ক্যাবিনেটে সাজানো ঘর

অন্দরসজ্জার চিরাচরিত ধারণা থেকে বেরিয়ে ঘরকে একটু ভিন্নভাবে সাজানোর চেষ্টা করতে পারেন আপনি। বড় ফ্ল্যাটবাড়ি ইন্টেরিয়রের ভিন্নতায় ঘরে আনে অন্য রকম নান্দনিকতা। আবার ছোট ফ্ল্যাটে ক্রিয়েটিভ ইন্টেরিয়র পাল্টে দিতে পারে সনাতন ঘরের আদল। আধুনিকতার সঙ্গে সঙ্গে আসবাবেও এসেছে সহজ-সরল ঘরানা। প্রয়োজনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় প্রয়োজনীয় আসবাব। তাই বলে আসবাব দিয়ে ঘর ভরতে হবে এর কোনো মানে নেই। সময় নিয়ে প্রয়োজন বুঝে আসবাব কেনা উচিত। প্রথমে এমন কিছু কেনা উচিত, যা মেটাবে প্রাথমিক চাহিদা। কিছুদিন পর আসবাব বদলে ফেলতে চাইলে তখন সেটাকে অন্য কাজে লাগান। একই সঙ্গে দুই ধরনের কাজ করে এমন সব জিনিস দিয়ে সাজাতে পারেন আপনার অন্দর। আর আপনার ঘরের প্রতিটি স্পেসকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পরামর্শ নিন দক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের।

আগে যেখানে অনেক বেশি কারুকাজ করা আসবাব, ভারী কাঠের আলমারি, লোহার সিন্দুকÑ এসবের প্রচলন ছিল, এখন সেখানে আধুনিক জীবনযাপনে ঘরে এসবের স্থান নেই বললেই চলে। কাঠের বিকল্প হিসেবে বোর্ডের ব্যবহার এখন বেশি। ব্যয়সাশ্রয়ীর পাশাপাশি এটি দৃষ্টিনন্দনও। আর অল্প খরচে কাঠের আসবাবের জন্য উপযুক্ত কেরোসিন কাঠ। এটা দেখতেও যেমন সুন্দর, তেমন দামেও সস্তা। ফ্ল্যাট বড় হোক কিংবা ছোট, আজকাল সবাই বিল্ট ইন ফার্নিচার ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। কারণ, এতে যেমন পর্যাপ্ত পরিমাণ স্টোরেজের ব্যবস্থা করা যায়, তেমনি ঘরের স্পেসও হয় খোলামেলা।

আর ক্যাবিনেট মধ্যে রয়েছে ওয়াল ক্যাবিনেট, স্টোরেজের জন্য তৈরি ক্যাবিনেট, নানা ধরনের টিভি ইউনিট ক্যাবিনেট, কিচেন ক্যাবিনেট। ক্যাবিনেটে যে শুধু জামা-কাপড় রাখার ব্যবস্থা থাকে তা কিন্তু নয়, যেকোনো জিনিস স্টোর করতে এটি জরুরি। তাই সাধ ও সাধ্যের মধ্যে কিছুটা সমঝোতা করেই বানিয়ে নিতে পারেন নিজের প্রয়োজন আর ভালোবাসার জিনিস রাখার জায়গাটি।

বেডরুম

বেডরুমটি যেহেতু বিশ্রাম ঘর, তাই এই ঘরটির অন্দরসজ্জায় আন্তরিকভাব থাকাটা একান্ত প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ঘরে বসবাসরত ব্যক্তির বয়স ও রুচির ওপর নির্ভর করে বেডরুমের অন্দরসাজ। চিরাচরিত অন্দরসজ্জার ধারণা থেকে বেরিয়ে  নিজের ঘরটিতে আনতে পারেন বৈচিত্র্য। ঘর যদি আয়তনে ছোট হয় সে ক্ষেত্রে জমকালো, ভারী আসবাব এড়িয়ে চলুন। কারণ, এগুলো ঘরের পরিসরকে ছোট করে ফেলে। এ ক্ষেত্রে ঘরের দেয়ালজুড়ে বানিয়ে নিতে পারেন দেয়ালজোড়া আসবাব। বেডরুমে আয়নার প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে আলাদা করে ড্রেসিং টেবিল না বানিয়ে ক্যাবিনেটের সঙ্গেই বানিয়ে নিতে পারেন ড্রেসিং টেবিল। অনেকের আবার ড্রেসিং টেবিল পছন্দ নয়। সে ক্ষেত্রে আলমারি কিংবা ক্যাবিনেটের পাল্লায় পুরো অংশে আয়না লাগানো, যাতে করে আয়নার প্রতিবিম্ব পড়বে আপনার ঘরে। ফলে ঘরকে আয়তনে দেখাবে দ্বিগুণ। এতে ড্রেসিং টেবিলের কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন দিব্যি। আজকাল এলসিডি ও এলইডি টিভির প্রচলন বেশি, তাই আলাদা করে টিভির ট্রলি না কিনে ক্যাবিনেটের সঙ্গে টিভি রাখার ব্যবস্থা করে নিন। আর ঘরে যদি পর্যাপ্ত জায়গা থাকে, তাহলে অন্য দেয়ালে এলসিডি ইউনিট তৈরি করে নিন। আর আপনার ঘরের আয়তন যদি বড় হয়, সে ক্ষেত্রে আপনি আপনার পছন্দসই আসবাব নির্বাচন করুন। ঘরে ভিন্ন আমেজ আনতে কিছুদিন পরপর আসবাবের অবস্থান অদল-বদল করুন। অধিকাংশ ফ্ল্যাটই এখন ছোট বা মাঝারি আকৃতির হয়ে থাকে। তাই ইচ্ছা করলেই এখন আর ভারী আসবাবে সাজানো যাচ্ছে না নিজের ঘর। যতটা কম জায়গায় প্রয়োজনীয় কাজটা সারতে চাইছেন সবাই। তাই তো কম জায়গায় প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে তৈরি হচ্ছে ক্যাবিনেট, ফলস সিলিং এবং নানা ধরনের আসবাব। প্রায় সব আধুনিক ফ্ল্যাটেই দেয়ালজোড়া আসবাব বা ওয়াল ক্যাবিনেট তৈরি করে নেন গৃহকর্তা বাড়ির নকশা করার সময়ই। ওয়াল ক্যাবিনেটের সুবিধা হলো এর জন্য ঘরে আলাদা কোনো স্থান ছেড়ে দিতে হয় না এবং এটি ওয়াল টু ওয়াল হওয়ায় কারণে আয়তনেও বেশ বড় হয়। আপনার প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই রাখা যায় এখানে। জায়গা বাঁচাতে পাল্লার পরিবর্তে স্লাইডিং ডোরও ব্যবহার করতে পারেন। স্লাইডিং ডোরের সুবিধা হলো এতে পাল্লার মতো ডোর সুইংয়ের জায়গা লাগে না। এবার আসা যাক স্টোরেজের জন্য তৈরি বিভিন্ন ক্যাবিনেটের কথায়। ঘরে প্রয়োজনীয় সব জিনিস এদিক-সেদিক ছড়িয়ে না রেখে যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে কিছু ক্যাবিনেট করিয়ে নেওয়া যায়, তবে প্রয়োজনও মিটবে আবার ঘর অনেক গোছানো মনে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনার ঘরের আসবাব তৈরির সময় এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। যেমন আগে খাটের নিচে ফাঁকা রাখা হতো। এর ফলে ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে ঘরে ময়লা জমে যেত প্রচুর। যদি খাটের নিচটাকে স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করতে চান, তবে খাট তৈরির সময় ড্রয়ার করিয়ে নিতে পারেন। এর মধ্যে আপনার যাবতীয় কাঁথা, লেপ বা নিত্যব্যবহারের চাঁদর, কুশন কভার, মশারির অনায়াশেই জায়গা হয়ে যাবে। ফলে এর জন্য বাড়তি কোনো স্টোরেজের প্রয়োজন পড়বে না।

লিভিংরুম

বৈঠকখানা, লিভিংরুম, ড্রয়িংরুম, যা-ই বলুন না কেন, জমিয়ে আড্ডা দেওয়া এবং অতিথি আপ্যায়নের জন্য আদর্শ এ ঘর। বসার ঘরের অন্দরসাজ কেমন হবে তা নির্ভর করবে আপনার ফ্ল্যাটের আয়তন, আপনার জীবনযাত্রা ও বাজেটের ওপর। খেয়াল রাখতে হবে, বসার ঘরের অন্দরসাজ একজন মানুষের রুচির প্রথম বহিঃপ্রকাশ। যেহেতু বসার ঘর বাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই সফিস্টিকেশনের সঙ্গে সঙ্গে কমফোর্টের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। বড় ঘর হলে ফরমাল সোফা, সেন্টার টেবিল, কর্নার ডেকোরেশন, ল্যাম্প, ঝাড়বাতি, কার্পেট দিয়ে ঘরকে সাজাতে পারেন, চাইলে দুই ধরনের বসার আয়োজনও করতে পারেন। আর ঘর যদি ছোট হয় সে ক্ষেত্রে ফ্ল্যাটের আয়তন অনুযায়ী সাজানোর প্যাটার্ন এবং আসবাব নির্বাচন করা প্রয়োজন। অনেক বাড়িতেই লিভিংরুম খুব একটা বড় হয় না, কিন্তু ঘরের বিভিন্ন জিনিস এবং ডেকোরেশন পিস রাখার জন্য জায়গার দরকার। এমন অবস্থায় আপনি লিভিংরুমে বানিয়ে নিতে পারেন একটি ওয়াল ক্যাবিনেট। ক্যাবিনেটের একটা অংশ পুরো কাভার্ড করে দিতে পারেন। সেখানে আপনি রাখতে পারেন বেশ কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস আর বাকি অংশে কাচের পাল্লা দিয়ে তাতে রাখতে পারেন বিভিন্ন ধরনের শোপিস। আর কেউ যদি ওয়াল ক্যাবিনেট বানাতে না চান, সে ক্ষেত্রে দেয়ালে বিভিন্ন ধরনের তাক এবং কাবিজের মাধ্যমে কম্পোজিশন তৈরি করে তাতে রেখে দিন আপনার পছন্দের জিনিসপত্র। সেন্টার টেবিলকে চাইলে মাল্টিপারপাস ফার্নিচার হিসেবে ডিজাইন করে বানিয়ে নিন। এতে আপনি চাইলে টুল অথবা মোড়ার আকৃতির সিটার বানিয়ে নিতে পারেন। অতিরিক্ত অতিথি এলে এই সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট দেবে আপনাকে বাড়তি সুবিধা। একটু ক্রিয়েটিভ চিন্তাভাবনা আপনার জায়গাকে নষ্ট হওয়া থেকে দেবে মুক্তি।

আজকাল ফরমাল লিভিংয়ের পাশাপাশি ফ্যামিলি লিভিংরুমও থাকে অনেক ফ্ল্যাটে। সে ক্ষেত্রে টিভি রাখার ব্যবস্থা ফ্যামিলি লিভিংরুমে করাই উত্তম। এতে আপনার গোছানো ফরমাল লিভিংরুমের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। ফ্যামিলি লিভিংয়ের টিভি ইউনিট ডিজাইন করার সময় আপনার পছন্দ ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিন। কেউ যদি বইয়ের পোকা হন, তাহলে টিভি ইউনিটটি এমনভাবে ডিজাইন করুন, যেখানে আপনি আপনার পছন্দের বই সাজিয়ে রাখতে পারবেন। আবার কেউ যদি মিউজিকের ভক্ত হন, তাহলে মিউজিক সিস্টেমের পাশাপাশি সিডি/ডিভিডি রাখার জায়গা তৈরি করে নিন। আবার অনেক সময় জায়গার স্বল্পতার জন্য স্টাডিরুমের ব্যবস্থা থাকে না সে ক্ষেত্রে দেয়ালজোড়া টিভি ইউনিটের একপাশে স্টাডি ইউনিটের ব্যবস্থা করে নিন।

চাইল্ড রুম

বাড়িতে চাইল্ড রুমের জন্য দরকার স্টোরেজের, বাচ্চা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার জিনিসপত্রও বাড়তে থাকে। আর বাচ্চারাও বই-খাতা হোক আর খেলনা যা-ই হোক না কেন, তা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখতে ভালোবাসে। সে জন্য বাচ্চাদের ঘরে থাকা চাই বড় মাপের কাভার্ড। যাতে সহজেই গুছিয়ে ঢুকিয়ে ফেলা যায় কাবার্ডে। তবে বাচ্চাদের ঘরে কাবার্ডের সঙ্গে বুক ক্যাবিনেট রাখবেন। দরকারি বই হোক বা তার পছন্দের খেলনা, সহজেই হাত বাড়িয়ে নিতে পারবে সে। বাচ্চাদের ঘরে যদি ওয়াল টু ওয়াল ক্যাবিনেট করতে না চান, তবে একঘেয়েমি দূর করতে এর মাঝের অংশে বসার ব্যবস্থা করতে পারেন। এতে করে ঘরে টানা দেয়ালজুড়ে ক্যাবিনেটের একঘেয়ামিটা দূর হবে আবার বসার ভালো ব্যবস্থাও হবে। বাচ্চাদের রুমের ক্যাবিনেট ডিজাইন করার সময় বাচ্চার প্রয়োজনীয় জিনিস এবং বয়সকে মাথায় রেখে ক্যাবিনেট তৈরি করুন। জায়গা কম থাকলে বাঙ্ক বেড বানিয়ে নিন। সঙ্গে পড়ার টেবিল ও স্টোরেজের ব্যবস্থা রাখুন। বই রাখার জন্য বিভিন্ন রকম তাক দিয়ে ক্রিয়েটিভ স্টোরেজ তৈরি করুন।

ডাইনিংরুম

ডাইনিংরুমে বানিয়ে নিতে পারেন ডিনার ওয়াগন। সেখানে আপনি আপনার ক্রোকারিজগুলো সযত্নে রেখে দিতে পারেন। আজকাল ফ্ল্যাট ছোট হওয়ায় ড্রয়িংরুম এবং ডাইনিংরুম একসঙ্গে থাকে। আপনি যদি দুটি রুমকে আলাদা করতে চান, সে ক্ষেত্রে দুই রুমের মাঝে এমনভাবে ক্যাবিনেট তৈরি করুন, যা কি না উভয় দিক থেকে ব্যবহার করা যায় এবং পার্টিশনেরও কাজ করে। আজকাল অনেক ডাইনিং টেবিল এমনভাবে ডিজাইন করা হয়, যেখানে আপনি নিত্যপ্রয়োজনীয় চামচ, ন্যাপকিন, ছুরি ইত্যাদি রেখে দিতে পারেন অনায়াসেই। খাবারঘরের ক্যাবিনেট বানিয়ে নেওয়ার সময় যে বিষয়টি লক্ষ রাখবেন তা হলো যদি সম্ভব হয় সেই ক্যাবিনেটে আপনি ওভেন, টোস্টার, ব্লেন্ডার, কফিমেকার ইত্যাদি প্রয়োজনীয় যন্ত্র রাখতে পারেন। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, ঘরের আয়তন এসব বিবেচনা করে ডাইনিং টেবিল নির্বাচন করুন।

কিচেন রুম

রান্নাঘর ছোট হোক কিংবা বড় রান্না তো করতেই হবে। আর রান্নাঘর ছোট হলেও চিন্তা নেই। লম্বা কিচেন কাউন্টারের মধ্যে খানিকটা স্পেস বাড়িয়ে নিতে পারেন। বাসার আয়তন কমে যাওয়ার কারণে কিচেনও আয়তনে অনেক ছোট হয়ে যায়। ফলে রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র রাখার জন্য আলাদা করে তাক রাখা সম্ভব হয় না। এ জন্য রান্নাঘরে অতিপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ কিচেন ক্যাবিনেট। বিভিন্ন আসবাব তৈরির প্রতিষ্ঠান চাইলে আপনার কিচেন ক্যাবিনেট তৈরি করে দেবে। নিজে করতে চাইলে কিছু বিষয় জেনে রাখা ভালো। সাধারণত কিচেন ক্যাবিনেটের তিনটি অংশ থাকে। নিচের অংশকে বলে লোয়ার পার্ট। এটা সাধারণত গৃহকর্তার সুবিধামতো উচ্চতায় তৈরি করা হয়। তবে এই লোয়ার পার্টের উচ্চতা ৩৩ ইঞ্চির বেশি হওয়া উচিত নয়। এরপর মাঝের অংশকে বলা হয় হ্যাগিং পার্ট। এখানে সাধারণত দুই ফুট গ্যাপ রাখা হয়। তৃতীয় অংশটি হলো টপ পার্ট। এই অংশটিতে যে দুই ফুট গ্যাপ রাখা হয়, সেটা থেকে উচ্চতায় সাত ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিচেন ক্যাবিনেট দুই ধরনের হয়। এক. সিভিল ওয়ার্ক টাইপ, দুই. মডিউলার। যেসব কিচেনে বাড়ি তৈরি করার সময় ঢালাই করে টপ তৈরি করা থাকে, সেই প্রকার কিচেন ক্যাবিনেটকে বলে সিভিল ওয়ার্ক টাইপ ক্যাবিনেট। এ ধরনের কাজে নিচের অংশে ফ্রেম করে ডোর তৈরি করা হয় এবং ওপরের অংশে ক্যাবিনেট তৈরি হয়। যেসব কিচেনে ফ্লোর ফাঁকা থাকে, সেখানে পুরো কিচেন ক্যাবিনেট গৃহকর্ত্রীর পছন্দ এবং বাজেটকে মাথায় রেখে করা হয়। সেটা হবে মডিউলার টাইপ কিচেন ক্যাবিনেট। তবে যেভাবেই ক্যাবিনেট তৈরি করুন না কেন, সব সময় ওয়ার্ক ট্রাইয়াঙ্গেল (ত্রিভুজ) মেইনটেইন করার চেষ্টা করুন। আজকাল রাঁধুনিরা অনেক সচেতন, রান্না শুধু ক্ষুধা নিবারণই নয় বরং শিল্পে পরিণত হয়েছে। তাই বিভিন্ন ধরনের স্টোরেজের মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো ভাগ ভাগ করে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, যাতে খুব সহজেই তিনি হাতের কাছে পেয়ে যান তাঁর প্রয়োজনীয় জিনিস। কিচেন যদি আয়তনে বড় হয়, সে ক্ষেত্রে আপনি চাইলে ছোট একটি ডাইনিং এরিয়াও তৈরি করে নিতে পারেন।

বাথরুম

একটি ঝকঝকে সুন্দর ইন্টেরিয়র হোক অথবা শৈল্পিক অন্দরমহল, বাথরুম ডেকোরেশন তার অন্যতম বিবেচ্য। যেকোনো বাসার বাথরুমই প্রকাশ করে সেই বাড়ির বাসিন্দাদের রুচিবোধ। আজকাল বাজারে অনেক ক্যাবিনেট বেসিন কিনতে পাওয়া যায়। আর যদি নিজে স্টোরেজের ব্যবস্থা করে নিতে চান, সে ক্ষেত্রে বেসিন কাউন্টারের নিচে ওয়াটারপ্র“ফ মেটেরিয়াল দিয়ে স্টোরেজ বানিয়ে নিন। অনেক ফ্ল্যাটে বাথরুমের সঙ্গেই ড্রেসিংরুম থাকে, সেখানে আপনি আপনার ড্রেসিং ইউনিট তৈরি করে নিতে পারেন অনায়াসেই। আর বাথরুম যদি আয়তনে বড় হয়, সে ক্ষেত্রে নিজের চাহিদা এবং সুবিধামতো ক্যাবিনেট বানিয়ে নিন।

নিজের গৃহে যা-ই করবেন, সব সময় নিজের প্রয়োজন ও পছন্দের কথা বিবেচনা করে করার চেষ্টা করবেন। তবেই সুন্দর হয়ে উঠবে আপনার নিজগৃহ। নতুন বছরে, নতুন পরিকল্পনায়, নতুন করে সাজিয়ে নিন আপনার সাধের অন্দরমহল।

প্রয়োজনীয় টিপস

  • আজকাল বহুতল ভবন কিংবা ফ্ল্যাটে রুমের মধ্যে অনেক কলাম ও বিম দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে একটু চিন্তাভাবনা করে প্রাথমিকভাবে ক্যাবিনেট ডিজাইন করুন, যাতে কলাম অথবা বিম ক্যাবিনেটের অংশ বলে মনে হয়।
  • ক্যাবিনেট ডিজাইন করার সময় কিছু কিছু জায়গায় গ্লাস ব্যবহার করুন, এতে একঘেয়েমি ভাবটা কেটে যাবে। সঙ্গে স্পটলাইটের আলোয় পাবে নান্দনিক রূপ।
  • আপনার ঘরের আয়তন, পছন্দ ও চাহিদাকে মাথায় রেখে ক্যাবিনেট ডিজাইন করুন। ছোট রুমে অনেক ভারী কাজ করা এবং গাঢ় রঙের আসবাব নির্বাচন থেকে বিরত থাকুন। কারণ, এতে রুম আরও ছোট মনে হবে।
  • বাচ্চাদের ঘরে কালারফুল আসবাব তৈরি করুন। ক্যাবিনেটের হ্যান্ডেলে বিভিন্ন ধরনের শেপ দিন; যেমন-ফুল, হাত, বল, পাখি ইত্যাদি। নানা ধরনের কার্টুন চরিত্রকেও প্রাধান্য দিতে পারেন আসবাবে।
  • ডাইনিংরুমে ক্যাবিনেট তৈরির সময় এমন জায়গায় ক্যাবিনেট তৈরি করুন, যাতে খাবার টেবিল রাখার পর চলাচলে কোনো বাধার সম্মুখীন হতে না হয়।
  • শোবারঘরের জায়গা আয়তনে কম হলে এমনভাবে ক্যাবিনেট ডিজাইন করুন, যাতে খাট রাখার পর সেটিকে ক্যাবিনেটের একটি অংশ বলে মনে হয়।
  • কিচেন ক্যাবিনেট তৈরির সময় ব্যবহার করুন ওয়াটারপ্র“ফ মেটেরিয়ালস, যাতে সহজেই পরিষ্কার করা যায়।

প্রকাশকাল: বন্ধন ৫৭তম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০১৫

ফারজানা গাজী
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top