মো. কায়কোবাদ হোসেনের জন্ম ১৯৫৮ সালে ৩১ ডিসেম্বর নরসিংদীতে। বাবা মরহুম মকবুল হোসেন মিয়া আর মা মরহুম রাবেয়া খাতুন। নরসিংদী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে মাধ্যমিক ও নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে ১৯৭৭ সালে উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন। উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর ১৯৮০ সালে ভূগোল বিষয়ে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৮২ সালে বিসিএস দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। চাকরির বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত। কাজ করছেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে। নিতান্ত সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত সদালাপি এ মানুষটি মুখোমুখি হয়েছিলেন বন্ধন-এর। আলাপচারিতায় ছিলেন ম. শাফিউল আল ইমরান
যা যা থাকছে …
ঢাকার পরিবহনব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাই?
ঢাকার পরিবহনব্যবস্থা মূলত যানজটনির্ভর। যানজটের কারণে সামগ্রিক পরিবহনব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই পরিবহনব্যবস্থা সুষ্ঠু পর্যায়ে আনার জন্য সরকার প্ল্যান অনুযায়ী স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এই প্ল্যানের আওতায় ৭৪টি প্রকল্প চলছে। এই প্ল্যান অনুযায়ী কোথায় কোথায় ফ্লাইওভার হবে এবং কোথায় সেটার বাস্তবায়ন হবে, এটা উল্লেখ করা রয়েছে। এ ছাড়া আছে ছয়টি মেগা প্রজেক্ট। এর মধ্যে এমআরটি (মাস র্যাপিড ট্রানজিট) আর বিআরটি (বাস র্যাপিড ট্রানজিট) অন্যতম। যাতে অতি অল্প সময়ে অধিকসংখ্যক যাত্রীকে দ্রুতগতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া যায়। এর মধ্যে এমআরটি-৬-এর আওতায় উত্তরা থেকে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত মেট্রোরেলের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এমআরটি-৬-এর মাধ্যমে প্রতিঘণ্টায় ৬০ হাজার মানুষ আনা-নেওয়া করা যাবে। যখন এভাবে অধিকসংখ্যক যাত্রী ট্রানজিট করা যাবে, তখন যারা বাস, মাইক্রোবাস অথবা প্রাইভেটকারে চড়ে যাতায়াত করে, তাদের এসব যানবাহনে যাতায়াত কমে যাবে। এটি কার্যকর হলে উত্তরা থেকে ৩২ মিনিটে বাংলাদেশ ব্যাংকে আসতে পারবে হাজার হাজার যাত্রী। স্বাভাবিকভাবে যারা রাজধানীর বাণিজ্যকেন্দ্র মতিঝিলে আসতে চায়, তাদের যাতায়াতে অনেক সুবিধা হবে। এই পরিবহনব্যবস্থা চালু হলে ঢাকার পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে।
কবে নাগাদ এই পরিবহনব্যবস্থা চালু হবে? না এটা পরিকল্পনাধীনই আছে?
অবশ্যই এটা পরিকল্পনাধীন। ২০০৪ সালে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় একটি রিচার্স প্রজেক্ট ছিল, যেটাকে আমরা এসটিপি (স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান) বলছি। এটি ২০ বছর মেয়াদি। ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। এই এসটিপিতেই বলা আছে, যানজট নিরসনে আমাদের কী করতে হবে। আর এই এসটিপির মাধ্যমেই আমরা মেট্রোরেলব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছি এবং ২০১৯ সালের মেট্রোরেলব্যবস্থা চালু করতে পারব বলে আশা রাখি।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) নগরের পরিবহন ব্যবস্থাপনায় কী ভূমিকা রাখছে?
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, গাজীপুর সিটি করপোারেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলা নিয়ে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) গঠিত। বর্তমানে এ কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকার আয়তন ৭,৪০০ বর্গকিলোমিটার। ডিটিসিএর আওতাভুক্ত এলাকার পরিবহনসংশ্লিষ্ট সব উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুমোদন, সমন্বয় ও পরিবীক্ষণ করে সংস্থাটি।
মেট্রোরেল নির্মাণকাজের অগ্রগতি কতটুকু?
ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনে ২১,৯৮৫.০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিসেম্বর, ২০১২ মাসে উত্তরা-বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এমআরটি লাইন-৬ (মেট্রোরেল) নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম দ্রুতগতি ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গণপরিবহনব্যবস্থা। এ গণপরিবহনে প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে। শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) মেট্রোরেল পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৩১-১০-২০১৩ তারিখে এমআরটি লাইন-৬ বা মেট্রোরেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
মেট্রোরেলের ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন ও প্রকিউরমেন্ট ওয়ার্কের জন্য গত ১৯-১১-২০১৩ তারিখ জেনারেল কনস্যালট্যান্ট (জিসি) নিয়োগ করা হয়েছে। ০৬-০৫-২০১৪ তারিখ থেকে রুট এল্যিাগমেন্ট-এর ট্রপোগ্রাফিক সার্ভে, ২০-০৫-২০১৪ তারিখ থেকে ট্রাফিক সার্ভে এবং ১১-০৬-২০১৪ তারিখ থেকে জিওটেকনিক্যাল সার্ভে শুরু হয়েছে।
ইনস্টিটিউশন ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্ট (আইডিসি) নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব ১৫-০৬-২০১৪ তারিখে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে রিসেটেলমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট কনসালট্যান্ট (আরএসি) নিয়োগের নিমিত্তে সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৬-০৬-২০১৪ তারিখ থেকে নেগোশিয়েশন চলছে। মেট্রোরেলের ডিপো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ২২ হেক্টর ভূমি ইতিমধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) লাইন-৩-এর অগ্রগতি ও স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) বিষয়ে কিছু বলুন?
হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঝিলমিল পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি লাইন-৩ প্রকল্পের রুট সমীক্ষা ও প্রাথমিক নকশা চ‚ড়ান্ত করা হয়েছে। এ গণপরিবহনে উভয় দিকে প্রতিঘণ্টায় ৩০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে। প্রকল্পের ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন পরামর্শক নভেম্বর, ২০১৩ নিয়োগ করা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বিআরটি অপারেশনাল প্ল্যান এবং সার্ভে রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
বিআরটি লাইন-৩ নির্মাণের অর্থায়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের প্রি-আইডেনটিফিকেশন মিশন গত ১০-১৪ মার্চ, ২০১৪ তারিখে ঢাকা সফর করে এবং অর্থায়নের প্রাথমিক সম্মতি জ্ঞাপন করে।
স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি)
ডিটিসিবির অধীনে ২০০৫ সালে ২০ বছর মেয়াদি স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে ডিটিসিএর অধিক্ষেত্র বৃদ্ধি পাওয়ায়, দ্রুত নগরায়ণ, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) রিভিশন করা প্রয়োজন। দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তায় স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) সংশোধনের লক্ষ্যে ১ মে ২০১৪ তারিখ থেকে কাজ শুরু হয়েছে। আগামী অক্টোবর ২০১৫ সালে রিভাইজ এসটিপির কাজ সম্পন্ন হবে।
ক্লিয়ারিং হাউস
স্মার্ট কার্ড দিয়ে একই টিকিটে বিভিন্ন পরিবহনে স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে যাতায়াতের লক্ষ্যে দাতা সংস্থার সহায়তায় ই-টিকেটিংয়ের জন্য ডিটিসিএতে ক্লিয়ারিং হাউস প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম ২০ মে, ২০১৪ থেকে শুরু হয়েছে।
নগরে গণপরিবহনের তীব্র সংকটের কারণ কী? এ থেকে উত্তরণের উপায় কী?
যানজটসহ লাভবান খাত না হওয়ায় পরিবহন মালিক বা অন্য কোনো উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ পান না। উত্তরা থেকে প্রিমিয়াম ব্যাংকের এসি বাস ছিল, যা নষ্ট হয়ে গেছে। একমাত্র উত্তরার এ সংকট নিরসনে বাস র্যাপিট ট্রানজিট এবং মাস র্যাপিট ট্রানজিট চালু করতে হবে। পাশাপাশি শহরের ফ্লাইওভারের চলমান কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।
জনদুর্ভোগ লাঘবে পর্যাপ্ত বাস, ট্যাক্সি, রিকশা চালু ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে আপনাদের গৃহীত কার্যক্রম কী কী?
