নির্মাণ সহায়ক যত যন্ত্রপাতি

নির্মাণ একটি জটিল প্রক্রিয়া। নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত থাকে হরেক রকম যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, সময়, অর্থ, জনবল, নির্মাণসামগ্রীসহ নানা অনুষঙ্গ। প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত ও উন্নত হচ্ছে নির্মাণ সহায়ক যন্ত্রপাতি। এসব যন্ত্রাংশ ও উপকরণসমূহ ছোট হোক বা বড় কোনোটার গুরুত্ব কিন্তু কম নয়। এগুলোর সাহায্য ছাড়া নির্মাণকাজ সুসম্পন্ন করা সম্ভব নয়। ভবনের প্লাম্বিং, বৈদ্যুতিক কাজ, কাঠের কাজ, বাথরুম ফিটিংস, প্লাস্টার, রঙের কাজসহ বিবিধ কাজে ব্যবহৃত হয় বেশ কিছু যান্ত্রিক ডিভাইস। এগুলো শুধু নির্মাণেই নয় ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজেও রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নির্মাণে বহুল ব্যবহৃত এসব যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ এ রচনার আলেখ্য।

সি-ক্ল্যাম্প (C-Clamp)

সি-ক্ল্যাম্প মূলত ক্ল্যাম্প ডিভাইস, যা দিয়ে কাঠ বা ধাতব বস্তুকে দৃঢ়ভাবে আটকে বা আবদ্ধ করে রাখা যায়। এ টুলস এর সি-ক্ল্যাম্প নামকরণের প্রধান রহস্য হলো এর ‘সি’ আকৃতির দেহকাঠামো। সি-ক্ল্যাম্পকে জি-ক্ল্যাম্পও বলা হয় (G-Clamp)। এ উপকরণটি ইস্পাত ও কাস্ট আয়রনে তৈরি। ‘সি’-এর উপরিভাগে রয়েছে সমতল প্রান্ত। এটির উপরিভাগে সুতো গলানো সদৃশ গর্ত রয়েছে, যাতে লম্বা বোল্ট গলিয়ে দেওয়া হয়। লম্বা বোল্টের ওপরের প্রান্তকে একটি এল-সাইজ সংযোগকারী নাট দিয়ে আটকানো হয়ে থাকে (ছবি দ্রষ্টব্য)। এল-সাইজ নাট-কে ঘুরিয়ে কাঠ এর উপরিভাগকে আটকানো হয়, এর ফলে লম্বা বোল্টকে টাইট করা হয় আর প্রথমেই ‘সি’-এর নিচ প্রান্তকে জুড়ে দেওয়া হয় কাঠের নিচ প্রান্তের সঙ্গে।

ভাইস

কোনো বস্তুকে ভাইসে দৃঢ়ভাবে আটকিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা যায়। রকমভেদে বিভিন্ন প্রকারের ভাইস-

বেঞ্চ ভাইস: বেঞ্চ ভাইস টেবিলের একপাশে আটকানো থাকে। এর একটি অংশে থাকে স্লাইড (Slide)। স্লাইড বডির ভেতর দিয়ে চলাচল করে। স্পিন্ডল স্লাইডকে চালনা করে। স্পিন্ডল বডি সংযুক্ত বক্স নাটের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করে। স্পিন্ডল ঘোরাতে স্লাইডের সঙ্গে থাকে একটি হ্যান্ডেল। এটা দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে ধাতুখণ্ডকে আটকে ধরে। ‘জ্য’ (Jaw) এর মুখে দাঁত কাটা থাকে। এর ফলে ধাতুখণ্ড সহজে পেছনে যেতে পারে না। বেশ কটি বেঞ্চ ভাইসের মধ্যে রয়েছে-

  • ফিটার্স বেঞ্চ ভাইস: যা ফিটিং বিভাগের কার্যে ব্যবহৃত হয়।
  • কার্পেন্টার্স বেঞ্চ ভাইস: এটা কাঠের কাজে ব্যবহৃত হয়।
  • লেগ বেঞ্চ ভাইস: এটা কামারশালায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
  • পাইপ বেঞ্চ ভাইস: এটা সাধারণত গোল জিনিসকে আটকে রাখতে ব্যবহৃত হয়।

মেশিন ভাইস: ধাতুখণ্ডকে ড্রিলিং, শেপিং ইত্যাদি অপারেশনের জন্য জবকে নির্দিষ্ট স্থানে আটকে রাখা প্রয়োজন। কার্যবস্তুকে ওই নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ রাখার জন্য মেশিন ভাইস ব্যবহার করা হয়।

হ্যান্ড ভাইস: ছোট এবং হালকা আকৃতির কার্যবস্তুকে আটকে ধরে অপারেশন কার্য সম্পাদনের নিমিত্তে হ্যান্ড ভাইস ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে এটি অল্প শক্তিসম্পন্ন অপারেশনে ব্যবহার করা হয়।

পিন ভাইস: পিন ভাইসের সাহায্যে ছোট ফাইল, স্ক্রাইবার, ট্যাং ইত্যাদি খুব সরু গোলাকার জিনিসকে ধরতে সুবিধা হয়। একে সংকুচিত ও প্রসারিত করতে এর পেছনের অংশকে ঘোরাতে হয়। এতে একদিকে ঘোরালে মুখ খুলে বড় হয় এবং অন্যদিকে অর্থাৎ বিপরীত দিকে ঘোরালে মুখ ছোট হয়। অর্থাৎ ‘জ্য’ (Jaw) সংকুচিত হয়। ফলে কার্যবস্তুকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। 

টুল মেকার্স ভাইস: একাধিক কার্যবস্তুকে একত্রে আটকে ধরে কাজ করার জন্য এটি দারুণ উপযোগী। এ জন্য এ ভাইসকে টুল মেকার্স ক্ল্যাম্পও বলা হয়।

ইউনিভার্সেল ভাইস: এ ভাইস মেটাল শপে কার্যবস্তুকে আটকে ধরতে ব্যবহার করা হয়। এ জন্য ধাতুখণ্ডকে ভাইসে শক্ত করে আটকানোর লক্ষ্যে ভাইসের হাতল দুভাবে চালনা করা হয়।

বাসুলি

ইট কাটা কিংবা ভাঙার কাজে ব্যবহৃত হয়।

ওলন

ওলনের ইংরেজি নাম হলো Plumb Bob বা প্লাম বব। এটি সাধারণত ব্রাস (পিতল) দ্বারা তৈরি এবং বায়ুপ্রবাহ যাতে একে সরাতে না পারে তাই উপযুক্তরূপে ভারী করা হয়। এর অগ্রভাগ ক্রমশ সরু এবং যাতে ক্ষয় হয়ে না যায় মুখটি স্টিল দ্বারা তৈরি। এর মাথায় সুতো বেঁধে ঝুলিয়ে দিলে, মুখটি সুতোর সঙ্গে একই রেখাসূত্রে লম্বভাবে অবস্থান করে। কারখানায় ‘লাইন শাফট’ (Line Shaft), মেশিন ইত্যাদিকে স্থাপনের সময় এটি ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে। বাড়ি তৈরির কাজে রাজমিস্ত্রিরা এটি বেশ ব্যবহার করে থাকেন।

স্পিরিট লেভেল

যেকোনো মেশিনপত্র ও ভারী সরঞ্জামের স্থাপনার ক্ষেত্রে ভূ-সমতলকরণ বা লেভেলিংয়ের কাজে স্পিরিট লেভেল ব্যবহৃত হয়। এটি সূক্ষ্ম কৌণিক পরিমাপের নীতিতে কাজ করে। একটি কাচনল ও একটি বর্গাকার কিংবা আয়তাকার প্রস্থচ্ছেদের কাঠের বা ধাতবদণ্ড এবং সামান্য পরিমাণ স্পিরিট দিয়ে স্পিরিট লেভেল গঠিত। কাচনলের আংশিক স্পিরিট দ্বারা এবং অবশিষ্ট অংশ বাতাস ভর্তি অবস্থায় টিউবটিকে দুই মুখ বন্ধ অবস্থায় কাঠের বা ধাতব বডির দৈর্ঘ্য বরাবর স্লট বা খাঁজের ভেতর এমনভাবে বসানো থাকে, যাতে টিউবটি অর্ধবৃত্তাকারে উঁচু হয়ে থাকে। স্পিরিটের উপরিস্থিত বাতাসের বুদবুদটি মূল বডির ভূ-সমান্তরাল অবস্থান নড়চড় হলে এদিক-ওদিক সরে যায়। বুদবুদটি মাঝখানে স্থির থাকলে লেভেলিং ভূমির সমান্তরাল ও সঠিক হয়েছে ধরা হয়। কাচনলের মাঝখানে একটি দাগ থাকে। দৈর্ঘ্য দ্বারা স্পিরিট লেভেলের সাইজ বোঝানো হয়। যেমন- ২০০ মিলিমিটার স্পিরিট লেভেল।

ব্রাশ

ব্রাশের রয়েছে বিভিন্ন রকমফের-

  • হেয়ার ব্রাশ: এ ব্রাশ রং করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
  • পাটের ব্রাশ: দেয়ালে ডিস্টেম্পার করা, হোয়াইট ওয়াশ, কালার ওয়াশ ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়।
  • তারের ব্রাশ:  বিশেষ করে লোহার কাজে এ ব্রাশ ব্যবহৃত হয়।
  • তালের আঁশের ব্রাশ: কোনো কাঠামো অথবা অধাতব বস্তুর পৃষ্ঠতল থেকে ময়লা পরিষ্কার করার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। 

স্নিপস

পাতলা ধাতব পাত হাতে কাটার জন্য যে কাটার যন্ত্র ব্যবহৃত হয় তাকে স্নিপস বলে। এটি কাস্ট স্টিলের তৈরি। একে অনেক সময় হ্যান্ড শিয়ারও বলা হয়। এটা দেখতে সাধারণ কাঁচির মতো তবে এর মুখ শক্ত ধাতুর তৈরি। ফলে এর সাহায্যে পাতলা লোহা অথবা অন্যান্য ধাতু কাটা সম্ভব। সাধারণত বিশ গেজি কিংবা তার চেয়ে পাতলা শিট স্নিপস দিয়ে এটি কাটা হয়ে থাকে।

সার্কুলার স্নিপস: বৃত্তাকার সূত্রে কাটতে একে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ বৃত্ত কাটতে এটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়।

কম্বিনেশন স্নিপস: এ ধরনের স্নিপসের ব্লেডের আকৃতি এমন হয়ে থাকে যে শিটকে বক্র বা সোজা দুভাবেই কাটা যায়।

অ্যাভিয়েশন স্নিপস: সিট মেটাল মেকানিক্সগণ অনাভ্যন্তরীণ বৃত্ত, স্কোয়ার ও অন্যান্য বিষয় আকৃতির প্যাটার্ন তৈরি করার জন্য এই স্নিপস ব্যবহার করা হয়।

হক বিল স্নিপস: এ ধরনের স্নিপসের ব্লেড বাঁকা ও নিম্নমুখী। তাই পাতের ভিতরে বৃত্ত বা বক্ররেখায় কাটার উপযোগী।

স্ট্রেইট ব্লেড স্নিপস: এ ধরনের স্নিপসের ব্লেড ২টি সোজা। সোজা বা সরলরেখায় শিটকে কাটার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।

শিয়ার্স

সাধারণত 20 SWG অপেক্ষা পুরু শিটকে অথবা যে পুরুত্বের শিট বা প্লেট স্নিপস দ্বারা কাটা সম্ভব হয় না, সে সব শিট বা প্লেটকে কাটার জন্য শিয়ার্স (Shears) ব্যবহার করা হয়। শিয়ার্স বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত।

বেঞ্চ শিয়ার্স: এটা স্নিপসের চেয়ে বড় ও সোজা আকার বিশিষ্ট। এর পা দুটো বাঁকানো থাকে। এ পা একটিকে বেঞ্চ প্লেট (Bench Plate)-এর ছিদ্রের মধ্যে প্রবেশ করাকে অথবা বেঞ্চ ভাইস এ আবদ্ধ করে নিয়ে অপর পা এর ওপর হাতের চাপ দিয়ে শিট মেটালকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়।

হ্যান্ড লিভার শিয়ার্স: লিভার ব্যবস্থায় এটি একটি হস্তচালিত মেশিন যাতে রয়েছে দুটো ব্লেডের উপস্থিতি। এর মধ্যে একটি স্থির, অন্যটি চলনশীল। এতে হাতলটিকে চেপে ধরে নিচের দিকে নামালে, চলনশীল ব্লেডটি নেমে এসে এর মধ্যে ঢুকানো শিটকে দ্বিখণ্ডিত করে। এর সাহায্যে বেশি পুরু শিটকে সরল রেখা সূত্রে, কম পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে দ্বিখণ্ডিত করা যায়। হ্যান্ড লিভার শিয়ার্স বেঞ্চ বা টেবিলের ওপর বসানো থাকে। এর ফলার দৈর্ঘ্য ৬ ইঞ্চি থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়।

সার্কেল শিয়ার্স: সার্কেল শিয়ার্স (Circle Shears) একধরনের মেশিন। এর মাধ্যমে ধাতু শিটকে বৃত্তাকার পথে কেটে খণ্ডিত করা হয় বলে একে রোটারি সার্কুলার শিয়ার্স (Rotary Circle Shears) বা রিং অ্যান্ড সার্কুলার শিয়ার্স (Ring and Circle Shears) নামেও অভিহিত করা হয়। একে বেঞ্চ বা টেবিলের ওপর স্থাপন করে ব্যবহার করা হয়। এ শিয়ার্স ব্যবহারে প্রয়োজনীয় মাপের পাত্রের ওপরে ছাঁকনি কিংবা পাত্রের গোলাকার তলা উৎপন্ন করা যায়। এর হাতলটিকে ঘোরানো, ঢালু করা কাটার (Bavelled Cutters) দুটোর মাধ্যমে শিট অতি অল্প সময়ে এবং কম পরিশ্রমে বৃত্তাকারে দ্বিখণ্ডিত হয়।

মেটাল স্লাইটিং মেশিন

বেঞ্চ মেশিনের মতো এটিও টেবিল, বেঞ্চ বা মঞ্চের ওপর বসানো হয়। এ মেশিন দিয়ে ঋজু রেখা সূত্রে, বক্ররেখা সূত্রে কিংবা রেখা সূত্রে কর্তন করা যায়। এ দিয়ে 10 S.W.G মোটা শিটও কর্তন করা সম্ভব। মেটাল স্লাইটিং মেশিন একটি হস্তচালিত মেশিন। এর দুটো ফলা (Blade) থাকে। যার একটি ফলা সচল ও অপর ফলাটি অচল। হাতল ওপরের দিকে তুলে ফলা দুটো ফাঁক করতে হয়। অতঃপর দুই ফলার ফাঁকে কার্যবস্তু নির্দিষ্ট লে-আউট অনুযায়ী স্থাপন করতে হয়। এক হাতে বস্তুটি ধরে অন্য হাতে হাতলটি নিচের দিকে অতি দ্রুত নামানো হয়। এ ক্ষেত্রে লে-আউট অনুযায়ী কার্যবস্তুটি ডানে বা বামে সরাতে হয় যেন যথাযথ পরিমাপ অনুযায়ী কর্তিত হয়।

খাঁজ অথবা কাঁটা থাকলে তার উভয় পাশে স্লাইটিং মেশিনে কেটে পরে মেশিনিস্ট কোল্ড চিজেল দিয়ে ওই খাঁজকে সম্পূর্ণ করতে হয়। এ স্লাইটিং মেশিনের সাহায্যে মেশিনের ক্ষমতা-বহির্ভূত মাপের কোনো শিট অথবা প্লেট কাটা একেবারেই অনুচিত।

মেটাল শিয়ারিং মেশিন

মেটাল শিয়ারিং মেশিনকে স্কোয়ার শিয়ারিং মেশিন (Metal shearing maching) অথবা গিলোটিন শিয়ার মেশিন নামেও অভিহিত করা হয়। মেটাল স্লাইটিং মেশিনের মতো এ মেশিন দ্বারা প্রতিবার ফলার দৈর্ঘ্যরে বেশি দৈর্ঘ্যরে শিট অথবা প্লেট কাটা সম্ভব নয়। এ মেশিনের সাহায্যে সাধারণত ৬৫ সে.মি. থেকে ১০৭ সে.মি. অর্থাৎ ২ ফুট থেকে ৩.৫ ফুট প্রস্থের শিট কাটা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে, কর্তনকৃত শিটের পুরুত্ব ১/১৬ ইঞ্চি থেকে সাধারণত ১/৮ ইঞ্চি মোটা হয়। মেটাল শিয়ারিং মেশিন দিয়ে চতুষ্কোণ করা, মণ্ডন (Trimining), চিড় দেওয়া (Sliting), কর্তন করা প্রভৃতি কাজ শিট মেটাল দিয়ে করা যায়। মেটাল শিয়ারিং মেশিন গঠিত হয় যেসব যন্ত্রাংশ দিয়ে তা হলো- বেভেল গেজ (Bevel gauge), ফ্রন্ট গেজ (Front gauge), সাইড গেজ (Side gauge), ব্যাক গেজ (Back gauge), এক্সটেনশন গেজ (Extension gauge), হোল্ড ডাউন অ্যান্ড গার্ড (Hold down & Guard), পাদানি (Foot-pedal).

