নিলামে উঠছে আইফেল টাওয়ারের মূল সর্পিলাকার সিঁড়ির একটি অংশ। প্যারিসের এই বিখ্যাত স্থাপনার মূল সিঁড়ির একটি অংশ আগামী মাসে প্যারিসে নিলামে তোলা হচ্ছে। ১৮৮৯ সালে নির্মিত এই লৌহস্তম্ভের প্রতিটি অংশের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সময়, প্রযুক্তি ও মানুষের স্মৃতি। সেই ইতিহাসেরই এক টুকরো এবার উঠছে নিলামে। আইফেল টাওয়ারের মূল সর্পিলাকার সিঁড়ির একটি অংশ এখন হতে পারে আপনার সম্পদ। এ যেন উনিশ শতকের প্যারিসকে ছুঁয়ে দেখার এক বিরল সুযোগ।

সেই ঐতিহাসিক সিঁড়ি
নিলামে ওঠা অংশটি আইফেল টাওয়ারের মূল সর্পিলাকার সিঁড়ির অংশ। একসময় এটি টাওয়ারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলাকে সংযুক্ত করত। টাওয়ার নির্মাণের সময় দর্শনার্থীরা এই সিঁড়ি দিয়েই ওপরে উঠতেন। পরে ১৯৮৩ সালের সংস্কারের সময় নিরাপত্তা ও আধুনিক ব্যবস্থার কারণে সিঁড়িগুলো খুলে ফেলা হয় এবং সেখানে লিফট বসানো হয়।
বর্তমানে নিলামে ওঠা অংশটির উচ্চতা প্রায় ২.৭৫ মিটার এবং এতে রয়েছে ১৪টি ধাপ। এটি স্টিল ও রিভেটেড শিট মেটাল দিয়ে তৈরি। দীর্ঘদিন ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকার পর সম্প্রতি এটিকে পুনরায় সংস্কারও করা হয়েছে।

কেন এই নিলাম এত গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বের অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনার অংশ সংরক্ষিত থাকলেও খুব কম ক্ষেত্রেই সাধারণ সংগ্রাহকদের জন্য সেগুলো কেনার সুযোগ তৈরি হয়। আইফেল টাওয়ারের এই সিঁড়িখণ্ড সেদিক থেকে সকল প্রকার গ্রাহকদের জন্য এক বিরাট সুযোগ তৈরি করেছে।
নিলাম আয়োজন করছে ফরাসি নিলাম প্রতিষ্ঠান আর্টকিউরিয়ালের আর্ট ডেকো ডিপার্টমেন্ট ইন প্যারিস। আর্টকিউরিয়ালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিঁড়িখণ্ডটির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ইউরো থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত। যদিও বিক্রেতার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, নিলাম প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে ১৯৮৩ সালে এটি খুলে ফেলার পর থেকে সিঁড়িখণ্ডটি ৪০ বছরেরও বেশি সময় একই ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল।

সিঁড়ির অন্যান্য অংশ কোথায়
১৯৮৩ সালে সিঁড়িটি খুলে ফেলার পর সেটিকে প্রায় ২০টির বেশি অংশে ভাগ করা হয়েছিল। এর কিছু অংশ এখনো ফ্রান্সের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। আবার কিছু অংশ পৌঁছে গেছে জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের নানা দেশে।
এই ছড়িয়ে পড়া যেন আইফেল টাওয়ারের বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক প্রভাবেরই প্রতিফলন। প্যারিসের একটি স্থাপনার অংশ আজ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইতিহাসের স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
অতীতের নিলামকাহিনী
আইফেল টাওয়ারের সিঁড়ির অংশ আগে একাধিকবার নিলামে উঠেছে এবং প্রতিবারই তা সংগ্রাহকদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। ২০১৬ সালে একই ধরনের একটি অংশ পাঁচ লাখ ইউরোরও বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সংগ্রাহকদের মধ্যে বিশেষ করে এশীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্রেতাদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

আইফেল টাওয়ারের একটি পুরোনো সিঁড়িখণ্ডের নিলাম প্রথম দেখায় হয়তো কেবল ধনীদের সংগ্রহবিলাস বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এর ভেতরে রয়েছে আরও বড় এক গল্প। মানুষের ইতিহাসপ্রেম, নগরঐতিহ্যের প্রতি আকর্ষণ এবং অতীতকে নিজের কাছে ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষা। প্রায় দেড় শতক আগে যে সিঁড়ি বেয়ে মানুষ প্যারিসকে দেখত, আজ সেই সিঁড়িই ইতিহাসের স্মারক হয়ে নতুন যাত্রায় বের হচ্ছে।

















