Image

কংক্রিটের পুনর্ব্যবহার

কংক্রিটের পুনর্ব্যবহার (Concrete Recycling)

বর্তমান পৃথিবীর স্থাপনাগুলো ক্রমশই বর্ধনশীল। যেখানে গড়ে উঠছে নিত্যনতুন কংক্রিটের স্থাপনা। যখন এই স্থাপনাগুলোর আয়ু শেষ হয়ে যাবে বা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়বে তখনই হয়তো প্রথম যে চিন্তা আমাদের মাথায় আসবে, তা হলো এই কংক্রিটের বর্জ্যগুলোকে আমরা কোথায় ফেলব বা কী হবে এই বর্জ্যগুলোর?

এই কংক্রিটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিন্তা থেকেই Concrete Recycling বা কংক্রিটের পুনর্ব্যবহার ধারণাটির উৎপত্তি। বর্তমান সময়ে এই ধারণাটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। 

পূর্বকথা

অতীতে কংক্রিটের বর্জ্যকে শুধু নির্মাণ সাইট থেকে অন্য স্থানে (Dumping Place) নিয়ে ফেলা হতো। কিন্তু পরিবেশ, অর্থনীতির কথা চিন্তা করে কংক্রিটের পুনর্ব্যবহার (Recycling) বাড়ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান ও জার্মানিতে বিশাল ধ্বংসস্ত‚প সৃষ্টি হয়। সেই কংক্রিটের বর্জ্য সরানোর প্রয়োজন থেকেই Concrete Recycling ধারণার সৃষ্টি। তাই বলা যায় সেই ১৯৫০ সালের দিক থেকেই ধারণাটি শুরু হয়। যদিও বাংলাদেশে এটি একটি নতুন ধারণা।

পদ্ধতি

কংক্রিট Recycling-এর কাজে এক ধরনের Crushing Machine ব্যবহার করা হয়; যা কাঠ, কাগজ এবং অন্যান্য পদার্থমুক্ত ভালো কংক্রিটকে চূর্ণ করে Aggregate-এ পরিণত করে। তারপর এই Aggregate গুলোকে তাদের আকার আকৃতি অনুযায়ী আলাদা করা হয়। বড়গুলোকে পুনরায় Crushing Machine-এর মধ্যে দেওয়া হয়; যা চূর্ণ হয়ে গেলে অন্যান্য পদার্থ থেকে আলাদা করে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

অনেক সময় খরচ কমানোর জন্য বহনযোগ্য Crushing Machine-ও ব্যবহার করা হয়। বড় ধরনের বহনযোগ্য Crushing Machine-গুলো ঘণ্টায় ৬০০ টন পর্যন্ত কংক্রিট চূর্ণ করতে পারে।

সুবিধা

১. কংক্রিট পুনর্ব্যবহার একটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ধারণা। কারণ যখন কোনো নতুন ইট তৈরি হচ্ছে তা বিপুল পরিমাণে CO2 পরিবেশে নির্গত করছে। তা ছাড়া এই ইট তৈরি হচ্ছে ফসলি জমির উপরিস্তরের মাটি দিয়ে; যা জমির উর্বরতাও কমিয়ে দিচ্ছে। তাই যদি আমরা Recycled কংক্রিট ব্যবহারের প্রচলন করতে পারি পরিবেশের উপর চাপ কমবে।

২. এটি নির্মাণ খরচ কমাতে সাহায্য করে। কারণ আজকে আমরা যাকে অর্থহীন বলছি, সেগুলো অতীতে আমরা টাকা দিয়েই কিনেছিলাম। তাই আজকে যদি আমরা সেটা ব্যবহার করতে পারি। কিছুটা হলেও অর্থের সাশ্রয় হবে।

৩.  Recycled কংক্রিট ব্যবহারের ফলে পরিবেশ হতে পাথর উত্তোলন করতে হয় না। যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।

৪. কংক্রিট বর্জ্য ফেলার জন্য যে স্থান ব্যবহৃত হয়, Recycling-এর ফলে তা আমরা অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারি।

৫. রাস্তার সাব বেইজ তৈরির কাজে খুব সহজেই Recycled কংক্রিট ব্যবহার করা যায়।

প্রকাশকাল: বন্ধন ২২ তম সংখ্যা, ফেব্রুয়ারি ২০১২

Related Posts

পরিবেশগত নৈতিকতার আলোকে স্থাপত্যের ১০টি প্রধান চ্যালেঞ্জ

স্থাপত্য কেবল ভবন নির্মাণ কিংবা নান্দনিক নকশা তৈরির শিল্প নয়; এটি মানুষের জীবনযাত্রা, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবীর…

প্রকৃতির দামও হিসাব করছে ভুটান: জিডিপির পাশে জিইপি

একটি ভবন বা শহরের ডিজাইন করার সময় আমরা খরচ ধরি ইট, সিমেন্ট, স্টিল আর শ্রমের। কিন্তু যে জমির…

ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেকচার ও কার্বন নি:সরণ

শহরের পার্ক, বাগান, প্লাজা, রাস্তার পাশের সবুজ এলাকা—এসবকে আমরা সাধারণত পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের অংশ হিসেবে দেখি। গাছপালা ও সবুজ…

জাপানে অতিবৃষ্টিতে ম্যানহোল বিস্ফোরণ ও নগর পরিকল্পনার ব্যর্থতা

২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি প্রদেশের নাগোয়া শহরে যা ঘটেছে, তাকে শুধু “রেকর্ড বৃষ্টিপাত” বলে সংজ্ঞায়িত করলে…

01~1
previous arrow
next arrow

Bandhan Cover

সর্বশেষ

Trending Posts

Gallery

বায়তুর রউফ জামে মসজিদ স্থপতি মেরিনার অনন্য স্থাপত্যকর্ম
করিডোর
house
01
হাসপাতালে রোগী-কক্ষে ঘরোয়া আবহ দিচ্ছে কোয়ালুর নতুন ফার্নিচার
10
09
ফর্ম ফলোজ ফিকশন: ফাংশনের বাইরে ছয়টি ডিজাইনের অনুসন্ধান
প্রকৃতির দামও হিসাব করছে ভুটান: জিডিপির পাশে জিইপি