Image

সাংহাইয়ের মেগা ফার্ম

সাংহাই চীনের বৃহত্তর মিউনিসিপ্যাল শহর। আয়তন ৬ হাজার ৩৪১ বর্গ কিলোমিটার। লোকসংখ্যাও নেহায়েত কম নয়, প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ ৫২ হাজার ৭০০ জন। ঘনবসতিপূর্ণ এ নগরটির জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখা ও জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। অসংখ্য বহুতল ভবন ও যানবাহন থেকে নির্গত কার্বন-ফুট-প্রিন্ট নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নির্মল বায়ুপ্রবাহ নিশ্চিত করতে এ নগরেরই আন্তর্জাতিক এক স্থাপত্য ফার্ম ‘সাসাকি’ নিয়েছে অভিনব এক পরিকল্পনা। নগরের ১০০ একর জমিতে তারা চায় একটি শহুরে সবুজ ফার্ম গড়ে তুলতে, যা গগনচুম্বী ভবনে ঘিরে থাকা সাংহাই নগরকে দেবে একচিলতে সবুজ প্রকৃতির ছোঁয়া।

সাসাকি এই পরিকল্পনার নামকরণ করেছে ‘সানকিউ আরবান অ্যাগ্রিকালচারাল ডিস্ট্রিক্ট’। সাংহাই নগরে জমির যে দূরমূল্য, তাতে এই প্রকল্পটি সেখানে শুধু সবুজায়নই করবে না বরং তা হবে অর্থনৈতিকসহ শিক্ষার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ প্রকল্পের বিরাট অংশজুড়ে থাকা ‘মেগা ফার্ম’টি শহুরে কৃষির নবতর উদ্ভাবন, ফল ও ফসল প্রাপ্তি এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে অনন্য এক ভূমিকা রাখবে বলে মত দেশটির পরিকল্পনাবিদদের। সানকিউ আরবান অ্যাগ্রিকালচারাল ডিস্ট্রিক্ট-এর মাস্টার প্ল্যান এমনভাবে নকশায়িত করা, যার মাধ্যমে কেবল খাবার উৎপাদন নয়, খাবার-শিক্ষা নামেও একটি ধারণা সৃষ্টি করা যাবে সহজেই। খাবার সম্পর্কিত বিভিন্ন আইডিয়া, যেমন ধরা যাক কোনো বিল্ডিংয়ের ছাদে সুশোভিত বাগানের পাশাপাশি ছোট্ট খাবার রেস্তোরাঁ উপস্থাপন করা যেটির সংশ্লিষ্ট খদ্দেররা রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়বে, অনন্য এর পরিবেশ ও স্বাদ পেতে।

আর্কডেইলি

সানকিউর কর্তৃপক্ষের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ‘টেকসই কৃষি’র উন্নয়ন, যেটিকে তারা ‘কি কম্পোনেন্ট’ হিসেবেই দেখছে। তারা ফার্মগুলোর লে-আউটে নানা ঘরানার আলজি ফার্ম (Algae Farm), মেগা দেয়াল (Vertical Walls), ভাসমান গ্রিন হাউস (Floating Greenhouses), সিড লাইব্রেরি গড়ে তুলতে চায়। এগুলো পরিচালিত হবে মূলত হাইড্রোপনিক ও একোয়াপনিক পদ্ধতিতে।

খুব শিগগির এই ফার্মটির কাজ শেষ হবে এবং তা খুলে দেওয়া হবে দর্শনার্থীদের জন্য। আগন্তুকেরা উৎফুল্লচিত্তে ঘুরে বেড়াবে সবুজের রাজ্যে। সেখানে রাখা হবে ফ্যামিলি-ফ্রেন্ডস ইভেন্ট এবং ওয়ার্কশপ, যার মূল উদ্দেশ্য শিশু-কিশোরদের মাঝে কৃষি সম্পর্কিত কলাকৌশল সহজ সাবলীল ভাষায় ছড়িয়ে দেওয়া।

সাংহাইয়ের মেগা ফার্মটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরেকটি সুপ্ত বাসনা চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া যে প্রকৃতির নির্মল স্নিগ্ধতা কেবল গ্রামীণ জীবনের একচেটিয়া অধিকার নয়, তাতে শহুরেদেরও রয়েছে ভালোই অধিকার।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৮৯তম সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৭।

Related Posts

ফেসবুক পোস্ট থেকে ফিরে এলো ফুটুরো হাউস

বিশ শতকের ষাটের দশকের শেষভাগে ফিনল্যান্ডের স্থপতি মাত্তি সুরোনেন যে উড়ন্ত সসারসদৃশ বাড়িটি ডিজাইন করেছিলেন, তা স্থাপত্যের ইতিহাসে…

নির্মাণসামগ্রী আবিষ্কার করবে রোবট

স্থাপত্য ও নির্মাণশিল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন কোনো ঘটনা নয়। কম্পিউটার-এইডেড ডিজাইন (AI) থেকে শুরু করে থ্রিডি প্রিন্টিং, প্যারামেট্রিক…

স্থপতির চোখে বাউলশিল্পী শাহ আব্দুল করিমের সমাধিসৌধ

প্রিয় গানের দল ‘দোহার’-এর প্রয়াত শিল্পী কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য বাউল শাহ আব্দুল করিমের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। তিনি বলেছিলেন,…

সিউলের হাইওয়ে ভেঙে নদী ফিরিয়ে আনতেই কমল যানজট

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি ছোট নদীর নাম চেওংগিয়েচন। এক সময় নগরায়নের কারণে এই…

01~1
previous arrow
next arrow

Bandhan Cover

সর্বশেষ

Trending Posts

Gallery

নিউইয়র্ক সিটির চার নতুন জেলের পেছনের স্থাপত্য চিন্তা
prada galleria
গোল্ডেন সেকশন থেকে কোস্টারিকার পাহাড়ে ত্রিভুজাকৃতির বাড়ি
রান্নাঘরে খেলাচ্ছলে টুইস্ট নিয়ে এসেছে ডিজাইনবুম শপের নতুন কিউরেটেড সংগ্রহ
বাগানের ভেতর রঙিন খিলানে বিস্তৃত হলো এক ইরানি বাড়ি: গেলারেহ হাউস
বেঙ্গাজির নতুন পরিকল্পনার রূপরেখা আঁকছে ZHA
ফেসবুক পোস্ট থেকে ফিরে এলো ফুটুরো হাউস
ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেকচার ও কার্বন নি:সরণ
আসন্ন RIBA ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের শর্টলিস্টে রংপুরের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি