গৃহসজ্জায় মেঝের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পুরো ঘরের মেঝে একই রকম হতে হবে এমন ধারণার চল এখন আর নেই। সাধারণত বসার ঘরের মেঝে একটু গর্জিয়াস হলে শোবার ঘরের মেঝে হয় তুলনামূলক ছিমছাম। বর্তমানে অন্দরসজ্জায় মেঝের নান্দনিকতা বিশেষ এক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। ঘরকে সাজিয়ে তুলতে আমরা নানা ধরনের প্রযুক্তি ও ম্যাটারিয়ালের শরণাপন্ন হই। যার মধ্যে কাঠের মেঝে বা উডেন ফ্লোর উল্লেখের দাবি রাখে। বাসাবাড়ি থেকে এখন অফিসের মেঝেতেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে ফ্লোরবোর্ড।
পৃথিবীর অনেক দেশেই কাঠের ব্যবহারের আধিক্য দেখা যায়। ঘরের অন্দরসজ্জায় আভিজাত্য ও ব্যতিক্রমী ভাব ফুটিয়ে তুলতে স্বল্প পরিসরে হলেও কাঠের মেঝে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। গৃহসজ্জার এই অনুষঙ্গটি সম্পর্কে ফারজানা’স ব্লিসের স্বত্বাধিকারী ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ফারজানা গাজী বলেন, ঐতিহ্য বা আভিজাত্য ধরে রাখার কথা চিন্তা করে নয় বরং আধুনিকতা ও সময়ের দাবি মেনে ঘরের সাজে কাঠের মেঝে ব্যবহার করা যায়। এতে ঘরে যেমন আধুনিকতা ফুটে ওঠে, তেমনি রক্ষা পায় ঐতিহ্যও। কাঠের মেঝের ব্যবহার সাধারণত শীতপ্রধান দেশে বেশি লক্ষণীয়, কাঠের মেঝে শীতের দিনে যেমন উষ্ণ রাখে তেমনি গরমের দিনে ঘরের তাপমাত্রা রাখে স্বাভাবিক। তিনি আরও জানান, এ সময়ে গৃহের অনিন্দ্যসুন্দর সজ্জার জন্য কাঠের মেঝে দারুণ উপযোগী। এটি ব্যবহারে ঘরের সৌন্দর্য বাড়ে বহুলাংশে।
কাঠের মেঝে বেশির ভাগ সময় ব্যবহৃত হয় বসার ঘরে। আপনি চাইলে শোবার ঘর কিংবা ফ্যামিলি লিভিংরুমেও কাঠের মেঝে ব্যবহার করতে পারেন। অনেক সময় ঘরের নান্দনিকতা বাড়াতে শোবার জায়গাটি মেঝে থেকে চার থেকে পাঁচ ইঞ্চি উঁচু করে খাটের মতো আকার দেওয়া হয়। তবে খাবার ঘরে কাঠের মেঝে ব্যবহার না করাই উত্তম। কারণ খাবারঘরে পানির ব্যবহার হয় বেশি, যা কাঠের মেঝের জন্য ক্ষতিকর। যে ঘরে কাঠের মেঝে ব্যবহার করবেন, তার ফার্নিচার নির্বাচনে সচেতন থাকুন। কাঠের মেঝে ব্যবহারে ঘর অনেক বড় দেখায়। তাই ওই ঘরে বেশি নকশা করা জাঁকজমকপূর্ণ ফার্নিচার ব্যবহার না করে খুবই সাদামাটা ফার্নিচার ব্যবহার করুন। এতে নান্দনিক অন্দরসজ্জার পাশাপাশি ঘরের সাজেও যুক্ত হয় বাড়তি মাত্রা। অনেক সময় দেখা যায় গান করে কিংবা বাদ্যযন্ত্র বাজায় তাদের অনুশীলনের জন্য, সাধারণ মেঝে থেকে একটু উঁচু করে তৈরি করা হয় অনুশীলনের জায়গা। আর এ জন্য কাঠই প্রাধান্য পায় সবার আগে। কাঠের মেঝে সাধারণত সলিড কাঠ ও কাঠের টাইলস দুই ধরনের হয়। আপনি চাইলে দুই ধরনের কাঠের মেঝেই ব্যবহার করতে পারেন। আবার কাঠের টাইলস ব্যবহারের সময় এর সঙ্গে সিরামিকের টাইলস ব্যবহার করে মেঝেতে বৈচিত্র্য আনতে পারেন, যা ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ।
কাঠের মেঝে তৈরিতে কাঠ সাধারণত বাইরের দেশ থেকে আনা হয়। এ ক্ষেত্রে ওক কাঠের ব্যবহার বেশি। এ ছাড়া কেরোসিন, সেগুন ও মেহগনি গাছের কাঠ দিয়েও কাঠের মেঝে তৈরি করা যায়। তবে সেগুন ও মেহগনি কাঠ দিয়ে কাঠের মেঝে তৈরি করা ব্যয়সাপেক্ষ। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ইন্টেরিয়র হাউসসহ পিভিসি সরঞ্জাম বিক্রির দোকানে কাঠের মেঝে দেখা যায়। নিও কিং, ইন্টেরিয়র পয়েন্ট, নূর ইন্টেরিয়র, তামান্না ইন্টেরিয়র, ফারজানা’স ব্লিসের মতো ইন্টেরিয়র হাউসের মেঝে কাঠের তৈরি।
ব্যয়সাপেক্ষ হওয়ায় অনেকের পক্ষেই কাঠের মেঝে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। আবার কাঠের মেঝের জন্য গাছ কাটা হয় বলে অনেকেই পরিবেশের কথা চিন্তা করে কাঠের মেঝে ব্যবহারে অনাগ্রহী। চাইলে এ ক্ষেত্রে কাঠের টেকচার দেওয়া পিভিসি মেঝে ব্যবহার করা যায়। এটির দাম কাঠের মেঝের তুলনায় কম। এটি পুরোপুরি কাঠের মেঝের আবহ তৈরি করে বলে অনেকেই ঘরের সাজে পিভিসি মেঝে ব্যবহার করে থাকে।
পাবেন যেখানে
রাজধানীর হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার, মিরপুর-১, মিরপুর-১০ গ্রিনরোড, গুলশান, মহাখালী, উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন সিরামিকের দোকানে কাঠের মেঝে পাওয়া যায়।
দরদাম
মান ও ধরন অনুযায়ী কাঠের মেঝের দাম পড়বে প্রতি বর্গফিট ২৩০ থেকে ৩৮০ টাকা। স্ট্যান্ডার্ড সাইজ ১৫-১২ ফুটের একটি রুমের মেঝে কাঠ দিয়ে ঢাকতে খরচ পড়বে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।
যত্ন নেবেন যেভাবে
কাঠের মেঝে প্রথমে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। এরপর লিকুইড উড ফ্লোর ক্লিনার লাগান। কয়েক মিনিট রেখে শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।
ভিনেগার ও পানি একসঙ্গে মিশিয়ে ফ্লোর ক্লিনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। মিশ্রণটি তোয়ালে বা স্পঞ্জে ভিজিয়ে নিংড়ে নিয়ে মেঝে পরিষ্কার করুন। উডেন ফ্লোরে সরাসরি মিশ্রণটি ব্যবহার করবেন না।
কাঠের মেঝে ব্যবহারে একটু কষ্ট সহ্য করতে হয়। নিয়ম মেনে মেঝে পরিষ্কার রাখুন। খেয়াল রাখুন কাঠের মেঝেতে যেন পানি পড়তে বা জমতে না পারে। অথবা এতে কোনো আঁচড় বা দাগ না পড়ে।
শামস আহমেদ
প্রকাশকাল: বন্ধন ৫২ তম সংখ্যা, আগস্ট ২০১৪