দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা। প্রাচীনকালে এ জনপদটি খ্যাত ছিল বুড়নদ্বীপ নামে। বঙ্গোপসাগরের কোলে জেগে ওঠা এ অঞ্চলটির গর্বের নাম সুন্দরবন। সাগরের নোনা পানি ও বনকে ঘিরেই সমৃদ্ধ এখানকার অর্থনীতি। চিংড়ি ও জলজ সম্পদ রপ্তানিতে রাখছে অগ্রণী ভ‚মিকা। আর এই জনপদের একজন সফল নির্মাণপণ্য ব্যবসায়ী মো. আশরাফুল আলম। সাতক্ষীরার সাতানী বলফিল্ড, বাঁশদহ বাজার সড়কে অবস্থিত ‘মেসার্স সাজিদ এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী তিনি। বন্ধনের নিয়মিত আয়োজন ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’ পর্বে এবার জানাব এ মানুষটির সাফল্যের রহস্য।
সহযোগিতায় ছিলেন আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির টেরিটরি ম্যানেজার সৈয়দ নাদির রহমান।
কৃষক পরিবারের সন্তান মো. আশরাফুল আলম ১৯৮৪ সালের ২০ অক্টোবর সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মো. আনসার আলী ও মা মোছা. রিজিয়া খাতুন। তাঁর বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। উচ্চশিক্ষা ও চাকরির পরিবর্তে ছোটকাল থেকেই ইচ্ছা ছিল নিজে কিছু করার; ব্যবসার প্রতি ছিল তাঁর ব্যাপক আগ্রহ। সেই আগ্রহকেই তিনি পরিণত করেন বাস্তবে। ২০০৫ সালে শুরু করেন স্যানিটারি পণ্যের ব্যবসা। স্যানিটারির কাজে আরও প্রয়োজন হয় ইট, বালু, খোয়া, সিমেন্ট প্রভৃতি। এই পণ্যগুলো ক্রেতারা অন্য দোকান থেকেই কিনত। আশরাফুল উপলব্ধি করেন পণ্যগুলোকে যদি নিজের ব্যবসায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, তাহলে ক্রেতাদের অন্য কোথাও যেতে হবে না। যেই ভাবা সেই কাজ। একে একে ব্যবসায় যোগ করেন ইট, বালু, সিমেন্ট, রড, পেইন্ট ও হার্ডওয়্যারসামগ্রী। একটি স্যানিটারি ফ্যাক্টরিও রয়েছে তাঁর। বর্তমানে তিনি আকিজ সিমেন্ট, সাতক্ষীরা টেরিটরির একজন সেরা বিক্রেতা। পাশাপাশি তিনি একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার।
মো. আশরাফুল আলম একটি ভবন নির্মাণে যা কিছু প্রয়োজন তার অধিকাংশ পণ্যই বিক্রি করেন। ফলে সব পণ্য একই প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়ায় ক্রেতারা তাঁর প্রতিষ্ঠানকেই বেছে নেন। খুচরা বিক্রির পাশাপাশি ঠিকাদারির কাজেও নিজের দোকানের সিমেন্টই ব্যবহার করেন। ফলে প্রতি মাসেই তিনি প্রচুর সিমেন্ট বিক্রি করেন। ব্যবসার শুরু থেকেই বিক্রি করছেন আকিজ সিমেন্ট। গুণগতমানের এ পণ্যটি তাঁর ব্যবসায় সাফল্য পেতে রেখেছে দারুণ ভ‚মিকা। তার এই সাফল্য অকিজ সিমেন্ট কোম্পানির সাতক্ষীরা টেরিটরির অন্যতম বিক্রেতা; সেরা পাঁচ ব্যবসায়ীর একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে! সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে অত্র টেরিটরির বেস্ট সেলার হওয়ার গৌরবও অর্জন করেন। এমন অভূতপূর্ব সাফল্যে কোম্পানির পক্ষ থেকে পেয়েছেন বিভিন্ন উপহারসামগ্রী ও ভ্রমণ অফার।
প্রায় শূন্য হাতে শুরু করলেও নিজের শ্রম, মেধা ও সততায় মো. আশরাফুল আলম আজ একজন সফল ব্যবসায়ী। ব্যবসা করতে পরিবার থেকেও নেননি কোনো সহায়তা; মূলধন। গ্রামপর্যায়ে ব্যবসা করলেও সম্পূর্ণ নিজ চেষ্টা, সততা, মেধা ও পরিশ্রমের বলেই গড়ে তুলেছেন ব্যবসার বড় পরিসর। অল্প অল্প বিনিয়োগ করেছেন; বুঝেছেন; শিখেছেন। যাদের মাধ্যমে বৃদ্ধি পাবে বিক্রি, বাড়বে ব্যবসার পরিসর, তেমন কিছু শ্রেণি যেমন, রাজমিস্ত্রি, ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে তিনি গড়ে তুলেছেন দারুণ সম্পর্ক। প্রতিবছর রাজমিস্ত্রি ও পরিবহন ট্রলিচালকদের মধ্যে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করেন তিনি। তাতে বিজয়ীদের জন্য থাকে আকর্ষণীয় পুরস্কার ও সবার জন্য প্রীতিভোজ। তিনি পণ্যের গুণগতমানের প্রশ্নে একেবারেই আপসহীন। সততা, নিষ্ঠা ও ব্যবহার দিয়েই তিনি জয় করেছেন ক্রেতাদের মন। তা ছাড়া এলাকায় তাঁদের পরিবারিক সুনাম ও সম্মান ব্যবসা প্রসারে রেখেছে অগ্রণী ভূমিকা। আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির পক্ষ থেকেও পান যথেষ্ট সহযোগিতা। আর এভাবেই তিনি তাঁর অগ্রযাত্রা রেখেছেন অব্যাহত।
ব্যবসায়ী মো. আশরাফুল আলম বিয়ে করেন ২০০৭ সালে। স্ত্রী মোছা. মনিরা খাতুন। তাঁদের দুই ছেলে। বড় ছেলে মো. সাইফ আলম সাতানী ভাদ্রা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ছোট ছেলে মো. সাজিদ আলম, বয়স ৪ বছর।
একনজরে
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম: মেসার্স সাজিদ এন্টারপ্রাইজ
স্বত্বাধিকারীর নাম: মো. আশরাফুল আলম
অবস্থান: সাতানী বলফিল্ড, বাঁশদহ বাজার সড়ক, সাতক্ষীরা
ব্যবসা শুরু: ২০০৫ সালে
নির্মাণপণ্য: রড, সিমেন্ট, স্যানিটারি, ইট, বালু, হার্ডওয়্যার, পেইন্ট।
মাহফুজ ফারুক
প্রকাশকাল: বন্ধন ১৪৮ তম সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০২২
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz