হিমশীতে অন্দর সাজ

এত দিন শীতের আগমনী বার্তা শোনা গেলেও এখন তা বিরাজ করছে প্রকৃতিতে। কয়েক দিনের মধ্যেই এই হিমবাহ যে জাকিয়ে বসবে তা হলফ করেই বলা যায়। শীত অনেকেরই প্রিয় ঋতু। কুয়াশায় ঢাকা সকালের রোদে চাদরমুড়ি দিয়ে মুড়ির সঙ্গে এক কাপ চা, ভাবতেই যেন জিভে জল আনে। শীত মানেই ঘরে ঘরে পিঠার উৎসব। চিরাচরিত ঐতিহ্য অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকায় খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ ও গুড়-পাটালি তৈরি হয়। এ উপলক্ষে রীতিমতো উৎসব শুরু হয়ে যায় যেন। রস, গুড়, পাটালি, পিঠেপুলি, পায়েস আর হরেক রকম মুড়কি-মোয়া যেন শীত উৎসবেরই অংশ। শীতের শাকসবজির সম্ভার যেন ঋতুর বিশেষ উপহার। ‘শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা, আমি তিন মাস ঘুমিয়ে থাকব।’ কবি ভাস্কর চক্রবর্তী এমনটাই বলেছিলেন। কিন্তু আমরা তো আর কবির মতো ঘুমাব না! শীতের অন্দরমহলটা এমনভাবে সাজাব যেন শীত হয়ে ওঠে দারুণ উপভোগ্য। গ্রীষ্মের রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় মানুষ থাকতে চায় খোলামেলা পরিবেশে। তখন ঘরবাড়িকে উজ্জ্বল আর শীতল করে রাখলে সবচেয়ে সুন্দর দেখায়। শীতকালের পরিস্থিতিটা কিছুটা ভিন্ন। আজ আমরা শীতে কীভাবে ঘরকে নতুনত্বের সাহায্যে সাজানো যায় তা জানাব।

আসবাবপত্র ভাবনা

শীতকে বাইরে রেখে ঘরের মধ্যে নতুন পরিবেশ তৈরি করার উদ্দেশ্যই হলো শীতকালে ঘর সাজানোর বিশেষ ব্যাপারটা। এর জন্য যে কাজটি করতে হবে তা হচ্ছে উষ্ণ আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে বাইরের পরিবেশের বিষণ্নতা থেকে মুক্ত হওয়া। শীত জেঁকে বসেছে, বাড়ছে ধুলোবালুর প্রকোপ। শীতের সময় এমনিতেই ধুলোবালু বেশি হয় তাই এ সময় ঘরের ছোট্ট শোপিস থেকে শুরু করে আসবাব কিংবা মেঝেতে ধুলোবালু জমতে দেওয়া যাবে না কোনোভাবেই। আসবাবপত্রে ধুলোবালু জমলে সেগুলো কিন্তু ভেজা কাপড় ভালোভাবে নিংড়ে নিয়ে তারপর পরিষ্কার করা যেতে পারে, তবে কাঠের আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে পানি ব্যবহার না করাই উত্তম। কারণ, ভেজা কাপড় দিয়ে আসবাব পরিস্কার করতে গেলে সেগুলোর রং নষ্ট হতে পারে। তাই এর জন্য মোরগের পালকের তৈরি ঝাড়ু ব্যবহার করতে পারেন। লিকুইড ক্লিনার দিয়ে কাঠের আসবাব কিংবা কাচের জিনিসগুলো মুছে ফেলুন। মাটির সামগ্রীগুলো পরিষ্কার করুন ডিটারজেন্ট দিয়ে। শীতে সম্ভব হলে মাঝে মাঝে আসবাবগুলোকে রোদ লাগানোর ব্যবস্থা করুন। শীতকালে ঘরে পিঁপড়া, মশা, তেলাপোকা, ইঁদুর এসবের পাশাপাশি আরও অনেক ছোট-বড় পোকামাকড় ঘরে আসতে দেখা যায়। পোকামাকড় বা কীটপতঙ্গ একটু ময়লা বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ পেলেই সেখানে বাসা বাঁধতে শুরু করে, তাই ঘরবাড়ি সব সময় পরিষ্কার রাখতে চেষ্টা করুন। খাটের নিচে আলমারি, সোফার পেছনে, ওয়ার্ডরোবের পেছনের চারপাশ ভালোভাবে পরিষ্কার রাখুন। একটু উষ্ণ আমেজ আনতে সোফায় অতিরিক্ত কুশন ব্যবহার করুন। গ্রীষ্মকালে অনেকেই আমরা ফ্লোরিংয়ের ব্যবস্থা করে থাকি কিন্তু শীতকালে ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে ফ্লোরিং এড়িয়ে চলাই উত্তম।

উজ্জ্বল রঙের শীত

শীতের সময় ঘরের সব সাজসজ্জায় একটু উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার উষ্ণতার আমেজ আনে। এ সময় ঘরের সৌন্দর্যবর্ধনে নতুন কনসেপ্টে সাজসজ্জা প্রয়োজন। যেহেতু শীতের সময়টায় চারদিকে একটু ঠান্ডা ভাব থাকে তাই ঘরে উজ্জ্বল রং ব্যবহার করলে উষ্ণতার আমেজে আপনার চারপাশ রঙিন হয়ে উঠবে। এ ধরনের রুমের রঙের পরিবর্তনে শীত অনেকটা কম মনে হবে। ঘরের প্রতিটি দেয়াল রং করা সম্ভব না হলেও রুমের একটি কিংবা দুটি দেয়াল রাঙিয়ে নিন উজ্জ্বল রঙে। এতে ঘর অনেক উজ্জ্বল লাগবে। এতে শীত শীত ভাবটা একটু কমার পাশাপাশি রুমটি দেখতেও কিন্তু দারুণ লাগবে। সবার ঘর যেহেতু অতিথি আপ্যায়ন ও পরিবারের সদস্যদের আড্ডা দেওয়ার জায়গা তাই সেখানে একটি দেয়াল অরেঞ্জ, লাল, গাঢ় হলুদ রঙে রাঙিয়ে নিতে পারেন। শোবার ঘর যেহেতু প্রশান্তির জায়গা, সেখানে ব্যবহার করুন গাঢ় নীল, গোল্ডেন ব্রাউনের মতো রং। খাবার ঘর বা ডাইনিং স্পেস যেটাই বলেন না কেন শীতের ফলমূল এবং সবজির কথা মাথায় রেখে ব্যবহার করতে পারেন টমেটো অরেঞ্জ, সবুজ, লেমন ইয়ালোর মতো রং। শিশুর ঘর মানেই বুঝতে পারছেন হতে হবে একটু রঙচঙে। মেয়ে শিশুর ঘর হলে গাঢ় গোলাপি, পারজেল, ব্রাইট রেড আর ছেলে শিশুর ঘর হলে ব্রাইট অরেঞ্জ, স্কাই ব্লু কিংবা নেভি ব্লু রঙ ব্যবহার করুন ঘরের দেয়ালজুড়ে। ঘরের দেয়ালে যেই রংই ব্যবহার করুন না কেন মাথায় রাখবেন ঘরের আসবাব ও পরিসরের আয়তনের ওপর নির্ভর করে রং নির্বাচন করতে হবে। সঠিক রঙের ব্যবহারে শীতের অন্দরমহল যেমন উজ্জ্বল হবে তেমনি ভুল রঙের ব্যবহার ঘরকে অন্ধকার ও গুমোট করে তুলবে। আপনি সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে একজন দক্ষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের পরামর্শ নিতে পারেন। আপনার রুচি ও পছন্দকে মাথায় রেখে তিনিই আপনাকে দেবেন সঠিক পরামর্শ। নিজের পছন্দমতো রঙের টাইলস যদি রান্নাঘরে লাগিয়ে নিতে পারেন তাহলে কাজের ফাঁকে কফি বানাতে গেলে এতটুকু ক্লান্তিবোধ করবেন না। আজকাল রান্নাঘরের পুরো দেয়ালেই থাকে টাইলসের ব্যবহার তাই আলাদা কোনো রং ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। রান্নাঘরের জন্য সাদা রং হলো আদর্শ। রান্নাঘরের জন্য ময়লা কম দেখা যায়, এমন রঙের টাইলস বেছে নেওয়া ভালো। যাঁদের আগে থেকেই টাইলস লাগানোর তাড়া তাঁরা চাইলে পরিবর্তন আনতে পারেন রান্নাঘরের ক্যাবিনেটে; কেউ চাইলে উজ্জ্বল কমলা, সবুজ, লাল, বেগুনি ইত্যাদি রং ব্যবহার করতে পারেন ক্যাবিনেটে।

