• Home
  • স্থাপত্য
  • সঞ্জয় পুরির হাতে গড়া ধাপবিন্যাসিত শিক্ষাঙ্গন
Image

সঞ্জয় পুরির হাতে গড়া ধাপবিন্যাসিত শিক্ষাঙ্গন

ভারতের ইন্দোরে অবস্থিত প্রেস্টিজ ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসটি সমকালীন শিক্ষাঙ্গন স্থাপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। শিক্ষার জন্য কেবল একটি ভবন হলেই চলবে সেই ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃতই এক বিদ্যাপীঠের সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতাভিত্তিক ভূদৃশ্য নির্মাণ করাই ছিল এর লক্ষ্য। 

ভারতের জনরপিয় স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান Sanjay Puri Architects-এর নকশায় ২০২৬ সালে গড়ে ওঠা এই স্থাপত্যে শিক্ষা, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং পরিবেশগত সংবেদনশীলতা একত্রে একটি ধারাবাহিক স্থাপত্যিক বয়ান তৈরি করেছে।

এই স্থাপত্যে শিক্ষা, সমাজ ও পরিবেশ একসাথে মিলেছে। ছবি: আর্কডেইলি
ভূপ্রকৃতি-নির্ভর ধাপবিন্যাসিত রূপ 

ভবনটির মূল ধারণা গড়ে উঠেছে ধাপে ধাপে উপরে ওঠা ভলিউমের মাধ্যমে। এই স্টেপড ফর্ম কেবল ভিজ্যুয়াল কম্পোজিশনের জন্য বানানো হয়েছে এমন নয়। এটা মূলত ভূ-প্রকৃতির সঙ্গে স্থাপত্যের এক ধারাবাহিক সংলাপ। 

কাঠামোটি আশেপাশের ভূমিকে অনুসরণ করে নিজেকে এমনভাবে বিন্যস্ত করেছে যাতে এটি বড় একটি একক ভর হিসেবে না দেখা যায়। ফলে সহজেই ভূদৃশ্যের অংশ হিসেবে মিশে যায়। এই ধাপে ধাপে ওঠা ফর্মই ভবনের বিভিন্ন স্তরে আলাদা আলাদা কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতারও সুযোগ তৈরি করে।

বিদ্যাপীঠের স্থাপত্যভাবনায় চমক দেখালো সঞ্জয় পুরি আর্কিটেক্টস। ছবি: আর্কডেইলি
ধাপবিন্যাসিত উন্মুক্ত শিক্ষণ পরিসর 

এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর টেরেস বা ধাপভিত্তিক উন্মুক্ত স্থানগুলো। ছাদ ও মধ্যবর্তী প্ল্যাটফর্মগুলোকে সক্রিয় ব্যবহারযোগ্য স্পেস হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে। যা একসাথে একটি বড় উন্মুক্ত সমাবেশস্থলের মতো কাজ করে। 

এই জায়গাগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু চলাচলের পথ নয়, বরং আলোচনা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার একটি সম্প্রসারিত ক্ষেত্র তৈরি করে। ফলে পুরো ভবনটি একটি স্থির কাঠামোর বদলে জীবন্ত সামাজিক জ্ঞানভিত্তিক আদান-প্রদানের পরিসরে রূপ নেয়।

শিক্ষার্থীদের জন্য আলোচনা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার একটি সম্প্রসারিত ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে। ছবি: আর্কডেইলি
জলবায়ু-অনুকূল ফ্যাসাড সিস্টেম 

ইন্দোরের উষ্ণ আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে ভবনটির নকশায় জলবায়ু-সংবেদনশীল কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। খোলা কোর্টইয়ার্ড, শেডেড টেরেস এবং প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের সুযোগ অভ্যন্তরীণ পরিবেশকে আরামদায়ক রাখে। 

পাশাপাশি ফ্যাসাডে পারফোরেটেড স্ক্রিন ও শেডিং এলিমেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে সরাসরি সূর্যালোক নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এই কৌশলগুলো ভবনের শক্তি ব্যবহার কমিয়ে টেকসই স্থাপত্যের দিকে ইঙ্গিত করে।

ইন্দোরের উষ্ণ আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে ভবনটির নকশায় জলবায়ু-সংবেদনশীল কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। ছবি: আর্কডেইলি
অভ্যন্তরীণ চলাচল অক্ষ 

ভবনের ভেতরে একটি ধারাবাহিক চলাচল অক্ষ বা সার্কুলেশন স্পাইন পুরো প্রোগ্রামকে একত্রে যুক্ত করে। এই তির্যক ও উন্মুক্ত চলাচলপথ বিভিন্ন ফাংশনাল জোনকে সংযুক্ত করার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের জন্য একটি অভিজ্ঞতামূলক যাত্রা তৈরি করে। লাইব্রেরি, প্রশাসনিক অংশ, শ্রেণিকক্ষ এবং অন্যান্য একাডেমিক স্পেস এই প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত থেকে একটি একীভূত স্থাপত্য কাঠামো গড়ে তোলে।

যেখানে স্থাপত্য নিজেই শেখার অংশ হয়ে ওঠে। ছবি: আর্কডেইলি

প্রেস্টিজ ইউনিভার্সিটি প্রকল্পটি দেখায় কীভাবে সমকালীন শিক্ষাঙ্গন স্থাপত্য কেবল ফাংশনাল প্রোগ্রামসহ ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু এবং সামাজিক ব্যবহারের সমন্বয়ে একটি অভিজ্ঞতাভিত্তিক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। ধাপে ধাপে গঠিত ফর্ম, উন্মুক্ত টেরেস, জলবায়ু-সংবেদনশীল ফ্যাসাড এবং সংযুক্ত চলাচল ব্যবস্থা সব মিলিয়ে এটি একটি সমন্বিত শিক্ষাগত ভূদৃশ্য তৈরি করেছে, যেখানে স্থাপত্য নিজেই শেখার অংশ হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র

আর্কডেইলি। ০২ মার্চ, ২০২৬।

Related Posts

ভবিষ্যতের ৮টি স্টেডিয়াম যা প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে

সময়ের সাথে সাথে সবই বদলাচ্ছে। বদলাচ্ছে স্টেডিয়ামের গঠনশৈলীতে। স্টেডিয়ামগুলো এখন আর শুধু ম্যাচের দিনের জন্য ডিজাইন করা হচ্ছে…

নুহাশ পল্লী: হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের সবুজ রাজ্য

নুহাশ পল্লী বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র এবং কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এর স্বপ্নে গড়ে ওঠা একটি অনন্য সবুজ…

গ্রামীণ অবকাশ যাপনে কটেজের ইন্টেরিয় কেমন হওয়া উচিত?

ঘরের পরিবেশ আমাদের শান্ত রাখে, অশান্ত করে তোলে কখনো সংগঠিত হতেও সাহায্য করে। বলছি আমাদের মনের উপর ঘরের…

ঢাকা: এক অবিরাম অন্তবিস্ফোরণ

অ্যারন বেটস্কি ফিলাডেলফিয়ার একজন সমালোচক ও শিক্ষক। এর আগে তিনি ভার্জিনিয়া টেকের স্কুল অফ আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইনের অধ্যাপক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *