জীবনধারণে প্রয়োজন বিশুদ্ধ পানির। পানি হলো প্রাণীর জীবনীশক্তি। আমাদের যাপিত দৈনন্দিন জীবনধারায় পানির রয়েছে গভীর প্রভাব। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ঘুমোতে যাওয়া অবধি আমাদের প্রয়োজন পানি। কলকারখানার কর্মযজ্ঞ পরিচালনায় দরকার পানি। পানির প্রয়োজনেই পানির উৎসের কাছাকাছি বসতি স্থাপন করত মানুষ। আগে পানির প্রধান উৎস ছিল নদী-ঝরনা। এখনো এ দেশের আদিবাসীরা তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে ঝরনার পানি ব্যবহার। এ সময়ে যেকোনো স্থাপনায় গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক একই রকম গুরুত্বপূর্ণ পানির সংযোগ। আর পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করে নগরবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করছে ঢাকা ওয়াসা, যার যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র ৩০টি নলকূপ নিয়ে। এরপর পেরিয়েছে ৫০টি বছর। অর্ধশতাব্দীর এ পথ পরিক্রমায় ঢাকা ওয়াসা আজ এক শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। নারায়ণগঞ্জ থেকে মিরপুর, লালবাগ থেকে উত্তরা পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে এর কর্ম পরিসর। বর্তমানে নগরের দেড় কোটি নাগরিকের প্রতিদিনের পানির চাহিদা মেটাচ্ছে সংস্থাটি। পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ সিস্টেম, স্যুয়ারেজ সিস্টেম ব্যবস্থাপনার মতো জীবন সম্পৃক্ত অপরিহার্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইতিহাসের পাতায়
ইস্ট পাকিস্তান অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে ১৯৬৩ সালে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় সাড়ে আট লাখ মানুষের জন্য গঠন করা হয় ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ। এরপর দিন দিন বেড়েছে শহরের বাসিন্দার সংখ্যা। বর্তমানে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা সোয়া কোটিরও অধিক। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পার্শ্ববর্তী শহর নারায়ণগঞ্জ। বেড়েছে পানির চাহিদা। দারুণ দক্ষতায় বিপুলসংখ্যক মানুষের চাহিদা পূরণের চ্যালেঞ্জ এখন মোকাবিলা করছে ঢাকা ওয়াসা।
পরিসংখ্যানের আলোয়
বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার রয়েছে ৬৫১টি গভীর নলকূপ। রয়েছে চারটি পানি শোধনাগার প্রকল্প। দৈনিক পানি উৎপাদন ক্ষমতা ২৪২ কোটি লিটার, যেখানে চাহিদা ২২৫ কোটি লিটার। ৭৫ হাজার বস্তিবাসীও রয়েছে এ সুবিধার আওতায়, যাদের দিনের পর দিন বিনা মূল্যে পানি দিচ্ছে ওয়াসা। এ ছাড়া রয়েছে ১০ কিলোমিটার বক্স কালভার্ট, ২৯৫ কিলোমিটার ড্রেনেজ লাইন ও ৮৮২ কিলোমিটার পয়োলাইন।
মেগাসিটি ঢাকার বিপুলসংখ্যক মানুষকে পানি সরবরাহ করা রীতিমতো চ্যালেঞ্জের কাজ। ঢাকা ওয়াসা সেই চ্যালেঞ্জ নিতে সব সময়ই প্রস্তুত। এ লক্ষ্যে একের পর এক নেওয়া হয়েছে বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প। ২০১২ সালে সায়েদাবাদে উদ্বোধন করা হয় দৈনিক সাড়ে ২২ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন সায়েদাবাদ পানিশোধনাগার-২ প্রকল্পটির। একই স্থানে আরও একটি শোধনাগার স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। মেঘনা নদী থেকে পানি এনে রাজধানীবাসীর ঘরে পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। সাভারের ভাকুর্তা থেকেও পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ চলছে। ভবিষ্যতের ঢাকাকে বিবেচনায় নিয়ে পানি সরবরাহ বাড়াতে পদ্মা নদী থেকেও পানি আনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আরও আধুনিক সেবা দিতে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পানির লাইন বসানোর কাজ চলমান। এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. তাকসিম এ খান বলেন, ঢাকার মতো শহরে পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ সেবা প্রদান বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়া হয়েছে যেন প্রতিটি স্থাপনায় এবং মানুষের জন্য পানির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়। সেবার পরিসর বাড়াতে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পানির লাইন বসানোর কাজ চলছে। কেবল সাধারণ পানিই নয়, বিশুদ্ধ বোতলজাত মিনারেল ওয়াটার সরবরাহের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই ঢাকা ওয়াসা।
পানি সংযোগ পেতে
ঢাকা ওয়াসার প্রধান হিসাব কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিস থেকে নির্দিষ্ট মূল্যে পানি সংযোগ ফরম-১ ও ২ যে কেউ সংগ্রহ করতে পারবেন। পানি সংযোগ প্রদানের প্রাক্কালে সংশ্লিষ্ট হোল্ডিং/বাড়ি/প্লটের অনুক‚লে সঠিকভাবে বিল জারি করা ও অন্যান্য দাপ্তরিক স্বার্থে নির্ধারিত পরিদর্শন রিপোর্ট-১ ফরম যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। পানির লাইনের সংযোগস্থল হ্যান্ড ড্রিলের সাহায্যে ছিদ্র করতে হবে এবং সংযোগ ঘড়ির কাঁটার ১০টা দুটি অবস্থান অনুযায়ী দিতে হবে। মিটার (স্টকে থাকা সাপেক্ষে) ও চেম্বার ছাড়া সংযোগ দেওয়া যাবে না। ওয়াসা চেম্বার সরবরাহ করতে না পারলে গ্রাহক নিজের ব্যয়ে অনতিবিলম্বে চেম্বার তৈরি করে নেবে।
দুই ইঞ্চি ব্যাস পর্যন্ত সংযোগের ক্ষেত্রে সংযোগ স্থান থেকে মিটার চেম্বার পর্যন্ত জিআই পাইপ ও ফিটিংস ব্যবহার করতে হবে এবং ছয় ইঞ্চি ব্যাসের ঊর্ধ্বে কোনো সংযোগ দেওয়া যাবে না। গ্রাহক সংযোগে পিভিসি পাইপ ব্যবহার করা যাবে না। তিন-চার ইঞ্চির জন্য পাঁচ হাজার, এক ইঞ্চির জন্য ১০ হাজার টাকা ১১/২ ইঞ্চি ও দুই ইঞ্চির জন্য ২০ হাজার টাকা অনূর্ধ্ব আনুপাতিক হারে অগ্রীম গ্রহণ করতে হবে।
গ্রাহকের জলাধারে সংযোগ পাইপের মাথায় কোনোক্রমেই মিটার লাগানো যাবে না। ১২ ইঞ্চি বা তদূর্ধ্ব ব্যাসের পানির মেইন থেকে সংযোগ দেওয়ার প্রাক্কালে সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
সংযোগের আবেদনের যৌক্তিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একই হোল্ডিং/প্লট/বাড়িতে দ্বিতীয় পানির সংযোগ প্রদানের অনুমোদন দেবে। তবে প্রথম সংযোগ বা অন্য কোনো খাতে বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট হোল্ডিং/বাড়িতে দ্বিতীয় সংযোগ দেওয়া যাবে না। সংযোগসংক্রান্ত মূল রেকর্ডপত্র সংশ্লিষ্ট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে সংরক্ষণ করা যাবে। সংযোগের আবেদন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনকারীর সংশ্লিষ্ট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসে জমা দিয়ে ফরম নং-৩-এ প্রাপ্তি স্বীকারপত্র গ্রহণ করবেন। আবেদনপত্র পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী রাজস্ব বকেয়া সম্পর্কিত রিপোর্টের জন্য তা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। রাজস্ব কর্মকর্তা তিন দিনের মধ্যে রিপোর্টসহ ওই আবেদনপত্র পুনরায় নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠাবেন। সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রকৌশলী/উপসহকারী প্রকৌশলী চার দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হোল্ডিং/বাড়ি/প্লট সরেজমিনে পদির্শন শেষে রিপোর্ট পেশ করার পর নির্বাহী প্রকৌশলী সংযোগের টাকা জমা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীর অনুক‚লে ডিমান্ড নোট ইস্যু করবেন।
আবেদনকারী টাকা জমা দেওয়ার তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলী সংযোগ প্রদানের জন্য অনুমোদন দেবেন।
রাজস্ব হিসাব খোলা ও বিল নির্বাহী প্রকৌশলী সংযোগ প্রদানের সাত দিনের মধ্যে রাজস্ব হিসাব খোলার জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ এতদসম্পর্কিত প্রতিবেদন আঞ্চলিক রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। সংযোগ গ্রহণের অনধিক তিন মাসের মধ্যে গ্রাহক বিল না পেলে সংশ্লিষ্ট জোনের রাজস্ব কর্মকর্তা বা প্রকল্প ব্যবস্থাপকের সঙ্গে লিখিত পত্র মারফত এবং প্রয়োজনে ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে হিসাব খোলা এবং বিলপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
গ্রাহক তাঁর সংযোগের প্রকৃতি পরিবর্তন অর্থাৎ আবাসিক থেকে বাণিজ্যিক বা বাণিজ্যিক থেকে আবাসিক রূপান্তরিত করলে তা লিখিতভাবে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব আঞ্চলিক কর্মকর্তা বা প্রকল্প ব্যবস্থাপককে জানিয়ে প্রাপ্তিস্বীকার পত্র গ্রহণ করবেন।
সংযোগ স্থানান্তর/আকার বৃদ্ধি/পানি সংযোগের আকার বর্ধিতকরণ/সংযোগ স্থানান্তর ও পরীক্ষা করার জন্য আবেদনকারীকে সংযোগ ফরম-৩ যথাযথভাবে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পেশ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্লট/হোল্ডিংয়ের রাজস্ব বকেয়াসংক্রান্ত রিপোর্ট রাজস্ব কর্মকর্তা বা প্রকল্প ব্যবস্থাপককে জানিয়ে প্রাপ্তি স্বীকার পত্র গ্রহণ করবেন। পানির মিটার সম্পর্কে করণীয় ওয়াসা ভান্ডারে মিটার থাকিলে মিটারবিহীন পানি সংযোগ দেওয়া যাবে না। সংযোগ প্রদানকালে সিল্ড মিটার স্থাপন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী সংযোগ সমাপ্তি রিপোর্টের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকালীন রিডিং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক রাজস্ব কর্মকর্তাকে জানাবেন।
প্রতিটি হোল্ডিংয়ের সংযোগস্থলের কাছাকাছি সীমানা দেয়ালের নিকটবর্তী আঙিনার মধ্যে মিটার স্থাপন করতে হবে। ভূ-পৃষ্ঠের নিচে মিটার স্থাপন করতে হলে লিক প্র“ফ মিটার চেম্বার অবশ্যই নির্মাণ করতে হবে। মিটার ওয়াসার মালিকানায় গ্রাহকের দায়িত্বে সংযোগে যুক্ত থাকবে। সব মিটারের চেম্বার নির্মাণের খরচ গ্রাহক বহন করবেন।
চুরি বা খোয়া গেলে
মিটার চুরি বা খোয়া যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটবর্তী থানায় এই সম্পর্কে এজাহার দায়ের করে এজাহারের সত্যায়িত ফটোকপিসহ এতদ্সম্পর্কে গ্রাহক ওয়াসার সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক রাজস্ব কর্মকর্তা বা প্রকল্প ব্যবস্থাপককে অবহিত করবেন, অন্যথায় ওয়াসা জরিমানা আদায়সহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। গ্রাহকের কাছ থেকে মিটার চুরি সম্পর্কিত এজাহারের ওই কপি প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তা/প্রকল্প ব্যবস্থাপক গ্রাহকের হোল্ডিং সরেজমিনে পরিদর্শন করে মিটার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে মতামতসহ পরিদর্শন রিপোর্ট পেশ করবেন, যার ভিত্তিতে গ্রাহকের বা তদীয় প্রতিনিধির উপস্থিতিতে একটি নতুন মিটার স্থাপন করা হবে। মিটার স্থাপনের পর নির্বাহী প্রকৌশলী গ্রাহকের কাছ থেকে তিন ফর্দ ফরম স্বাক্ষর করিয়ে স্থাপিত মিটারের রিডিংসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য এক ফর্দ সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তা/প্রকল্প ব্যবস্থাপকের কাছে পাঠাবে। এক ফর্দ গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করে অবশিষ্ট এক ফর্দ মিটার বিভাগের জন্য সংরক্ষণ করবে।
প্রবেশাধিকার
ঢাকা ওয়াসার বৈধ পরিচয়পত্র বহনকারী সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মচারীকে সকাল-সন্ধ্যা সময়ের মধ্যে মিটারের যাবতীয় কাজ করার জন্য বাড়ির ভেতরে প্রবেশাধিকার দিতে হবে।
মিটারে অবৈধ হস্তক্ষেপ
আঞ্চলিক রাজস্ব কর্মকর্তা বা প্রকল্প ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে অকার্যকর মিটার বা মিটারে অবৈধ হস্তক্ষেপ রিপোর্ট পাওয়ার পর মিটার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গ্রাহক অথবা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ওই মিটারটি তুলে এনে তথায় অপর একটি মিটার স্থাপন করবেন। অপসারিত মিটারটি গ্রাহক অথবা তাঁর প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সাত দিনের মধ্যে ঢাকা ওয়াসার মিটার বিভাগের ওয়ার্কশপ পরীক্ষা করবে। পরীক্ষান্তে অবৈধ হস্তক্ষেপ প্রমাণিত হলে ঢাকা ওয়াসার প্রচলিত নিয়মানুযায়ী জরিমানা আদায়সহ গ্রাহকের কাছ থেকে নতুন মিটারের মূল্য আদায়ের জন্য মিটার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আঞ্চলিক রাজস্ব কর্মকর্তা বা ক্ষেত্রমতো প্রকল্প ব্যবস্থাপককে পত্র মারফত অবহিত করবে। সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তা/প্রকল্প ব্যবস্থাপক ওই চিঠি পাওয়ার পর পরবর্তী বিলের সঙ্গে উল্লিখিত সমুদয় খরচ যোগ করিয়া জরিমানার বিলসহ জারির ব্যবস্থা করবে।
মিটার স্থানান্তর
গ্রাহকের কাছ থেকে মিটার স্থানান্তরের আবেদনপত্র পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক রাজস্ব কর্মকর্তা বা ক্ষেত্রমতে প্রকল্প ব্যবস্থাপক মতামতসহ মিটার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠালে তিনি গ্রাহকের উপস্থিতিতে মিটারটি সিল্ড অবস্থায় পাইলে ফরম-২ যথাযথভাবে পূরণ করত গ্রাহক/তদীয় প্রতিনিধির স্বাক্ষর নিয়ে তা হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পূরণ করা ফরম বি-২-এ একটি করে কপি মিটার বিভাগে সংরক্ষণ করবে। মিটারটি সিল ভাঙা পাওয়া গেলে বা মিটারটি ক্ষতিসাধন করা হয়েছে এ রকম প্রতীয়মান হলে মিটার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গ্রাহকের বিরুদ্ধে মিটার অবৈধ হস্তক্ষেপের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজস্ব কর্মকর্তা বা ক্ষেত্রমতো প্রকল্প ব্যবস্থাপকের কাছে পাঠাবেন।
মিটার টেস্টিং
৮.১, মিটারের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত টেস্টিং ফি জমা দিয়ে গ্রাহক সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক রাজস্ব কর্মকর্তা বা ক্ষেত্রমতো প্রকল্প ব্যবস্থাপকের কাছে লিখিত আবেদন করতে পারেন। আবেদনপত্র পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে রাজস্ব কর্মকর্তা বা ক্ষেত্রমতো প্রকল্প ব্যবস্থাপক মিটার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় নিজের মন্তব্যসহ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখবেন। তৎপরবর্তী সময়ে মিটার বিভাগ কর্তৃক গ্রাহকের হোল্ডিং/বাড়ি/প্লট থেকে নতুন/পুরোনো মিটার উঠিয়ে আনা অথবা স্থাপন করা হলে সব ক্ষেত্রে তা গ্রাহক অথবা তার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে করতে হবে এবং এজন্য নির্দিষ্ট ফরম-সি/১-২ পূরণ করে গ্রাহক কর্তৃক স্বাক্ষরিত ওই ফরমের একটি কপি গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক রাজস্ব^ দপ্তর ও মিটার বিভাগ একটি করে কপি সংরক্ষণ করবে। গ্রাহকের উপস্থিতিতে তার বাড়িতে/হোল্ডিং/প্লট অবশ্যই সিল্ড মিটার স্থাপন করতে হবে। মিটার বসানোর সময় সিল্ড মিটার বসানো হয়েছে কি না তা গ্রাহক আগেই দেখে নেবেন। পরে এ ব্যাপারে কোনো আপত্তি আইনত গ্রাহ্য হবে না। মিটার বসানোর পর সিল ভাঙা পাওয়া গেলে সে জন্য গ্রাহকই দায়ী থাকবেন। একটি মিটারের আয়ুষ্কাল সাধারণত পাঁচ বছর। তবে মিটার যত্নসহকারে সংরক্ষণ করলে এটা অনেক বছর কার্যকর থাকবে।
বাইপাস লাইন বা অবৈধ সংযোগ
বাইপাস লাইন বলতে সংযোগ লাইনে স্থাপিত মিটারের পশ্চাৎ থেকে (অর্থাৎ সংযোগস্থল ও মিটারের মধ্যবর্তী) পানি সংযোগ এর মাধ্যমে পানি সংগ্রহ বোঝায়। এভাবে সংযোগ নিতে ব্যবহৃত পানির রিডিং রেকর্ড হয় না। ফলে ওয়াসা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়। এ ধরনের লাইন ওয়াসা আইনের ৫২ ধারামতে অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এ জন্য ওয়াসা কর্তৃপক্ষ হোল্ডিংয়ের মালিকের বিরুদ্ধে সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ ও জরিমানা আরোপসহ কারাদণ্ড আরোপের ব্যবস্থা গ্রহণের আইনগত অধিকার রাখে। ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে যেকোনো প্লট/বাড়ি/হোল্ডিংয়ে পানি সংযোগ গ্রহণ অবৈধ বলে বিবেচিত হয় এবং ওয়াসা আইনের ধারামতে ওই রকম অপরাধ অর্থদণ্ড/কারাদণ্ড আরোপযোগ্য।
যে কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়
