‘তরুণ কিশোর! তোমার জীবনে সবে এ ভোরের বেলা,
ভোরের বাতাস ভোরের কুসুমে জুড়েছে রঙের খেলা।
রঙের কুহেলী তলে,
তোমার জীবন ঊষার আকাশে শিশু রবি সম জ্বলে।
এখনো পাখিরা ওঠেনি জাগিয়া, শিশির রয়েছে ঘুমে।’
যদি পাখিরা না জাগে, যদি শিশিরের ঘুম না ভাঙে, তবে তারুণ্যও কি ঘুমাবে? মোটেও না, তরুণেরা জাগবেই। তাঁরাই ধরবে ব্যবসা-বাণিজ্যের হাল; লাভ-ক্ষতির খতিয়ান। পল্লিকবি জসীমউদদীনের চোখেও তারুণ্যের রূপ এমনই। তাঁরা যা কিছু করুন, সফল হবেনই। এ রকমই উদীয়মান এক তারুণ্য ব্যবসায়ী এম জি তোফাজ্জল হোসেন সুমন। হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তানগরের মেসার্স সুমন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। আকিজ সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের আঞ্চলিক বিক্রয় কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলামের সহায়তায় এ ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপচারিতা পর ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’ পর্বে এবার জানাব তাঁরই সাফল্য কাহিনি।
ব্যবসায়ী সুমনের জন্ম ১৯৯১ সালের ৩ মার্চ হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তানগরে। বাবা এম জি মফিজুল হোসেন (সমুজ আলী) ও মা মোছা. হামিদা আক্তার। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সুমন দ্বিতীয়। বড় বোন শিউলি আক্তার মাহবুবা ও ছোট ভাই এম জি তোফাজ্জল হোসেন ইমন। জে কে অ্যান্ড এইচ কে হাইস্কুল থেকে ২০০৮ সালে এসএসসি এবং হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজ থেকে ২০১০ সালে এইচএসসি পাস করেন। বাবার ছিল নির্মাণ পণ্যের ব্যবসা। সিমেন্ট, রড ও টিনের ব্যবসাই মুখ্য। ছাত্রাবস্থাতেই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন সুমন। কিছুদিনের মধ্যে সহজেই আয়ত্ত করেন ব্যবসাটি। নিজের অজান্তেই ব্যবসাটিকে ভালোবেসে ফেলেন। তাই পড়ালেখা ছেড়ে পুরোপুরি ব্যবসায় মনোনিবেশ করে পুরোদস্তুর একজন ব্যবসায়ী হিসেবে।
সুমন যখন ব্যবসার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন, তখনই এর প্রসারে নেন ব্যতিক্রমী কিছু কৌশল। শুরুতে ব্যবসা ছিল খুচরাভিত্তিক। ফলে খুব বেশি পণ্য বিক্রি করা যেত না। অধিক পণ্য বিক্রিতে তিনি পাইকারি ব্যবসায় যুক্ত হন। এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীদের তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কিনতে উৎসাহিত করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রকল্পেও শুরু করেন পণ্য সরবরাহ। আগে দোকানে বাকিতে পণ্য বিক্রি করতেন। ধীরে ধীরে সেটাও নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ছাড়া ব্যবসার বাইরে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলেন ঠিকাদার ও রাজমিস্ত্রিদের সঙ্গে। গুণগতমানসম্পন্ন পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সহজেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করেন। তাদের পণ্যের ব্যাপারে ভালো-মন্দ বুঝিয়ে কম মুনাফায় পণ্য বিক্রি শুরু করেন। এভাবেই দ্রুততার সঙ্গে তাঁর ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকে। শুধু পণ্য বিক্রিতেই তাঁর সাফল্য সীমিত নয়। আকিজ সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের হবিগঞ্জের প্রাইম সেলার তিনি। এ ছাড়া একটি স্টিল কোম্পানির ডিলার। অন্যান্য পণ্য বিক্রিতেও রয়েছে তাঁর ঈর্ষণীয় সাফল্য। তাঁর ব্যবসায়িক কৌশলে সন্তুষ্ট কোম্পানিও। তাই কোম্পানি থেকে পান যথেষ্ট সহযোগিতা। কর্মকর্তারাও যোগাযোগ রাখেন সার্বক্ষণিক। ভালো বিক্রির স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন টিভি, স্বর্ণালংকার, মোবাইল, ডিনারসেট, নগদ টাকাসহ নানা উপহারসামগ্রী। একটি কোম্পানির পক্ষ থেকে ভ্রমণ করেছেন নেপাল। আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির দেওয়া নির্দিষ্টসংখ্যক পণ্য বিক্রির সুবাদে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এবার যাচ্ছেন থাইল্যান্ড ও নেপাল।
নির্মাণ পণ্য বিক্রির ব্যবসা বেশ কঠিন ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। সুমন একজন নবীন ব্যবসায়ী হওয়ায় অভিজ্ঞতাও কম। এ জন্য সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনায় উৎসাহ ও পরামর্শ পান বাবা এম জি মফিজুল হোসেনের কাছ থেকে। ব্যবসায় সময়ও দেওয়ার পাশাপাশি সব সময়ই শেখান ব্যবসায়িক উন্নয়নের নানা কৌশল। ব্যবসায়ী সুমন এলাকার কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তিনি ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সদস্য পাশাপাশি চেম্বার অব কমার্সের একজন অর্ডিনারি সদস্য। ব্যবসাতেই ব্যস্ত সময় কাটান, তাই অবসর পান না তেমন। আর পেলেই টিভি দেখেন, সময় পেলেই কোথাও বেড়াতে যান। পছন্দ করেন ক্রিকেট খেলা আর খেতে ভালোবাসেন গরুর মাংস।
একজন তরুণ ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁর চাওয়া অন্য তরুণেরাও আসুক ব্যবসায়। কিন্তু তাঁর মতো পড়ালেখার মাঝ পথে নয় বরং শিক্ষাজীবন শেষে। তা ছাড়া ব্যবসা শেখাটাও জরুরি। কেউ যদি ব্যবসা করতে চায়, চায় তাঁর সহযোগিতা তবে তাকে পণ্য, পরামর্শসহ তাঁর পক্ষে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব তার সবই তিনি করতে প্রস্তুত। যথেষ্ট পরিশ্রমী হওয়ায় স্বপ্ন একদিন এলাকার সফল ব্যবসায়ী হওয়ার। প্রতি মাসে বন্ধনে প্রকাশিত সফল ব্যবসায়ীদের সাফল্যগাঁথা নিয়মিত পড়ে তা নিজ জীবনে প্রয়োগের চেষ্টাও করেন। এভাবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তৃণমূল ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালন কৌশল ও সফলতার গল্প প্রকাশ করায় বন্ধনকে ধন্যবাদ জানান।
মাহফুজ ফারুক
প্রকাশকাল: বন্ধন ৫০ তম সংখ্যা, জুন ২০১৪