বাড়ির নিরাপত্তায় সিকিউরিটি ডোর

ধরন পাল্টে গেলেও বাড়িতে চুরির ঘটনা কিন্তু থেমে নেই। পরিবার নিয়ে কোথাও বেড়াতে গেলে খালি বাড়ি নিয়ে যেন চিন্তার অন্ত থাকে না। কারণ ফিরে এসে কেউ দেখতে চাইবে না বাড়িতে চুরির ঘটনা। আর এ যুগে এসে বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য কাউকে রেখে যাওয়াও সহজ নয়। এমন পরিস্থিতিতে নানা উপায়ে আপনি বাড়ির নিরাপত্তাব্যবস্থা মজবুত করতে পারেন। সপরিবারে বাইরে থেকেও যেন সারাক্ষণ বাড়ি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, সে জন্য উদ্ভাবিত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা যন্ত্র ও পদ্ধতি। আপনার বাড়ির নিরাপত্তা বাড়িয়ে তুলতে এমন একটি অনুষঙ্গ সিকিউরিটি ডোর। 

সিকিউরিটি ডোরের ব্যবহার

  • বাসাবাড়ির প্রবেশপথে
  • অফিসের প্রবেশপথে
  • হোটেলের প্রবেশপথে
  • বিনোদন পার্কের প্রবেশপথে
  • ব্যাংকের ভোল্টে
  • আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ রুমে
  • বিমা ও কো-অপারেটিভ সোসাইটির ক্যাশ রুমে। 

সিকিউরিটি ডোরের বৈশিষ্ট্য

  • দুই পার্ট
  • স্কয়ার
  • রাউন্ড
  • ডোরবেলসমৃদ্ধ
  • ডোর মরিচা প্রতিরোধক্ষম
  • যুক্ত থাকে দুরবিনও।

সিকিউরিটি ডোরের ধরন

সিকিউরিটি ডোরকে মেটাল ডোর বা স্টিল নামে ডাকা হয়। তবে বিশ্বব্যাপী সিকিউরিটি ডোর হিসেবেই এর পরিচিতি বেশি। বাজারে বেশ কয়েক ধরনের সিকিউরিটি ডোর বা নিরাপত্তা দরজা পাওয়া যায়। এর মধ্যে এমএস (মাইল্ড স্টিল) ডোর, এসএস (স্টেইনলেস স্টিল) ডোর, ব্রোঞ্জ ডোর ও ফায়ারপ্রুফ মূলত এই চার ধরনের সিকিউরিটি ডোর পাওয়া যায় বাজারে।

এসএস সিকিউরিটি ডোর

এ ডোরে স্টেইনলেস স্টিলের ওপরে গোল্ড কালার প্লেট করা থাকে। এ প্লেটের সামনের অংশের দিকে ১০ মিলি পরিমাণে সম্পূর্ণ টেম্পার গ্লাস দেওয়া থাকে। তবে পেছনে এসএস দিয়ে ঢাকা থাকে। ৭-৯টা লক থাকে বলে এই দরজাকে সিকিউরিটি দরজা বলা হয়। এক চাপে সব তালা লাগে আবার এক চাপেই সব তালা খুলে যায়। সব লকই ইনভিজিবল বা অদৃশ্য অবস্থায় থাকে। এসএস সিকিউরিটি ডোরের সঙ্গে একটি হেজবল থাকে। এটিও চাবি ছাড়া খোলা প্রায় অসম্ভব। এক চাবিতেই সব লক খুলে যায়। এসএস সিকিউরিটি ডোরের দাম স্টিলের গুণাগুণের ওপর নির্ভর করে। 

এমএস সিকিউরিটি ডোর 

মাইল্ড স্টিলের ওপরে লিকার করে এর স্থায়িত্ব বাড়ানো হয়। পাশাপাশি এমএসের প্লেটে কাঠ কালার ও এন্টিক কালারের ছোঁয়া দেওয়া থাকে। এমএস সিকিউরিটি ডোরে জং ধরে না। এটি শতভাগ বুলেটপ্রুফ দরজা। স্টিলের ওপরে তৈরি করা হয় বলে এই দরজায় ম্যাগনেট (চুম্বক) ধরে। এর ভেতরে কোনো ফাঁকা থাকে না ভেতরটা সম্পূর্ণ নিরেট। 