চালুনি

চালুনি নির্মাণকাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ টুলস। এটির মাধ্যমে খোয়া থেকে গুঁড়ো পাউডার পৃথক করা যায়, বালু চেলে ময়লা দূর করা যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন সাইজের চালুনির দ্বারা চেলে গ্রেডিং করা যায়।

উষা

সমতল করার কাজে বিশেষ করে প্লাস্টারের কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়।

হাত করাত

কাঠ কাটার অথবা সয়িং করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

মেজারিং টেপ

কোনো কিছু পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।

কোদাল

নির্মাণকাজে বিশেষ করে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত হয়।

বেলচা

কংক্রিট ও মসলা মেশানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া বালু বা মাটি সরানোর কাজেও ব্যবহৃত হয়।

হাতুড়ি

বিভিন্ন ধরনের হ্যামার বা হাতুড়ি –

ইঞ্জিনিয়ার্স হ্যামার: ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মক্ষেত্রে এই হ্যামার অধিক ব্যবহৃত হয় বলে একে ইঞ্জিনিয়ার্স হ্যামার বলে।

সফট হ্যামার: হাতুড়ির আঘাতে যন্ত্রাংশে দাগ বা ছাপ পড়ার আশঙ্কা থাকলে ওই সবক্ষেত্রে সফট হ্যামার ব্যবহৃত হয়।

স্লেজ হ্যামার: এই হ্যামার কামারশালায় বেশি ব্যবহৃত হয়। কোনো বস্তুকে আকৃতি পরিবর্তন কিংবা অধিক চাপ বা আঘাত দেওয়ার কাজে এ জাতীয় হ্যামার ব্যবহৃত হয়।

সেটিং হ্যামার: এর একটি প্রান্ত বা মুখ (Face) চতুষ্কোণ এবং সমতল। অপর প্রান্তটি (Head) একদিকে ঢালু (Bevelled) করা। সমতল প্রান্ত দ্বারা জোড় স্থানে আঘাত দিয়ে একে সমতল করা এবং ঢালু করা প্রান্ত দ্বারা শিটের প্রান্তকে ভাঁজ করে বা মুড়ে দেওয়া হয়। এটি শিটের পুরু মাপ ও কাজের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন ওজনের হয়ে থাকে (১১০-৫১০ গ্রাম পর্যন্ত)।

বল পিন হ্যামার: এর মাথা বলের মতো গোলাকার হওয়ায় একে বলা হয় বল পিন হ্যামার। এটা সাধারণত চিপিং, পাঞ্চিং ইত্যাদি অল্প আঘাতজনিত কাজে ব্যবহৃত হয়।

স্ট্রেইট পিন হ্যামার: স্ট্রেইট পিন হ্যামারের মাথা খাড়া এবং হাতলের সঙ্গে সমান্তরালভাবে থাকে। ফোর্জিং কাজের সময় ধাতুকে বিস্তৃত, প্রসারিত বা বাড়ানো কাজের উপযোগী।

ক্রস পিন হ্যামার: এ হ্যামারের মাথা খাড়া এবং হাতলের সঙ্গে ৯০ ডিগ্রি কোণে আড়াআড়িভাবে থাকে। এটা স্ট্রেইট পিন হ্যামারের মতো ধাতুকে বাড়ানোর জন্যও ব্যবহৃত হয়।

রিভেটিং হ্যামার: এটা এক প্রান্ত (Face) সামান্য উত্তল (convex) করা অপর প্রান্ত (Head) ‘সেটিং হ্যামার’-এর মতো একদিকে ঢালু (Bevelled) করা। রিভেট দ্বারা সংযোগ করার সময় এর সাহায্যে রিভেটের ওপর আঘাত দিতে ব্যবহার হয়।

ম্যালেট

ম্যালেট কাঠ দ্বারা তৈরি। চলিত বাংলায় একে ‘মুগুর’ নামে ডাকা হয়ে থাকে। লোহার তৈরি হ্যামার দ্বারা শিটের ওপর আঘাত দিলে উপরিভাগে চিহ্ন পড়ে। উপরন্তু, এটি বিকৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে ভাঁজ দেওয়া, বাঁকানো ইত্যাদি সকল প্রকার সাধারণ কাজে এ ম্যালেট দ্বারাই আঘাত করা হয়।

কুর্ণি

কুর্ণি স্টিলের তৈরি। এটি দিয়ে মসলা নাড়াচাড়া করা হয়। এটি গাঁথুনি ও প্লাস্টারের কাজে ব্যবহৃত হয়।

কংক্রিট মিক্সার মেশিন

কংক্রিটের বিভিন্ন উপাদানসমূহকে সঠিক অনুপাতে মেশানোর জন্য যে মেশিন ব্যবহৃত হয়, তাকে কংক্রিট মিক্সার মেশিন বলে। এটির মাধ্যমে অল্প সময়ে বেশি মিশ্রণ তৈরি করা যায়। এটিতে খরচ অপেক্ষাকৃত কম হয়, এটির কারণে মিশ্রণ সঠিক অনুপাতে ও সুষম হয়। ফলে কাজের মান বাড়ে।

ভাইস ক্ল্যাম্প

ভাইস ক্ল্যাম্পের অপর নাম ‘ভাইস জ ক্যাপ’ (Vice Jaw Cap)। ভাইসে সাধারণত যেসব বস্তুকে আবদ্ধ করা হয় তা প্রায়ই ‘জ’ অপেক্ষা নরম ধাতু দিয়ে তৈরি হয়। উপরন্তু ‘জ’ দুটির উপরিভাগে দাঁত কাটা থাকায় এবং শক্ত করা ও ‘টেম্পার’ দেওয়া থাকায় কোনো বস্তুকে যখন চাপ দিয়ে অর্থাৎ কামড়িয়ে ধরে তখন বস্তুটির উপরিভাগে দাঁতের কামড়ে গভীর ক্ষত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বস্তুটির উপরিভাগ বিকৃতও হয়ে যায়। এসব ক্ষতিকে রোধ করার জন্য অ্যালুমিনিয়াম, ব্রাস (পিতল), কপার (তামা), লেড (সিসা) ইত্যাদি নরম ধাতু দ্বারা পাতকে অথবা কাঠ, চামড়া ইত্যাদি নরম বস্তুকে ‘জ’-এর উপরিভাগে স্থাপন করা হয়। এ ছাড়া গোল, অসমান, ক্রমশ সরু এবং স্ক্রু-থ্রেডবিশিষ্ট বস্তুকে সমান্তরাল ‘জ’ দ্বারা উত্তমরূপে ধারণ করা সম্ভব না হওয়ায় বস্তুটির আকার এবং গঠন অনুযায়ী বিশেষভাবে তৈরি দুটি ধাতুখণ্ডকে ‘জ’-এর ওপর ব্যবহার করা হয়। এসব বস্তুকে বলে ‘ভাইস ক্যাম্প’।

