মানবসৃষ্ট বিস্ময়কর যত স্থাপনা

স্কাইডেক

উইলিস টাওয়ার, যার অপর নাম সিয়ার্স টাওয়ার, ১১০ তলা উচ্চতাবিশিষ্ট আকাশচুম্বী এক অট্টালিকা। এটির অবস্থান আমেরিকার শিকাগোর ইলিনয়সে। সুউচ্চ এই ইমারতের উচ্চতা ১৪৫০ ফুট বা ৪৪২.১ মিটার, যা ১৯৭৩ সালে নির্মাণের পরপরই নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উচ্চতাকে অবলীলায় পেরিয়ে পৃথিবীর সেরা কয়েকটা উচ্চতাসম্পন্ন ইমারতের মধ্যে একটিতে পরিণত হয়। সিয়ার্স টাওয়ার আমেরিকার সর্বোচ্চ উচ্চতাবিশিষ্ট আর পৃথিবীর ১৬তম সুউচ্চ টাওয়ার, যার স্থপতি বাংলাদেশের ফজলুর রহমান খান।

উইলিস টাওয়ারের ১০৩ তলায় রয়েছে অনন্য এক ডেক। উইলিস টাওয়ারের অবজারভেশন এই ডেকের আরেক নাম স্কাইডেক। ২২ জুন ১৯৭৪ সালে এটি ঠিক ১৩৫৩ ফুট (৪১২.৩ মিটার) উচ্চতায় তৈরি করা হয়। মানবসৃষ্ট কয়েকটি বিস্ময়কর স্থাপনার মধ্যে অন্যতম এই স্কাইডেক। এটি আমেরিকার সর্বোচ্চ উচ্চতাবিশিষ্ট অবজারভেশন ডেক, যা শিকাগোর পর্যটকদের আকৃষ্ট করায় সবচেয়ে এগিয়ে। ঝোড়ো বাতাসের ভয়ংকর সব দিনে সুরম্য অট্টালিকা কতটা দোল খায় চাক্ষুস সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার উদ্দেশ্যে পর্যটকদের প্রতিনিয়ত আনাগোনা  এ ডেকে। পর্যটকেরা ডেক থেকে অনায়াসে ইলিনয়সে উড়ে বেড়ানো উড়োজাহাজকে দেখে যেটি মিসিগান লেক থেকে ইন্ডিয়ানার পথে, মিসিগান ও উইস্কনসিনের সুনির্মল দিনে যাতায়াত করে। পর্যটকেরা ৬০ সেকেন্ডে এলিভেটরে করে পৌঁছান স্কাইডেকে। সেখানে উপভোগ করেন বাইরের মনোরম ভিউ বা দৃশ্যপট! পরে নির্মিত জন হ্যানকক সেন্টার অবজারভেশন প্রতিযোগিতায় মেতেছে স্কাইডেকের সাথে। অথচ এই ডেকের উচ্চতা স্কাইডেকের চেয়ে পাক্কা ৩২৩ ফুট কম। বছরে ১.৩ মিলিয়ন পর্যটক স্কাইডেক ভ্রমণ করে। কোনো কারণে ১০৩ তলার স্কাইডেক বন্ধ থাকলে পর্যটকদের বিকল্প ব্যবস্থা করা হয় ৯৯ তলার স্কাইডেকে।

২০০৯ সালে উইলিস টাওয়ারের মালিক নতুনরূপে স্কাইডেকের ঝুল-বারান্দা গ্লাসকে সংস্কারের চিন্তা করেন, যার ফলে সংকোচনীয় বিশেষ গ্লাসকে জুড়ে দেন টাওয়ারের ১০৩ তলার সম্মুখভাগে, যা একে প্রায় ৪ ফুট (১.২ মিটার) সামনে এগিয়ে নেয়। প্রতিটা গ্লাস-বক্সকে (The Ledge) অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘দ্য লেজ’ (ঞযব ষবফমব) নামে ডাকা হয়, যার ১৩৫৩ ফুট বা ৪১২.৩ মিটার নিচে রয়েছে সুদৃশ্য মাটি। প্রতিটা বক্স ৫ শর্ট টন বা ৪.৫ মেট্রিক টন ওজন অনায়াসে বহন করতে পারে। জুলাই ২, ২০০৯ সালে একে আমজনতার জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়। হঠাৎ করেই পর্যটকেরা স্কাইডেকের একটি বক্সের ফ্লোরে বসার পর গ্লাসটিতে ফাটল ধরে। যদিও এতে দর্শনার্থীদের কারও বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়নি। ২৯ মে, ২০১৪ সালে লেমিনেটেড গ্লাস ফ্লোর জুড়ে দেওয়ার পর আর কখনো স্কাইডেক ফ্লোর-গ্লাসে ফাটল ধরেনি।

স্কাই-লজ

স্কাই-লজ, অবিশ্বাস্য ঝুলন্ত পড বা ক্যাপসুল, যা পেরুর কুসকোর রাজকীয় পবিত্র উপত্যকার সুউচ্চ গায়ে অবস্থিত। এই ক্যাপসুলকে ডাকা হয় নেচারা ভাইভ স্কাই-লজ, যা ভিন্ন ভিন্ন তিনটি ক্যাপসুল স্যুটে বিভক্ত (প্রতিটি অবশ্য স্বতন্ত্র)। প্রতিটি ক্যাপসুল স্যুটে ৮ থেকে ১০ জন রাত্রিযাপন করতে পারে; এবং তিনটি ক্যাপসুল স্যুটের ঠিক ওপরে ডান পাশে রয়েছে আরেকটি ক্যাপসুল স্যুট, যেটি মূলত রেস্টুরেন্ট ক্যাপসুল স্যুট। নেচারা ভাইভ কুসকোর পবিত্র উপত্যকা ৪০০ ফুট উচ্চতা ও ৩০০ ডিগ্রি কোণে স্থাপিত।

পেরুর স্কাই-লজে পর্যটকের সময় কাটানোর প্রধান শর্ত হলো পর্বতারোহী হতেই হবে। পর্যটক পর্বতের গায়ে থাকা ভায়া ফেরাটা (ভায়া ফেরাটা-অনায়াসে পাহাড় আরোহণের জন্য পাহাড়ের গায়ে সংযুক্ত লোহার আংটা) অথবা জিপলাইন (জিপলাইন-স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি রশিসদৃশ উপাদান পাহাড়ের এক অংশ থেকে আরেক অংশে সংযুক্ত থাকে যাতায়াতের জন্য) দিয়ে খুব সহজেই তরতরিয়ে উঠে পড়েন।

ক্লস্ট্রোফোবিয়ায় (বদ্ধঘরে থাকায় প্রচণ্ড ভীতি কাজ করা) আক্রান্ত হওয়ার ভয় কি কেউ পান?! ওহ, আপনাকেই বলছি, একদম ভয় পাবেন না। রয়েছে ৬টি জানালা ও ৪টি ভেন্টিলেশন ডাক্ট, যার ফলে অবলীলায় পৌঁছায় নির্মল বাতাস। সিংহদ্বারটা যানের ঠিক ওপরে হওয়ায় নিশ্চিত হয় নিরাপত্তা। ‘মিষ্টি রাত্রিযাপন’ সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি পডে রয়েছে উন্নতমানের গদি, তুলায় পরিপূর্ণ অনন্য শিট, আরামদায়ক বালিশ ও তুলতুলে লেপ। লিভিংরুমের পাশাপাশি রয়েছে ওয়াশরুম, যেটিতে আছে সুশোভিত পর্দার ব্যবস্থা। ওয়াশরুমে কমোডের পাশাপাশি রয়েছে সিংক; সুদৃশ্য উপায়ে কমোডের পাশে ও নিচে যুক্ত করা হয়েছে টয়লেট টিস্যু।

ভায়া ফেরারা ও জিপলাইনের মাধ্যমে স্কাই-লজে পৌঁছা ও নামা এবং রাত্রিযাপনের পুরো প্যাকেজের মূল্য রাখা হয় ২০০ পেরুভিয়ান সোল (৫,১১২ টাকা)। পডের ‘রোমান্টিক কাপল’রা সব সময় চেষ্টায় থাকেন খুব অন্তরঙ্গ হওয়াকে এড়িয়ে চলতে। যদি কোনো কাপলের এই প্রবণতা থাকে সে ক্ষেত্রে তাঁদের গুনতে হয় পাক্কা ৫০০ পেরুভিয়ান সোল (১২৭৮০ টাকা)!!!

অ্যালপসপিক্স ভিউয়িং প্ল্যাটফর্ম

অ্যালপসপিক্স একটি পর্বত। এটি জার্মানির জার্মিসক পার্টেনকিনসেনে অবস্থিত। এ পর্বতের ঠিক ৩০ মিটার ওপরে ক্রস চিহ্ন বা ইংরেজি ‘এক্স’সদৃশ ধাতুনির্মিত ওয়াকওয়ে রয়েছে, যা ভ্রমণপিয়াসু বা পর্যটকদের ঘুরে বেড়ানোর জন্য আদর্শ স্থান, যার নাম অ্যালপসপিক্স ভিউয়িং প্ল্যাটফর্ম! পর্বতের চূড়ার ১৩ মিটার (৪৩ ফুট) শূন্যে অসাধারণভাবে যা ঝুলে রয়েছে।

তিয়ামেন পর্বতের কাচ সেতু

তিয়ামেন পর্বতের ঠিক পাশঘেঁষে গড়ে উঠেছে কাচ সেতু। অবাক এক বিস্ময় যেন! আপনি সূর্যকরোজ্জ্বল কোনো দিনে গিয়ে দেখবেন, নীলাকাশ আর সাদা মেঘের অতুল সৌন্দর্য প্রতিফলিত হচ্ছে এ পথে। পায়ের নিচে স্বচ্ছ কাচের ওপর দিয়ে যখন তরতরিয়ে এগোবেন, তখন কেবলই মনে হবে থরথর করে কাঁপছে পায়ের তলার মেঝেখানি। মেঘলা দিনে ‘করিডর গ্লাস’-এর ভিউ আপনাকে উপহার দেবে মাদকময় কুয়াশা! আপনাকে মনে করিয়ে দেবে আনন্দের প্রতিটা ক্ষণ, যেন-বা ঘুরছেন আকাশে ফ্যান্টাসি রাজ্যে!

চীনের হুনান প্রদেশের নর্থ ওয়েস্টার্ন অংশ জিয়ানজির তিয়ামেন মাউন্টেন পার্কে গড়ে উঠেছে মানবসৃষ্ট কাচে মোড়া বিস্ময়জাগানিয়া এ পথ। কাচের এ রাস্তা তিনটি অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছেÑপূর্ব, পশ্চিম ও প্ল্যানলং ক্লিফ। গ্লাস স্কাইওয়াককে বলা হচ্ছে ‘দ্য ওয়াক অব ফেইথ’, যেটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় নভেম্বর, ২০১১ সালে; এরপর থেকে পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান এটি। দ্য ওয়াক অব ফেইথের অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয় পশ্চিম পাশের অংশটির উদ্বোধন হয়েছিল এপ্রিল, ২০১৫ সালে।

কেব্্লকার যুক্ত করেছিল ফ্রেঞ্চ কোম্পানি ‘পুমা’, যাতে নিকটস্থ জিয়ানজি স্টেশন থেকে তিয়ামেন পর্বতের সুউচ্চ শৃঙ্গে আরোহণ করা যায়। ট্যুরিস্ট পাবলিকেশনের মতে, তিয়ামেন মাউন্টেন কেব্্লওয়েকে বলা হচ্ছে ‘পৃথিবীর সুউচ্চ পর্বতের দীর্ঘতম যাত্রী কেব্্লওয়ে’ যেখানে রয়েছে ৯৮টি কার যার মোট দৈর্ঘ্য ৭,৪৫৫ মিটার (২৪,৪৫৯ ফুট) এবং মাটি থেকে উচ্চতা ১,২৭৯ মিটার (৪,১৯৬ ফুট)। সর্বোচ্চ নতিমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি। আপনি জিয়ানজি স্টেশন থেকে কেব্্লকারে অনায়াসে পৌঁছাতে পারবেন ‘দ্য ওয়াক অব ফেইথ’-এ।

পর্যটকেরা পথ হেঁটে এগিয়ে যায় যার মেঝে মোড়ানো গ্লাসে, যা পাহাড়ের উঁচু স্থানে গড়ে তুলেছে ঢালু ক্লিফে। উল্লেখ্য, দুর্বলচিত্ত পর্যটকদের এ পথ মাড়ানো নিষেধ। দ্য ওয়াক অব ফেইথ তুষার আর বরফে ঢাকা থাকলে পর্যটকদের ঢোকা সম্পূর্ণ বারণ।

ইয়ানডুয়ান গ্লাস ওয়াকওয়ে

চীনের ইয়ানডুয়ান গ্লাস ওয়াকওয়ের অপর নাম ‘অ্যাট দ্য এন্ড অব দ্য ক্লাউডস’ অর্থাৎ ‘মেঘের শেষ রাজ্য’। পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ গ্লাসে মোড়া ওয়াকওয়ে (বিশ্বরেকর্ড), যা পর্বতের কিনারা থেকে ৮৭.৫ মিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। আগের সর্ববৃহৎ গ্লাস ওয়াকওয়ে অ্যারিজোনার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ওয়াকওয়ের ১৬.৪ মিটারের বিশ্বরেকর্ডকে ইয়ানডুয়ান গ্লাস ওয়াকওয়ের ৮৭.৫ মিটার নিমেষে অতিক্রম করে গড়েছে নতুন বিশ্বরেকর্ড। ইয়ানডুয়ান গ্লাস ওয়াকওয়ে এতটাই সম্প্রসারিত, যার কারণে ভ্রমণপিয়াসুদের মনে হয় তাঁরা যেন শূন্যে হাঁটছেন। হর্সশু শেপড এ ওয়াকওয়ে পর্যটকদের কাছে পৃথিবীর আতঙ্কজাগানিয়া জায়গার মধ্যে অন্যতম। এর অবস্থান মাটি থেকে ২,৩৫০ ফুট উঁচুতে। এ মুহূর্তে ইয়ানডুয়ান গ্লাস ওয়াকওয়েকে বলা হচ্ছে পৃথিবীর দীর্ঘতম ক্যানটিলিভার ব্রিজ।

এই ব্রিজ ৮.০ ম্যাগনিটিউট পর্যন্ত ভূমিকম্প নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। ২০০ মানুষের চলাচলের জন্য উপযুক্ত এই ব্রিজ। ইয়ানডুয়ান গ্লাস ওয়াকওয়েতে প্রবেশের এন্ট্রি ফি ৬০ আরএমবি (১০ ইউএস ডলার) এবং এটিতে কেবল ৩০ মিনিট অবস্থান করা যায়। উল্লেখ্য, প্রফেশনাল প্যারাশুটারদের জন্য একে বলা যায় স্বর্গরাজ্য। প্রায়ই প্রফেশনাল প্যারাশুটাররা ইয়ানডুয়ান গ্লাস ওয়াকওয়ের ঠিক শেষ প্রান্ত থেকে অবলীলায় লাফিয়ে পড়েন ২,৩৫০ ফুট নিচের সমতলভূমিতে।

দ্য বেইলং এলিভেটর

দ্য বেইলং এলিভেটরের অপর নাম ‘হানড্রেড ড্রাগন এলিভেটর’। পৃথিবীর আতঙ্কজাগানিয়া সাইটের একটি! এটি পর্যটকদের পর্বতের এতটাই ওপরে নিয়ে যায়, যার কারণে উচ্চতা-ভীতিতে (হাইট ফোবিয়া) থাকা পর্যটকদের জন্য এটি সম্পূর্ণই নিষিদ্ধ। এ গ্লাস এলিভেটরটি চীনের হুনান প্রদেশের জানজিয়াজির পাহাড়ের গা ঘেঁষে অবস্থিত। এটি নির্দিষ্ট একটি সময়ে ১,০৭০ ফুট বা ৩৩০ মিটার অনায়াসে অতিক্রম করে ৫০ জন পর্যটক নিয়ে। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, ঘণ্টায় গ্লাস এলিভেটরটি ১,৩৮০ জন পর্যটককে নিয়ে পরিভ্রমণে সক্ষম।

এটির কনস্ট্রাকশনের কাজ শুরু হয় ১৯৯৯ সালে আর ২০০০ সালে এটি শেষ হওয়ার পর মোট খরচ হয় ১২০ মিলিয়ন ইয়ান বা ১২ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড। এই প্রকল্প পরিবেশবিদদের কাছে প্রচণ্ড সমালোচনায় পড়ে। কারণ, এটির অবস্থান ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’-এর ঠিক মধ্যখানে। ভূমিকম্পের ডিটেকটর এতে স্থাপিত হয়, যাতে বিপর্যয়ের মুহূর্তে অনায়াসে লিফটকে খালি করে দিতে পারে। এই মুহূর্তে এটি গিনেস বুক ওয়ার্ল্ডের রের্কডে সবচেয়ে উঁচু আউটডোর লিফট হিসেবে বিবেচিত।

নিউ জারভাসিট্টি রেফিউজ

ইতালির স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান লিপ ফ্যাক্টরির অবিশ্বাস্য স্থাপনা নতুন জারভাসিট্টি রেফিউজ, যেটা বরফময় উঁচু পর্বত আল্পসে স্থাপিত সোলার-পাওয়ারড চোঙ্গাকার পর্বত-কেবিন। দুই দিনে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে এটি স্থাপন করা হয়। শক্তির আধার প্রিফেব্রিকেটেড এ পড উচ্চমানসম্পন্ন উপকরণে গঠিত, যার কারণে পর্বতের চারপাশের পরিবেশে খারাপ কোনো প্রভাব একদমই পড়ে না। পডটির অবস্থান ৯,৩০০ ফুট পর্বতশৃঙ্গে; যেসব দুঃসাহসী পর্বতারোহী বিস্ময়সূচক সাহসের পরিচয় দেখিয়ে আল্পস পর্বতে আরোহণ করবে, তাঁদের জন্য প্রকৃতির অপরূপ শোভা উপভোগ করতে এখানে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।

এ পডটির অভ্যন্তরে রয়েছে ১২ জনের রাত্রিযাপনের জন্য বাঙ্ক বেড, লিভিং রুমের সাথে ১টি ডাইনিং টেবিল এবং বড় একটি জানালা, যেটির ওপাশে রয়েছে পর্বতের অপরূপ ল্যান্ডস্কেপ! আর রয়েছে বাইরের আবহাওয়ার অবস্থা জানতে সংযুক্ত কম্পিউটার।

LEAP factory-এর সম্পূর্ণ অর্থ হলো খরারহম, Living Ecological, Alpine Pod. ইতালিয়ান আর্কিটেক্ট এ প্রতিষ্ঠান ‘মডিউলার স্ট্রাকচার’ নকশা, নতুনভাবে সৃষ্টি বা উৎপাদন করে বিরূপ পরিবেশে পর্যটকদের টিকে থাকার সহায়তা দানের জন্য কিন্তু পরিবেশের হালকা পরিমাণ ক্ষতি না ঘটিয়ে। লিপ ফ্যাক্টরি নতুন জারভাসিট্টি রেফিউজে থাকা প্রতিটি মডিউলকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ওই পডে যুক্ত করেছে।

প্রতিটি মডিউলে রয়েছে সুনির্দিষ্ট স্ট্রাকচার, যা নির্দিষ্ট চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নকশাকৃত, প্রস্তুত করা হয়েছে অভ্যাস অনুযায়ী, যাতে মডিউল যেখানে স্থাপন করা হয়, সেখানে সহজেই খাপ খেয়ে যায়। রয়েছে অত্যাধুনিক টেকনোলজি, যেটি যেকোনো তাপমাত্রায় অনায়াসে সহনীয়। প্রতিটি মডিউল সম্পূর্ণরূপে প্রিফেব্রিকেটেড-আউটার প্রটেকটিভ সেল থেকে ইন্টেরিয়র ফিটিং পর্যন্ত বিস্তৃত।

নতুন জারভাসিট্টি রেফিউজ রিপ্রেজেন্ট করছে ইতালির ফার্মসমূহের অর্জনকে। এটির ৬টি কনটাক্ট পয়েন্টের সাথে গ্রাউন্ডের যোগাযোগ রয়েছে। এটির ওজন ৫,৫০০ পাউন্ড বা ২,৫০০ কেজি। এতে জায়গা রয়েছে ৩০ বর্গমিটার। এতে স্থাপিত সোলার থেকে ২.৫ Kwh সোলার শক্তি উৎপন্ন হয়।

গ্লাস সাসপেনশন ব্রিজ

গ্লাস সাসপেনশন ব্রিজের আরেক নাম জানজিয়াজি গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ব্রিজ, যা কি না চীনের ওয়ালিংহিয়া এরিয়ার জানজিয়াজিতে অবস্থিত। এটিকে বলা হয় পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গ্লাস-বটম সাসপেনশন ব্রিজ। এটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয় ২০ আগস্ট, ২০১৬ সালে। এটি দৈর্ঘ্যে ৩৬০ মিটার (১,১৮০ ফুট), প্রস্থে ৬ মিটার (২০ ফুট), লংগেস্ট স্প্যান এ ৪৩০ মিটার (১,৪১০ ফুট) এবং মাটি থেকে এর উচ্চতা ২৬০ মিটার (৮৫০ ফুট)। এটি নকশা করা হয়েছে এমনভাবে, যাতে একই সময়ে ৮০০ পর্যটক এখানে ভ্রমণ করতে পারে। গ্লাস সাসপেনশন ব্রিজের নকশাকার হাইম ডোটাম, যিনি ইসরায়েলের অধিবাসী।

ব্রিজটা নির্মাণের সময় ক্যানিয়নের দেয়ালের কিনারে চারটি সহযোগী পিলার তৈরি করেছিল। ব্রিজটি তৈরি হয়েছে স্টিল ফ্রেম দিয়ে এবং আরও রয়েছে ১২০টি গ্লাস প্যানেল। প্রতিটি প্যানেল হলো তিন লেয়ারবিশিষ্ট এবং ২ ইঞ্চি পুরু স্ল্যাবপূর্ণ ট্যাম্পার্ড গ্লাস (সেফটি গ্লাস)। ব্রিজের ভেতরে রয়েছে তিনটি দোলনা। আরও রয়েছে ৩৭০ ফুট উচ্চতায়  ‘বানজি-জাম্প’ মারার ব্যবস্থা।

ইশিমা ওহাশি ব্রিজ

ইশিমা ওহাশি ব্রিজ মানবসৃষ্ট আরেকটি বিস্ময়কর সৃষ্টি। এটি জাপানের সর্ববৃহৎ আর পৃথিবীর তৃতীয় বৃহৎ ব্রিজ। এটি পেরোতে আপনাকে অতিক্রম করতে হবে পাক্কা ১.৭ কিলোমিটার পথ। এর দৈর্ঘ্য ১১.৩ মিটার আর প্রস্থ ৪৪.৭ মিটার। নদী থেকে ব্রিজের মাঝ বরাবরটার উচ্চতা হলো ২৫০ মিটার। ব্রিজের মাঝখানের এমন উচ্চতার কারণে ব্রিজটিকে রোলার কোস্টারের সাথে তুলনা করা হয়; অনেকেই এটিকে ‘রোলার কোস্টার ব্রিজ’ বলে থাকে। রোলার কোস্টার ব্রিজ হিসেবে পরিচিত এ ব্রিজ তার নামকরণের সার্থকতা প্রমাণ করতে যেন শিমানে এলাকার পাশে এর ৬.১ শতাংশ গ্র্যাডিয়েন্ট এবং টোট্টোরি এলাকার পাশে এর গ্র্যাডিয়েন্ট ৫.১ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। ইশিমা ওহাশি ব্রিজটি নোয়ামি লেক থেকে তার যাত্রা শুরু করে মাতসু ও সাকাইমিনাতো শহর দুটোর গা-ঘেঁষে চলে গেছে। তাই একে বলা হয় নোয়ামি লেকের সাথে মাতসু ও সাকাইমিনাতো শহর দুটোর যোগাযোগ স্থাপনকারী মিডিয়াম। ইশিমা ওহাশি ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ১৯৯৭ সালে; সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে তুড়ি মেরে এটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০০৪ সালে।

ইশিমা ওহাশি ব্রিজ জাপানের পশ্চিম চুগোকু এলাকায় অবস্থিত সবচেয়ে দীর্ঘ ব্রিজ। জাপানি শব্দ ‘ওহাশি’র অর্থই ‘দীর্ঘ ব্রিজ’। সুদৃশ্য মনোরম ব্রিজটিকে দেখলে মনে হয় তরতরিয়ে এটি যেন আকাশ ছুঁয়েছে! টিভি কমার্শিয়ালের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য থাকে এর অতুলনীয় ‘ভিউ’।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৯৬তম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৮।

জাবের রহমান
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top