বলাই বাহুল্য, তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশের আগে যখন কম্পিউটার ছিল না তখনকার এবং এখনকার স্থাপত্য ও নির্মাণকাজের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। তখন শুধু পেনসিল, রাবার, স্কেল ও সাদা কাগজ কিংবা বড়জোর গ্রাফ পেপারেই আটকে ছিল স্থাপত্যকর্ম। কালক্রমে প্রযুক্তির উদ্ভব ও প্রসারে সীমাবদ্ধতার দেয়াল ভেঙে এখানেও লাগে উন্নয়নের ছোঁয়া। তাই অনেক আগেই বদলে গেছে নির্মাণের প্রযুক্তিগত কলাকৌশল। খ্রিষ্টপূর্ব ১০ হাজার বছর আগে সর্বপ্রথম স্থাপত্যের নিদর্শন পাওয়া যায়। সেই যুগে প্রকৌশলীদের চিন্তাধারায় প্রযুক্তির বালাই ছিল না। বছরের পর বছর সময় নিয়ে ডিজাইনের মাধ্যমে শুরু হতো স্থাপনা নির্মাণ। সফটওয়্যারের কল্যাণে নির্মাণের অতীত কলাকৌশল আজ স্থান পেয়েছে শুধুই আর্কাইভে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নির্মাণশৈলীকে শৈল্পিক রূপ দিতে আজকাল সফটওয়্যারের কোনো বিকল্প নেই। তা ছাড়া ড্রয়িং, লে-আউট প্ল্যান, এস্টিমেট ও মডেল তৈরি তো আছেই। মূল্যবান সময় বাঁচাতে, চিন্তার দিগন্তকে প্রসারিত করতে প্রয়োজনীয় ও উপযোগী একটি সফটওয়্যার একজন স্থপতির অনিবার্য অনুষঙ্গ। শুধু তা-ই নয়, এটি একজন স্থপতির সবচেয়ে ভালো বন্ধুও বটে।
অটোক্যাড
অটোক্যাড বিশ্বসমাদৃত একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন সফটওয়্যার। ১৯৮০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এটি তৈরি হয়। যেকোনো স্কেলিং ড্রয়িংয়ের ক্ষেত্রে অটোক্যাডের কোনো বিকল্প নেই। অটোক্যাডের নতুন নতুন কমান্ড ও টুলস সম্পূর্ণ ইউজার ফ্রেন্ডলি। অটোক্যাডের সাহায্যে সাধারণ ড্রয়িং ছাড়াও ডিজাইন, ব্লক, সিম্বল, লোগো ডিজাইন, গ্রিল ডিজাইন, এমব্রয়ডারি ডিজাইন করা যায়। অটোক্যাড সফটওয়্যারের মাধ্যমে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট প্ল্যানার, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, গ্রাফিকস ইঞ্জিনিয়ার, এমব্রয়ডারি ডিজাইনাররা সহজেই তাঁদের সুবিধামতো ড্রয়িং করতে পারেন।
বিভিন্ন জ্যামিতিক বা গ্রাফিক্যাল অবজেক্ট এর সমন্বিত রূপ। যেমন- রেখা, বৃত্তচাপ, বৃত্ত, টেক্সট বা লেখা। এ ছাড়া ব্লক বা গ্রুপ অবজেক্ট আনুষঙ্গিক অবজেক্ট প্রপার্টিজ যেমন- কালার, লেয়ার, লাইন টাইপ আ্যাট্রিবিউট ইত্যাদি ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দ্যে ড্রয়িং করা যায়। সাধারণ ড্রয়িংশিটে যে ড্রয়িং করা হয় এবং অটোক্যাড এডিটরে যে ড্রয়িং করা, তার কার্যপ্রণালি কিছুটা ভিন্ন, তবে সুবিধা অনেক বেশি। অটোক্যাডের কাজ হলো দ্বিমাত্রিক অবজেক্ট নিয়ে। এখানে টুডি, থ্রিডি উভয় ধরনের অবজেক্ট তৈরি করা যায়। তবে টুডি অবজেক্ট তৈরি করে পরবর্তী সময়ে একে থ্রিডিতে রূপান্তরিত করা যায়। অটোক্যাডে তৈরি করা ডিজাইনকে থ্রিডিতে রূপান্তর করতে 3D Studio Max, Maya-এর মতো বিভিন্ন ধরনের থ্রিডি প্রোগ্রামও ব্যবহার করা হয়। আবার অটোক্যাডে সরাসরি থ্রিডি ডিজাইন তৈরি করা যায়। তবে এতে থ্রিডি অপেক্ষা টুডিতে কাজ করা সহজ।
অটোক্যাডের ইন্টারফেস বা ড্রয়িং স্ক্রিনে যে অপশনগুলো পাওয়া যায়, তা হলো-
Title Bar, Menu Bar, Standard Tool Bar, Object Properties Tool Bar, Draw Tool Bar, Modify Tool Bar, Drawing Editor, User Co-ordinate System ev UCS Icon, Status Bar, Command Window প্রভৃতি।
টাইটেল বার (Title Bar): অটোক্যাড গ্রাফিকস উইন্ডোর ওপরের নীল রঙের বারটিকে বলা হয় টাইটেল বার। এই বারটিতে ড্রয়িং ফাইলের নাম প্রদর্শিত হয়। টাইটেল বারের সর্ববামে অটোক্যাড লোগো থাকে।
মেন্যু বার (Menu Bar): টাইটেল বারের নিচের বারটিকে বলা হয় Menu Bar। Menu Bar-এ ড্রপ ডাউন Menu রয়েছে। যেমন: File, Edit, Insert, Format, Tools, Draw, Dimention, Modify প্রভৃতি।
স্ট্যান্ডার্ড টুল বার (Standard Tool Bar) : Menu Bar-এর নিচের বারটিকে বলা হয় Standard Tool Bar। এ বারে আইকন আকারে সাধারণ প্রয়োজনীয় কমান্ড বাটন রয়েছে। Standard Tool Bar-এ কোনো আইকনে ক্লিক করে ওই কমান্ড কার্যকরী করা হয়।
অবজেক্ট প্রপার্টিস টুল বার (Object Properties Tool Bar): Standard Tool Bar-টির ঠিক নিচের বারটি হলো Object Properties Tool Bar। এই টুল বারে কয়েকটি ড্রপডাউন লিস্ট আছে। বিভিন্ন লেয়ার এই টুল বার থেকে কন্ট্রোল করা যায়।
ড্র টুল বার (Draw Tool Bar): অটোক্যাডে ড্রয়িং করার জন্য অতি প্রয়োজনীয় কমান্ডসমূহ Draw টুল বারে দেওয়া থাকে। Draw টুল বারটি গ্রাফিকস উইন্ডোর বাম পাশে থাকে। এই টুল বারের টুলগুলো আইকন আকারে থাকে।
ড্রয়িং এডিটর (Drawing Editor): গ্রাফিকস উইন্ডোর মাঝের খালি স্ক্রিনকে Drawing Editor বলা হয়। প্রয়োজনীয় ড্রয়িংয়ের কাজ এই এডিটরে করা হয়। ডিফল্ট অবস্থায় এই স্ক্রিনের রং কালো থাকে।
কমান্ড উইন্ডো (Command Window): ড্রয়িং স্ক্রিনের নিচের দিকে থাকে কমান্ড উইন্ডো। কমান্ড উইন্ডোতে কোনো কমান্ড লিখে কিবোর্ড থেকে এন্টার কি প্রেস করার মাধ্যমে কমান্ডকে কার্যকরী করা হয়। অটোক্যাডে ব্যবহৃত কমান্ডসমূহের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ আছে। যেমন- লাইন কমান্ডকে অ্যাকটিভ করার জন্য আমরা Draw Tool Bar থেকে Line টুলটি সিলেক্ট করে এটি করতে পারি। এটি যদি কমান্ড উইন্ডোর মাধ্যমে করতে চাই তাহলে কমান্ড উইন্ডোতে কিবোর্ড থেকে L কি এবং এন্টার কি প্রেস করতে হবে। কমান্ডের এই সংক্ষিপ্ত রূপগুলো মনে রাখা খুবই সহজ।
ইউসিএস আইকন (UCS Icon): User Co-Ornidate system-এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো UCS. এই আইকনটি ড্রয়িং এডিটরের নিচে বাম কর্নারে প্রদর্শিত হয়। ডিফল্ট অবস্থায় দ্বিমাত্রিক বা টুডি টপভিউ UCS Icon থাকে।
স্ট্যাটাস বার (Status Bar): কমান্ড উইন্ডোর নিচের বারটি হচ্ছে Status Bar বার। Status Bar-এ আইকনের অবস্থান জানা যায়। আইকনের Status Bar-এ Snap, Grid, Ortho, Polar, O snap, O track, LWT, Model ইত্যাদি বাটন থাকে। যেকোনো বাটনে ক্লিক করার মাধ্যমে এই কমান্ডগুলো কার্যকারিতা on/off করা যায়।
থ্রিডি ম্যাক্স
কম্পিউটারের কাজের মধ্যে গ্রাফিকস ডিজাইন অন্যতম কাজ। গ্রাফিকস ডিজাইনের যে বিষয়টা বর্তমান সময়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তা হলো থ্রিডি গ্রাফিকস ডিজাইন। থ্রিডি বা থ্রি ডাইমেনশন বা ত্রিমাত্রা যেভাবেই বলা হোক না কেন, এর মূল অর্থটা হলো কোনো বস্তু বা জিনিসের তিনটি মাত্রা থাকতে হবে। অর্থাৎ বস্তুটিকে তিনটি মাত্রায় দেখা যাবে। এগুলো হলো দৈর্ঘ্য (Length), প্রস্থ (Width) এবং উচ্চতা (Height)। মনে করুন আপনি দূর থেকে কোনো বড় একটি সাইনবোর্ড দেখছেন। আপনি খেয়াল করে দেখেন, সাইনবোর্ডে আপনি যে ছবিটা দেখতে পাচ্ছেন তার শুধু প্রস্থ এবং উচ্চতা আছে কিন্তু এর কোনো ঘনত্ব নেই। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায় এটি দ্বিমাত্রিক অর্থাৎ এর দুটি দিক আছে। কিন্তু আপনি আপনার মোবাইলটি হাতে নিয়ে দেখেন। দেখতে পাবেন এর তিনটি মাত্রাই আছে। অর্থাৎ এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা তিনটি মাত্রাই আছে। তাহলে এটাকে ত্রিমাত্রিক বলা যায়।
এখানে যে মাত্রার কথা বলা হচ্ছে এগুলোকে কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রকাশ করার নামই হচ্ছে কম্পিউটার থ্রিডি। আপনি যেকোনো বস্তুকে কম্পিউটারের মাধ্যমে তিনটি মাত্রায় অর্থাৎ থ্রিডিতে প্রদর্শন করতে পারবেন। আপনি হলিউড, বলিউডের বিভিন্ন মুভি যেমন- Avatar, Transformer, Ra-One ইত্যাদি মুভি দেখলে বুঝবেন মুভিগুলো কম্পিউটার থ্রিডি দ্বারা তৈরি। আপনি দেখবেন এগুলোতে অনেক কাল্পনিক চিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। এটা সত্য যে আপনি কল্পনার যেকোনো বস্তুকে কম্পিউটার থ্রিডি দ্বারা প্রকাশ করতে পারবেন। আর আপনি যখন একটি থ্রিডি মডেল তৈরি করে এটাকে অ্যানিমেট করবেন, তখন এটি জীবন্ত হয়ে উঠবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী রং ও লাইটিং করে বাস্তব রূপ দিতে পারবেন। এ জন্য আপনার কল্পনাশক্তিকে সমৃদ্ধ করতে হবে।
থ্রিডি কাজের উপযুক্ত বাজারে অনেক থ্রিডি সফটওয়্যার আছে। যেমন-3D Studio Max, Maya, Blender ইত্যাদি। এর মধ্যে থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স থ্রিডি কাজের জন্য দারুণ উপযোগী। থ্রিডি এনিমেশনের শুরু থেকে এখনো Modeling, Animation, Visual effect, Rendering-এর জন্য যে সফটওয়্যারটি বহুল ব্যবহৃত, তা হলো থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স। আসলে থ্রিডি ম্যাক্সের ইন্টারফেইস এমনভাবে তৈরি যে আপনি খুব সহজে এটাকে নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারবেন। থ্রিডি ম্যাক্স মূলত Polygonal Modeling Tool সমৃদ্ধ একটি সফটওয়্যার। তবে এর সঙ্গে Patch Modeling Technology সংযোজিত আছে। 3ds max Polygonal Modeling Tool সমৃদ্ধ হওয়ায় একটি সামান্য বিন্দুকে Extrude করে বিশাল এক বস্তুতে রূপান্তর করতে পারবেন। একজন ব্যবহারকারীর কাছে থ্রিডি ম্যাক্স থাকা মানে এর মাধ্যমে সবকিছুকে থ্রিডিতে প্রকাশ করা।
বর্তমানে Autodesk কোম্পানি 3ds Max-এর ২০১২ ভার্সন বাজারে ছেড়েছে। এর বাজারমূল্য অনেক। আমাদের মতো দেশের মানুষের এত টাকা দিয়ে সফটওয়্যারটি কেনার সামর্থ্য নেই। তাই আপনি ইচ্ছা করলে ইন্টারনেট থেকে ২০১২-এর Cracked ভার্সনটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। অথবা সিডি দোকান থেকে এর একটি পাইরেটেড কপি সংগ্রহ করতে পারেন। আপনি আপনার কম্পিউটারের কনফিগারেশন অনুযায়ী যেকোনো ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন। যাঁদের কম্পিউটারের প্রসেসর core i3, core i5 অথবা core i7, তারা 3ds Max 2010, 2011 অথবা 2012 ভার্সনটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে এগুলোর মধ্যে 2011 ভার্সনটি ব্যবহারের জন্য খুবই ভালো। আপনি আপনার কম্পিউটারে ১ জিবি গ্রাফিকস কার্ড যুক্ত করে নিতে পারেন। তাহলে কাজ করতে অনেক সুবিধা হবে। আর যাঁদের প্রসেসর এর নিচে, তাঁরা ২০১০ কিংবা এর নিচের ভার্সনগুলো যেমন- 3ds max 2009, 9.00, 2008, 8.00, 7.00 ইত্যাদির যেকোনো একটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে আপনি 3ds max 9 ব্যবহার করলে ভালো হয়। স্থাপত্য জগতে সবচেয়ে ভালো টুডি ডিজাইনের জন্য যেমন- অটোক্যাড সবচেয়ে সেরা, তেমনি এর থ্রিডি দেখার জন্যও থ্রিডি ম্যাক্স সেরা। থ্রিডি ম্যাক্স ব্যবহার করে যেকোনো প্রকল্পের প্রেজেন্টেশন খুব সহজেই প্রস্তুত করা যায়।
ভেক্টরওয়ার্ল্ড
জার্মানির নিমিটচেক কোম্পানির বেশ খ্যাতি আছে আর্কিটেকচারাল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ নির্মাণ এবং মাল্টিমিডিয়াসংক্রান্ত সফটওয়্যার তৈরিতে। ১৯৬০ সালে ঘরোয়া পরিবেশে স্বল্পসংখ্যক প্রোগ্রামার নিয়ে কাজ শুরু করলেও এই শতাব্দীতে বিশ্বজুড়ে ১৩৫৫ জন প্রকৌশলী নিয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তিসেবা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ভেক্টরওয়ার্ল্ড কোম্পানিটির আবিষ্কৃত একটি অনবদ্য সফওয়্যার, যা ব্যবহার করে একজন প্রকৌশলী খুব সহজে অনেক দৃষ্টিনন্দন টেকসই স্থাপনার ডিজাইন করতে পারেন। থ্রিডি, টুডি এবং মডেলিংয়ের জন্য এই সফটওয়্যারের কোনো জুড়ি নেই। ইংরেজি ছাড়াও ইতালিয়ান, স্প্যানিশ, চায়নিজ, পর্তুগিজ ও নরওয়ের ভাষায় এই সফটওয়্যারটি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ১৯৮৫ সালে প্রথম ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের জন্য চালু হলেও বর্তমানে সব অপারেটিং সিস্টেমে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা যায়। বহুমুখী কাজের জন্য ভেক্টরওয়ার্ল্ড প্রকৌশলী, স্থপতি সবার কাছেই সমান জনপ্রিয়।
তা ছাড়া নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় ও পরিমাণ নির্ণয় করতে ভেক্টরওয়ার্ল্ড অসাধারণ। যেকোনো ধরনের উপকরণের নিখুঁত ডিজাইন করতে ভেক্টরওয়ার্ল্ড সেরা। ভেক্টরওয়ার্ল্ড ব্যবহার করে কিছু কঠিন উপকরণ আছে, যেগুলোর নিখুঁত জ্যামিতিক পরিমাপ পাওয়া যায়, যা অন্য সফটওয়্যারে এতটা সহজ নয়। এ পর্যন্ত যত সফটওয়্যার বাজারে এসেছে তার মধ্যে সূক্ষ্ম রেন্ডারের জন্য সিনেমা ফোর ডি এবং তার পরেই ভেক্টরওয়ার্ল্ড এর স্থান। রেন্ডার যত নিখুঁত হবে, যেকোনো আর্কিটেকচারাল ডিজাইনের আউটপুট তত নিখুঁত আসবে।
মাইক্রোস্টেশন
টুডি, থ্রিডি ডিজাইনের জন্য এর জুড়িমেলা ভার। স্থাপত্য জগতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার হলো মাইক্রোস্টেশন। হাইওয়ে রোড, রেলসেতু, বিল্ডিং, ওয়াটার প্ল্যান্ট ছাড়াও যেকোনো জটিল এবং সূক্ষ্ম আর্কিটেকচারাল ডিজাইনের জন্য মাইক্রোস্টেশন অত্যন্ত সহজ এবং গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার। যেকোনো পরিকল্পনা সহজে বাস্তবায়নের জন্য টুলসের বহুমুখী ব্যবহার সব সফটওয়্যারে করা গেলেও মাইক্রোস্টেশনে সবচেয়ে সহজে এবং সবচেয়ে দ্রুত করা সম্ভব। তবে এ সফটওয়্যারের বিশেষত্ব হলো এ সফটওয়্যারে মাউসের ব্যবহার করা যায় বিভিন্নভাবে। মাউসের বিভিন্ন অংশকে বিভিন্নভাবে প্রয়োজন মোতাবেক সেটিং করে নেওয়া যায়। মাউস এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা যেকোনো ডিজাইন সফটওয়্যার পরিচালনার জন্য অপরিহার্য। টুলসের ধরন অনুযায়ী, কাজের ধরন অনুযায়ী এ সফটওয়্যারে অনায়াসেই মাউস সেটিং করে নেওয়া যায়। এই সফটওয়্যারে মাউসের বাম বাটনকে ডাটা বাটন এবং ডান বাটনকে রিসেট বাটন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে অন্যান্য সফটওয়্যারের মতোই অবজেক্ট ছোট/বড় করার জন্য মাউসের হুইল ঘোরালেই ছোট/বড় হয়ে থাকে।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ৬০তম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৫