কর্নিক ব্রেক

কর্নিক ব্রেক শিটকে সরু প্রকৃতির বেন্ড করতে ব্যবহৃত হয়। বেশি চওড়া যেমন-বাক্সের পার্শ্ব বেন্ড করতে, ব্রেক মেশিনের বা হাতে করা যেতে পারে। এ মেশিন দুইপ্রকার- কর্নিক ব্রেক এবং বক্স অ্যান্ড প্যান ব্রেক মেশিন। কর্নিক ব্রেক টপ লিফ এবং লোয়ার বেল্ডিং লিফ, A-ক্ল্যাম্পিং হ্যান্ডেল, B হ্যান্ডেল, ব্যালেন্স ওয়েট, বেল্ডিং এজ বার ইত্যাদি অংশ নিয়ে গঠিত।

মাল্টিরোল মেশিন

এটি একটি রোলিং মেশিন। তবে এতে স্নিপ রোল ফর্মিং মেশিনের মতো লম্বা রোলার থাকে না। এতে মেশিনের এক পাশে ‘রোল ডাই’ (Rool die) থাকে। রোল ডাই হয় বিভিন্ন আকৃতির। প্রয়োজন অনুযায়ী এদের একটিকে সহজেই খুলে অন্যটি লাগানো যায়।

স্ট্যাকস

স্ট্যাকস (Stakes) একধরনের ফর্মিং টুলস, যার সাহায্যে ধাতব শিটকে বিভিন্ন আকার আকৃতি প্রদান করা যায়। শিট মেটাল কাজে সর্বাধিক ব্যবহৃত ফর্মিং টুলসের মধ্যে স্ট্যাকস অন্যতম। কামারশালায় যেমন এই নভিলের ওপর ধাতুখণ্ডকে রেখে আঘাতের সাহায্যে তার আকার পরিবর্তন করা হয়, তদ্রুপ মেটাল শপে ওই প্রকার স্ট্যাকসের ওপর শিট খণ্ডকে রেখে আঘাতের সাহায্যে অথবা হাতে বাঁকিয়ে বা ভাঁজ করে একে বিভিন্ন আকার দেওয়া হয়। স্ট্যাকসের পাদদেশ চতুষ্কোণ বলে একটি বেঞ্চ প্লেট (Bench Plate)-এর চতুষ্কোণ ছিদ্রের মধ্যে এটিকে বসিয়ে নিয়ে এটি ব্যবহার করা হয়। শিট মেটালকে স্ট্যাকের ওপর রেখে পিটিয়ে নির্দিষ্ট আকার প্রদান করা হয়। কয়েকটা ম্যাপস যে ধরনের-

সলিড ম্যানড্রিল স্ট্যাক: সমতল আয়তাকৃত, ধারালো পার্শ্ব, সোজা প্রান্ত, বিশিষ্ট লম্বা শ্যাঙ্কের এ স্ট্যাক দিয়ে সাধারণ কার্যাদি সম্পাদন করা হয়।

হলো ম্যানড্রিল: হলো ম্যানড্রিলের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত খাঁজ কাটা থাকে। ওই খাঁজে একটি বোল্ট লাগানো থাকে, যার সাহায্যে এটিকে টেবিলের সঙ্গে যে কোনো দৈর্ঘ্যে ও কোণে আটকানো যায়। এর গোলাকার প্রান্ত দিয়ে পাইপের মধ্যে রিভেটিং, সিমিং ইত্যাদি অপারেশনের মাধ্যমে বাক্স তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

হ্যাচেট স্ট্যাক: হ্যাচেট স্ট্যাকসের পাশ বরাবর ধারালো, সোজা প্রান্ত, ঢালু তীক্ষè বাঁক এবং বাঁকানো প্রান্ত থাকে। সাধারণত হাতে বাক্স অথবা পাত্র তৈরি করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

ক্রেজিং স্ট্যাক: ক্রেজিং স্ট্যাক দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটিতে উভয় পাশে বিভিন্ন মাপের খাঁজ কাটা আয়তাকার হর্ন থাকে। খাঁজগুলোর ধাতু ভাঁজ দেওয়া এবং তার বাঁকা করার জন্য ব্যবহৃত হয়। অপরটি গোলাকার এবং একপাশে সরু, অপর পাশে আয়তাকার প্রান্ত ফর্মিং ল্যাপ, রিভেটিং ও ডাবল সিমিং, বাক্স তৈরি ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়।

নিডল কেস স্ট্যাক: নিডল কেস স্ট্যাকের এক পাশে ছোট ক্রমশ সরু হর্ন থাকে এবং অপর পাশে আয়তাকার প্রান্ত এবং গোলাকার ও ক্রমশ ঢালু। সুন্দর মনোরম হাতের কাজ করার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। 

ক্যান্ডল মোল্ড স্ট্যাক: এর দুই পাশে দুটো ক্রমশ সরু হর্ন থাকে। হর্ন দুটো ভিন্ন মাপের- একটি ছোট এবং অন্যটি বড়, ক্রমশ সরু। সাধারণত চোঙ-জাতীয় দ্রব্য তৈরি করতে ফর্মিং, রিভেটিং, সিমিং ইত্যাদি কার্য সম্পাদন করার জন্য এ স্ট্যাক ব্যবহার করা হয়।

