগে তিনি ভার্জিনিয়া টেকের স্কুল অফ আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইনের অধ্যাপক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *