প্রকৃতি আর সবুজ আমাদের প্রাণের উৎস। পরিবেশ বাঁচাতে পৃথিবীজুড়েই এখন সবুজ আন্দোলনের হাওয়া। প্রযুক্তি থেকে ফ্যাশন সর্বত্রই চেষ্টা চলছে ইকো-ফ্রেন্ডলি পরিবেশ তৈরির। তাই স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি তৈরি বা ঘর সাজাতে গুরুত্ব পাচ্ছে ‘গ্রিন ডিজাইন’-এর ওপর। অর্থাৎ বাড়ি তৈরি বা বাড়ি সাজানোর সময় যতটা সম্ভব পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। ইকো-ফ্রেন্ডলি সামগ্রী দিয়ে বাড়ি তৈরি করলে বা ঘর সাজালে যে খরচ বেশি পড়বে তা একেবারেই ঠিক নয়। আর শুধু ঘর সাজানো বা বাড়ি তৈরির সামগ্রী নয়, বাড়ির ডিজাইনও এমন হবে, যাতে প্রাকৃতিক শক্তিকে যতটা সম্ভব কাজে লাগানো যায়। তাই আপনিও যদি আপনার বাড়ি তৈরির সময় ‘গ্রিন ডিজাইন’ ফলো করতে চান, তাহলে কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখলেই যথেষ্ট। কিন্তু তা আমাদের ইন্টেরিয়রে কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, তার আদ্যোপান্তই এ রচনার প্রতিপাদ্য।
পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে সবারই সচেতনতার প্রয়োজন। বাড়ি বানানোর কথা বললেই তো আর হলো না, এর জন্য প্রয়োজন পূর্বপ্রস্তুতি। একটা পরিপূর্ণ পরিকল্পনার ছাপ থাকতে হবে নকশায়। শীত ও গরম দুই কালের কথা মাথায় রেখেই সাজাতে হবে পরিকল্পনা। গরমের দিনে ঘর হতে হবে ঠান্ডা আর শীতে ঘরে থাকবে উষ্ণতা। এই সুযোগ-সুবিধা ঠিক রেখে বাসস্থানে সবুজায়নও নিশ্চিত করা সম্ভব। এ জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সূর্যের আলো, বৃষ্টির পানি, গাছের ছায়া, দক্ষিণা হাওয়া সব কিছুইকেই সমান গুরুত্ব দিয়েই নির্মাণ করতে হবে স্থাপনা। পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে কমাতে হবে কার্বন ফুটপ্রিন্ট। আর তা হতে হবে স্থাপনার অন্দরে ও বাইরে সমানভাবে।
স্থাপনা নির্মাণের আগে
বাড়ি নির্মাণের প্রথম শর্তই জায়গা নির্বাচন। পশ্চিম দিকে মুখ করে বাড়ি না বানানোই ভালো। এতে আপনার ঘর ঠান্ডা থাকবে। জ্বালানিসাশ্রয়ী বাতি, ফ্যান ইত্যাদি জিনিসপত্র ব্যবহার বাড়াতে হবে। একটি বাতি লাগানোর আগেই এর জ্বালানি খরচ মাথায় রাখতে হবে। একইভাবে চুলা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো আগেভাগেই ঠিক করে নিলে পরে আর সমস্যা হবে না। সবুজ বাড়ি গড়ে তোলার এটাও একটি অংশ। যদি লক্ষ্য হয় বাড়ির সবুজায়ন, তাহলে শুরু থেকেই বাড়ি তৈরিতে বেছে নিতে হবে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, যা আপনার নির্মাণের ক্ষতিকর প্রভাবও কমিয়ে আনবে, কমাবে পরিবেশদূষণ। বাড়ির ছাদ, মেঝে, কেবিনেটসহ ঘরের প্রতিটি অংশই হতে হবে ইকো-ফ্রেন্ডলি, ধ্বংসযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহারও হতে পারে কমবেশি। তবে সবুজবান্ধব ও নবায়নযোগ্য সামগ্রীর ব্যাপারে যত্নবান হতে হবে সর্বাগ্রে।
আড়াআড়ি জায়গায় বাড়ি বানালে গরম ও শীত দুইসময়েই সমানভাবে সুবিধা পাবেন। গরমের দিনে সূর্যের আলো সরাসরি ঢুকতে পারবে না ঘরে। আর শীতে সূর্যের আলো পড়বে ঘরে। ভাবছেন কীভাবে? বাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে গাছ লাগাতে হবে। গরমের দিনে গাছের পত্রপল্লবে জানালা দিয়ে সূর্যের তাপ ও আলো ঘরে পৌঁছাবে না। আর শীতে ঝরে পড়বে গাছের পাতা। তখন সহসাই ঘরে আসবে গাছের পাতা। ফলে গরমে আপনার ঘর থাকবে ঠান্ডা। আর শীতে থাকবে উষ্ণ। প্রকৃতির এই সুবিধা পেতে হলে বাড়িটা বানানো চাই আড়াআড়ি জায়গায়।
ইট
খুব ভালো মানের ইট ব্যবহার করা যেতে পারে বাড়ি তৈরিতে। মানসম্মত ইট হলে অনেক সময় দেয়ালে প্লাস্টার করার দরকার পড়ে না। সেই দেয়ালটি আপনি বাড়ির সৌন্দর্যবর্ধনে কাজে লাগাতে পারেন। আজকাল ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ক্ষেত্রে ব্রিক ওয়াল অনেকের পছন্দের তালিকায়। প্রচলিত ইট ছাড়াও হলো ব্রিক বা সিরামিক ইটও স্থাপনায় ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া হলো ব্রিক ব্যবহার করে ঘরে শীতল পরিবেশ বজায় রাখতে পারেন। কারণ, এ ব্রিক বাইরের তাপ প্রবেশে বাধা দেয়। এতে বিদ্যুতের ব্যবহারও কমে।
আলো
বর্তমানে বাজারে নানা রকম এলইডি বাল্ব পাওয়া যায়, যা দামে সহজলভ্য, দীর্ঘস্থায়ী ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী। এগুলো বিভিন্ন ওয়াট আর রঙের হয়ে থাকে। তবে লক্ষ রাখবেন, এক জায়গায় অতিরিক্ত আলো চোখের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই উচিত কম ওয়াটের বেশিসংখ্যক আলো ব্যবহার করা। ইলেকট্রিসিটি বোর্ডের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী একাধিক কানেকশন করে রাখুন। তবে খেয়াল রাখবেন, ইলেকট্রিকের সরঞ্জামগুলো যেন হয় উন্নতমানের। পরিবেশবান্ধব আলোর সবচেয়ে ভালো উৎস হলো সূর্যের আলো, যেটা দিনের বেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘরে ঢুকতে পারে। আজকাল অনেক বাসাবাড়িতে স্কাই লাইট আর ওপেন শেডের ব্যবহার হচ্ছে, যা কি না পরিবেশবান্ধব আলোকসজ্জার জন্য অনেক উপযোগী একটি পদ্ধতি। এর মাধ্যমে পাওয়া যাবে অধিক আলো কিন্তু বিদ্যুৎ খরচ হবে খুবই কম।
জানালা রাখুন পর্যাপ্ত
বাড়ি তৈরির সময় খেয়াল রাখুন ঘরে যেন কমপক্ষে দুটি জানালা থাকে। যার ফলে আলো-বাতাস সহজেই ঢুকতে পারবে। যদি ফ্ল্যাট কেনেন আলাদা করে কনস্ট্রাকশন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রাখুন আগে থেকে। এতে সুবিধা হবে। বাড়িতে জানালা বেশি থাকা মানে প্রাকৃতিক আলো-হাওয়া খেলা করার সুযোগ করে দেওয়া।
রান্নাঘর
ইকো-ফ্রেন্ডলি করতে গেলে সব দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন। রান্নাঘরে এমন কিছু জিনিস রাখুন, যাতে তা একাধারে আপনার বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে, অন্যদিকে বজায় রাখবে সৌন্দর্য। একালে মডিউলার কিচেনের প্রচলনই বেশি। বিশেষ করে রান্নাঘরে যাতে ধোঁয়া কম পরিমাণে হয় তার চেষ্টা করুন। তার জন্য ইনডাকশন কুকিং ওভেন ব্যবহার করুন। এ ছাড়া টোস্টার, মাইক্রো ওভেন বা ফ্রিজ তো রয়েছেই।
এসব ইলেকট্রনিক জিনিস কেনার সময় একটু দেখে নিন। তা যেন অধিক স্টারযুক্ত (যেমন ফাইভ স্টার বা থ্রি স্টার) হয়। তাহলে তা অনেকটা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। এ ছাড়া রান্নাঘরে ফসেট যেন উন্নতমানের হয়। কিচেন গেজেটগুলো কোনটা কোথায় রাখলে ভালো হয় সেটা কেবিনেট তৈরির আগেই একজন দক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। কিচেন কেবিনেট করার সময় ইকো-ফ্রেন্ডলি মেটেরিয়ালস ব্যবহার করুন। রান্নাঘরকে পোকামাকড় থেকে মুক্ত রাখতে তুলসীগাছ রাখুন রান্নাঘরের এক কর্নারে। কিচেন কেবিনেট ডিজাইন করার সময় কিছু কিছু জায়গায় গ্যাসের ব্যবহার পরিবেশবান্ধব বাড়ি বানাতে সহায়তা করবে।
স্থানীয় ও ইকো-ফ্রেন্ডলি উপাদান ব্যবহার
বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব চেষ্টা করুন স্থানীয় উপাদান ব্যবহার করার। যেকোনো দেয়ালকে একটি ভিন্ন আমেজ দিতে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের জুড়ি নেই। ফ্লোরের ক্ষেত্রে মার্বেল, লেমিনেটিং উড ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন ইকো-ফ্রেন্ডলি আবহাওয়া তৈরি করতে। অন্যান্য পরিবেশবান্ধব সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে-
- কাঠ
- বাঁশ
- বেত
- পাট
- গ্যাস
- চামড়া
- মাটির তৈজস ও পটারি
- হ্যান্ডমেইড পেপার
- ন্যাচারাল ফেব্রিক ইত্যাদি।
অন্দরসজ্জায় সফসটিকেট লুক আনতে লেদারের সোফার বিকল্প নেই। ডুপ্লেক্স বাড়ির আভিজাত্য বাড়াতে কাঠ ও গ্যাসের সমন্বয়ে সিঁড়ি তৈরি করা যেতে পারে। আজকাল কাঠের আসবাবের সঙ্গে দড়ি, বাঁশ, বেত ব্যবহার করে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে। কার্পেটের বিকল্প হিসেবে মাদুর বা শীতল পাটির ব্যবহার যেন আজকাল অন্দরসজ্জার নান্দনিক এক অংশ। ওয়াল ক্লাডিংয়েও ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ, কাচ, শীতল পাটি মাধ্যমে। হ্যান্ডমেইড পেপার দিয়ে তৈরি করুন নানা রকম ল্যাম্পশেড। বিভিন্ন সামুদ্রিক উপাদানকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করতে পারেন নান্দনিক আয়না আর ঘরের বিভিন্ন রকম শোপিস। মাটির টব, পটারি, থালাবাসন, শোপিসও ইকো-ফ্রেন্ডলি অন্দরসজ্জায় সহায়ক। দেয়ালে টেরাকোটার কাজ শৈল্পিক ছোঁয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ইন্টেরিয়রের জন্য আদর্শ।
রিসাইকেল উপাদান
যাঁরা নতুন ফ্ল্যাট কিনেছেন, ভাবছেন পুরোনো আসবাব কী করবেন, সে ক্ষেত্রে ঘর সাজানোর জন্য খুব সহজেই রিসাইকেল উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন পুরোনো আসবাব ফেলে না দিয়ে নতুন করে বানিয়ে নেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
রং
রং হলো অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। অন্দরে বা বাইরে রং করার ক্ষেত্রে হালকা রং (সাদা, ক্রিম, হালকা নীল, হালকা হলুদ, অফহোয়াইট প্রভৃতি) বেছে নেওয়াই ভালো। কারণ, হালকা রং কম তাপ শোষণ করে পরিবেশ শীতল রাখে। একটা সময় ছিল যখন ঘর রং করার সময় লাইম ওয়াশ করা হতো। এখন তা হয় না বললেই চলে। বাজারে চলতি পেইন্টের চেয়ে লাইম ওয়াশ অনেক ইকো-ফ্রেন্ডলি। আসবাবের ক্ষেত্রেও রঙের দেয়াল দিয়ে আসবাব বা পর্দায় প্রিয় রং ব্যবহার করতে পারেন।
উডেন ফ্লোর বা কাঠের মেঝে
সাধারণত আর্টিফিসিয়াল ও ন্যাচারাল এ দুই ধরনের উডেন ফ্লোরের প্রচলন রয়েছে। এমডিএফ বোর্ডের ওপর লেমিনেট করে উডেন ফ্লোর বাজারে পাওয়া যায়। দেখতে সলিড উডের মতো মনে হলেও এটি মূলত আর্টিফিসিয়াল উডেন ফ্লোর। আর্টিফিসিয়াল উডেন ফ্লোরের দাম তুলনামূলক কম। তবে উডেন ফ্লোর বলতে মূলত সলিড উডেন ফ্লোরকেই বোঝায়। যেমন- বার্মাটিক উডেন ফ্লোর, ওক ভিনিয়ার উডেন ফ্লোর, লোহা কাঠের উডেন ফ্লোর ইত্যাদি। কাঠের গুণাগুণের ওপর নির্ভর করে উডেন ফ্লোরের স্থায়িত্বকাল। আমাদের দেশে বেশি পরিমাণে কাঠ পাওয়া যায় আম, মেহগনি, শীলকড়ই ইত্যাদি। এসব কাঠ যদি ভালোমতো সিজনিং ট্রিট করা যায়, তাহলে টেকসই হয় ভালোই। উডেন ফ্লোর ফিটিং করার পর শিরিষ পেপার দিয়ে ভালোভাবে ঘষে পলিশ করতে হয়। পলিশ করলে উডেন ফ্লোর দেখতে সুন্দর ও ঝকঝক করে। সম্প্রতি আলট্রা ভায়োলেট কোটিং ব্যবহার শুরু হয়েছে।
বাঁশ ও বেত
বাড়িতে বাঙালি কনসেপ্টের সঙ্গে বাঁশ ও বেতের দোলনা বেশ মানানসই। এসব দোলনার সুবিধা হলো নানা আকৃতির ও হরেক রকমের পাওয়া যায়। চারকোনা, গোল আকৃতির, ছোট, বড়, মাঝারি সব ধরনের বেতের দোলনাই পাবেন বাজারে। মোটা থেকে সরু বিভিন্ন ধরনের বেত দিয়ে ডিজাইন করা হয়। বেশির ভাগ দোলনার স্ট্যান্ড থাকে। তবে স্ট্যান্ড ছাড়া ঝুলন দোলনাও পাওয়া যায়। এ ধরনের দোলনা একজনের বসার উপযোগী।
শীতল পাটি
শীতল পাটি মেঝেতে পাতার মতো একধরনের আসন। আজকাল শীতল পাটি অন্দরসজ্জার বিরাট এক অংশ। ফলস সিলিং, বিছানার হেড রেস্ট, কেবিনেটের পাল্লা সব জায়গায় কাঠের সঙ্গে শীতল পাটির সংযোজন করে ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা দিচ্ছেন নতুন এক নান্দনিক রূপ। এ পাটি শীতল, মসৃণ ও আরামদায়ক বলে সর্বত্র আদৃত।
ইনডোর প্লান্টস
আপনার বারান্দায়, ছাদে বা বাগানে কিছু গাছ রাখতে পারলে তো কথাই নেই। ইট সিমেন্টের চার দেয়ালের মাঝখানে এই যুগে এই ইনডোর প্লান্টস আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে সবুজের ¯িœগ্ধতায়। ছাদে সবুজের ছড়াছড়ি মনে এনে দেয় প্রশান্তি। আজকাল অনেকেই ছাদের বাগানে বিভিন্ন ধরনের গাছ ড্রামে, টবে লাগিয়ে বাড়ির ভেতর বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। স্থাপনার দেয়ালে লতা বট লাগিয়ে পুরো বাড়িটি ঘিরেই গড়ে তুলতে পারেন সবুজ বলয়, যা গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষা করবে।
প্রয়োজনীয় টিপস
- পরিবেশবান্ধন স্থাপনা ডিজাইনের জন্য একজন দক্ষ স্থপতি, নির্মাণের জন্য অভিজ্ঞ প্রকৌশলী এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইনের জন্য একজন সুদক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের পরামর্শ নিন।
- ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী কেনার আগে কম ওয়াটের বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ডিভাইস ও উপকরণ কিনুন।
- মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার এবং কাস্টমাইজ ফার্নিচার তৈরি করুন, যাতে জায়গা কম লাগে এবং বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
- বাঁশ ব্যবহারের আগে তা ভালোভাবে রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট করে নিলে তা হবে দীর্ঘস্থায়ী।
- এয়ারকন্ডিশনের ব্যবহার কম করাই ভালো। কারণ, তা স্বাস্থ্য এবং ত্বকের পক্ষে ভালো নয়।
- সবচেয়ে ভালো হয় একজন প্রফেশনাল সুদক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনার দিয়ে আপনার স্থাপনা সাজালে, সাধারণত তাঁরা বর্গফুট হিসেবে কাজ করে থাকেন। ইন্টেরিয়র ও অন্যান্য উপকরণের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত তাঁরা প্রতি বর্গফুট কাজের জন্য উপকরণ খরচসহ ৩০০-৭০০ টাকা সম্মানী নিয়ে থাকে।
দরদাম
| নির্মাণ উপকরণ | পণ্যের ধরন | দাম (টাকা) | মন্তব্য |
ইট | ১ নম্বর | ১০,০০০ | পরিবহন খরচ বাদে |
| ২ নম্বর | ৮,০০০-৯,০০০ | ||
| অটো ব্রিকস (গ্রেড-১ সলিড) | ১১,০০০ | ||
| গ্রেড-২ সলিড | ৯,০০০-১০,৫০০ | ||
| থ্রি হোল | ১৫,০০০-১২,৫০০ | ||
| টেন হোল | ১৪,০০০-১৭,০০০ |
| নির্মাণ উপকরণ | পণ্যের ধরন (প্রতি বর্গফুট) | দাম (টাকা) | মন্তব্য |
মার্বেল পাথর | ইতালিয়ান | ৫০০-১,২৫০ | ব্র্যান্ডের মধ্যে অরোরা, বায়ালজ জিন, রোজালিয়া লাইট, মাসাকারার, সিলভার নোভা জনপ্রিয় |
| ইন্ডিয়ান | ১৫০- ৮৫০ | ||
| নরওয়ে | ৫৫০-১,৩৫০ |
| নির্মাণ উপকরণ | পণ্যের ধরন (প্রতি বর্গফুট) | দাম (টাকা) | মন্তব্য |
গ্রানাইট পাথর | ইন্ডিয়ান নরমাল | ৬০০-৭৫০ | ব্র্যান্ডের মধ্যে সিলভার পার্ল, সার্ফ হোয়াই, জাফরানা, মার্সেল এস, কারারা সিলেট ইত্যাদি বেশ পরিচিত |
| হেভি গ্রানাইট | ১,০৫০-১,৩৫০ | ||
| ইতালিয়ান | ৯৫০-১,২৫০ | ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাক পার্ল, ইমারেল পার্ল, ব্লু পার্ল ইত্যাদি | |
| চায়না | ৯০০-১,০৫০ | ||
| নরওয়ে | ৯০০-১,৭৫০ |
| নির্মাণ উপকরণ | পণ্যের ধরন (প্রতি ঘনফুট/ সি.এফ.টি) | দাম (টাকা) | মন্তব্য |
| কাঠ (সেগুন, গর্জন, মেহগনি, গামারী, গজারী, শিলকড়ই ইত্যাদি) | সেগুন (চট্টগ্রাম) | ৩,৫০০-৪,৫০০ | কাঠের মানের ওপর নির্ভর করেই আসবাবের দাম কম-বেশি হয়। যেকোনো কাঠ দিয়েই ফার্নিচার বানান অথবা ঘরের ফলস সিলিং, ওয়াল ক্ল্যাডিং ইত্যাদির মজুরি নির্ভর করবে ডিজাইনের ওপর। |
| গামা | ১,২০০-১,৮০০ | ||
| মেহগনি | ১,৮০০-২,৫০০ |
| নির্মাণ উপকরণ | পণ্যের ধরন | দাম (টাকা) | মন্তব্য |
| শীতল পাটি | সাধারণ (২০-২১ হাত) | ৪০০-১,৫০০ | পাটির বেত যত চিকন দাম তত বেশি। কাঠ বা বোর্ডের সঙ্গে এটাকে মিক্স ও ম্যাচ করে তৈরি করলে প্রতি বর্গফুটের দাম পড়বে কী কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে। |
| সুনামগঞ্জের নকশি পাটি | ৫,০০০-১,৫০০০ |
| নির্মাণ উপকরণ | পণ্যের ধরন | দাম (টাকা) | মন্তব্য |
বাঁশ-বেত | সাধারণ বাঁশ | ৫০০-২,০০০ | বাঁশ ও বেতের আসবাবের দাম নির্ভর করে সাইজ, ডিজাইন ও কাঁচামালের কোয়ালিটির ওপর। |
| খাট ও ডিভান | ৫,০০০-২৫,০০০ | ||
| ওয়ার্ডরোব | ১৫,০০০-২৫,০০০ | ||
| সোফার সেট | ১৫,০০০-২ লাখ | ||
| ডাইনিং টেবিল | ১৫,০০০-৪০,০০০ | ||
| দোলনা | ৩,০০০-৬,০০০ | ||
| মোড়া | ৫০০-১,৫০০ | ||
| ফ্রুট বাস্কেট ও ডালা-কুলার | ৫০০-২,৫০০ | ||
| শো-পিস ও ল্যাম্পশেড | ৩০০-২,০০০ |
| নির্মাণ উপকরণ | পণ্যের ধরন | দাম (টাকা) | মন্তব্য |
| উডেন ফ্লোর বা কাঠের মেঝে | সলিড উডেন ফ্লোর | ৫০০-২,০০০ | |
| আর্টিফিসিয়াল উডেন ফ্লোর (ফিটিং চার্জসহ) | ১৮০-২৩০ |
কোথায় পাবেন
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই স্থাপনা নির্মাণের নানা সামগ্রী পাওয়া যায়। তবে পরিবেশবান্ধব ইন্টেরিয়র ও এক্সটেরিয়র সামগ্রী কিনতে হলে আপনাকে বিশেষ কিছু জায়গায় যেতে হবে। ইটের জন্য সরাসরি ভাটায় বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে সিরামিকস ইটের ক্ষেত্রে মিরপুর ও খাদিম সিরামিকস, মীর ব্রিকস বা অন্য প্রতিষ্ঠানের ইট সংগ্রহ করতে পারেন। হাউসিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্স ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই) থেকে হলো ব্রিকসের ধারণা নিতে পারেন।
রাজধানীর কল্যাণপুর, যাত্রাবাড়ী, মেরাদিয়া, উত্তরা, বাড্ডা, মিরপুরহ বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করতে পারেন দেশীয় উপকরণ বাঁশ। তা ছাড়া দেশের সবখানেই পাওয়া যায় এ উপকরণটি। ঢাকার পান্থপথে পাবেন নানা রকম বেত ও বেতের সামগ্রী। এ ছাড়া রোকেয়া সরণিতেও মিলবে বেতের আসবাব। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক)-এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও সংগ্রহ করতে পারেন বেত সামগ্রী। প্রকৃতপক্ষে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা থেকেই বেত সংগ্রহ করা হয়।
বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানে মিলবে হরেক রকম ইন্টেরিয়র পণ্য। এ ছাড়া বাংলা মোটর, হাতিরপুল, মোহাম্মদপুর, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে পাবেন এসব সামগ্রী। ঘর সাজানোর শো-পিস কিনতে চাইলে যেতে হবে বিভিন্ন কারুপণ্যের দোকানে। দোয়েল চত্বর, নিউমার্কেট, মিরপুর এর আদর্শ স্থান। এ ছাড়া ব্র্যান্ড শপ আড়ং, যাত্রা, আইডিয়াস, সোর্স ও অন্যান্য দোকানে পাবেন শো-পিস, ল্যাম্পশেড, মাটির টব, পটারি, থালাবাসন, টেরাকোটা ও ইকো-ফ্রেন্ডলি অন্দরসজ্জার সহায়ক অনুষঙ্গ। তবে কোথায় কী পাওয়া যায় না যায় এত সাতপাঁচ না ভেবে একজন ভালো ইন্টেরিয়র ডিজাইনার নিয়োগ করলে সব ভাবনা চলে যাবে তাঁর কাঁধে। আপনি শুধু বলবেন অন্দরে শৈল্পিকতার ছোঁয়ার পাশাপাশি চাই পরিবেশবান্ধব ইন্টেরিয়র অনুষঙ্গ।
চিফ অপারেটিং অফিসার
ইকো ইনোভেটরস
প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১০২তম সংখ্যা, অক্টোবর ২০১৮