শিল্পমনা মানুষমাত্রই নিজের বাসগৃহ ও কর্মস্থান দুটোতেই চান শৈল্পিক পরিবেশ। ইট-কংক্রিটের স্থাপনাকে তাই নান্দনিক সাজে সাজাতে স্থপতি ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের প্রচেষ্টার কমতি নেই। কংক্রিট ও ব্রিক ওয়ার্ক, টেরাকোটা, পেইন্টিং, ওয়াল পেপার, উডেন ওয়ার্কের মতো নানা কাজের মাধ্যমে তাঁরা ফুটিয়ে তুলতে চান স্থাপনার নান্দনিকতা। তবে হাল আমলে এক্সটেরিয়র ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনে অত্যন্ত জনপ্রিয় মাধ্যম মেটাল কাটিং ডেকোরেশন বা ডিজাইন। আগে বিশে^র উন্নত দেশগুলোতে এই উপকরণের ব্যবহার লক্ষ করা গেলেও সম্প্রতি এখানেও ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন নকশার মেটাল কাটিং ডেকোরেশন। বাজারেও মিলছে নানা ধরনের ধাতু আর নকশার মেটাল কাটিং ডিজাইন বোর্ড। স্থাপনার সৌন্দর্য বাড়াতে স্থপতি ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররাও বেছে নিচ্ছেন নির্মাণের নান্দনিক এই অনুষঙ্গটি।
মেটাল কাটিং ডেকোরেশন
মেটাল কাটিং ডেকোরেশন মূলত বিভিন্ন ধরনের মেটাল প্যানেল বা বোর্ডকে লেজার মেশিন ও সিএনসি দিয়ে কাটিং করে ডিজাইন করা হয়। এরপর এই প্যানেল স্থাপনার সৌন্দর্যবর্ধনে অভ্যন্তরে ও বাইরে ব্যবহৃত হয়। লেজার মেশিন ও সিএনসি দিয়ে কাটিং করা হয় বিধায় মেটালের ওপর এই ডিজাইনগুলো হয় অত্যন্ত নিখুঁত। হরেক রকম ডিজাইন ও চমৎকার টেকসই স্থাপত্য উপকরণ হওয়ায় এই ডেকোরেশন ব্যবহৃত হচ্ছে বাসা-বাড়ি, অফিস, হোটেল লবি, শোরুম ও রেস্টুরেন্টের সৌন্দর্যে।
প্রকারভেদ
নানা ধরনের মেটালের কাটিং ডেকোরেশন রয়েছে বাজারে। এসএস (স্টেইলনেস স্টিল), এমএস (মাইল্ড স্টিল), এমডিএড বোর্ড, অ্যালুমিনিয়াম, ফাইবার ও অ্যাক্রেলিক। এসব প্যানেলে যেমন, লেজার মেশিন ও সিএনসি মেশিনের মাধ্যমে বাহারি ডিজাইন করা যায়। আবার এর মধ্যে সংযুক্ত করা যায় লাইটও।
দরদাম
ডিজাইন কেমন হবে তার ওপর এর দামটা নির্ভর করে। এক বর্গফুটে একটি লেটার করা যায় আবার ১০০ লেটারও করা যায়। ছোট ছোট কাটিং হলে দাম বেশি আর বড় বড় কাটিং হলে দাম হয় কম। ০.৬ মি.মি থেকে শুরু করে ১, ২, ৩ ও ৬ মি.মি পর্যন্ত মেটাল কাটিং হয়। থিকনেসের ওপরও এর দাম নির্ভর করে। যেমন-০.৬ মি.মি থেকে ১, ২ ও ৩ মি.মি থিকনেসের মেটাল প্রতি বর্গফুট ২০০-৪০০ টাকায় কাটা হয়। আবার ৩ থেকে ৬ মি.মির মেটাল ৫০০-১০০০ টাকায় কাটা হয়। প্রতি বর্গফুট ফাইবার ১০০-৪০০ টাকায় কাটা হয়। সাধারণত লেটার ১ ইঞ্চি, ২ ইঞ্চি, ১ ফুট ও ২ ফুট পর্যন্ত হয়।
মেটাল কাটিং ডেকোরেশনের নামভেদে দরদাম-
এসএস
এসএস মেটালের কাটিং ডেকোরেশন বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। সাধারণ এসএস ও ব্রোঞ্জ কালার এসএস এ দুই ধরনের মেটাল কাটিং ডোকোরেশন রয়েছে বাজারে। ধরনভেদে এর দাম দেওয়া হলো-
অ্যাক্রেলিক
অ্যাক্রেলিকের মেটালে দুভাবে কাটিং করা হয়। একটি লাইটসহ আরেকটি লাইট ছাড়া। অফিসের বাইরে বড় বড় অক্ষর দিয়েও এই বোর্ড স্থাপনা করা যায়, যা দূর থেকে অনেক সুন্দর লাগে।
মোল্ডিং লেটার
মোল্ডিং লেটার নামে একধরনের মেটাল রয়েছে, যেখানে নিজের পছন্দমতো লেটার যুক্ত করে হোটেল লবি, রেস্তোরাঁ ও উদ্যানে যুক্ত করা যায়। মোল্ডিং লেটার লাইটসহ ও লাইট ছাড়া দুই ধরনেরই বাজারে পাওয়া যায়।
ফ্রন্টসাইড নেম প্লেট
মেটালের কাটিং ডেকোরেশনের মধ্যে ফ্রন্টসাইড নেম প্লেট বানানো যায়। এটি সাধারণত ১ বাই ১ ফুট প্লেটের ওপর নকশা করতে হয়। এটিতে গ্লাস ব্যবহার করা হয় নামের অক্ষর লিখতে। প্রতি বর্গফুট গ্লাসের ওপর নকশা করলে দাম পড়বে ৩,০০০ টাকা। এ ছাড়া স্টিকারেও প্রিন্ট করা যায় গ্লাসের ওপর এক্ষেত্রে দাম নির্ভর করবে ডিজাইনের ওপর। ৩,০০০-৩,৫০০ টাকায় ফ্রন্টসাইড নেম প্লেট বানানো যায়।
ফিটিং চার্জ
মেটাল কাটিং ডেকোরেশন শুধু কেনা পর্যন্তই শেষ নয়। এটি স্থাপনায় লাগানোর জন্য আলাদা ফিটিং চার্জ দিতে হয়। সাধারণত নিচ তলা থেকে দুই তলা পর্যন্ত ফিটিং চার্জ ২০০০ টাকা। এর যত বেশি ওপরে লাগাতে হবে তত বেশি চার্জ বাড়বে।
মেটাল কাটিং ডেকোরেশনের বাজার
মেটাল কাটিং ব্যান্ড ব্লেডস মার্কেটের প্রতিবেদন অনুসারে, মূলত উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া প্যাসিফিক, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকায় এই মেটাল বেশি পাওয়া যায়। আর মেটাল কাটিং ডেকোরেশনের মূল অঞ্চলগুলো (দেশসমূহ) হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, রাশিয়া, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, তাইওয়ান, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মেক্সিকো, ব্রাজিল, তুরস্ক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
মেটালের ওপর মার্কিং এবং কাটিং
লেজার কাটিং, লেজার এনগ্রেভিং ও প্লাজমা মেটাল কাটিং ও সিএনসি মেশিনের মাধ্যমে ২ডি, ৩ডি ও ৪ডি ডিজাইন করা হয়। নিজের প্রয়োজন মোতাবেক ক্যাড ডিজাইন করা যায়। স্ক্রিনগুলোকে নিদর্শনগুলোর সাথে কাস্টমাইজ করা যায়।
ডিজাইন-সিএনসি লেজার কাটিং
- ফ্লেম কাটিং
- ডিপ ড্রয়িং
- স্ট্যাম্পিং গঠন বা বাঁকানো
- সিএনসি মেশিনে ঢালাই ও প্যাকিং।
যন্ত্র ও সরঞ্জামাদি
- লেজার কাটিং মেশিন
- সিএনসি শিয়ারিং মেশিন
- ফ্ল্যাট বেড স্পট
- ওয়েল্ডার
- ডাই গ্রাইন্ডার
- ইস্পাত প্রসেসিং মেশিন ইত্যাদি।
প্রাপ্তিস্থান
বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি, নয়াবাজার, কাওরান বাজার, মহাখালী, কাঁটাবন ও পল্টন। এ ছাড়া বিভিন্ন ইন্টেরিয়র ফার্মের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংগ্রহ করতে পারেন মেটাল কাটিং ডিজাইন প্যানেল।
প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১২৫তম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০২১