ব্লো-হর্ন স্ট্যাক: এ স্ট্যাকের একপাশ খাটো এবং ক্রমশ সরু হর্ন থাকে। অন্যপাশেও লম্বা ও ক্রমশ সরু হর্ন থাকে। এটা দিয়ে ক্রমশ সরু বস্তু যেমন, চুঙ্গি (Funnels), পিচ কাভার (Pitch cover) ইত্যাদি আকৃতি প্রদানে রিভেটিং (Riveting) সিমিং প্রভৃতি কার্যে এ স্ট্যাক ব্যবহার করা হয়।

কন্ডাক্টর স্ট্যাক: এ স্ট্যাকের দুই পাশে ভিন্ন ব্যাসের দুটো সিলিড্রিনক্যাল (Cylindrical) হর্ন থাকে। এটা দিয়ে ছোট আকারের পাইপ অথবা নল তৈরিতে ফর্মিং (Forming), রিভেটিং (Riveting) সিমিং প্রভৃতি কার্য সম্পাদন করা হয়।

বটম স্ট্যাক: এ স্ট্যাকের গঠন আয়তাকার এবং মাথাটি ক্রমশ সরু হর্নবিশিষ্ট। এটা দিয়েও ফর্মিং (Forming), রিভেটিং (Riveting), সিমিং (Seaming) ইত্যাদি কার্যাদি সম্পন্ন করা যায়।

কপার স্মিথ স্কয়ার স্ট্যাক: এ স্ট্যাকের এক প্রান্ত সমতল বর্গাকৃতি এবং অন্য প্রান্ত লম্বা, সরু হর্ন বিশিষ্ট। স্ট্যাকের অবস্থার উপরই চূড়ান্ত কাজের দক্ষতার যথেষ্ট প্রভাব বিদ্যমান। যদি স্ট্যাকের ওপর প্রিক পাঞ্চ অথবা চিজেলের দাগ কাটা থাকে অথবা নানাবিধ আঘাতের কারণে ক্ষত-বিক্ষত থাকে তবে কাজের মান খারাপ ও অসুন্দর হয়। এ সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত স্ট্যাক ব্যবহার করা উচিত নয়। শিট মেটালে ফর্মিং করার সময় ম্যালেট ব্যবহার করা সঙ্গত।

কমন স্কয়ার স্ট্যাক: সমতল বর্গাকৃতি মাথা এবং লম্বা শ্যাঙ্কের এ স্ট্যাক এর সাহায্যে কাজকর্ম সহজে সম্পাদন করা হয়।

বিক হর্ন স্ট্যাক: বিক হর্ন স্ট্যাকের এক পাশে মোটা এবং ক্রমশ সরু হর্ন থাকে। এ ছাড়া অন্য পাশে আয়তাকার হর্ন বিদ্যমান থাকে। এ স্ট্যাকের সাহায্যে ফর্মিং (Forming), রিভেটিং (Riveting), সিমিং (Seaming) ইত্যাদি কার্য সহজেই সম্পাদিত হয়।

বেভেল এজ স্কয়ার স্ট্যাক: এ স্ট্যাকের মাথাটি আয়তাকার, হাঁটুবিশিষ্ট এ স্ট্যাকের সাহায্যে কোনাকৃতি কার্যবস্তু তৈরিতে ফর্মিং, রিভেটিং, সিমিং ইত্যাদি কার্যাদি সম্পাদন করা হয়।

ডাবল সিমিং স্ট্যাক: এ স্ট্যাকের ৪টি মাথা এবং ডাবল শ্যাংকবিশিষ্ট যা আনুভূমিক (Horizontally) এবং উল্লম্ব (Vertically) করা যায়। সর্বাধিক বৃহৎ কাজের ক্ষেত্রে ডাবল সিমিং করার জন্য ব্যবহার করা হয়। 

রাউন্ড হেড স্ট্যাক: এ প্রকার স্ট্যাকের মাথা উপবৃত্তাকার। ছোট বেলুনাকার দ্রব্যে সিমিং করার জন্য এ প্রকার স্ট্যাক ব্যবহার করা হয়।

হ্যান্ড এনভিল বা ডলি ব্লক (Hand anvil or Dolly Block)

হ্যান্ড এনভিল বা ডলি ব্লক এমন এক ধরনের টুল, যার সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত ধাতুপাতকে সমতল করাসহ নানাবিধ কার্যে ব্যবহার করা যায়। কাজের ধরন অনুযায়ী ডলি ব্লককে যে যে ভাগে বিভক্ত-

  • হিল (Heel)
  • লো-ক্রাউন (Low-Crown)
  • হেভি ডিউটি (Heavy Duty)
  • টো (Toe)
  • জেনারেল পারপাস (General Purpose)
  • ইউটিলিটি (Utility)

চিজেল (Chisels)

চিজেলের বাংলা নাম ‘রেতি’। এ রেতির হাতল অংশটি ফ্ল্যাট, ষড়ভুজ অথবা অষ্টভুজ আকৃতির এবং কাটিং অংশ ফ্ল্যাট অথবা কৌণিক আকৃতির হয়ে থাকে। হাতল অংশের প্রান্তে হাতুড়ির আঘাতে কাটিং অংশ দিয়ে মেটাল কাটা হয়। চিজেল সাধারণত টুল স্টিলের তৈরি, অ্যানোলিং হাডের্নিং এবং টেম্পার করা। হেড অংশ হাতুড়ির আঘাত সহ্য করার মতো নরম আর ভোঁতা সমতল। চিজেলের যে অংশ হাতের মধ্যে ধরে কাজ করা হয় তাকে শ্যাংক বলা হয়। একে কামারশালায় ফোর্জিং করে তৈরি করা হয়, অতপর হার্ডেনিং করে নির্দিষ্ট শক্ততা আনয়ন করা হয়। চিজেল দুই প্রকার। যথা-

১.     কোল্ড চিজেল: প্রধান ঠান্ডা ধাতব পদার্থকে কাটার উপযোগী হাতলহীন ফিটিং শপে ব্যবহৃত টুলসকে কোল্ড চিজেল বলা হয়।

২.    হট চিজেল: গরম কার্যবস্তুতে ব্যবহারের উপযোগী কামারশালায় ব্যবহৃত চিজেলকে হট চিজেল বলে। এ চিজেলে অনেক সময় হাতল থাকে।

প্লায়ার্স

সাধারণত ক্ষুদ্র কোনো বস্তুকে বা একাধিক শিটকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে অথবা তারকে দ্বিখণ্ড করতে বা মুড়তে এটি ব্যবহার করা হয়। প্লায়ার্স অনেক ধরনের হয়। এদের মধ্যে ‘স্ট্রেট জ্য প্লায়ার্স’ (Straight Jaw Pliers) এবং ‘রাউন্ড নোজ প্লায়ার্স’ (Round Nose Pliers)-ই শিট মেটালের কাজে অধিক ব্যবহৃত হয়। প্লায়ার্স সাধারণত ১০ সে.মি. থেকে ২৩ সে.মি. হয়ে থাকে।

স্ট্রেট জ্য প্লায়ার্স: স্ট্রেট এজ সাধারণ কাজে ব্যবহৃত হয়। এর ‘জ’ দুটোর অগ্রভাগ সমতল। কিন্তু এর সন্নিহিত কিছু স্থান গোল। উভয়েরই উপরিভাগে দাঁত কাটা থাকে। সমতল অংশ দ্বারা সমতল বস্তুকে এবং গোলাকার অংশ দ্বারা গোল বস্তুকে ধারণ করা হয়। গোলাকার অংশের সন্নিহিত কিছু স্থান আবার ঢালু করে কাটা ও তীক্ষè। এ স্থান দ্বারা সরু এবং নরম তারকে দ্বিখণ্ডিত করা যায়। প্লায়ার্সের পাশেও খাঁজ কাটা থাকে। এর সাহায্যেও কাঁচি যে নীতিতে দ্বিখণ্ডিত করে সে নীতিতে অপেক্ষাকৃত শক্ত ও বড় ডায়মেটারের তারকে দ্বিখণ্ডিত করা যায়। ইলেকট্রিকের কাজেও এ শ্রেণির প্লায়ার্স ব্যবহৃত হয়। তবে এ ক্ষেত্রে হাতলের উপরিভাগ ভালকানাইট (Vulcanite), ইবোনোট (Ebonote), প্লাস্টিক (Plastic), রাবার (Rubber) ইত্যাদি বিভিন্ন তড়িৎ শক্তি প্রতিরোধক বস্তু দ্বারা আবৃত থাকে। এ আবরণ থাকায় বিদ্যুৎবাহী তারকে প্লায়ার্স দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে স্পর্শ করলেও তা হতে তড়িৎ শক (Electric shock) পাওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না।

রাউন্ড নোজ প্লায়ার্স: রাউন্ড নোজ প্লায়ার্সে মুখটি ক্রমশ সরু এবং গোলাকার। তারকে বাঁকানো, মোচড়ানো ইত্যাদি বিভিন্ন কাজের পক্ষে এটি উপযোগী। এ শ্রেণির কোনো কোনো প্লায়ার্সে তারকে খণ্ড করার ব্যবস্থাও থাকে।

গ্যাস প্লায়ার্স: এর ‘জ’-এর গঠন অর্ধগোলাকার এবং গোল, উপরিভাগে দাঁত কাটা। ১৯ মিমি বা ৩/৪ ইঞ্চি ডায়ামেটার অপেক্ষা কম মাপের গ্যাস বা পানির পাইপ, রড, সকেট, নিপল ইত্যাদি বিভিন্ন গোলাকার বস্তুকে ধারণ করতে ব্যবহৃত হয়।

স্প্যানার

স্প্যানারের অপর নাম ‘রেঞ্চ’ (Wrench)। শক্ত স্টিল দ্বারা ‘ফোর্জিং’ প্রণালিতে তৈরি করা হয়।

বোল্টের মাথা, পাইপ ইত্যাদিকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে এবং নাটকে ঘোরাতে রেঞ্চ ব্যবহৃত হয়। এর মুখের যে দুটো অংশ দ¦ারা বস্তুকে ধারণ করা হয় এক ‘জ’ (Jaw) বলে। ‘লিভার’ (Liver) ক্রিয়ার নীতিতে চালিত হওয়ায় ‘স্প্যানার’ বা ‘রেঞ্চ’-এর দৈর্ঘ্য বড় হয়, একে চালনা করতে শক্তি তত কম খরচ হয়। এটিকে সাধারণত দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-

১.     অ্যাডজাস্টেবল: যা নিয়ন্ত্রণশীল অর্থাৎ এর ‘জ’ দুটোর ব্যবধানকে প্রয়োজনমতো কমানো বা বর্ধিত করা যায়। ফলে এর দ্বারা বিভিন্ন মাপের নাটকে বা বোল্টের মাথাকে ধারণ করতে অসুবিধা হয় না।

২.    সলিড: সলিড অর্থাৎ এর ‘জ’ দুটোর ব্যবধান অপরিবর্তিত থাকে। অর্থাৎ একে কমানো বা বর্ধিত করা যায় না। এর দ্বারা কেবল যেকোনো একটি মাপের নাটকে বা বোল্টের মাথাকে ধারণ করা সম্ভব।

পাঞ্চ

শিট মেটালের কাজে প্রধানত ৩ প্রকার পাঞ্চ ব্যবহৃত হয়।

১.     সলিড পাঞ্চ: এটি গঠন দুই প্রকারের। উভয়ই হ্যামারের আঘাতের সাহায্যে ব্যবহৃত হয় এবং ক্ষুদ্র ছিদ্র করার পক্ষে উপযোগী। ছোট শিটের স্থলে কাঠের খণ্ডকে বেঞ্চ ভাইসে আবদ্ধ করে নিয়ে এবং বড় শিটের স্থলে প্রশস্ত একটি কাঠের খণ্ডকে বেঞ্চের ওপরে রেখে নিয়ে হ্যামারের সাহায্যে পাঞ্চ দ্বারা শিটের ওপর ছিদ্র করতে হয়।

২.    হলো পাঞ্চ: একেও হ্যামারের সাহায্যে ব্যবহার করা হয়। বৃহত্তর ব্যাসের ছিদ্র করতে অথবা কোনো শিট থেকে গোল চাকতি (Disc), ওয়াশার (Washer) ইত্যাদি উৎপাদন করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

৩.    হ্যান্ড পাঞ্চ: প্রকৃতপক্ষে এটি লিভার ব্যবস্থায় ক্রিয়াশীল একটি পাঞ্চ। এটি মূলত পাঞ্চ ও ডাইয়ের সমষ্টি। এর সাহায্যে পাতলা শিটের প্রান্তের নিকটবর্তী স্থানে ক্ষুদ্র ছিদ্র করতে সুবিধে হয়। এটি হ্যামারের আঘাত ব্যতীত ব্যবহার করা যায়। এক হাতে যথাস্থানে পাঞ্চটিকে ধরে রেখে অন্য হাত দিয়ে হাতলের ওপর চাপ দিলেই শিট ছিদ্র হয়ে যায়। 

স্ক্রু ড্রাইভার

দুটো অংশকে যুক্ত করার জন্য স্ক্রুকে ছিদ্রের মধ্যে প্রবেশ করাতে অথবা স্ক্রুকে সরিয়ে যুক্ত করা অংশ দুটোকে পৃথক করতে এর দ্বারা স্ক্রুকে ঘোরানো হয়ে থাকে। স্ক্রুর মাথার ওপরে যে খাঁজ কাটা থাকে, এর মধ্যে এর মুখটিকে বসিয়ে নিয়ে ঘোরাতে হয়। স্ক্রু ড্রাইভার কাস্ট স্টিল দ্বারা তৈরি হয় এবং বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মাপ ও শ্রেণির হয়ে থাকে।

র‌্যাচেট স্ক্রু ড্রাইভার: এটি ‘র‌্যাচেট’ ব্যবস্থাবিশিষ্ট। স্ক্রুকে চটজলদি ভেতরে প্রবেশ করাতে বিশেষ উপযোগী। ‘ওয়ার্ম’ (Worm) জাতীয় স্পিন্ডলের মাধ্যমে এর ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ ধরনের স্ক্রু ড্রাইভারের কেবল হাতলটিকে উঠিয়ে ব্লেডের ওপর চাপ দিলেই ব্লেডটি দ্রুত সরে যায়। ব্লেডের মুখটিকে স্ক্রুর খাঁজ হতে বারবার ওঠানোর প্রয়োজন পড়ে না। যে স্থলে ব্লেডকে দ্রুত ঘোরানো আবশ্যক হয়, সে স্থলে এটি উপযোগী হয়।

ফিলিপস স্ক্রু ড্রাইভার: মাথা আড়ভাবে একাধিক খাঁজবিশিষ্ট (Cross Slot)। এ প্রকার স্ক্রুকে ঘোরানোর জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। সাধারণ ধরনের স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে এ ধরনের স্ক্রু-কে ঘোরাতে গেলে স্ক্রু ড্রাইভার পিছলে যাওয়ার এবং স্ক্রুর মাথার খাঁজ বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এ টাইপ স্ক্রু ড্রাইভার ব্যবহার করলে এ আশঙ্কা থাকে না।

অফসেট স্ক্রু ড্রাইভার: যে স্থলে সাধারণ শ্রেণির লম্ব গঠনের স্ক্রু ড্রাইভারকে স্ক্রুর মাথার ওপর স্থাপন করার মতো স্থান পাওয়া যায় না, সে স্থলে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি দুই মুখবিশিষ্ট। একটি মুখ স্ক্রু ড্রাইভারের শ্যাঙ্কের সমসূত্রে এবং অপরটি এর সঙ্গে এক সমকোণে গঠিত। ফলে ঘোরানোর স্থান কম থাকলেও মুখটিকে পরিবর্তন করে স্ক্রুকে অনায়াসে ঘোরাতে পারা যায়। ইলেকট্রিকের কাজে যে শ্রেণির স্ক্রু ড্রাইভার ব্যবহৃত হয়, এর হাতল ভালকানাইট, ইবোনোট, প্লাস্টিক ইত্যাদি বিভিন্ন তড়িৎ-রোধক (Insulating Materials) বস্তু দ্বারা তৈরি। ফলে বিদ্যুৎবাহী কোনো স্ক্রুকে এর দ্বারা ঘোরালে তড়িতাঘাত (Electric shock) পাওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না।

ড্রিফট

গোল ভিন্ন অন্য আকারের ছিদ্রকে সুসম্পন্ন করে প্রকৃত মাপ এবং আকারে আনতে, হ্যামারের আঘাত দ্বারা অথবা চাপ যন্ত্রের সাহায্যে একে ছিদ্রের মধ্যে একে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি টুল-স্টিল দ্বারা তৈরি এবং এর অগ্রভাগে ‘টেম্পার’ দেওয়া থাকে।

পিন ড্রিফট: ‘টেপার’ অর্থাৎ ক্রমশ সরু পিনকে ছিদ্র থেকে বের করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এটি দেখতে অনেকটা সেন্টার পাঞ্চ (Centre Punch) এর মতো। কিন্তু পার্থক্যটি হলো এটি দৈর্ঘ্যে অনেক বড় এবং মুখটি সমতল।

কি ড্রিফট: ‘কি-ওয়ে’ (Key-way) থেকে ‘কি’  (Key)-কে বের করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

কড়াই: সিমেন্ট, বালু, খোয়া, মসলা ইত্যাদি বহন করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

ওয়েল স্টোন: বিভিন্ন প্রকার কাটিং টুলস ধার দেওয়ার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৮৪তম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৭।

জাবের রহমান
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top