ইট দেয়ালের ত্রুটি মেরামতে

বিশ্বের সর্বত্রই স্থাপনা নির্মাণে ইট অত্যন্ত জনপ্রিয় নির্মাণ উপকরণ। হাজার বছরের বেশি সময় ধরে এ দেশে ভবন নির্মাণে ইটের ব্যবহার লক্ষণীয়। তবে নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে শহরের ভবনগুলোতে ইটের পরিবর্তে কংক্রিটের স্থাপনা তৈরির প্রবণতা বাড়তে থাকে। সম্প্রতি স্থাপনায় কংক্রিট ছাড়াও বাড়ছে স্টিল ও কাচের ব্যবহার। তা সত্ত্বেও স্থাপনার শৈল্পিকতার বিচারে ভবনের দেয়ালে সাধারণ ইটের পাশাপাশি সিরামিক ইট ব্যবহার করছেন অনেকেই। তবে মফস্বল শহর কিংবা গ্রামে ইটের ভবনের আধিক্যই বেশি। ইটের ভবন বা দেয়াল ভূমিকম্প, আর্দ্রতা, লবণাক্ততাসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে একদিকে যেমন নষ্ট হয় স্থাপনার সৌন্দর্য, তেমনি তা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনকে ফেলে হুমকির মুখে। আর তাই যত দ্রুত সম্ভব ভবনের ত্রুটিপূর্ণ অংশ মেরামত করা প্রয়োজন।

এখনো পৃথিবীর অধিকাংশ পুরোনো শহরে দেখা যায় ইটের তৈরি স্থাপনার সংখ্যাই বেশি। এমনকি ইউরোপের মতো উন্নত দেশেও ইটের স্থাপনা হাজার বছর ধরে টিকে আছে কোনো রকম ক্ষতি ছাড়াই। এ জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরিচর্যা, বাইরের দেশে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ভবন সংস্কার করা হয়। যদি নিয়মিতভাবে কয়েক বছর পরপর সংস্কারকাজ করা যায় তবে ভবন হয় দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ। নিয়মিতভাবে সংস্কার করতে খরচও হয় কম। সাধারণত, ইটের তৈরি ভবনে কিছু দুর্বলতা দেখা যায়। কারণ, নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে ইট বেশ ভঙ্গুর প্রকৃতির। ভূমিকম্পের সময় দেয়ালের সংযোগস্থল, দরজা-জানালার ওপরের ও দেয়ালের নিচের অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া নানা কারণে ইটের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইটের ভবনে সময়মতো ত্রুটি চিহ্নিত ও মেরামত করা সম্ভব হলে সহজেই ভবনকে নিরাপদ রাখা যায়। তবে এর জন্য প্রয়োজন সুদক্ষ মিস্ত্রির সাহায্যে সঠিক উপায়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেয়াল মেরামত করা।

প্রাথমিক কাজ

  • প্রথমেই ব্রিক ওয়াল বা ইট দেয়ালের ত্রুটি চিহ্নিত করতে হবে
  • এরপর পর্যবেক্ষণ করতে হবে ত্রুটির কারণ ও ধরন
  • পরবর্তী সময়ে ত্রুটির ধরন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে এবং মেরামতে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে হবে।

প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সরঞ্জাম

  • ব্রাশ
  • উষা
  • কর্ণিকা
  • টর্চলাইট
  • এ ছাড়া সহায়ক অন্যান্য যন্ত্রাংশ।

কাজের ধারা

  • প্রথমেই ত্রুটিযুক্ত দেয়াল চিহ্নিত করে খুব ভালোভাবে তা পরিষ্কার করতে হবে
  • পরিষ্কার করার পরও ত্রুটির কারণ সম্পর্কে গভীর ধারণা নিয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে হবে
  • গবেষণা ও যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রতিকারে ব্যবস্থা নিতে হবে
  • তবে কাজের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে যেন ভবিষ্যতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মূল দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়
  • এরপর কাজ শেষে সব ঠিকমতো সম্পন্ন হয়েছে কি না তা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

সতর্কতা

  • ত্রুটিযুক্ত স্থান খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করার পর ভিজিয়ে নিতে হবে
  • গাঁথুনির সময় সুতা দিয়ে দেয়াল সোজা আছে কি না পরীক্ষা করতে হবে
  • প্রতি সারি গাঁথুনির সময় ওলন দ্বারা পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে
  • একসঙ্গে ২.৫ ফুটের বেশি গাঁথুনি না করাই উত্তম
  • অতিরিক্ত সিমেন্ট ব্যবহার না করাই ভালো
  • আলগা মর্টার স্পঞ্জ ও ব্রাশ দিয়ে ভালোভাবে মুছে দিতে হবে
  • দক্ষ মিস্ত্রির সাহায্যে কাজ করাতে হবে।

সবশেষে সঠিক নিয়মে কিউরিং করাতে হবে।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৮৩তম সংখ্যা, মার্চ ২০১৭।

প্রকৌশলী সুবীর কুমার সাহা
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top