কংক্রিটের স্ল্যাম্প টেস্ট

আরসিসি স্ট্রেন্থ টেস্টের ক্ষেত্রে আমরা যখন ফিল্ডে কংক্রিট কাস্ট করি তখন কিছু মান নিয়ন্ত্রণপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। সাধারণত এ ক্ষেত্রে দুই ধরনের কাস্টিং করা হয়। একটি রেডিমিক্স কংক্রিট, যাতে সরাসরি রেডিমিক্স প্ল্যান্টে কংক্রিট প্রস্তুত করা হয় আর অন্যটি অন সাইট কাস্টিং, যাতে সাইটেই কংক্রিট প্রস্তুত করা হয়। দুই ক্ষেত্রেই কমবেশি একই ধরনের কোয়ালিটি নিশ্চিত বা মান নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। 

প্রথমত, স্ল্যাম্প টেস্ট করে কংক্রিটের সিলিন্ডার টেস্ট করতে হয়। এতে আমরা কংক্রিটের স্ট্রেন্থ সম্পর্কে জানতে পারব। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে এ বিষয়টি এখনো খুব একটা গুরুত্বসহকারে মানা হয় না। আমরা যে কংক্রিট কাস্ট করছি, তা প্রায় ক্ষেত্রেই সিলিন্ডারে নিচ্ছি না। বরং তুলনামূলক মানসম্মত নমুনা সিলিন্ডারে নিচ্ছি, যাতে ভালো টেস্ট রেজাল্ট পাওয়া যায়। কিন্তু সব ক্ষেত্রে অনেকেই সিলিন্ডার টেস্ট করে না কিংবা করা হয়ে ওঠে না। তাদের জন্য পরামর্শ, অন্ততপক্ষে স্ল্যাম্প টেস্ট করার। স্ল্যাম্প টেস্ট করলে আমরা কিছুটা হলেও বুঝতে পারব কংক্রিটের কী রকম কার্যোপযোগিতা আছে, যাতে কতটা সহজে কম্প্যাকশন করা সম্ভব।

কম্প্যাকশন কংক্রিটের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খুব ভালো সিমেন্ট ব্যবহার করলে কংক্রিট কিন্তু ভালো হবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ, সিমেন্ট খুব ভালো কিন্তু কংক্রিটের মিক্স ডিজাইন ভালো না, ফলে এগ্রিগেট যেটা ব্যবহার করা হলো, সেটাও ভালো হয় না। সর্বদা মনে রাখতে হবে কংক্রিটের শক্তি বা স্ট্রেন্থ সরাসরি পানির সঙ্গে জড়িত। কী পরিমাণ পানি কংক্রিটে মেশানো হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ; যাকে আমরা বলি ওয়াটার-সিমেন্ট রেশিও। এই রেশিও বা অনুপাত কন্টে্রাল করা যায় মূলত স্ল্যাম্প টেস্টের মাধ্যমে। এখন প্রশ্ন জাগতে পােও, স্ল্যাম্প টেস্ট কী বা কীভাবে করা হয়?

স্ল্যাম্প টেস্ট পদ্ধতি

এটি মূলত জমাট বাঁধার আগে ফ্রেশ কংক্রিটের দৃঢ়তা পরিমাপক পদ্ধতি, যা কংক্রিটের কার্যোপযোগিতা সম্পন্ন করে। সহজ টেস্ট পদ্ধতি আর এর যন্ত্রপাতির ব্যবহারের জন্য ফিল্ডে এই টেস্ট বেশ জনপ্রিয়। কংক্রিটের ওয়ার্কেবিলিটি বা কার্যোপযোগিতার জন্য ১৯২২ সাল থেকে এই পদ্ধতি সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই টেস্টে ভিন্ন ভিন্ন কোড অনুসরণ করা হয়। যেমন, আমেরিকাতে ASTM C143 ভারতে IS 1199 (1959), ইউরোপে European- Standard (BS E- 12350-2) কোডসমূহ অনুসরণ করা হয়। 

কর্মপ্রক্রিয়া

  • মোল্ড বা ছাঁচের অভ্যন্তরীণ পৃষ্ঠ পরিষ্কার করে প্রয়োজনমতো তেল প্রয়োগ করতে হবে
  • ছাঁচটিকে অনুভূমিকভাবে বেস প্লেটের ওপর বসাতে হবে
  • মোল্ড বা ছাঁচকে যে কংক্রিটের স্ল্যাম্প টেস্ট করা হবে সেই কংক্রিট দ্বারা সমান চার স্তরে পূর্ণ করতে হবে
  • গোলাকৃতি টেম্পিং রড দিয়ে প্রতিটি লেয়ার বা স্তরে ২৫ বার করে ছাঁচের ক্রস সেকশনে টেম্পিং করতে হবে
  • ছাঁচের ওপর থেকে অতিরিক্ত কংক্রিট সরিয়ে ফেলে পৃষ্ঠতলটি কর্ণিক দিয়ে লেভেল করতে হবে
  • ছাঁচ অথবা বেসপ্লেট থেকে যদি মর্টার/পানি লিক করে তাহলে পরিষ্কার করতে হবে
  • ছাঁচটিকে তাৎক্ষণিকভাবে বেসপ্লেট থেকে উলম্ব বরাবর আস্তে উঠিয়ে ফেলতে হবে
  • ছাঁচের উচ্চতা এবং পরীক্ষিত নমুনার পার্থক্য থেকে স্ল্যাম্পের মান পরিমাপ করতে হবে।

কংক্রিটের স্ল্যাম্প টেস্টের ফলাফল

যখন স্ল্যাম্প টেস্ট সম্পন্ন হবে তখন পরীক্ষিত নমুনা দেখে কংক্রিটের ওয়ার্কাবিলিটি (কার্যক্ষমতা) বোঝা যায়। নির্মাণের ধরনভেদে স্ল্যাম্পের মানের ভিন্নতা-

স্ল্যাম্প টেস্ট নিয়ন্ত্রণকারী বিষয়সমূহ

স্ল্যাম্প টেস্টের মান বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। স্ল্যাম্প টেস্টের নিয়ন্ত্রণকারী বিষয়সমূহ:

  • কংক্রিটের মিশ্রণ পদ্ধতি, পরিবহন পদ্ধতি, বসানো (প্লেসিং) এবং যন্ত্রপাতি ব্যবহার পদ্ধতি
  • অ্যাডমিক্সারের ব্যবহার এবং এর ভিন্নতা
  • কংক্রিটের উপাদানসমূহের ভিন্নতা, তাদের মিহিত্ব, কণার আকার বিভাজন, আর্দ্রতা, এগ্রিগেটের গ্রেডিং
  • কংক্রিটের পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা
  • কংক্রিটের ভেতরে বাতাসের পরিমাণ
  • স্ল্যাম্প যন্ত্রপাতির অবস্থা এবং এর ব্যবহার পদ্ধতি
  • কংক্রিট প্রস্তুত করা থেকে টেস্টের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান
  • কংক্রিট তৈরিতে ব্যবহৃত পানির পরিমাণ
  • ব্যবহারভেদে সিমেন্টর ভিন্নতা।

সীমাবদ্ধতা যত

সর্বোচ্চ ৩৮ মি‌.মি. আকারের এগ্রিগেট দিয়ে প্রস্তুতকৃত কংক্রিটের জন্য স্ল্যাম্প টেস্ট প্রযোজ্য

মাঝারি থেকে নিম্ন মাঝারি স্ল্যাম্পের জন্য স্ল্যাম্প টেস্ট উপযুক্ত, যার সীমা ৫-২৬০ মি.মি.র মধ্যে

দৃঢ় কংক্রিট মিশ্রণে-যেখানে স্ল্যাম্প মান শূন্য এসব ক্ষেত্রে বিভিন্ন কার্যক্ষমতার কংক্রিটের জন্য স্ল্যাম্প মানের কোনো রকম ভিন্নতা নেই। 

  • ক্যাপশন
  • স্ল্যাম্প কোণ
  • টেম্পিং পদ্ধতি
  • কোণ সরানো
  • উচ্চতা পরিমাপ

প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১০৭তম সংখ্যা, মার্চ ২০১৯

কাজী আহসান হাবীব
+ posts
Scroll to Top