যন্ত্রপাতির রয়েছে অদৃশ্য আকর্ষণ ক্ষমতা। একজন যন্ত্র প্রকৌশলীই তা হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারেন। যন্ত্রগুলো যখন শিল্পকারখানা সচল রেখে উৎপাদন ও অর্থনীতির চাকা ঘোরায়, তখন স্বভাবতই তিনি হন পুলকিত। যন্ত্রপাতির সংস্পর্শই তাঁর ভালো লাগা ও ভালোবাসা। শুধু স্থাপন করাই নয়, যান্ত্রিক ত্রুটি হলে সারিয়ে আবারও কর্মক্ষম করে তোলেন যন্ত্রগুলোকে। এমনই এক যন্ত্র প্রকৌশলীর নাম মো. সাইফুল আলম মারুফ। শিল্পকারখানা ও যন্ত্রপাতি বিক্রয় ও স্থাপনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান জিএসএম ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কর্ণধার। দেশে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠায় যাঁর রয়েছে অসামান্য অবদান। যদিও শারীরিকভাবে তিনি সুস্থ নন। তবুও একের পর এক গড়ছেন শিল্পকারখানা। একজন অসুস্থ মানুষের এমন কর্মচাঞ্চল্য সত্যিই বিরল। পঙ্গুত্বের কাছে হার না-মানা একজন সফল শিল্পদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও প্রকৌশলীর সংগ্রামী জীবনের অনবদ্য গল্প পাঠকদেরই জন্য।
সাইফুল আলম মারুফের জন্ম ১১ জুলাই ১৯৭৭ সাল, চৌড়হাস, কুষ্টিয়ায়। বাবা মরহুম আব্দুল জলিল সরকার আর মা মোছা. হাসিনা বানু। কুষ্টিয়া সিরাজুল হক মুসলিম উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সালে মাধ্যমিক এবং কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৯৬ সালে যন্ত্র প্রকৌশলে (মেকানিক্যাল) ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। এরপর ২০০৫ সালে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE)-এ ব্যাচেলর অব সায়েন্স (বিএসসি) ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি দেশি-বিদেশি বেশ কটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। চাকরিকালীন শিল্পকারখানার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিক্রয়, স্থাপন, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে অর্জন করেন দারুণ দক্ষতা। হাতেখড়ি হয় গার্মেন্টস, ওষুধ, অ্যাগ্রো ইত্যাদি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যন্ত্রকৌশল বিষয়ে। এভাবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পেশাগত নানা ধাপ পেরিয়ে তিনি প্যান ফার্মাসিটিক্যাল অ্যান্ড অ্যালাইড মেশিনারি কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রযুক্তিনির্ভর এ বিশ্বে দেশীয় শিল্পকারখানায় নিত্যনতুন যুক্ত হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রাংশ। সেগুলো বিক্রয়, বাজার সৃষ্টি, স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণÑ এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকেন প্রকৌশলী সাইফুল। কোথাও কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা হলেই দিকনির্দেশনা দিতে ছুটে যান। এভবেই কাটছিল তাঁর যাপিত জীবন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে হঠাৎ থেমে যায় সব কর্মোদ্যম। ২০০৬ সালের ৭ এপ্রিল এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। পায়ে ও কোমরে গুরুতর আঘাত পান। সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও হারান জীবনের স্বাভাবিকতা। হাঁটাচলায় অক্ষম হয়ে পড়েন। দুর্ঘটনাটা এতটাই মারাত্মক যে হুইল চেয়ারকে সঙ্গী করেই বাঁচতে হবে বাকিটা জীবন।
এ অবস্থায় ঢাকা থেকে ফিরে আসেন কুষ্টিয়ায়। সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী! কর্মব্যস্ত মানুষটির এখন অখণ্ড অবসর। সঙ্গে রয়েছে নিদারুণ দৈহিক ও মানসিক যন্ত্রণা। আর কখনোই হতে পারবেন না স্বাভাবিক। সব থেকেও কেমন জানি একা। সঙ্গী বন্ধুরাও তাঁর বাড়ির পথ ভুলেছেন, সে তো অনেক দিন। এত বড় জগৎটা ক্রমেই যেন ছোট হয়ে আসছিল। কিন্তু এভাবে কত দিন? একটা কিছু তো করতে হবে! পা দুটি না হয় অচল, বাকি ইন্দ্রিয়গুলো তো ঠিক আছে। বিশাল বড় বড় যন্ত্রের ত্রুটি দূর করেছেন অথচ নিজের শরীরটাকে সুস্থ করতে পারবেন না। তা কী হয়! অবশ্যই পারবেন। মনের জোর ফিরিয়ে আনেন। সৎ ও পরিশ্রমী কর্মী হওয়ায় অফিস তাঁর চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছে সাধ্যমতো। চিকিৎসা করতে গিয়ে নিজের জমানো টাকাও প্রায় শেষ। যা ছিল তা দিয়েই কিনলেন একটি ল্যাপটপ। প্রকৌশলী বলে কথা! অনলাইনে কৃষিভিত্তিক যন্ত্রপাতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করলেন। আগেই যেহেতু এ ব্যাপারে বিস্তর ধারণা ছিল, তাই সহজেই জড়িয়ে যেতে থাকেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে। শুরু করেন বিদেশে থেকে কৃষিজ শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি।
দীর্ঘ ছয় মাস পর কিছুটা সুস্থ হন। অ্যাগ্রো বা কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানার তেমন পরিচিতি তখনো পায়নি বাংলাদেশে। কুষ্টিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছে হাতে গোনা কিছু স্বয়ংক্রিয় চাল কল (অটো রাইস মিল)। বিষয়টি সম্পর্কে মানুষের ধারণা না থাকাটা সমস্যা হলেও সুযোগ হিসেবেই নেন প্রকৌশলী সাইফুল। তাঁর পরিচিতজনের অনেককেই ফোন দেন। অটো রাইস মিলের উৎপাদনক্ষমতা, তাতে মুনাফা এবং কত দ্রুত মূলধন ফেরত পাওয়া যায় তা জানান তাঁদের। আগ্রহী করে তোলেন শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠায়। এমনকি কারখানা স্থাপন এবং বিপণন ব্যয় এবং তা থেকে মুনাফার দিকরেখা নিরূপণ করে দেন। যৌক্তিক প্রস্তাব বিবেচনায় অনেকেই সাহস করে স্থাপন করেন অটো কল। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁরা সুফল পেতে শুরু করেন এই চালকলের। মুনাফাও আসতে থাকে। শুরুতে অনেকেই ব্যাপারটাকে অবজ্ঞাও করেছেন। যে নিজেই চলতে পারে না সে কীভাবে অন্যের কারখানা সচল করবে, এমন কথা শোনাতেও ছাড়েননি কেউ কেউ। নিন্দুকের এসব বাঁকা কথা অগ্রাহ্য করেই অব্যাহত রাখেন নিজের কাজ। নিয়োগ দেন কিছু বিক্রয়কর্মীও। আমদানি করা মেশিন ও স্থানীয় লেদে তৈরি যন্ত্রাংশ দিয়ে স্থাপন শুরু করেন অটো রাইস মিল। এ ছাড়া ডাল, ওষুধ ও অন্যান্য শিল্প-কারখানার যন্ত্রাংশ স্থাপন করেন। ক্রমান্বয়ে তা ছড়িয়ে পড়ে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর, ময়মনসিংহ, রাজশাহীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এভাবেই কলকারখানা প্রতিষ্ঠায় বিশেষত কৃষিভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় চাল মিলের নির্মাতা হিসেবে তিনি ও তাঁর প্রতিষ্ঠান অর্জন করে ব্যাপক পরিচিতি।
প্রকৌশলী সাইফুলের সহায়তায় স্থাপিত কল-কারখানার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়তে আগ্রহী হন। যন্ত্রপাতি বিক্রি ও স্থাপন এভাবে বেড়ে যাওয়ায় অত্যন্ত উৎসাহী হয়ে ক্রমেই নিজে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। মুনাফার অর্থ দিয়ে কেনেন একটি গাড়ি। কোথাও নতুন কারখানা স্থাপন বা কোনো কারখানায় যান্ত্রিক ত্রুটি হলেই গাড়ির নিয়ে ছুটে যান সেখানে। নিজেই সারিয়ে তোলেন যান্ত্রিক ত্রুটিগুলো। প্রতিটি কাজে তাঁর এমন আন্তরিকতা এবং অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে তুলনামূলক কম ব্যয়ে কারখানা স্থাপন-সুবিধা পাওয়ায় সবাই তাঁর সাহায্যে শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন। এভাবেই এগিয়ে যান নিজে, এগিয়ে নেন অন্যকেও। পাশাপাশি চলতে থাকে উন্নত চিকিৎসা। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, চীন, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন উন্নত চিকিৎসা নিতে।
আজ স্বনামে প্রতিষ্ঠিত তিনি ও তাঁর প্রতিষ্ঠান। স্থাপন করেছেন প্রায় দুই শতাধিক অটো রাইস মিল। সম্পন্ন করেছেন কিছু আবাসন প্রকল্পও। প্রতিদানে পেয়েছেন মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান। তাঁর কাজে তুষ্ট হয়ে ইরফান সুপার ফুড উপহার হিসেবে তাঁকে দিয়েছে একটি প্রিমিও গাড়ি। দুর্দিনে যাঁরা তাঁর খোঁজ নেননি, তাঁরাও ভিড়েছেন নানা প্রয়োজনে। অনেকে অর্থ ধার নিয়ে তা আর ফেরত দেননি। কেউ বা আবার তাঁর কাছ থেকে কাজ শিখে হয়েছেন ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী। কিছু ব্যবসায়িক কাজ না করতে প্রাণনাশেরও হুমকি দিয়েছেন কেউ কেউ। অনেক ক্লায়েন্ট ঠিকমতো টাকা পরিশোধ করেননি। এ ধরনের নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে এগোতে হচ্ছে তাঁকে। তবে কোনো কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি। এগুলো মেনে নিলেও তাঁর প্রতি ব্যাংকের বৈরী আচরণ মানতে পারেননি তিনি। ব্যাংকগুলো তাঁকে প্রতিবন্ধী বিবেচনায় ঋণ দিতে চায়নি; বোধ করেছে অনিশ্চয়তা। অথচ সরকার প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে সবকিছু সহজ করার কথা বললেও বাস্তবে যা একবারেই উল্টো।
সফল এ প্রকৌশলী বিয়ে করেন ২০০৩ সালে। সহধর্মিণী মোছা. তানিয়া সুলতানা মায়া। স্কুলে শিক্ষকতা করেন। সুখী এ দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে মো. মাশরাফি আলম মাহি কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। মেয়ে মাশিয়াত আলম মারিশার বয়স চার বছর। ব্যবসায়িক ব্যস্ততায় সময় কাটলেও সুযোগ পেলেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘুরতে যান দেশ-বিদেশে। তাঁর ক্রান্তিকালে বন্ধুরা যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, তখনো তাঁকে নতুনভাবে বাঁচার প্রেরণা জুগিয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও পরিবার। সুখে-দুঃখে তাঁর পাশে থাকাসহ সব ধরনের কাজে মানসিকভাবে সাহস জোগানোয় স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই তাঁর।
খেলাধুলা যেন তাঁর রক্তে মেশা। ছেলেবেলা থেকেই খেলা নিত্যসঙ্গী। ফুটবল খেলতেন। স্কুল ও কুষ্টিয়া জেলা দলের হয়েও খেলেছেন। জিতেছেন অসংখ্য পুরস্কার। এখন খেলতে না পারলেও ফুটবল খেলার আয়োজক। একটি হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের মহিলা দল হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। ব্যবসা ও খেলাধুলার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজেও রয়েছে তাঁর সমান তৎপরতা। কুষ্টিয়া সমিতি, লালন একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমীর আজীবন সদস্য। প্রতিবন্ধী ও এতিমদের সহযোগিতায় সব সময়ই কিছু না কিছু করেন। প্রতিবছর তাঁর আয়ের কিছু অংশ ব্যয় করেন তাদের কল্যাণে। হুইল চেয়ার, কম্বল, খাদ্য-পানীয় বিতরণের মাধ্যমে তিনি তাদের জন্য কাজ করছেন নিরন্তর। এ ছাড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার উপকরণ বিতরণ, মসজিদ-মাদ্রাসায় দান ও দুস্থদের সহায়তার চেষ্টা করেন সাধ্যমতো।
প্রতিনিয়ত ছুটে চললেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন তিনি। প্রায়ই যন্ত্রণা হয় পায়ে। কিন্তু কখনোই অসুস্থ ভাবেন না নিজেকে। ব্যবসার প্রয়োজনে সবই করেন। অসুস্থ হয়েও একাই দেশ-বিদেশ ঘুরে যন্ত্রপাতি কেনেন আবার চিকিৎসাও করান। মাকে নিয়ে হজও করেছেন। প্রতিনিয়ত নির্মাণ করে চলেছেন বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। বড় আকারের যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি করলেও ছোটগুলো নিজেই নিজস্ব ওয়ার্কশপে তৈরি করেন। এরপরও কিছু স্পেয়ার্স পার্টস চীন ও ভারত থেকে আনতে হয়। অথচ এগুলো দেশেই তৈরি করা সম্ভব। তাই নিজেই একটি কারখানা স্থাপন করেছেন এসব যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য। কাজও এগিয়েছে অনেকটা। দেশের বর্তমান অচলাবস্থা না থাকলে হয়তো এরই মধ্যে উৎপাদন শুরু করতেন। তাঁর বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় দেড় শ কর্মচারী। অসুস্থ হয়েও তিনি যে সম্পদ অর্জন করেছেন তা দিয়ে হয়তো বাকি জীবনটা ভালোভাবে কাটবে। কিন্তু এতগুলো কর্মজীবী মানুষ, প্রতিবন্ধী ভাই-বোন ও এলাকার স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে তিনি করতে চান আরও কিছু। যদি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক-বিমার সহযোগিতা পান, তবে একটি বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছেন তিনি।
প্রকৌশলী সাইফুল আলম সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে চিকিৎসকেরা ইঙ্গিতে তাঁকে বুঝিয়েছিলেন হুইল চেয়ারই তাঁর আজীবনের সঙ্গী। কথাটি বিশ্বাস করেননি তিনি। দৃঢ়কণ্ঠে প্রতিবাদের সুরে বলেছিলেন, ‘একদিন পায়ে হেঁটে এই হসপিটালে আসব আমি।’ এমন মনের জোর কজন মানুষের আছে? আর দুর্নিবার সে জোরেই তিনি অনেকটাই সুস্থ। হয়তো পুরোপুরি নয়। তবে একজন সুস্থ মানুষের থেকেও অনেক বেশি প্রাণবন্ত। স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে না পারলেও ফোর আর্ম ক্রাচে ভর দিয়ে দিব্যি চলাফেরা করেন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের মতো। তবে সেদিন খুব দূরে নয়, যেদিন তিনি হাটবেন দুপায়ে ভর দিয়ে; চিকিৎসকদের সামনে নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলবেন, আমি পেরেছি!
প্রকাশকাল: বন্ধন ৫৯তম সংখ্যা, মার্চ ২০১৫