জাহা হাদিদের গেটওয়ে সেন্টার হংকংয়ের ভবিষ্যৎ শহর

হংকংয়ের ওয়েস্ট কাউলুন এলাকায় নির্মিত বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টস–এর বড় একটি প্রকল্প গেটওয়ে সেন্টার। এটি মূলত ওয়েস্ট কাউলুন টার্মিনাসের উপরে নির্মিত একটি বিশাল বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রকল্পটি ওয়েস্ট কাউলুন সাংস্কৃতিক জেলার প্রাণকেন্দ্রে একটি আধুনিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ার উদ্দেশ্যে হাতে নেয়া হয়েছিল।

৩.২ মিলিয়ন বর্গফুটের ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে সেন্টার (IGC) প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। ২০২৪ সালের মে মাসে ভবনটির মূল কাঠামোর ছাদ পর্যন্ত কাজ বা ‘টপিং আউট’ সম্পন্ন হয়। আশা করা হচ্ছে ২০২৬ সালের শেষের দিকে পুরো কমপ্লেক্সটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এবং পুরোপুরি কার্যকর হবে। 

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এটি সরাসরি রেল অবকাঠামোর ওপর নির্মিত। ছবি: আর্কডেইলি

এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর অবস্থান। এটি সরাসরি রেল অবকাঠামোর ওপর তৈরি হয়েছে। ফলে নিচে থাকছে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা। আর ওপরে থাকবে অফিস, দোকান ও জনপরিসর। এতে করে একটি স্তরভিত্তিক শহুরে কাঠামো তৈরি হচ্ছে।

গেটওয়ে সেন্টারে চারটি টাওয়ার থাকবে। এগুলোকে পাপড়ির মতো ঘূর্ণায়মান আকারে ডিজাইন করা হয়েছে। টাওয়ারগুলোর উচ্চতা ও অবস্থান আলাদা। এতে হংকং শহরের আকাশরেখা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

জাহা হাদিদের নকশায় সবসময়ই থাকে বক্ররেখার সৌন্দর্য ও গতিময়তার অনুভব। ছবি: আর্কডেইলি

জাহা হাদিদের চিরচেনা স্টাইল হলো বক্ররেখা এবং গতির ছোঁয়া। এই প্রকল্পেও ভবনগুলো সোজা বা কোণাকৃতির বদলে বাঁকানো এবং একে অপরের সাথে মিশে যাওয়া বা ‘ফ্লুইড’ আকৃতির। এতে করে যান্ত্রিক শহরের মাঝে এক ধরণের প্রাকৃতিক আবহ তৈরি করেছে।

ভবনের গায়ে লম্বা ফিন ও ভাঁজযুক্ত পৃষ্ঠ সূর্যালোক ও বাতাস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ছবি: আর্কডেইলি

ভবনের façade (বাহ্যিক গাত্র)–এ vertical fins (উল্লম্ব পাতার মতো অংশ) ও pleated surface (ভাঁজযুক্ত পৃষ্ঠ) ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো সূর্যালোক নিয়ন্ত্রণ করে এবং বাতাস চলাচলে সাহায্য করে। এর নিচতলায় থাকবে দোকানপাট, খোলা চত্বর এবং সবুজ ও খোলা জনপরিসর। এটি আশপাশের ওয়েস্ট কাউলুন সাংস্কৃতিক জেলার সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে করে একটি সক্রিয় নগর কেন্দ্র তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে বলা যায় গেটওয়ে সেন্টার হংকংয়ের ভবিষ্যৎ শহরের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।

আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের শেষ দিকে কমপ্লেক্সটি পুরোপুরি চালু হবে। ছবি: আর্কডেইলি

সূত্র: আর্কডেইলি

স্থপতি সুপ্রভা জুঁই
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top