ব্রোঞ্জ সিকিউরিটি ডোর 

ঘরের ভেতরে প্রধান দরজাটি যদি আপনি সবার থেকে ব্যতিক্রম ও রাজকীয় লুকে চান, তাহলে আপনাকে ব্রোঞ্জ ডোর বাছাই করতে হবে। এ ডোরের ভেতরে ১.৫ মিলি তামা ও টিনের মিশ্রণে তৈরি বিশেষ ধরনের ধাতুর শিট থাকে, যা খুবই মজবুত ও টেকসই। সবচেয়ে বেশি সিকিউরিটি ডোর হচ্ছে ব্রোঞ্জ ডোর। 

এই ডোরের কালার অন্য যেকোনো ডোরের কালারের চেয়ে আলাদা। ডকু পেইন্ট করা থাকে বলে পানি প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ ওয়াটারপ্রুফ। যেকোনো পানি পড়ুক বা বৃষ্টির পানি পড়ুক কোনো সমস্যা নেই। কালারের দিক থেকে এটি অটুট থাকে। 

ফায়ারপ্রুফ সিকিউরিটি ডোর

আগুন থেকে নিরাপদ থাকতে সবচেয়ে ভালো দরজা হচ্ছে ফায়ারপ্রুফ ডোর। অফিস, ফ্ল্যাট, বাসাবাড়ি ও কল-কারখানার অধিকাংশ নিরাপত্তার জন্য এক্সিট ডোর হিসেবে ফায়ারপ্রুফ সিকিউরিটি ডোর ব্যবহৃত হয় বেশি। আগুনে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম এ ডোর। এ ডোরে দেওয়া থাকে একটি আধুনিক হ্যান্ডেল। মাঝখানে দেওয়া থাকে একটি গ্লাস। দরজা হলেও মাঝখানের গ্লাস দিয়ে কল-কারখানার ভেতর ও বাইরে কী হচ্ছে পর্যবেক্ষণ করা যায় সহজেই। 

বাংলাদেশে সিকিউরিটি ডোর

বাংলাদেশের বেশ কিছু কোম্পানি সিকিউরিটি ডোর প্রস্তুত করে থাকে। এর মধ্যে আরএফএল ও আলিবাবার সিকিউরিটি ডোর বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ ছাড়া ওরিয়েন্টাল, ইকো, এএমএস, ব্রাদার, বিটিপি, মোস্তফা, পারটেক্স, ইউনাইটেড, সানি ও স্বপন-এর সিকিউরিটি ডোর বাজারে পাওয়া যায়। এ ছাড়া মেটাল ডোরের চেয়ে দাম একটু কম হওয়ায় সিকিউরিটি ডোর হিসেবে অনেকে অ্যালুমিনিয়াম গ্লাস ডোর, স্টিল সিকিউরিটি ডোর, সলিড উড ডোর, আর্মড ডোর, বুলেটপ্রুফ ডোর ও স্টিল উড ডোরও ব্যবহার করে থাকে।

দরদাম ও অন্যান্য  

সিকিউরিটি ডোর

ফায়ারপ্রুফ সিকিউরিটি ডোর প্রতি স্কয়ার ফুট ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা দরেও বিক্রি হয়। 

প্রাপ্তিস্থান

রাজধানীর উত্তরা, পান্থপথ, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, রামপুরা, নতুনবাজার, বাবুবাজার, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, মালিবাগ, মহাখালী, বেইলি রোড ও বনানী চেয়ারম্যানবাড়িতে এসব সিকিউরিটি ডোর পাওয়া যায়। এ ছাড়া এসব ডোর পাওয়া যায় দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরেও। 
প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১৩০তম সংখ্যা, জুন ২০২১

মোহাম্মদ রবিউল্লাহ
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top