গ্রাহক সময়মতো পানি বা পয়োবিল হালনাগাদ পরিশোধ না করলে। সংযোগ গ্রহণকারী ওয়াসার পানি/পয়ো লাইনের ক্ষতিসাধন করলে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ওয়াসার বৈধ পরিচয়পত্র বহনকারী কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পানি/পয়ো লাইন টেস্ট, বাড়ির জলাধার ও মিটার পরির্দশনের মতো প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদনের জন্য বাড়ির আঙিনায়/ভেতরে প্রবেশের অধিকার না দিলে।
হস্তচালিত বা বিদ্যুৎচালিত পাম্প স্থাপন প্রসঙ্গে
গ্রাহকের ভূ-গর্ভস্থ অথবা ছাদের জলাধার তথা পাম্বিং সিস্টেম লিকেজের কারণে অথবা গ্রাহকের অন্য কোনো অসতর্কতার কারণে তাঁর আঙিনায় পানির অপচয় দৃষ্টিগোচর হলে এবং সংশোধনের নোটিশ প্রাপ্তির পরও তা মেরামত না করলে। উল্লেখ্য, গ্রাহক তার জলাধারে স্থাপন করে পানির অপচয় বহুলাংশে পরিহার করতে পারেন।
পুনঃসংযোগ
হালনাগাদ পানি বা পয়ো বিল ও ওয়াসার অন্যান্য সব পাওনা পরিশোধসহ পানি বা পয়ো ড্রেনেজ সংযোগ লাইন বা জলাধারের ক্রটি (যদি থাকে) সংশোধন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে গ্রাহক কর্তৃক লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী প্রকৌশলী বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করে অনুক‚লে ব্যবস্থাধীন ডিমান্ড নোটের মাধ্যমে জরিমানা ও পুনঃসংযোগ ফি আদায়ের পর প্রদানের ব্যবস্থা করবেন এবং পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সঙ্গে বিষয়টি রাজস্ব কর্মকর্তা/প্রকল্প ব্যবস্থাপককে অবহিত করবেন।
হস্তচালিত বা বিদ্যুৎচালিত পাম্প স্থাপন
ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহ লাইন থেকে সরাসরি হস্তচালিত বা বিদ্যুৎচালিত পাম্প স্থাপন করা ওয়াসা আইনের ৫২ ধারামতে দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অবৈধ পাম্প সংযোজনের ফলে সংযোগস্থলে লিকেজ থেকে যায় এবং এই ছিদ্র পথে বাইরের ময়লা বা দূষিত পানি সরবরাহ লাইনে প্রবেশ করে সরবরাহ সিস্টেমের পানি দূষিত করে ফেলে। এই দূষিত পানি পান করে জনসাধারণ পানিবাহিত পীড়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। তা ছাড়া ওয়াসার সরবরাহ লাইনের সঙ্গে সরাসরি পাম্প সংযোজন করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকেরা প্রয়োজনমাফিক সুষম হারে পানি পান না। কাজেই গ্রাহক সাধারণের সার্বিক স্বার্থে উল্লেখিত অবৈধ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে ওয়াসার সংশিষ্ট রাজস্ব/মডস জোনকে দ্রুত অবহিত করার জন্য সম্মানিত গ্রাহকদের ওয়াসা বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছে। উলেখ্য, ওয়াসার আইনের ৫২ ধারার অধীনে এই অপরাধ অর্থ/কারাদণ্ড আরোপযোগ্য অপরাধ। ঢাকা ওয়াসাকে একটি যুগোপযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে যথাযথ উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান কর্তৃপক্ষ।
এমন সময় ছিল যখন ওয়াসার পানির বিল দিতে গিয়ে ভোগান্তির অন্ত ছিল না গ্রাহকদের। এখন সে চিত্র বদলেছে। সব বিলই এখন মোবাইল ফোনের মেসেজের মাধ্যমেই পরিশোধ করা যাচ্ছে। যেকোনো অভিযোগ জানানোর জন্য চালু করা হয়েছে ওয়াসা লিংক। যেকোনো সমস্যায় ডায়াল করুন ১৬১৬২ নম্বরে।
শামস্ আহমেদ
shamsahmed13@gmail.com
প্রকাশকাল: বন্ধন ৪৫ তম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০১৪