হোম ডেকোরে ইন্টেরিয়র স্টাইল

এমন স্বপ্ন কে না দেখে, যেখানে নিজের আবাসটা হবে মনোরম, সাজানো-গোছানো অন্দরমহল, সবুজ গাছপালায় ভরা বারান্দা, শোবার ঘরটায় ভোরের এক চিলতে রোদের আলো পড়ে করবে গড়াগড়ি! তবে এ জন্য চাই নান্দনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইন। প্রতিটি স্থানকে সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগিয়ে সুন্দর, দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করে তোলাই হচ্ছে ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং। ইন্টেরিয়র ডিজাইন একটি শিল্প, যা আপনার অন্দরসজ্জাকে আগের চেয়ে আরও বেশি সুন্দর ও নান্দনিক করে তুলবে। আর যিনি এ কাজটি সুনিপুণভাবে করেন, তিনিই ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। আপনার অন্দরমহল, অফিস, দোকান, হাসপাতাল, রেস্তোরাঁ, বিউটি পারলারকে থিম বেইজড দৃষ্টিনন্দনভাবে ফুটিয়ে তোলাই একজন দক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের কাজ। প্রতিটি পরিসরকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে ফুটিয়ে তুলতে ইন্টেরিয়র ডিজাইনার গুরুত্ব দিয়ে থাকেন ওই জায়গার স্পেস প্ল্যানিং, কালার স্কিল, ফার্নিচার ডিজাইন, ফেব্রিকস, লাইটিং, ফ্লোরিংয়ের মতো বিষয়ের ওপর। 

যা করেন একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার 

যে ঘরে আপনার বসবাস, সে ঘরের দেয়াল, মেঝে, দরজা, জানালা, আসবাব এমনকি পর্দাটা কেমন হবে, সেই হিসাবটা করেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। এককথায় বলা চলে, ঘরের দেয়ালের রং মানানসই আসবাবের ডিজাইন ও রং থেকে শুরু করে স্বল্প পরিসরের জায়গাকে কীভাবে আরও বেশি করে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে যাবতীয় ডিজাইন ও বাস্তবায়নের কাজটাই ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের। ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং মূলত সৃজনশীল একটি কাজ, যেখানে প্রতিনিয়ত থাকা চাই উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা। অফিস, শোরুম, রেস্তোরাঁ বা বাসার দেয়ালের রং মানানসই আসবাবের ডিজাইন ও রং থেকে শুরু করে স্বল্প পরিসরের জায়গাকে কীভাবে বেশি করে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে যাবতীয় ডিজাইন ও বাস্তবায়ন করাটাই ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের লক্ষ্য।

সাধারণ মানুষের ভাবনায় ইন্টেরিয়র ডিজাইন 

আধুনিক স্থাপনার অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যবর্ধনে অন্যতম ভ‚মিকা রাখছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা। বর্তমানে দেশে অনেক ইন্টেরিয়র ডিজাইন ফার্ম গড়ে উঠেছে, যারা কাজটি করছে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে। কারণ, এ দেশের মানুষ সৌন্দর্যপ্রিয়, তারা চায় নিজের পরিসরটাকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখতে। তবে অনেকের মধ্যেই এখনো ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও ডিজাইনারের ধারণাটি পরিষ্কার নয়। স্কাই-হাই ইন্সটিটিউট অব ডিজাইন- এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্থপতি আসিফ আলি খান মনে করেন, ‘আধুনিক আর আধুনিক অ্যাপার্টমেন্ট-দুটো ক্ষেত্রেই নান্দনিক জীবনযাত্রার চাহিদা অনেক। আমাদের চারপাশের পরিবেশ মাঝেমধ্যে এত গভীরভাবে প্রভাবিত করে যে আমরা তা উপলব্ধি করতে পারি না। নিজেকে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখা বা ঘরের সাজ-সবকিছুতেই আমরা আমাদের পছন্দকে প্রাধান্য দিই। এমনকি নিজের পোশাক থেকে শুরু করে ঘরের সবকিছুতে ব্যক্তিগত পছন্দেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটাই। বহু প্রজন্ম ধরে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ধারণাকে দেখা হয়েছে বেশ জটিলভাবে। বেশির ভাগ মানুষই ভেবে থাকেন যে ইন্টেরিয়র ডিজাইন বা ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ব্যাপারটা বেশ ব্যয়বহুল বা বিলাসী। সম্ভবত এই কারণেই বেশির ভাগ মানুষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনার নিয়োগে অনাগ্রহী। এমনকি বিরত থাকেন বাড়িতে ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং করানো থেকেও। বাড়িটির হয়তো সংস্কার প্রয়োজন, এমন ধারণা থেকেই তাঁরা ইন্টেরিয়র ডিজাইনার নিয়োগে অনুৎসাহী।’

কেন প্রয়োজন দক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের 

সাধারণত ইন্টেরিয়র ডিজাইনার নিয়োগ করা হয় বাড়ির ভেতরে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন সাধনের জন্য। ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা ক্লায়েন্টদের চাহিদা পূরণের জন্য তাঁদের প্ল্যানে বর্তমান সময়ের ইন্টেরিয়র ট্রেন্ডগুলো প্রাধান্য দেন। যাতে করে তাঁদের প্ল্যানগুলো হয় সময়োপযোগী। একজন দক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনার আপনাকে সাহায্য করেন ছিমছাম, আরামদায়ক একটি পরিসর গড়তে। এ ছাড়া ঘরের  ভেতরের স্পেস মোডিফেকশন, লাইটিং কিংবা ফাংশনাল প্ল্যানিং- এসব কাজই ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা করে থাকেন। একজন দক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনার তাঁর ক্লায়েন্টের পছন্দ অনুযায়ী ডিজাইনের মাধ্যমে যে কারও ওপর তাঁর শিল্পকর্মের ছাপ ফেলতে সক্ষম।

আপনি আসলে ব্যক্তি হিসেবে কেমন তার অনেকটাই বলে দেয় আপনার রুচিবোধ আর পছন্দ। একই তত্ত¡ একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য। একজন ডিজাইনার সবাইকে যার যার নিজস্ব পছন্দ ও রুচিবোধ প্রকাশের সুযোগ ঘটান। যেকোনো স্পেসের প্ল্যান থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের কম্পোজিশনের মাধ্যমে নান্দনিক ডিজাইন করে থাকেন একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার, যেটা কিনা কোনো সাধারণ মানুষের চিন্তাধারার মধ্যে নেই। একজন দক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনার আপনাকে যে যে দিকগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিতে পারবেন সেগুলো হলো- 

বাঁচাবে খরচ

আপনি যদি একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনারকে নিয়োগ দেন তাহলে তিনি শুধু আপনার খরচই বাঁচাবেন না বরং আপনার ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবেন। দামি জিনিস কিনলেই যে আপনার অন্দরমহল সুন্দর হবে তা কিন্তু নয় বরং অল্প খরচেই কীভাবে ঘরকে ফুটিয়ে তোলা যায়, সেই পরামর্শই দেবেন একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার।

বাঁচবে সময় 

আপনি একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনারকে নিয়োগ দিচ্ছেন এর মানে আপনার সময়কে বাঁচাচ্ছেন, সাথে পাচ্ছেন একজন দক্ষ ব্যক্তির জ্ঞান, দক্ষতা আর খুচরা বিক্রেতার সন্ধান। আপনি আপনার পছন্দের আসবাব কিনছেন, যা কিনা আপনার ঘরের রং কিংবা বাকি জিনিসপত্রের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ঘরে থাকা আসবাব অনেক ক্ষেত্রে আপনার স্পেসের সাথে অ্যাডজাস্ট হয় না। এ অবস্থায় সেগুলো পুনরায় দোকানে ফিরিয়েও দিতে পারছেন না। একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সবকিছু কল্পনা করতে পারায় আপনার এ ধরনের সমস্যার সমাধান আগে থেকেই করে দিয়ে বাঁচাতে পারেন আপনার মূল্যবান সময়।

ডিজাইন সম্পর্কে আপনি যখন নিশ্চিত নন

আপনি যদি আপনার অন্দরসজ্জার বিষয়ে নিজস্ব পছন্দের বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত না হন কিংবা যদি শুধু আপনার পছন্দের জিনিসগুলোর ব্যাপারে জানেন সে ক্ষেত্রে আপনি একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনারকে নিয়োগ দিতে পারেন। একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার প্রথমে আপনার ব্যক্তিগত পছন্দকে জেনে এরপর তাঁর মূল্যবান পরামর্শ দেবেন আপনার অন্দরমহলকে শৈল্পিক ও নান্দনিকভাবে সাজিয়ে তুলতে। যেহেতু ডিজাইনার এই বিষয়ে দক্ষ, তাই তিনি সহজেই আপনার চিন্তাধারার সঙ্গে একাত্ম হয়ে আপনার মনের মতো করে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করবেন আপনার পছন্দেরই স্পেসটিকে।

এ বিষয়ে লুমিনিয়াম ডেকরের ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সৈয়দা শবনম মুসতারি বলেন, ‘ঘরের একটি অংশ, নাকি পুরোটা ডিজাইনারের পরামর্শ অনুযায়ী সাজাবেন; তা ঠিক করে নিন। ঘরের জন্য কী ধরনের ম্যাটেরিয়াল বেছে নেবেন সেটা একজন ডিজাইনারের সাথে পরামর্শ করে আপনার বাজেটের কথা মাথায় রেখে নির্বাচন করুন। ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে ইন্টেরিয়রে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় না করেও যে আপনার স্বপ্নের অন্দর সাজিয়ে তুলতে পারবেন সে বিষয়ে শতভাগ সাহায্য করবেন একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। ছোট ঘরে ঠিক কোন মাপের সোফা রাখলে ভালো হবে কিংবা ডাইনিং টেবিলটির আকার ও আয়তন কী হবে, এ বিষয়গুলো একটু সূ²ভাবে চিন্তা করলেই ঘরের সাজ বদলে যায়; সেক্ষেত্রে ছোট ঘরও হয়ে ওঠে মনের মতো বিশাল-বিস্তৃত। একটু বুদ্ধি খাটাতে অথবা অভিজ্ঞ নিতে কোনো ইন্টেরিয়র ডিজাইন প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নিতেই পারেন।’ 

স্পেস ম্যানেজমেন্ট

যেকোনো স্পেসকে ডিজাইনের দিক থেকে ফাংশনালি সর্বোচ্চ ব্যবহারের লক্ষ্যেই ইন্টেরিয়র ডিজাইনরা মূলত কাজ করে থাকে। তাই এই স্পেসিংকে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের অন্যতম মৌলিক উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা যেকোনো স্পেস যখন মডিফাই করতে যান, তখন স্বভাবতই কিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। সাধারণত স্পেসকে দুটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়। একটি পজিটিভ অন্যটি নেগেটিভ। পজিটিভ স্পেস হচ্ছে যেখানে কোনো জিনিস বা বন্তু রাখা আছে আর নেগেটিভ স্পেস হচ্ছে জিনিস বা কোনো বস্তুর মাঝের ফাঁকা জায়গা। এই যেমন ধরুন, ঘরের বাকি আসবাব চারদিকে রাখা থাকলেও ঘরের মাঝের জায়গাটা একদমই খালি, এটা এক্ষেত্রে নেগেটিভ স্পেস। পজিটিভ ও নেগেটিভ স্পেসের ভারসাম্য বজায় রেখে নির্দিষ্ট স্পেসের ইন্টেরিয়রটা ডিজাইন করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, ঘরে যদি আসবাব বেশি থাকে এক্ষেত্রে ঘরের ভেতরে হাঁটাচলার জন্য জায়গা খুব বেশি থাকে না। বরং কিছু জায়গায় আসবাবও রাখলেন, যাতে করে ঘরের ভেতর মিনিমাল ভাব থাকে আবার কিছু জায়গা খালিও রাখলেন, যাতে করে ইন্টেরিয়র ফ্যাংশনালিটির জন্য সুযোগ থাকে। অন্যদিকে যদি কেউ ম্যাক্সিমালিটি পছন্দ করেন, এ ক্ষেত্রে এর বিপরীতও করা যেতে পারে।

রঙের সঠিক ব্যবহার

আপনার ঘরের বা কমার্শিয়াল স্পেসের ক্ষেত্রে রং সবিশেষ ভ‚মিকা রাখে। এটা ইন্টেরিয়র ডিজাইনের অন্যতম মৌলিক উপাদান, যা কি না স্পেসটি কত বড় বা ছোট দেখাবে, সেই ধারণার রূপান্তর করার ক্ষমতা রাখে। রঙের পছন্দ সাধারণত একজন থেকে অন্যজনে পরিবর্তিত হয়। অনেকেই আছেন প্রাণবন্ত রং ব্যবহার করতে পছন্দ করেন আবার কেউ কেউ আছেন নিউট্রাল রং পছন্দ করেন। কোন স্পেসের জন্য কোন রং বেছে নেবেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্পেসটি কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার হবে তা আগেই নির্ধারণ করুন। দেয়ালের জন্য গাঢ় রংগুলো বেছে নিলে ঘরের ভেতর একটা গুমোট ভাব বিরাজ করে। অন্যদিকে হালকা রঙের ব্যবহারে ঘরটা বেশ বড় এবং খোলামেলা দেখায়। তাই কোন স্পেসের কোন দেয়ালে কোন রং ব্যবহার করলে ফুটে উঠবে, সেটা একমাত্র দক্ষ একজন ডিজাইনারই ভালো বলতে পারবেন।

হোম ইন্টেরিয়রের যত স্টাইল

একটি নতুন ফ্ল্যাটের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ব্যাপারে ভাবতে গেলে প্রথমেই আসে কোন স্টাইলে ডিজাইনটি হবে। সাধারণত আমাদের দেশে ডিজাইন স্টাইলকে একটু কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এটির গুরুত্ব অনুভব করা যায় যখন আমরা ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করি। ফার্নিচারের কালার কম্বিনেশন, টেক্সার, জানালার পজিশন, লাইটিং ইত্যাদি বিষয়ের সঠিক কম্বিনেশন না হলে একসময় পুরো ঘরের পরিবেশটাই হয়ে যায় উদাসীন আর স্ট্রেসফুল। এ জন্য, আগে থেকেই ডিজাইন স্টাইল সম্পর্কে জানা আবশ্যক। আমাদের এখানে ৪টি স্টাইল বহুল প্রচলিত:

ট্র্যাডিশনাল ইন্টেরিয়র স্টাইল

ট্র্যাডিশনাল ইন্টেরিয়র ডিজাইন মূলত ইউরোপিয়ান ওল্ড-স্কুল স্টাইলের সঙ্গে কাঠের নকশার ব্যবহার থেকে এসেছে। আমাদের দেশে এখনো এই স্টাইলের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই স্টাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘সামঞ্জস্য’ অর্থাৎ সব উপাদান যেমন সোফা থেকে শুরু করে ল্যাম্প এবং অন্যান্য আসবাব জোড়ায় জোড়ায় থাকবে। এ ছাড়া এই স্টাইলের আরও কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন: হেভি-ওয়েট ফার্নিচার ফিটিংস, ক্ল্যাসিক ও এন্টিক আর্ট পিস, ডার্ক কাঠ, বাস্তবধর্মী কালার, স্টাইলিশ আর এলিগেন্ট।

ট্র্যাডিশনাল স্টাইলের উল্লেখযোগ্য কিছু বৈশিষ্ট্য-

  • ক্ল্যাসিক ইউরোপিয়ান স্টাইলের প্রতিচ্ছবি।
  • সম্প্রসারিত মোল্ডিং এবং উড প্যানেলিং।
  • বিল্ট ইন ক্যাবিনেট।
  • এক্সপেনসিভ ফেব্রিক যেমন: সিল্ক, ভেলভেট, কাশ্মীরি এবং কটন ও লিনেনের মতো আরামদায়ক কাপড়।
  • উজ্জ্বল টাইল এবং উডেন ফ্লোর প্যাটার্ন।

মডার্ন ইন্টেরিয়র স্টাইল

প্রথমত, ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ওপর ক্লিন এবং চকচকে একটা বৈশিষ্ট্যই মূলত মডার্ন স্টাইলকে রিপ্রেজেন্ট করে। এই ডিজাইনে বেশির ভাগ গøাস ও স্টিল জাতীয় ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়। এটি দেখতে খুবই সিম্পল তবে খুব সুন্দর। পুরো ডেকোরেশনের মধ্যে আপনি একটা ফ্রেশ লুক পাবেন। যাঁরা ঘরের ইন্টেরিয়র ডিজাইনে একটু পরিবর্তন চান তঁদের অনেকেরই মন জিতে নিতে পারে শুধু এই দুটি বিষয়, মসৃণ এবং ফার্নিচারের ইউনিক ডিজাইন।

মডার্ন ইন্টেরিয়র স্টাইলের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ-

  • বোল্ড কালার কনট্রাস্ট/প্রাথমিক কালারের সাথে সামঞ্জস্যতা।
  • সমতল এরিয়া কার্পেট/জ্যামিতিক প্যাটার্ন।
  • ওপেন ফ্লোর প্ল্যান।
  • মসৃণ এবং ক্লিন লাইন ফার্নিচার।
  • ইনটেনশনাল সামঞ্জস্যহীন ডিজাইন।
  • জিনিসপত্রের সাথে শিল্পের সংমিশ্রণ।

সমসাময়িক/কন্টেম্পরারি ইন্টেরিয়র স্টাইল

অনেকেই মনে করেন কন্টেম্পরারি বা সমসাময়িক ডিজাইন আর মডার্ন স্টাইল একই। কিন্তু বাস্তবে এই দুটি স্টাইল একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিন্তু, ডিজাইনাররা অনেক সময় এই দুটি স্টাইলকে নেগোসিয়েট করে একটি প্যাটার্ন দাঁড় করান। কন্টেম্পরারি ডিজাইন প্রকৃতির সাথে আরও বেশি সম্পর্কিত। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্টাইল এটি, কারণ ট্র্যাডিশনাল স্টাইলের থেকে এখানে খরচ তূলনামূলকভাবে কম।

কন্টেম্পরারি ইন্টেরিয়র স্টাইলের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ-

  • ওপেন স্পেস/ওপেন ফ্লোর প্ল্যান।
  • লে-আউটের ভিন্নতা।
  • প্রাকৃতিক লাইটের ব্যবহার।
  • নিরপেক্ষ কালার।
  • মেটাল পিস-এর ব্যবহার।
  • টেক্সার এবং ন্যাচারাল ফেব্রিক।
  • অত্যন্ত ডার্ক/লাইট কাঠ টোন।
  • লাইটিং ডিজাইনে শৈল্পিক ছোঁয়া।

মিনিমালিস্ট হোম-ইন্টেরিয়র স্টাইল

নামেই স্পস্ট যে মিনিমালিস্ট ইন্টেরিয়র ডিজাইন সত্যিই সিম্পল ও লো-কি। এই ডিজাইনের মূলনীতি হলো Less I- More, তাই এখানে সিম্পল কিছু বিষয় অসাধারণভাবে ডিজাইনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। যদিও টেকনিক্যালি এটি কোনো প্রতিষ্ঠিত ডিজাইন স্টাইল না, কিন্তু এটির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এই ডিজাইন ট্রেন্ড চালু হয়েছে এবং পেয়েছে জনপ্রিয়তা। এটি মূলত সূ² জাপানিজ নকশাকার দ্বারা প্রভাবিত।

মিনিমালিস্ট ইন্টেরিয়র স্টাইলের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ-

  • সিম্পল হোম-ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন।
  • সাদা, কালো এবং প্রাথমিক কালার প্রাধান্য পাবে। কোনো উদ্দীপক কালার কিংবা প্রিন্ট ব্যবহৃত হবে না।
  • রুমের ভেতরে মিনিমাম আসবাব থাকবে।
  • ভেতরের স্পেসে যথেষ্ট বাতাস অতিক্রম করবে।
  • ক্লিন ডিজাইন লে-আউট।

একজন দক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের যা থাকা চাই 

  • একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার তাঁর প্রশিক্ষিত চোখ দিয়ে অনেক কিছু পরিকল্পনা করতে পারেন, তাই আপনার চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে এবং আপনার স্পেসের সঠিক মাপের ওপর ভিত্তি করে সময়োপযোগী ডিজাইনের মাধ্যমে আপনার ফ্ল্যাট, অফিস, রেস্টুরেন্ট বা শো-রুমকে নান্দনিক দৃষ্টিতে সাজিয়ে তুলতে পারেন।
  • একজন দক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনার বাসা বা অফিসের প্রতি ইঞ্চি জায়গা ধরে ধরে কাজ করেন, যাতে কোনো স্পেস অযথা নষ্ট না হয়। যেটা একজন সাধারণ মিস্ত্রি বা টেকনিশিয়ানের পক্ষে সম্ভব নয়।
  • একজন ডিজাইনারকে তাঁর নিজস্ব ডিজাইন ও প্ল্যানিং ছাড়াও এ কাজে জড়িত কাঠমিস্ত্রি, রডমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান- সবার কাজ ভালোভাবে দেখাশোনা করতে হয় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, যাতে কোনো ধরনের ভুল না হয়। যেকোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে ছোট ছোট ভুল ধরা সম্ভব নয়, যা কি না একজন দক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের চোখে পড়ে।
  • একজন উঁচুমানের ইন্টেরিয়র ডিজাইনার তাঁর নিজস্ব স্বপ্ন, কল্পনা, অনুভ‚তি এবং দক্ষতা দিয়ে একটি মলিন নিষ্প্রাণ স্থানকেও করে তুলতে পারেন সজীব, প্রাণবন্ত, প্রশান্তিময় ও শৈল্পিক। 
  • যে ঘরে বসবাস করছেন সে ঘরের দেয়াল, মেঝে, দরজা, জানালা, আসবাব এমনকি পর্দাটাই-বা কেমন হবে, সে হিসাবটা করবেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার।
  • একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনারকে শুধু ক্লায়েন্টের ডিজাইন করে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। প্রজেক্টের ছোটখাটো প্রতিটি জিনিস তাঁর মাথায় রাখতে হয়। পুরো স্পেসের সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি ফার্নিচার কেমন হবে, কোথায় বসবে, তার ডিজাইন কেমন হবে, লাইটিং কেমন হবে, কোথায় কোন রং ব্যবহার করলে মানাবে, এমনকি তাঁকে চারপাশের পুরো পরিবেশকে নিয়েও ভাবতে হবে। ম্যাটেরিয়ালস সম্পর্কেও থাকতে হয় পরিষ্কার ও স্বচ্ছ ধারণা।
  • সবুজ ভাবনায় যাঁরা উৎসাহী, তাঁরা বাসগৃহ ও কর্মস্থানে কীভাবে গাছপালা ব্যবহার করবেন, তা ওই ডিজাইনার সুন্দর সমাধান করে দেন।
  • একজন দক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনারই ম্যাটেরিয়ালের সঠিক ব্যবহার করতে পারেন। কোন স্থাপনার জন্য কোন ম্যাটেরিয়াল মানাবে, তাও সঠিকভাবে নির্ধারণ করবেন। পাশাপাশি ম্যাটেরিয়ালসের কোয়ালিটিও নিশ্চিত করা তাঁর কাজ। 

অবসর যেকোনো সময়ে কিংবা কাজের ফাঁকে নিত্যনতুন রুচিশীল, আকর্ষণীয় ডিজাইন উদ্ভাবনে একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সদা নিমগ্ন থাকেন। ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে গেলে শুধু কাক্সিক্ষত ডিজাইন এঁকে দেওয়াটাই যথেষ্ট নয়, বরং একজন ডিজাইনারকে তাঁর নিজস্ব ডিজাইন ও প্ল্যানিং ছাড়াও ক্লায়েন্টের পছন্দ-অপছন্দকে মাথায় রেখে এ কাজের সঙ্গে জড়িত কাঠমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান-সবার কাজ ভালোভাবে দেখভাল করতে হয় শুরু থেকে শেষ অবধি। একজন দক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনার তাঁর নিজস্ব স্বপ্ন, কল্পনা অনুভ‚তি দিয়ে একটি মলিন, নিষ্প্রাণ স্থানকেও করে তুলতে পারেন সজীব, প্রাণবন্ত, প্রশান্তিময়, দৃষ্টিনন্দন ও আর্কষনীয়।
প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১২৪তম সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০২০

ফারজানা গাজী
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top