আমি আগেই বলেছি, জনদুর্ভোগ লাঘবে মাস র্যাপিড ট্রানজিটে বাস এবং মেট্রোরেলব্যবস্থা চালু হলে নিশ্চিতভাবে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে। সেক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত হয়রানিমূলক ভাড়া আদায়ও বন্ধ হবে। সময়মতো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোা যাবে। ফলে যাত্রীরা যেমন নির্দিষ্ট গন্তব্যে সময়মতো পৌঁছাতে পারবে, তেমনি অহেতুক হয়রানির হাত থেকেও রেহাই পাবে। আমরা উন্নত দেশে দেখেছি, কাউকে অ্যাসাইনমেন্ট দিলে বলত, কত দূর অর্থাৎ কতক্ষণ লাগবে? সেটা তারা হিসাব করত ড্রাইভ আওয়ার হিসেবে। কিন্তু আমরা ঢাকা শহরকে এখনো সে জায়গায় নিতে পারিনি। তবে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে আপনারা এখন কী করছেন?
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ তথা আমরা এমআরটি-৬ করছি, বিআরটি করছি। আমাদের যে এসটিপি আছে, এই এসটিপি বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
যোগাযোগ ক্ষেত্রে আপনারা যে কাজগুলো করছেন, সে কাজের বাস্তবায়ন কত দূর? এর ফলে কি সমস্যা লাঘব হবে?
সমস্যা লাঘবের চেষ্টা করছি আমরা। এ জন্য উত্তরা থেকে যে এমআরটি-৬ করা হচ্ছে, তা উত্তরা থেকে ২০ কিলোমিটারের অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত আসবে। তখন এই পথের যাত্রীদুর্ভোগ লাঘব হবে। আমাদের আরও এমআরটি আসছে। যত তাড়াতাড়ি আমাদের মেগা প্রজেক্টগুলোর বাস্তবায়ন ঘটবে তত তাড়াতাড়ি যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে।
ঢাকা মহানগরের যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়নে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, কয়েকটি ফ্লাইওভার নির্মাণাধীন। ঢাকার যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়নে গৃহীত চলমান এসব পদক্ষেপের অগ্রগতি কতটুকু? এর কার্যকারিতাই বা কী?
এখানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেলসহ যে কয়েকটার কথা বলছেন, তার মধ্যে মেট্রোরেলের বাস্তবায়ন ঘটবে ২০১৯ সালে। আর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ এ মাসেই শুরু হবে। কেননা আমাদের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। এ কাজটি করছে বাংলাদেশ সেতু বিভাগ। তাদের প্ল্যানিং শেষে কাজটি এখন বাস্তবায়নের পথে। আর ফ্লাইওভারগুলোর কথা যদি বলতে হয়, সেগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করছে। কোনোটা রাজউক করছে আবার কোনোটা করছে সেতু বিভাগ। এমন সব কাজের ফাইনাল ডিজাইন দেওয়া আছে এখন শুধু কাজ শুরু করলেই হয়। এসব কাজ বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন ঢাকার যানজট কমবে, তেমনি জনগণের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে। আর এ কাজের জন্য আমরা এসটিপির রিভাইস জোন করছি। ২০০৯ সালে এসটিপি অনুমোদন হওয়ার পর ২০১২ সালে মেট্রোরেলের কাজ শুরু হয়। ঢাকার বর্তমান অবস্থার আরও উন্নতির জন্য কাজ করছে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা। যেমন- জাইকা, এডিবির মতো প্রতিষ্ঠান। এ কাজগুলো সাধারণত ২০১৫ সাল নাগাদ এসটিপি আওতায় শুরু হবে। আর নগরের পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নে গৃহীত মেগা প্রজেক্টগুলো যত তাড়াতাড়ি বাস্তবায়িত হবে নগরবাসী তত তাড়াতাড়ি এর সুফল পাবে।
আপনারা যে নতুন এমআরটি করছেন, এটা কি পাইলট প্রজেক্ট? সরাসরি জনগণ কি এর সুবিধা পাবে?
না, না। এটা কোনো পাইলট প্রজেক্ট নয়। এটা বাস্তবায়ন হচ্ছে মেগা প্রজেক্ট হিসেবে। ২২ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট এটি।
নগরের প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ করতে আপনারা কতটুকু উদ্যোগী। এর বদলে সাইকেলে চলাচলের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে আপনাদের কোনো প্রয়াস আছে কি?
ব্যাপারটি যদিও বিআরটিসির, তবুও আমাদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস সংগ্রহের কাজ চলছে। যদি পর্যাপ্ত বাস নগরে যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত হয়, তবে মানুষ বাস ছাড়া প্রাইভেটকারে যাতায়াতে নিরুৎসাহিত হবে।
লাগামহীনভাবে নগরে যানজট বেড়ে চলেছে। যানজট হ্রাসে গণপরিবহনব্যবস্থাকে কার্যকর করতে আপনাদের নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপসমূহ কী কী?
আমি আগেই বলেছি, লাগামহীনভাবে বাড়া যানজটে নগরবাসীর যে দুর্ভোগ বাড়ছে তা নিরসনে আমাদের এসটিপিতে মেগা প্রজেক্টের কথা বলে আছে। এগুলোর বাস্তবায়ন হলেই এই সমস্যার সমাধান হবে। এই প্রজেক্টের আওতায় মাস র্যাপিট ট্রানজিট (এমআরটি) আর বাস র্যাপিট ট্রানজিট (বিআরটি) চালু হলেই এই সমস্যা দূর হবে। এ ক্ষেত্রে যে মেট্রোট্রেনের কথা বলা আছে, সেই মেট্রোট্রেন আমাদের আরও লাগবে। এমআরটি-৬-এর মাধ্যমে আমরা ঘণ্টায় ৬০ হাজার লোককে যাতায়াত করাতে পারব। এই ট্রেনের মতোই পাঁচ-ছয়টি ট্রেন লাগবে ঢাকা শহরে। মোটামুটি এই ট্রেনটি চলবে উত্তরা-পল্লবী-মিরপুর-১০-রোকেয়া সরণি-খামারবাড়ি-ফার্মগেট-সোনারগাঁও-শেরাটন- টিএসসি-প্রেসক্লাব হয়ে মতিঝিল (বাংলাদেশ ব্যাংক) পর্যন্ত।
নগর গণপরিবহনে ফ্লাইওভার না সমন্বিত গণপরিবহনব্যবস্থার প্রয়োজন? আপনি কী মনে করেন?
আমি সব সময় বলে আসছি, ফ্লাইওভার কোনো সমস্যার সমাধান না। সমাধান হলো মাস র্যাপিট ট্রানজিট (এমআরটি) আর বাস র্যাপিট ট্রানজিট (বিআরটি)। এগুলো চালু হলেই সমস্যার সমাধান হবে।
কেমন দেখতে চান আগামী দিনের ঢাকার পরিবহনব্যবস্থা?
আমি মূলত ঢাকা শহরের পরিবহনব্যবস্থাকে উন্নত দেশের পরিবহনব্যবস্থার মতো দেখতে চাই। যেখানে মানুষজন নিশ্চিত মনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারবে। আমি পেশাগতভাবে পৃথিবীর অনেক দেশে গিয়েছি। সেখানে গিয়ে জানার চেষ্টা করেছি কীভাবে পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন করা যায়। আমিও চাই আমাদের দেশের পরিবহনব্যবস্থা উন্নত দেশের মতো হোক। এ ক্ষেত্রে যদি এমআরটি আর বিআরটি যদি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তবে উন্নত দেশের যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থার কোনো পার্থক্য থাকবে না। একদিন এ শহরকে দেখে চমকে উঠবে দেশি-বিদেশিরা।
প্রকাশকাল: বন্ধন ৫৫ তম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৪