নির্মাণশিল্পে প্লাস্টিক পাইপ অপরিহার্য নির্মাণ উপকরণ। প্লাস্টিক পাইপের মধ্যে ইউপিভিসি (Unplasticied polyvinyl chloride) ও পিভিসি (Polyvinyl Chloride) পাইপের প্রচলনই বেশি। নির্মাণকাজ ছাড়াও কৃষি, বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানার পানি ও পয়োনিষ্কাশনের কাজে এ উপকরণটির জুড়ি মেলা ভার। লোহা ও ইস্পাতের দামের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারায় সম্প্রতি ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হচ্ছে প্লাস্টিক পাইপ। এমনকি গ্যাস লাইনেও লোহার পরিবর্তে প্লাস্টিক পাইপ ব্যবহার করে সাশ্রয় হচ্ছে শত শত কোটি টাকা। প্লাস্টিক পাইপ টেকসই, দীর্ঘস্থায়ী, সহজে স্থাপনযোগ্য ও দামে সাশ্রয়ী হওয়ার কারণেও বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা।
নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ফিটিংস ও ফিকচারস
পাইপ লাইনে যাবতীয় সাজসরঞ্জামকে প্লাম্বিং ফিটিংস বলে। পানির প্রয়োজনীয় ব্যবহার এবং ব্যবহৃত পানি বা তরল বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য প্লাম্বিং ব্যবস্থায় যেসব প্লাস্টিক উপকরণ ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে ফিকচারস বলা হয়। উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
ব্যবহার
- ভবনের প্লাম্বিং কাজ (পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ও বৃষ্টির পানি সংগ্রহ)
- কৃষিতে সেচ
- বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ তারের নিরাপত্তা নিরোধক
- শীতাতপ নিয়ন্ত্রণকাজে
বর্তমানে ব্যাপকভাবে ইউপিভিসি পাইপ ব্যবহৃত হলেও আগে এমনটা ছিল না। অতীতে মানুষ গাছের গুঁড়ি, লোহা, পাথর ইত্যাদি দিয়ে তৈরি পাইপ ব্যবহার করত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব ৩ হাজার বছর আগে প্রাচীন ব্যাবিলনীয়রা মাটি ও খড় দিয়ে নির্মিত পাইপসদৃশ একধরনের উপকরণ দিয়ে জলসেচ দিত। পশ্চিম ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্লাস্টিক পাইপের মাধ্যমে সেচ ও পানি প্রবাহের প্রচলন শুরু হয়। ইতিহাস বলে ইংল্যান্ডের আগে রোমেও পাইপের প্রচলন ছিল। রোমানরা যখন ব্রিটিশদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল, তখন রোমানে পাইপ ব্যবহারের কলাকৌশলের প্রমাণ মেলে। সে সময়ে রোমানরা পাইপ ব্যবহারের কলাকৌশলে এগিয়ে ছিল। প্রবহমান নালা ও খালে পানির ঘূর্ণায়মান পয়েন্টগুলোতে তারা পাইপের ব্যবহার করত এবং জোয়ারে নদীর পানি প্লাবিত হয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ত, সাধারণত এই পানি পাইপিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেওয়া হতো, যেখানে ঝরনা ও গোসলের সুবিধা রাখা হতো, সেখানে জনসাধারণ গোসল করত। তবে সমাজের উচ্চশ্রেণির মানুষের বাড়িতে সরাসরি পানি সরবরাহ করার সুবিধা ছিল। সেখান থেকেই পাইপের প্রচলন শুরু হয়। রোমানদের শাসনামলে পয়োনিষ্কাশনের অনেক উন্নতি সাধিত হয়। পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নভাবে জীবনধারা শুরু হয়। ষষ্ঠ শতাব্দীতে রোমানদের পতনের পর নর্দান আয়ারল্যান্ড, নর্দান জার্মানি ও আয়ারল্যান্ডে বর্বরতা বাড়তে থাকে। ওই সময় ইংল্যান্ডের পয়োনিষ্কাশনের গোপন রহস্য প্রকাশিত হয়। সভ্যতা সবার কাছে পরিচিত শব্দ হয়। স্যানিটেশনব্যবস্থা মৌলিক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
মধ্যযুগে ইংল্যান্ডের খ্রিষ্টানদের শাসনামলে রোমানীয়দের নেওয়া পানি দিয়ে গোসল করার সুবিধা বাতিল করা হয়। তবুও রোমানীয়রা গোপনে চুরি করে গোসল করত। খোলা পানিতে গোসল করায় ব্লাক প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে এক-তৃতীয়াংশ রোমানীয় মারা যায়। ওই সময়ে বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব থাকায় অনেকে মদ ও বিয়ারকে পানীয় জল হিসেবে বেছে নেয়। ওই সময়ে শুধু উচ্চশ্রেণির লোকেরা নিয়মিত গোসল করার সুযোগ পেত। চলমান জলধারা সাধারণ ব্যাপার ছিল না। এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়েও পানি পাওয়া দুষ্কর ছিল। মধ্যযুগে সুয়্যারেজ ও ড্রেনেজের উন্নয়ন সাধিত হয়। নদী বা খাল থেকে পানি আনা সহজবোধ্য ছিল না। তাই পানির সুবিধার জন্য খাল ও নদীর কাছে বাড়ি তৈরি করত। একসময় পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। এই অবস্থার উত্তরণ ঘটে ১৪৬০ সালে।
ইংল্যান্ডে পাম্পের সঙ্গে পাইপ লাগিয়ে শহরের বাড়িতে অর্থের বিনিময়ে পানি সরবরাহ করা শুরু হয়। ১৫৮৪ সালে ইংল্যান্ডের ডিবান রাজ্যের প্লেমাউথ শহরে পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। জনগণ বিনা মূল্যে পানি ব্যবহার করার সুযোগ পায়। তখন থেকেই ধীরে ধীরে পাইপের ব্যবহার শুরু হয়। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড শহরে মানুষের ব্যবহারের জন্য বসন্ত ঋতুতে ২০ হাজার গ্যালন পানি আনা হয়। বর্তমানে পাইপ ব্যবহারে অতীতের অনেক উদাহরণ পাওয়া যাবে। তবে সঠিক সময় পাওয়া যায় না, সবই অনুমান-নির্ভর। নতুন নতুন অনেক পদ্ধতি আবিষ্কার হয়ে বাতিল হয় আবার নতুন নতুন অনেক পদ্ধতি সংযোজিত হয় পানি সরবরাহের কাজে।
বাংলাদেশে প্লাস্টিক সেক্টর
১৯৫২ সাল থেকে প্লাস্টিক শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ৬৫ শতাংশই ঢাকায় অবস্থিত। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২০ শতাংশ, নারায়ণগঞ্জে ১০ শতাংশ ও বাকিগুলো খুলনা, কুমিল্লা, বগুড়া ও রাজশাহীতে অবস্থিত। এ শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত ২০ লাখ মানুষ জড়িত। এ খাতের প্রশিক্ষিত জনবলের চাহিদা যেমন, বেতনও তেমন বেশি। প্লাস্টিক সেক্টরের জনবলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ক্ষেত্রটি প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনবলের চাহিদাও বাড়ছে।
পিভিসি, ইউপিভিসি ও অন্যান্য প্লাস্টিক পাইপ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হওয়ায় উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও উৎপাদিত হচ্ছে বিশ্বমানের পাইপ। চাহিদা মেটাতে আগে বিদেশ থেকে আমদানি করা হলেও বর্তমানে দেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্লাস্টিক পাইপ উৎপাদন করার ফলে আমদানি-নির্ভরতা কাটিয়ে এ পণ্য এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও প্লাস্টিক শিল্প রপ্তানিকারকদের তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের ২৩টি দেশে প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হয়। এর মধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, কানাডা ও মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হয়। এর বাইরে সার্কভুক্ত দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হয়।
ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে প্রতিদিন ১৩০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে এবং এর ৭০ শতাংশ (প্রায় ৯০ টন) রিসাইকেল হয়ে নতুন পণ্য হিসেবে বাজারে ফিরে আসছে। রিসাইকিংয়ের ফলে বর্তমানে প্রতি বছর ডিসিসি এলাকায় ০.৫ কোটি ১০ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। এ ছাড়া প্লাস্টিক রিসাইক্লিং করার ফলে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহনের ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রতিবছর ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে এবং প্লাস্টিক রিসাইকিং দুই-তৃতীয়াংশ জ্বালানি সাশ্রয়, পরিবেশদূষণ এবং পানি ব্যবহার প্রায় ৯০ শতাংশ হ্রাস করেছে। প্লাস্টিক আমদানি হ্রাস পাওয়া ছাড়াও মহানগরীতে ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। ঢাকার পার্শ্ববর্তী আমিনবাজার, মাতুয়াইল ও কেরানীগঞ্জে দুটি অটোমোবাইল এবং একটি প্লাস্টিক শিল্পনগরী গড়ে উঠছে। অটোমোবাইল শিল্পনগরী দুটি স্থাপন হচ্ছে আমিনবাজারের উত্তর কাউন্দিসা এবং ডেমরার মাতুয়াইলে।
প্লাস্টিক পাইপের ধরন ও আকার
বাজারে বিভিন্ন ধরনের ইউপিভিসি প্লাস্টিক পাইপ পাওয়া যায়। এসব পাইপের সাইজ ১/২ ইঞ্চি থেকে ১৬ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। ইলেকট্রিক ওয়ারিংয়ে সাধারণ মানের প্লাস্টিকের ইউপিভিসি পাইপ ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন সাইজের ইউপিভিসি পাইপ ৮-১০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫-৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। বাজারে ন্যাশনাল পলিমার, আরএফএল, বিআরবি, হাতিম, গাজী, আনোয়ার, লিরার ইউপিভিসি পাইপ পাওয়া যায়। নিচে বিভিন্ন ধরনের ইউপিভিসি প্লাস্টিক পাইপের বর্ণনা দেওয়া হলো:
ক্লাস পাইপ
ইউপিভিসি ক্লাস পাইপ সাধারণত টিউবওয়েল, স্যালো পাম্প, তারা পাম্প, সেচ, শহরে পানির সংযোগ সরবরাহে ব্যবহৃত হয়। আগে জিআই ও এসএস পাইপ এই ধরনের কাজে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে প্লাস্টিকের পাইপ ব্যবহারের কারণে জিআই ও এসএস পাইপের ব্যবহার প্রায় বন্ধের দিকে। দীর্ঘস্থায়ী ও সাশ্রয়ী মূল্যের জন্য ইউপিভিসি ক্লাস পাইপের ব্যবহার বাড়ছে। ইউপিভিসি ক্লাস পাইপ সাধারণত কৃষি ও সেচের কাজে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া পানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক লাইন, সুইমিংপুলে পানি সরবরাহ ও অগ্নিনির্বাপক কাজেও এই পাইপ ব্যবহৃত হয়। নিচের ছকের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির ইউপিভিসি ক্লাস পাইপের বিবরণ দেওয়া হলো:
নন-ক্লাস ইউপিভিসি পাইপ
নন-ক্লাস ইউপিভিসি পাইপও ক্লাস পাইপের মতো একই কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটিও সাধারণত টিউবওয়েল, স্যালো পাম্প, তারা পাম্প, সেচ ও শহরে পানির সংযোগে ব্যবহৃত হয়। এ পাইপ দামে সাশ্রয়ী, সহজে স্থাপন যোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি।
| পাইপের ধরন (ইঞ্চি) | রং | সাইজ (প্রতিটি ফুট/ মিটার) | দাম (টাকা) |
| ১.৫ | – | ১৫ ফুট | ১৪০-৬০ |
| ১.৫ | সাদা | ১৫ ফুট | ২১০-৩০ |
| ১.৫ | ধূসর | ১৫ ফুট | ২১০-৩০ |
| ২ | ১৫ ফুট | ৩২০-৬০ | |
| ৩ | ৬ মিটার | ৫৫০-৮০ | |
| ৩ | ৬ মিটার | ৮২০-৫০ | |
| ৩ | সাদা | ৬ মিটার | ৭০০-২০ |
| ৩ | ধূসর | ৬ মিটার | ৭৭০-৮০০ |
| ৪ | ৬ মিটার | ১২৫০-১৩০০ | |
| ৫ | ৬ মিটার | ১৯০০-২০০০ | |
| ৮ | ৬ মিটার | ৩৩০০-৩৫০০ |
হোস পাইপ
হোস পাইপ সাধারণত এলপি গ্যাসের সরবরাহ, গাড়িতে ও কম্পেসার মোটরে গ্যাসের চুলায় ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে সাধারণত মালয়েশিয়ান, বাংলাদেশি ও ভারতীয় এই তিন ধরনের হোস পাইপ ব্যবহৃত হয়। মালয়েশিয়ার হোস পাইপ বাজারে ফুট প্রতি বিক্রি হয় ২৫-৩০ টাকায়। মালয়েশিয়ান হোস পাইপের রং কালো ও লাল। বাংলাদেশি হলুদ, কালো, সাদা ও ধূসর রঙের হোস পাইপ বাজারে ফুট প্রতি বিক্রি হয় ১০-১২ টাকা। এ ছাড়া ভারতীয় হলুদ ও ধূসর রঙের হোস পাইপের দাম ১৫-১৮ টাকা প্রতি ফুট।
একটা সময় গাড়ি, মোটরসাইকেল, মেশিনারি, সাইকেল, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি ধোয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হতো। তবে বর্তমানে গৃহস্থালির অনেক কাজেই এটি ব্যবহার হচ্ছে। হোস পাইপ দিয়ে বাসা, অফিস, পরিষ্কার কিংবা ফুল বাগানে খুব সহজে পানি ছিটানো যায়। বালতিতে করে পানি ছেটানোর বা বয়ে নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়েছে হোস পাইপ। এটা ব্যবহারে পরিশ্রম ও সময় দুই-ই বাঁচে। আর হোস পাইপ ব্যবহার পদ্ধতিও অত্যন্ত সহজ। হাই কোয়ালিটি রাবার দিয়ে হোস পাইপ তৈরি করা হয় বলে এটি অত্যন্ত ফ্লেক্সিবল ও ওজনে হালকা। ইচ্ছেমতো পানি ছিটানো ও ঘরদোর পরিষ্কারের জন্য হোস পাইপ ব্যবহৃত হয়।
হোস পাইপ মূলত ফুট হিসেবে বিক্রি করা হলেও যে পাইপ যত বড় তার দামও তত বেশি। পাইপ লম্বার ওপর দাম নির্ভর করে। বাজারে এ ধরনের পাইপ ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকার মধ্যে কিনতে পাওয়া যায়। হোস পাইপ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের ফিটিংস ও পাইপ শপগুলোতে পাওয়া যায়। সহজ উপায়ে অনলাইন থেকেও হোস পাইপ ক্রয় করা যায়। অনলাইনে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের হোস পাইপের কালেকশন থাকে। অনলাইন থেকে অর্ডার করে হোস পাইপ ক্রয় করা যায়।
| পাইপের ধরন (ইঞ্চি) | রং | দাম (প্রতি ফুট) |
| ১/২ | সবুজ | ৫-৭ |
| ৩/৪ | সবুজ | ৬-৮ |
| ১ | সবুজ | ১২-১৫ |
| ১/২ | নীল | ৫-৭ |
| ৩/৪ | নীল | ৬-৮ |
| ১ | নীল | ৮-১০ |
| ১ | লাল | ৮-১০ |
| ৩/৪ | সবুজ | ১২-১৫ |
| ১ | সবুজ | ১৫-১৮ |
থ্রেড পাইপ
থ্রেড পাইপ বাথরুমে, কলের সঙ্গে ও রান্নাঘরের পানি সরবরাহে ব্যবহৃত হয়। অধিকাংশ থ্রেড পাইপই সবুজ রঙের হয়ে থাকে, তবে ধূসর রঙের পাইপও বাজারে পাওয়া যায়। ২ ইঞ্চি থ্রেড পাইপ সাধারণত বাজারে বিক্রি হয় ৪৫-৫১ টাকায়। ১.৫ ইঞ্চি বিক্রি হয় ৪০-৪২ টাকা, ১.২৫ ইঞ্চি ৩০-৩৫ টাকা, ১ ইঞ্চি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হয়। আর ৩/৪ ইঞ্চি থ্রেড পাইপ বিক্রি হয় ১৮-২০ টাকায়। এ ছাড়া ১/২ ইঞ্চি থ্রেড পাইপ বিক্রি হয় ১২-১৫ টাকা।
| পাইপের ধরন ও সাইজ (প্রতি ইঞ্চি) | দাম |
| ১/২ | ১০-১৫ |
| ৩/৪ | ১২-১৬ |
| ১ | ১৮-২২ |
| ১.২৫ | ৩২-৩৫ |
| ১.৫ | ৩৫-৩৮ |
| ২ | ২৫-৩০ |
এইচডিপিই পাইপ
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব হাই ডেনসিটি পলি ইথিলিন (এইচডিপিই) পাইপ বাজারে নিয়ে এসেছে পাইপ কোম্পানিগুলো। মাইল্ড স্টিল (এমএস) ও স্টেইনলেস স্টিল (এসএস) পাইপের তুলনায় প্রায় চারগুণ হালকা ও উচ্চচাপ সহ্য ক্ষমতাসম্পন্ন এবং দামে সাশ্রয়ী এইচডিপিই পাইপ। ৫০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার উপযোগী থাকে এইচডিপিই পাইপ।
হাউজিং সোসাইটি, আবাসিক এলাকা, চিনি কল, লবণাক্ত পানিসহ যেকোনো পানিতে ড্রেজিং কাজে, পানি প্রক্রিয়াজাতকরণ, বর্জ্য ও পয়োনিষ্কশন, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, কেমিক্যাল কারখানা, গৃহায়ণ, সেচ প্রকল্পসহ সকল প্রকার কাজে এইচডিপিই পাইপ ব্যবহার করা যায়। এই পাইপের অভ্যন্তর ভাগ মসৃণ হওয়ায় সুষ্ঠুভাবে পানি প্রবাহিত হয়। লিক প্রুফ ও কেমিক্যাল প্রতিরোধক এইচডিপিই পাইপ ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত বাঁকানো যায়।
| সাইজ (ইঞ্চি) | দাম (প্রতি ফুট) |
| ১ | ১০-১৩ |
| ১.৫ | ১৫-২০ |
| ১/২ | ৫-৭ |
| ৩/৪ | ৬-১০ |
| ১.২৫ | ১৫-২০ |
| ২ | ৩৫-৪০ |
বাংলাদেশের প্লাস্টিক খাত এগিয়ে যাচ্ছে ক্রমেই। দেশের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে ইতোমধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে প্লাস্টিক। এর রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ। দেশের প্লাস্টিক পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে রপ্তানি হচ্ছে। আরও নতুন বাজার সৃষ্টির সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে রপ্তানির পরিমাণ বিলিয়নের পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম। ফলে এ শিল্প দেশের অর্থনীতি এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা। রপ্তানির দিক দিয়ে বর্তমানে পোশাক ও খাদ্যপণ্যের পরেই এ শিল্পের অবস্থান। অন্যদিকে ওষুধ ও সিরামিকস শিল্পের ওপরে প্লাস্টিক শিল্পের অবস্থান। অভ্যন্তরীণভাবে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রায় ৫ হাজার। প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে ১২ লাখ মানুষের। সরকার প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে এ শিল্প থেকে। আর দেশীয় চাহিদার ৯০ শতাংশ পূরণ হচ্ছে স্থানীয়ভাবেই।
প্রধানত ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, জাপান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব এসব দেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করা হয়ে থাকে। প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরির কাঁচামাল তৈরি হয়ে থাকে পেট্রলের বর্জ্য থেকে। বিশেষ উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দরে পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স নির্মাণ করা যেতে পারে। তাতে দেশেই কাঁচামাল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন আমদানি ব্যয় হ্রাস পাবে পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও কমবে। ফলে পরনির্ভরতা কমবে। উপরন্তু কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে। দি ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিকের (এসক্যাপ) প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরি নয়, রি-সাইকিংয়ে সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষিত জনবল না থাকায় পিছিয়ে পড়ছে। অবকাঠামো-সুবিধা, ব্যবস্থাপনা ও রি-সাইকিং সুবিধা নিশ্চিত, দক্ষ জনবল দিতে পারলে বাংলাদেশ ২০২০ নাগাদ ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করতে পারবে। একটি আধুনিক প্লাস্টিক শিল্পনগরী, একটি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা এবং সরকারের প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ৮২তম সংখ্যা, ফেব্রুয়ারি ২০১৭।