যাচাই করে পণ্য কিনুন

আগে সুপ্রশস্ত ব্রহ্মপুত্র নদের উপনদী ছিল মেঘনা। কালের বিবর্তনে এ নদ-নদীর মোহনায় সৃষ্টি হয়েছে বিশাল বালুকাময় চর। ধীরে ধীরে সেখানে বসত গড়ে মানুষ; গড়ে ওঠে বাজার। দেশ-বিদেশের বণিকদের ভিড় বাজারটিতে। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ভৈরববাজার পরিণত হয় বিরাট এক সমৃদ্ধ নদীবন্দরে। ফলে ব্যাপক প্রসার ঘটে ব্যবসা-বাণিজ্যের। পরে সড়ক ও রেলপথ গড়ে ওঠায় এক সমৃদ্ধশালী জনপদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় ভৈরব। কালের বিবর্তনে এ জনপদটি তার অতীত গৌরবকে অবলম্বন করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়েছে। কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এই ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান ‘হাজী মো. কালু মিয়া এন্টারপ্রাইজ’ স্থানীয় পর্যায়ের স্বনামধন্য নির্মাণপণ্য বিক্রি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হাজি মো. আসাদ উল্লাহ। তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম তাঁর অনন্য দক্ষতায় অর্জন করেছেন অভাবনীয় সাফল্য। তাঁর অন্য দুই ভাই মো. ফজলুল কবির ও হাজি আব্দুল্লাহ আল মামুন ব্যবসার পরিসর বাড়াতেও রেখেছেন সবিশেষ ভূমিকা। ভাইদের এমন সম্মিলিত প্রয়াসে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি হয়ে উঠেছে ভৈরবের অনন্য এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বন্ধন-এর নিয়মিত আয়োজন ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’ পর্বে এবার জানাব ব্যবসায়ী ভ্রাতদ্বয়ের সফলতার রহস্য। সঙ্গে ছিলেন আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির আঞ্চলিক জ্যেষ্ঠ বিক্রয় কর্মকর্তা এনামুল হক।

ভৈরবের সুপ্রাচীন ইতিহাসের মতো এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাসও বেশ গৌরবোজ্জ্বল। সিমেন্ট, রড, টিন, রং, প্লাস্টিক দরজা, হার্ডওয়্যার সামগ্রীসহ নানা নির্মাণ উপকরণে সাজানো দোকানটি এলাকায় অত্যন্ত সুপরিচিত। কারণ, প্রতিষ্ঠানটির নামের অধিকারী ব্যক্তি মরহুম হাজি মো. কালু মিয়া ছিলেন এলাকার অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কর্ণধারদ্বয়ের দাদা। তিনি ছিলেন ভৈরব উপজেলা পরিষদের প্রথম এবং পরপর তিনবারের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান। অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কালিকাপ্রসাদ উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতাসহ সামাজিক নানা কাজে ছিল তাঁর সরব পদচারণ। ব্যবসাজগতেও তাঁর পদচারণ ও সাফল্য ছিল ঈর্ষণীয়। টিন, রড, সিমেন্ট ও সুপারির ব্যবসা করতেন তিনি। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই ২০১০ সালে কালিকাপ্রসাদ বাজারে একটি নির্মাণপণ্য প্রতিষ্ঠান এবং পরে আকবরনগর বাসস্ট্যান্ডে আরও একটি সিমেন্ট শোরুম গড়ে ওঠে, যার নামকরণ করা হয় তাঁরই নামে।

ব্যবসার শুরুর দিক থেকেই এ নির্মাণপণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠানটিতে বিক্রি হচ্ছে আকিজ সিমেন্ট। অল্প সময়ে পণ্যটি বিক্রিতে অত্র এলাকার হয়ে ওঠেন সেরা বিক্রেতা। বর্তমানে এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি অকিজ সিমেন্ট কোম্পানির কিশোরগঞ্জ টেরিটরির এক্সক্লুসিভ রিটেইল ও অন্যতম সেরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি আকিজ সিমেন্ট বিক্রিতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে। এ ছাড়া বিগত বছরগুলোতেও সেরা পাঁচ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম এটি। এমন সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে পেয়েছেন এসি, এলইডি টিভি, ট্যাব, মোবাইল ফোন, ডিনার সেট, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ নানা উপহার সামগ্রী। এ ছাড়া প্রতিবছর কোম্পানির দেওয়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় পেয়েছেন মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অন্যান্য দেশ ভ্রমণের অফার।

ব্যবসায়ী মো. কামরুল ইসলামই মূলত এ প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তি। ব্যবসার পরিসর বাড়ানোই যাঁর সার্বক্ষণিক ভাবনা। সব সময়ের ব্যস্ততা ব্যবসাকে ঘিরেই। ক্রেতা বাড়ানো, বিভিন্ন নির্মাণ সাইট পরিদর্শন, কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন ও পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করাই তাঁর অন্যতম কাজ। বড় ভাই মো. ফজলুল কবির রয়েছেন ব্যবসায় সমন¦য়কারীর ভূমিকায়। রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজে ব্যস্ত থাকায় খুব বেশি সময় দিতে পারেন না। ছিলেন কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান। দ্বিতীয় সহোদর হাজি আব্দুল্লাহ আল মামুন সার্বক্ষণিকভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সময় দেন। ক্রেতাকে পণ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিয়ে ও বুঝিয়ে বিক্রির ধারা অব্যাহত রাখেন। এভাবেই তাঁদের সম্মিলিত পরিশ্রম, মেধা, সঠিক ওজন, লেনদেনে স্বচ্ছতা, গুণগতমানের পণ্য বিক্রি ও ব্যাপক পরিচিতি নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে ব্যবসার পরিসর। 

এ ব্যবসায়ী সহোদরের বাবা হাজি মো. আসাদ উল্লাহ ও মা ফিরোজা বেগম। তাঁদের বাবাই মূলত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী। এ ছাড়া তিনি বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটির নির্বাহী সদস্য। ব্যবসাটির পরিচালক মো. কামরুল ইসলামের জন্ম ১৯৮৯ সালের ১০ জুলাই কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কালিকাপ্রসাদে। বিয়ে করেছেন ২০১৬ সালে। তাঁর সহধর্মিণী মিসেস মার্জিনা আক্তার। তাঁদের সুখের সংসারে এক ছেলে আমিনুল ইসলাম সাদ, বয়স আট মাস। তাঁর অন্য দুই ভাই জোবায়ের আহমেদ সৌদিপ্রবাসী ও ছোট ভাই মো. ইয়াসিন মাদ্রাসা থেকে নুরানি পাস করেছে।

কালিকাপ্রসাদে গড়ে উঠছে এক শিল্পনগরী। এটি চালু হলে এলাকায় ঘটবে ব্যাপক উন্নয়ন। এই উন্নয়নে অংশীদার হয়ে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হতে চান সফল এ ব্যবসায়ীদ্বয়। নির্মাণপণ্য ব্যবসাটিকে স্থানীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত পরিসরে বাড়াতে চান তাঁরা। 

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৯৮তম সংখ্যা, জুন ২০১৮।

মাহফুজ ফারুক
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top