স্থাপত্যে বাংলাদেশের ঝুলিতে এলো আরও দুটি অর্জন

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও উজ্জ্বল হলো বাংলাদেশের স্থাপত্যশৈলী। কমনওয়েলথ অ্যাসোসিয়েশন অব আর্কিটেক্টসের (সিএএ) ২০২৬ সালের পুরস্কার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে দেশের দুটি উল্লেখযোগ্য স্থাপনা – একটি মসজিদ, অন্যটি খাল ও পার্ক পুনরুদ্ধার প্রকল্প। দুটি প্রকল্পই দেখিয়ে দিয়েছে, পরিবেশ আর মানুষকে গুরুত্ব দিয়ে গড়া স্থাপত্য কীভাবে বিশ্বের নজর কাড়তে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন আর নগরায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্যই এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

জেবুননেসা মসজিদের মুকুটে নতুন পালক: কমনওয়েলথ পরিবেশ পুরস্কার

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির তালিকায় যুক্ত হলো আরেকটি অর্জন। কমনওয়েলথ অ্যাসোসিয়েশন অব আর্কিটেক্টস (সিএএ)-এর “২০২৬ এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড”-এ এশিয়া অঞ্চলের যৌথ বিজয়ী হয়েছে জেবুননেসা মসজিদ।

ঢাকার আশুলিয়ায় অবস্থিত এই মসজিদটির নকশা করেছে স্টুডিও মরফোজেনেসিস, নেতৃত্বে ছিলেন স্থপতি সাইকা ইকবাল মেঘনা।

জলবায়ু পরিবর্তন আর নগরায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্যই এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এর আগে টাইম ম্যাগাজিনের “ওয়ার্ল্ডস গ্রেটেস্ট প্লেসেস”, রিবা, ইউআইএ, জেকে আর্কিটেক্ট অব দ্য ইয়ারসহ আরও অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে এই মসজিদ।

এই অর্জনের কৃতিত্ব স্থপতিরা দিয়েছেন ক্লায়েন্ট, নির্মাতা, প্রকৌশলী, রাজমিস্ত্রি, কারিগর – এবং সবচেয়ে বেশি পোশাক শ্রমিক ও স্থানীয় মানুষদের, যারা এই জায়গাটিকে নিজের করে নিয়েছেন।

দখল-অবহেলার খালপাড় এখন সবুজ-নীল জনপরিসর – এই প্রচেষ্টার স্বীকৃতি এই পুরস্কার। ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্ক অর্জন করল কমনওয়েলথের সামাজিক প্রভাব পুরস্কার

কমনওয়েলথ অ্যাসোসিয়েশন অব আর্কিটেক্টসের “সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬”-এ আঞ্চলিক বিজয়ী হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্ক অ্যান্ড বাবুরাইল ক্যানেল রেস্টোরেশন প্রকল্প।

প্রকল্পটির ডিজাইন করেছে ভিত্তি স্থপতি বৃন্দ লিমিটেড, নেতৃত্বে ছিলেন স্থপতি মো. ইকবাল হাবিব এবং মো. ইশতিয়াক জহির।

অবহেলিত আর দখল হয়ে যাওয়া একটি খালের পাড়কে বদলে ফেলা হয়েছে সবুজ-নীল এক জনপরিসরে – এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেই স্বীকৃতি দিল এই পুরস্কার।

এর আগে ৩৫তম জেকে আর্কিটেক্ট অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডসেও “ফরেন কান্ট্রিজ আর্কিটেক্ট অব দ্য ইয়ার” পুরস্কার পেয়েছিল এই প্রকল্প। মানুষ, জায়গা আর উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে গড়া স্থাপত্যের প্রতি বিশ্বাস আরও দৃঢ় হলো এই স্বীকৃতিতে।

এই দুটি অর্জন একসাথে বলে দেয় – বাংলাদেশের স্থাপত্য এখন শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। পরিবেশ আর মানুষের কথা ভেবে গড়া এসব প্রকল্প এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নজর কাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *