টাইলস যখন বর্ণিল স্থাপনায়

সুন্দর একটি বাড়ি কিংবা অ্যাপার্টমেন্টের স্বপ্ন কে না দেখে! আর স্বপ্ন যখন পূরণ হয়, তখন মন চাই আপন ভুবনকে স্বপ্নের রঙে রাঙাতে। স্বপ্নিল রংটি যেন সহসা ম্লান না হয় ভাবতে হয় এ ভাবনাটিও। ঘরের মেঝের রং ধূসর হয়ে মলিন হওয়া, দেয়ালে ফাঙ্গাশ বা লোনা ধরা, পলেস্তারার ভেজা ভাবসহ নানা অসংগতিই এমন ভাবনার কারণ। তবে এই ভাবনা থেকে মুক্তি দিতেই উদ্ভাবন টাইলসের। মোজাইকের কাজের দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা, মাত্র কয়েক বছরেই ঔজ্জ্বল্য কমে যাওয়া, পরিষ্কারের নানা ঝামেলার কারণে ক্রমেই এর স্থানটি দখল করছে বাহারি রং আর ডিজাইনের দৃষ্টিনন্দন সব টাইলস। নান্দনিক ডিজাইন, চকচকে বহিরাবরণ আর দাম সস্তা হওয়ায় স্থাপনা সাজাতে এখন টাইলস ছাড়া বিকল্প কিছু ভাবনাই যেন কল্পনাবিলাস। টাইলস স্থাপনাকে করে তোলে শৈল্পিক ও দৃষ্টিনন্দন। বছর বছর পেইন্ট করার ঝামেলা নেই, বছরের পর বছর ভবন থাকে চাকচিক্যময়; তাই সিরামিকস টাইলসের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। ভবনের মেঝে, দেয়াল, বাইরের দেয়াল এমনকি সীমানাপ্রাচীরও সাজছে টাইলসে। ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে আসছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে উৎপাদিত, বর্ণিল রং ও রকমারি ডিজাইনের নানা ধরনের টাইলস।

বাজারে রয়েছে বৈচিত্র্যময় নানামাত্রিক টাইলস। বিভিন্ন ধরনের টাইলসের মধ্যে গ্রানাইট, মার্বেল, মোজাইক, সিরামিক, রাস্টিক, ব্রিক, ক্লে টাইলস উল্লেখযোগ্য। তবে এসব টাইলসের মধ্যে ডিজাইন ভিন্নতা থাকার পাশাপাশি তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় সিরামিক টাইলস ব্যবহারের প্রচলনই বেশি। সিরামিকস টাইলসের মধ্যেও রয়েছে রকমফের। যেমন- হালকা, গাঢ়, ফ্লোরাল, জ্যামিতিক, অ্যাবস্ট্রাক্ট, ডটেডসহ হরেক রকম ডিজাইন। ডিজাইন বৈচিত্র্যকে ফুটিয়ে তুলতে জামদানি, কাতান, নকশিকাঁথার মতো দেশীয় ঐতিহ্যে রাঙানো হচ্ছে টাইলস। এ ছাড়া সময়োপযোগী ডিজিটাল প্রিন্ট টাইলসও মিলছে বাজারে। এ ধরনের টাইলসের সুবিধা হচ্ছে, চাইলে পছন্দের যেকোনো ধরনের ছবি বা দৃশ্য প্রিন্ট করা যাবে। ফুল, ফল, পাখি, স্থাপনা, ধর্মীয় প্রতীক, সূরা ও শ্লোকসংবলিত ক্যালিওগ্রাফিক টাইলসও পাওয়া যায় বাজারে। দিন যতই যাচ্ছে টাইলসে যুক্ত হচ্ছে রং বাহারি নিত্যনতুন ডিজাইনসহ নানা ধরন।

স্থাপনায় টাইলসের ব্যবহার

  • ফ্লোর
  • ওয়াল
  • পেভমেন্ট
  • স্টেয়ার ট্রেড
  • স্টেয়ার রাইজার
  • স্কাটিং
  • লবি
  • লিফট ফ্রন্ট
  • ল্যান্ডিং
  • রুফ।

টাইলসের রকমফের

  • হোমোজেনিয়াস
  • সিরামিকস সাধারণ
  • ডটেড
  • স্টোন
  • ডিজিটাল
  • মিরর পলিশ
  • গ্লেইজ পলিশ মিরর
  • প্রিন্টেড
  • রাস্টিক
  • ডেকোর
  • বর্ডার
  • ডাবল চার্র্জ
  • স্যাটিন ম্যাট
  • ম্যাট
  • ফাইবার
  • গ্লাস।

টাইলসের বাজার চলতি ডিজাইন

  • সাধারণ
  • ফ্লোরাল
  • অ্যাবস্ট্রাক্ট
  • জ্যামিতিক
  • ডিজিটাল নেচার
  • ফক্স উড
  • উডলাইন
  • ওভারল্যাপ।

যেখানে যে টাইলস

বাজারে বিভিন্ন রং, সাইজ ও ডিজাইনের টাইলস থেকে উপযুক্ত টাইলস বেছে নেওয়াটা কিন্তু সহজ নয়। চোখে ভালো লাগলেই তা ঘরে মানাবে এমনও কিন্তু নয়। বরং ঘরের আকার, আকৃতি ও ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে কোথায় কী ধরনের টাইলস মানানসই। অনেকে আবার পুরো বাড়িই টাইলসে মোড়াতে চান। সব দিক বিবেচনায় নিয়েই টাইলস বাছাই করা উত্তম। না বুঝে এলোমেলো লাগানো ভুল ডিজাইনের টাইলস স্থাপনার সৌন্দর্য বৃদ্ধির বদলে সৌন্দর্যহানির কারণ হতে পারে। নিজে না বুঝলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়। সম্প্রতি কিছু টাইলস বিক্রি প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের সুবিধার্থে জায়ান্টটিভি মনিটরে হরেক ডিজাইনের টাইলস প্রদর্শন করছে। বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে ভার্চুয়াল স্থাপনার বিভিন্ন স্থানে দেখা যাবে নান্দনিক সেটের টাইলস, যেখানে লোকেশনভেদে পরিবর্তিত হতে থাকবে টাইলসের রং, ধরন ও সাইজ। ওয়াল, ফ্লোর, ডেকোর, বর্ডার বদলে যাবে একই সঙ্গে। কোন ডিজাইন, কোন রং কিংবা কোথায় কোন সিরামিকের টাইলস বসালে কেমন মানাবে তা দেখা যাবে নিমেষেই। এ ছাড়া বর্গফুট অনুযায়ী কোন টাইলসে কত খরচ পড়বে তা জানা যাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। স্থাপনায় বিভিন্ন ডিজাইনের টাইলস স্থাপন করা গেলেও তিনটির অধিক ডিজাইন না লাগানোই ভালো। রং ও ডিজাইনের ক্ষেত্রে হালকা রং বেছে নেওয়া উত্তম। তাতে ঘরকে তুলনামূলকভাবে বড়, আলোকিত ও উজ্জ্বল দেখায়। দেয়ালে হালকা গাঢ় রং লাগানো গেলেও মেঝের টাইলসের রং একটু হালকা রঙের হলেই ভালো। এ ক্ষেত্রে সাদা বা অফহোয়াইট বেশি ব্যবহৃত হয়। বাথরুমের টাইলস ন্যাচারাল রাখাই শ্রেয়। পোরসেলিন টাইলস সিরামিকস টাইলস থেকে বেশি শক্তিশালী। মেঝের স্থায়িত্বে হোমোজেনিয়াস টাইলস স্থাপন করাই সমীচীন।

ড্রয়িং রুম (বসার ঘর)

অতিথি এলে প্রথমেই ঢোকে বসার ঘরে। তাই সেখানেই সুরুচির পরিচয় থাকা ভালো। বসার ঘরের মেঝের টাইলস হতে হবে ঝকঝকে চকচকে। আর তাই মেঝে সাজাতে মিরর পলিশ টাইলস, ডেকোরেটিভ ও উজ্জ্বল রঙের টাইলস স্থাপন করা যেতে পারে। বড় সাইজের টাইলস লাগানোই শ্রেয়। এতে জোড়া কমে, ফলে মেঝে দেখতেও বেশ বড় লাগে। ঘরের আকার অনুযায়ী মেঝের মাঝখানে বর্গাকার-আয়তাকার এমনকি জিওমেট্রিক্যাল নকশাসমৃদ্ধ টাইলস লাগানো যেতে পারে। বৈচিত্র্য আনতে অনেকে উডেন টাইলস ব্যবহার করেন। মেঝের সঙ্গে মিলিয়ে দেয়ালে রাস্টিক টাইলস লাগানো যায়। দেয়ালজুড়ে টাইলসের ব্যবহার না করে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা পর্যন্ত টাইলস লাগানো যেতে পারে।

বেড রুম (শোবার ঘর)

শোবার ঘরের দেয়ালের রং যদি খুব গাঢ় হয়, তবে মেঝের টাইলস হবে দেয়ালের গাঢ় রঙের সবচেয়ে হালকা শেডটি। শোবার ঘরের দেয়ালে টাইলস ব্যবহার না করাই ভালো। তবে একান্তই ব্যবহার করতে চাইলে গ্লসির বদলে হালকা রঙের ম্যাট টাইলস ব্যবহার করাই উত্তম। এতে আলোর প্রতিফলন কম হয়।

ডাইনিং রুম (খাবার ঘর)

বসার ঘরের মতোই খাবার ঘরের টাইলসও গ্লসি আর ডেকোরেটিভ হলে ভালো হয়। মিরর পলিশ ও পোরসেলিন টাইলস ভালো মানায়। মেঝের টাইলস একটু হালকা ধরনের হলেও দেয়ালে ব্যবহারের টাইলস হালকা গাঢ় করা যেতেই পারে।

কিচেন (রান্নাঘর) এবং বাথরুম (স্নানঘর)

বসার ঘর ও শোবার ঘরের তুলনায় রান্নাঘর কিংবা বাথরুমে টাইলসের ব্যবহার একেবারেই ভিন্ন। অন্য স্থানগুলোতে টাইলসের ব্যবহার শৌখিন হলেও রান্নাঘরে এটি প্রায় অপরিহার্য। রান্নাঘর ও বাথরুমে পানির ব্যবহার বেশি, তাই ব্যবহৃত টাইলস যেন পিচ্ছিল না হয়। এ ক্ষেত্রে গ্লসি টাইলসের বদলে ম্যাট টাইলস ব্যবহার করাই উত্তম। টাইলসগুলো খসখসে হওয়ায় পিছলে পড়ার আশঙ্কা কমে। তবে রান্নাঘরে পানির পাশাপাশি তেল-চর্বিও জমে, ম্যাট টাইলস থেকে তা পরিষ্কার করা বেশ ঝামেলার তাই যেখানে তেল-চর্বি বেশি জমে, সেখানকার টাইলস গ্লসি হলেই ভালো।

টাইলসের হিসাবনিকাশ

টাইলসের কাজ শুরুর আগে মেঝে ও দেয়ালের সঠিক অনুপাত বের করে তা এস্টিমেট করে টাইলস কেনা উচিত। এতে যেমন বাড়তি খরচ বাঁচবে, তেমনি দেখতেও হবে আকর্ষণীয়। টাইলস বিক্রি হয় প্রতি বর্গফুট হিসেবে। খুচরা পর্যায়ে প্রতি বর্গফুট ৩০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দেয়াল ও মেঝের টাইলস বিক্রি হয়। তবে আমদানি করা টাইলস বিক্রি হয় প্রতি বর্গফুট সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পর্যন্ত। পছন্দমতো ছবি দিয়ে প্রিন্ট করা টাইলসে খরচ হয় প্রতি বর্গফুট ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো। চীন, স্পেন, ইতালি, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকেও কিছু টাইলস আসে। প্যাকেজ হিসেবেও টাইলস বিক্রি হয়। এর মধ্যে থাকে দেয়ালের জন্য প্লেইন টাইলস, ডেকোরেটিভ টাইলস ও বর্ডার টাইলস। মেঝের টাইলস, দেয়ালের প্রায় মাঝ বরাবর বর্ডার করতে রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের বর্ডার টাইলস। এগুলোর উচ্চতা সাধারণত দুই ইঞ্চি থেকে চার ইঞ্চি। আর দেয়ালজুড়ে প্লেইন টাইলসগুলোর ফাঁকে ফাঁকে নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর একটি ডেকোরেটিভ টাইলস বা নকশা করা টাইলস ব্যবহার করা হয়। টাইলস স্থাপন যেহেতু দীর্ঘ দিনের ব্যাপার তাই নিম্নমানের ও কম দামি টাইলস লাগানো ঠিক নয়। কেনার সময় ৫-১০ শতাংশ বাড়তি টাইলস কিনে রাখা ভালো, যাতে ভেঙে গেলে তা বদলানো যায়।

বাজারে প্রচলিত টাইলসের আকারভেদে দরদাম

টাইলস ফিটিং

দেশি ও বিদেশি টাইলসের খুচরা বাজারমূল্য

ভালো টাইলস চেনার উপায়

  • টাইলসের সাইজ ও শেইপ সমান হবে
  • টাইলসে কাটা, ফাটা বা বাঁকা থাকবে না
  • রং উজ্জ্বল হবে
  • টাইলসে কোনো দাগ বা স্ক্রাস থাকবে না
  • বেশি পানি শোষণ করবে না।

স্থাপনার আয়তনভেদে টাইলসের পরিমাপ

সাধারণত স্থাপনায় উল্লেখিত হিসাবে টাইলস এস্টিমেট করা হয়

ওয়ালে মসলার পুরুত্ব ধরা হয়: ১”

ওয়ালে মসলার অনুপাত: ১ : ২

ফ্লোরে মসলার পুরুত্ব ধরা হয়: ১.৫”

ফ্লোরে মসলার অনুপাত: ১ : ৩

ওয়াল টাইলসের মালামাল (সিমেন্ট ও বালু) অনুপাতের যোগফল: ১ + ২ = ৩

ফ্লোর টাইলসের মালামাল (সিমেন্ট ও বালু) অনুপাতের যোগফল: ১ + ৩ = ৪

বর্গফুট অনুযায়ী ওয়াল টাইলসের হিসাবনিকাশ

বর্গফুট হিসেবে ওয়ালে টাইলস স্থাপনের খরচ

বর্গফুট অনুযায়ী ফ্লোর টাইলসের মালামালের হিসাবনিকাশ

বর্গফুট হিসেবে ফ্লোর টাইলস স্থাপন ব্যয়

উল্লেখ্য, বিভিন্ন আয়তনবিশিষ্ট অ্যাপার্টমেন্টের ওয়াল ও ফ্লোরে এস্টিমেটকৃত সম্ভাব্য এ হিসাবের পরিমাণ উপকরণের স্থানীয় বাজারদর ও মজুরির ওপর নির্ভর করে কম বা বেশি হতে পারে।

টাইলস স্থাপনে করণীয় ও বিবেচ্য বিষয়সমূহ

  • টাইলস ফাটা, ভাঙা বা কোনা মোড়া যেন না হয়
  • টাইলস ব্যবহারের আগে কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়
  • টাইলস লাগানোর আগে ডিশ কেব্ল, ইন্টারনেট, টেলিফোন ও বৈদ্যুতিক লাইন ০.৫০” পিভিসি পাইপের ভেতরে দিতে হবে
  • ফ্লোর টাইলস লাগানোর আগে ফ্লোর ভালোভাবে চিপিং বা পরিষ্কার করে নিতে হবে যেন কাদা-মাটি, ধুলা-ময়লা ও শেওলা না থাকে
  • মেঝে ও দেয়াল পরিষ্কার হয়ে গেলে সিমেন্ট ঘোলা দিতে হবে
  • বাথরুমের ওয়াল টাইলস লাগানোর ক্ষেত্রে নিচের সারির টাইলস ফ্লোর টাইলসের ওপরে লাগাতে হবে
  • বাথরুমের ওয়ালে বর্ডার দিলে তা বেসিনের ওপর আর গ্লাস শেলফের নিচ দিয়ে দিতে হয়, যেন বাথরুমে ঢুকলে বর্ডারটি সম্পূর্ণ দেখা যায়
  • স্যানিটারি লাইন ঠিকমতো করা হয়েছে কি না, পেসার চেক করা হয়েছে কি না তা ভালোভাবে দেখে নিতে হবে
  • বাথরুমের ফ্লোর করার সময় পানি স্লোপ ওয়েস্ট ওয়াটার লাইন বরাবর করতে হবে
  • টাইলস কানির জয়েন্ট (+) চিহ্নের মতো হচ্ছে কি না দেখতে হবে
  • সঠিকভাবে পয়েন্টিং (টাইলসের জয়েন্ট ফিলআপ করা ও দুই টাইলস জোড়া দেওয়া) করতে হবে
  • টাইলস লাগানোর পর সংযোগস্থলে সাদা সিমেন্ট লাগিয়ে দিতে হবে এবং আলগা সিমেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে মুছে ফেলতে হবে
  • টাইলস লাগানোর তিন-চার দিন পরে কাঠের হাতুড়ি দিয়ে ঠুকলে ঢপ ঢপ আওয়াজ হওয়া ভালো নয়।

সিরামিকস টাইলসের যত সুবিধা

  • সিরামিকস মাটি, বালু, কাচ, এসবের প্রাকৃতিক উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি হওয়ায় তা পরিবেশবান্ধব এবং ঘরকে রাখে শীতল
  • সিরামিকস টাইলস রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম ও সহজেই রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়
  • সহজে পরিষ্কারযোগ্য
  • কিছু উচ্চমূল্যের টাইলস ছাড়া এর স্থাপন ব্যয় তুলনামূলক সাশ্রয়ী
  • টাইলসে ফাটল ধরলে বা ভেঙে গেলেও সহজে বদলানো যায়
  • অসংখ্য রং, স্টাইল ও ডিজাইন টাইলস ঘরে আনে আভিজাত্য
  • উন্নতমানের টাইলস স্ক্রাচপ্রুফ হওয়ায় বছরের পর বছর তা থাকে নতুনের মতো
  • টাইলস অগ্নিরোধী, আর্দ্রতা ও দুর্গন্ধমুক্ত।

টাইলস রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্ন-আত্তি

দৃষ্টিনন্দন টাইলস ঘরের সৌন্দর্য বাড়লেও ঠিকমতো যত্ন না নিলে তা ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে ম্লান করতে পারে অন্দরের স্বাভাবিক পরিবেশ। আর সে জন্যই

প্রতিদিন টাইলস ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে

টাইলসের ওপর কোনোমতেই যেন পানি না জমে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে

  • প্রতিদিন ঘর মোছার মতো শুকনো পরিষ্কার কাপড় পানিতে ভিজিয়ে ঘরের প্রতিটি কক্ষ পরিষ্কার করতে হবে
  • মেঝে রোগ-জীবাণুমুক্ত রাখতে সপ্তাহে অন্তত একবার স্যাভলন বা ডেটল পানির সঙ্গে মিশিয়ে পরিষ্কার করতে হবে
  • দেয়ালের সিরামিক-টাইলস পরিষ্কার করতে শুকনো সুতির কাপড় ব্যবহার করলে দাগ পড়ার আশঙ্কা থাকে না
  • রান্নাঘরের টাইলসে ময়লা, তেল-চর্বিজাতীয় দাগ পড়ে টাইলস যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য রান্নার পরপরই তেল-চর্বি পরিষ্কার রাখতে হবে
  • দাগযুক্ত স্থানে ডিটারজেন্ট বা সাবান পানি দিয়ে ভালো করে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে
  • সাধারণত টাইলসের জোড়া লাগানো স্থানের কোনায় কোনায় ময়লা জমে কালচে দাগ পড়ে, তাই সপ্তাহে অন্তত এক দিন ডিটারজেন্ট পাউডার গোলা পানি কিংবা ফোমে সাবান বা লিকুইড ক্লিনার দিয়ে টাইলস পরিষ্কার করতে হবে
  • বাথরুমের টাইলস খুব দ্রুত নোংরা হয়। তা ছাড়া বাথরুমে জীবাণুর আক্রমণও থাকে বেশি। তাই অন্তত সপ্তাহে দুবার বাথরুমের কমোড, বেসিনসহ টাইলস পরিষ্কার করা উচিত।

পাবেন যেখানে

দেশি-বিদেশি টাইলসের সবচেয়ে বড় বাজার রাজধানীর হাতিরপুল ও বাংলামোটর। এ ছাড়া মিরপুর, উত্তরা, গ্রিনরোড, যাত্রাবাড়ী, কুড়িল বিশ্বরোড, মোহাম্মদপুর, রামপুরাসহ ঢাকার প্রায় সর্বত্রই রয়েছে ছোট-বড় টাইলস বাজার। ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও পরিবেশকের মাধ্যমে টাইলস বিক্রি করে টাইলস বিক্রয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া নির্মাণপণ্যের দোকানগুলোতেও বিভিন্ন ডিজাইন ও সাইজের টাইলস পাওয়া যায়।

প্রকাশকাল: বন্ধন ৮০তম সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৬।

প্রকৌশলী সুবীর কুমার সাহা
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top