ঘরে ঢোকার প্রবেশপথ যদি অত চওড়া না হয়, তবে টমেটো লাল অথবা তেমন কোনো গাঢ় রং সেখানে মানিয়ে যাবে অতি সহজেই, প্রবেশপথের দুই ধারে গাঢ় ও শক্তিশালী রং থাকলে ঘরে ঢুকতেই মন হালকা ও ফুরফুরে হয়ে যাবে। শুধু তা-ই নয়, জোরালো রঙের সাজে আপনার দেয়ালটি হয়ে উঠবে অনেক বেশি আকর্ষণীয়। প্রবেশপথ যদি প্রশস্ত হয়, তবে এর দেয়ালে রাখুন হালকা রঙের ছোঁয়া। এ জন্য বেছে নিতে পারেন সামুদ্রিক সবুজ, মেটে, কমলা অথবা আকাশি নীলের মতো রংগুলো। এ ছাড়া প্রবেশপথের দেয়ালের রঙে যদি একটু ভিন্নতা আনা যায় তবে এক ঘেয়েমি ভাবটাও চলে যাবে।

শীত তাড়াতে কার্পেট

এই শীতে ঠান্ডা মেঝে ঢেকে রাখতে কার্পেটের তুলনা হয় না। তা ছাড়া সব ঋতুতেই কার্পেট ব্যবহার করে ঘরের সৌন্দর্যে ভিন্ন মাত্রা আনা যায়, তবে ঘরের মাপ আর ঠিকমতো না হলে একটা সুন্দর কার্পেট ও শীতের অন্দরমহল সাজাতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। কার্পেট হলো মেঝের আচ্ছাদান। শীতকালে এর উপকারিতার জুড়ি নেই। প্রথমত, ঠান্ডা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় দ্বিগুণ। আমাদের দেশের আবহাওয়া কার্পেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে তেমন উপযোগী নয়, তবুও একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে এবং কিছু বিষয় মাথায় রেখে কার্পেট ব্যবহার করলে তা ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে সাহায্য করে। যেহেতু কার্পেটে প্রচুর ধুলা আটকে থাকে তাই নিয়মিত পরিষ্কার না করলে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। আমাদের দেশে ধুলোবালুর কথা মাথায় রেখে পুরো ঘর জুড়ে কার্পেট ব্যবহার না করাই উত্তম। আজকাল বাজারে নানা আকৃতির ও উপাদানের তৈরি কার্পেট পাওয়া যায়। এর মধ্য থেকে নিজের পছন্দমতো গোল, চারকোনা, আয়তাকার বা ডিম্বাকৃতি কার্পেট বেছে নেওয়া যেতে পারে। ড্রয়িংরুমে সোফার সামনে ও সেন্টার টেবিলের চারপাশে কার্পেট রাখলে দেখতে ভালো লাগে আর ঠান্ডাও কম লাগে। শোবার ঘরে সাধারণত বিছানার পাশে ও দরজার সামনে ছোট বা মাঝারি আকারের কার্পেট ব্যবহার করা যায়। আবার অনেকে ড্রেসিং টেবিলের সামনে, ইজি চেয়ার বা ঘরের ছোট সোফার সামনে কার্পেট ব্যবহার করতে পারেন। শিশুদের যেহেতু ঠান্ডা লাগার প্রবণতা একটু বেশি তাই তাদের সম্পূর্ণ ঘরে কার্পেটের ব্যবহার করলে ভালো হয়, এতে করে মেঝেতে বসে খেলাধুলা করতে তাদের সুবিধা হয়। শীতকালে উজ্জ্বল ও উষ্ণ রং যেমন-লাল, সবুজ, নীল, খয়েরি, বেগুনি ইত্যাদি রঙের কার্পেট ও শতরঞ্জি ব্যবহার করলে ঘর উজ্জ্বল দেখাবে। বাজারে আজকাল নানা উপাদানের কার্পেট পাওয়া যায়। পাট, রেক্সিন, প্লাস্টিক পাতলা রাবার বা অন্যান্য সিনথেটিক উপাদানের তৈরি কার্পেট আপনার ঘরের সঙ্গে মানানসই এবং জায়গা বুঝে নির্বাচন করে বিছিয়ে দিন শীতের হিম হিম ভাব থেকে মুক্তি পেতে।

আলোকসম্পাত

শীতের সময় দিনে সূর্যের আলো পাওয়া যায় অল্প পরিমাণে। এ অল্প আলো ব্যবহার করেও আলোকিত করা যেতে পারে পুরো ঘরটিকে। এ সময় ন্যাচারালের তুলনায় ঘরে কৃত্রিম আলোর ওপর বেশি নির্ভরশীল থাকতে হয় বলে লাইটিংয়ের মাধ্যমে ঘরের পরিবেশে আনতে পারেন উষ্ণতার আমেজ। বাজারে আজকাল নানা ধরনের, নানা সাইজ ও রঙের ল্যাম্পশেড পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে বেডরুমের লাইটিংয়ের জন্য ওয়ার্ম আলো যেমন- হলুদ, লাল, কমলা, বেগুনি ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। বেডরুমের বেডের হেড রেস্টের দুই পাশে অথবা সাইড দিয়ে লাইটিং সিস্টেম করতে পারেন। ঘরের কোণে এক কর্নার অথবা বেডসাইড টেবিলের ওপর রেখে দিতে পারেন ডেকোরেটিভ উলেন, হ্যান্ডমেড উলেন, অ্যাক্রেলিক, পিভিসি ল্যাম্পশেড তা ছাড়া বেডের ওপর অথবা এক কর্ণারে ফলস সিলিং ডিজাইন করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের লাইট ব্যবহার করে তৈরি করতে পারেন এক অসাধারণ পরিবেশ। দেয়ালে ব্যবহার করতে পারেন ওয়াল মাউন্ট লাইট। ডাইনিং স্পেসের আলো সাধারণত সলিড হয়ে থাকে। তাই স্যান্ডেলিয়ায় ও বিভিন্ন ধরনের ল্যাম্পের ব্যবহার করে রুমে আনা যেতে পারে বৈচিত্র্য। বসার ঘরের একপাশ বেছে নিতে পারেন ডেকোরেশনের জন্য সেই কর্নারে বিভিন্ন ধরনের মাটির পটারির সঙ্গে রাখতে পারেন বাঁশ এবং বেতের বিভিন্ন ডিজাইনের ল্যাম্পশেড। ফলস সিলিং করে স্পটলাইটের মাধ্যমে কর্পারগুলোকে আলোকিত করে তৈরি করতে পারেন আলো-আঁধারের খেলা। প্রয়োজনে সেলিং থেকে ঝুলিয়ে দিতে পারেন বিভিন্ন ধরনের হ্যাংগিং লাইট। রাতের বেলায় মোমের আলোয় আলো-আঁধারির খেলায় শীতের অন্দরমহলকে সাজিয়ে তুলুন। ফ্লোরে বড় পাত্রে ফুলের পাপড়ি দিয়ে তাতে ছেড়ে দিন ভাসমান মোমবাতি।

শীতে চাই ভারী পর্দা

সাদামাটা একটি ঘরকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে মানানসই পর্দা। ঘরে আলো-বাতাস প্রবেশের পরিমাণ দেয়ালের রং দিকটা মাথায় রেখে পর্দা নির্বাচন জরুরি। শীত আসছে! শীতকালে ঘরের জানালা বন্ধ থাকলেও বাইরের ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশা থেকে ঘর রক্ষায় প্রয়োজন পর্দা। শুধু ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশা নয়, বাইরের ধুলাবালু ও ময়লা থেকে ঘরকে বাঁচায় পর্দা। শীতকালে যে ঘরে আলো কম, সে ঘরের জন্য কিছুটা পাতলা কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আলো-বাতাসের পরিমাণ বেশি থাকলে মোটা কাপড় ও গাঢ় রঙের পর্দা ব্যবহার করাই উত্তম। এ ক্ষেত্রে হলুদ, লাল, কমলা, লালচে কমলা, গাঢ় নীল, সবুজ ইত্যাদি রং বেছে নেওয়া যেতে পরে। তবে পর্দার রং, কাপড়ের ধরন কেমন হবে, তা নির্ভর করবে কোন ঘরে লাগানো হবে তার উপর।

পশমের ওম

শীতের অন্দরমহল সাজাতে কুশন একটা বিরাট ভূমিকা পালন করে। বিছানা, চেয়ার, সোফা ডিভান সব জায়গায় একটু কুশনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। পশমী কুশন শীতে ওমের আমেজ এনে দেবে। পর্দার রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচন করুন বিভিন্ন ঘরের কম্বল, কম্বল মানেই বাহির রং ও নকশা। আপনার ঘরের পর্দা যদি কালারফুল হয় সেই ক্ষেত্রে সেখান থেকে একটি সলিড রং বেছে নিন। আর পর্দা যদি সলিড রঙের হয় সে ক্ষেত্রে কালারফুল কম্বল বেছে নেওয়াই উত্তম। শিশুদের কম্বল নির্বাচন করার সময় বিভিন্ন রকমের কার্টুন চরিত্র ফুল, পাখি ইত্যাদিকে প্রধান দিন, বাচ্চাদের ঘরে বিভিন্ন ডিজাইনের কুশন ব্যবহার করে ঘরকে আরও সুন্দর করে তুলুন। এ ছাড়া বাচ্চাদের ঘরে বিভিন্ন সফট টয়েস রেখে দিতে পারেন ঘরে একটু ওম ওম ভাব আনতে।

শীতের গাছ

বর্তমানে চিকুনগুনিয়া রোগ প্রায় মহামারি আকার ধারণ করেছে। এতে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এত দিনে মোটামুটি সবার জানা যে চিকুনগুনিয়া একধরনের ভাইরাস জ্বর, যা অ্যাডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। যেহেতু শীতকাল তাই মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে রাসায়নিক স্প্রের ব্যবহার কমিয়ে বাসায় লাগাতে পারেন বিভিন্ন মশা তাড়ানোর গাছপালা। সবচেয়ে কটুগন্ধের ঔষধি হিসেবে পরিচিত পুদিনাপাতা অসাধারণ এক প্রাকৃতিক মশা প্রতিরোধক। পুদিনাপাতা যেহেতু বিভিন্ন ধরনের খাবার ও তরল পানীয় তৈরিতে ব্যবহার করা হয়, তাই বারান্দায়, ছাদে বা রান্নাঘরে এমনিতেই কয়েকটি গাছ লাগিয়ে রাখতে পারেন। বাঙালি রান্নায় রসুন খুবই জরুরি। তাই বাসায় অন্য যেকোনো গাছের গোড়ায় কয়েকটি রসুনগাছ লাগিয়ে দিন। এর গন্ধ মশা তাড়াতে সাহায্য করবে। গাঁদা ফুলের গাছ ধারণ করে পাইরেথ্রাম, যা পোকামাকড় দমনকারী অনেক ওষুধেই ব্যবহৃত একটি যৌগ। বাসার মূল দরজার সামনে বা জানালার কাছে গাঁদা ফুলের গাছ লাগালে এরা খুব সহজেই মশা ঘরে ঢুকতে বাধা দেয়। ছাদের কিংবা বারান্দার সৌন্দর্যবর্ধনে শীতের দিনে গাঁদা ফুলের জুড়ি নেই। ল্যাভেন্তার সুবাসও সৌন্দর্য পছন্দ নয় এমন মানুষ খুব কমই আছে। এই গাছ মশা আটকে রাখতেও সাহায্য করে ল্যাভেন্তারের সুগন্ধী মশার কাছে অপছন্দের আর তাই এই গাছটি বাগানে বা ঘরের দরজায় টবে লাগিয়ে নিলে মশার উপদ্রব কমে যায়। ল্যাভেন্তার তেল, ল্যাভেন্তার স্প্রেও মশা তাড়াতে সাহায্য করে।

প্রয়োজনীয় টিপস

  • শীতকাল যেহেতু ফুলের জন্যে উপযুক্ত সময় তাই ঘরের বিভিন্ন জায়গায় তাজা ফুলের ব্যবহার আপনার মনকে আরও প্রফুল্ল করবে।
  • যেহেতু শীতের দিনে ঠান্ডার একটা ব্যাপার থাকে তাই ট্রান্সপারেন্ট পর্দার সঙ্গে একটু ভারী কাপড়ের পর্দা হলে ভালো।
  • ঘরের রং, ফার্নিচার, পর্দা, কুশনে এবং বেড কভারের সঙ্গে মিল রেখে বাছাই করুন কী ধরনের এবং কী রঙের কার্পেট আপনি নির্বাচন করবেন। দেশীয় আমেজ আনতে নানা রকমের শতরঞ্জি ব্যবহার করতে পারেন।
  • কন্ট্রাস্ট রঙের ব্যবহারে ঘরের স্যাঁতসেঁতে এবং মনমরা ভাব দূর হবে। কালার ফুল এবং ব্রাইট মোড আনার জন্য কন্ট্রাস্ট রঙের কুশন কভার অথবা পর্দা ব্যবহার করতে পারেন।
  • শীতলতা কমাতে গাঢ় রঙের আলোয় সাজাতে পারেন শীতের অন্দরমহল। উজ্জ্বল আলোয় ঘরে বিরাজ করবে উষ্ণতা।
  • গাঢ় রঙের চাদর, বালিশের কভার ও পর্দা নির্বাচন করুন। গাঢ় লাল, উজ্জ্বল কমলা কিংবা নীল রং শীতের অন্দরমহলে নিয়ে আসবে উষ্ণতা।
  • জানালায় কাপড়ের পর্দার পরিবর্তে দেশীয় আমেজ আনতে ব্যবহার করতে পারেন বাঁশ বা বেতের চিক, পাটি বা মাদুর।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৯২তম সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৭।

ফারজানা গাজী
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top