ঈদে বদলে ফেলুন ইন্টেরিয়র

ঈদকে সামনে রেখে সবার ব্যস্ততা নতুন পোশাক কেনায়। নিজেকে নতুনভাবে সাজাতে চাই নতুন কিছু। আর এই নতুনত্ব শুধু নিজে সাজতে নয়, অন্দরসজ্জায়ও চাই উৎসবের আমেজ। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সবাই চেষ্টা করেন গৃহসজ্জায় নতুনত্ব এনে ঈদ আয়োজনকে বর্ণিল করতে।

ঈদে ঘরের অন্দরসজ্জা নিয়ে কথা হলো কামরাঙ্গা ডিজাইনস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোওমানা আই খানের সঙ্গে। তিনি জানালেন, সব অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে তো আর ফার্নিচার পরিবর্তন সম্ভব নয়। আবার ঘরের সৌন্দর্যও বাড়ানো প্রয়োজন। তাই প্রয়োজন ঘরের জিনিসপত্রগুলোকে গুছিয়ে রাখা। ঈদের দিনে বিছানার চাদর, রঙিন কুশন, বর্ণিল সব পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে।

বসার ঘর

দরজা খুলেই তো অতিথিদের নিতে হবে বসার ঘরে। পর্দা, আসবাব, দেয়ালের রং, নানা রকম শোপিসসহ সব মিলেই কিন্তু সেজে উঠবে বসার ঘরটি। আর তাই নিজের রুচি অনুযায়ী সাজিয়ে তুলুন অতিথি অ্যাপায়নের এই ঘরটি। বসার ঘরের সজ্জার বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে আসবাব। সময় এবং ব্যবহারকারীর রুচি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে আসবাবের ধরন। বাহারি নকশা, ব্যবহারে আরামদায়ক এমন নিত্যনতুন আসবাবই আজকাল সবার কাছে ক্রমেই পাচ্ছে জনপ্রিয়তা। কেউ চাইলে কিনতে পারেন এ ধরনের আসবাব। আর সেটা যদি সম্ভব না হয় তবে ঈদের আগে রুমের আসবাবগুলোর জায়গা অদলবদল করা যেতে পারে।

বসার ঘরে বসার জায়গাটার কথাই আগে মাথায় আসে। আজকাল নিচু ধাঁচের সোফার কদর বেশি। এতে ব্যবহৃত হচ্ছে নানা আকারের বাহারি কুশন। অনেকেই বসার ঘরের দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে সোফার কুশন ব্যবহার করে থাকেন। আবার ম্যাট্রেস দিয়েও বসার ব্যবস্থা করা যায়। ঈদে ঘরটাকে রঙিন করতে ব্যবহার করা যেতে পারে রঙিন কুশন।

ছিমছাম ড্রইং রুম

আধুনিক বসার ঘরের অন্দরসজ্জায় দেয়ালঘেঁষে বড় আকারের ওয়াল ইউনিট, মিডিয়া স্টোরেজ কিংবা মিডিয়া ক্যাবিনেট ব্যবহার খুবই জনপ্রিয়। টেলিভিশন, আপনজনের সঙ্গে তোলা ছবির বাঁধানো ফ্রেম, পছন্দের কিছু বই, সিডি কিংবা নানা রকম শোপিস দিয়ে সাজিয়ে তোলা যাবে প্রিয় ঘরটিকে।

বসার ঘরের আকার ছোট হলে দেয়ালে হালকা রং কিংবা মাঝারি আকার হলে একটু গাঢ় রং ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেকেই আবার পুরো ঘরে একটি রং ব্যবহার না করে দেয়ালে নানা রকম টেক্সচার ব্যবহার করেন। এতে অন্দরসজ্জায় একটু ভিন্নতা পায়। আর ঈদের আগেই এ রঙের কাজটি করিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

বসার ঘরের অন্দরসজ্জায় কার্পেট ও পর্দা  গুরুত্বপূর্ণ দুটি অনুষঙ্গ। অনেকেই আসবাব এবং দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলে পর্দা ও কার্পেট ব্যবহার করেন। ফলে পুরো বসার ঘরটিতেই চলে আসে সামঞ্জস্যের আবহ। আবার দেখা যায় বৈপরীত্য তুলে ধরতে পর্দা এবং কার্পেটের রং হয়ে যায় দেয়াল কিংবা আসবাবের রঙের ঠিক বিপরীত। আর ঈদকে সামনে রেখে পরিবর্তন করা যেতে পারে ঘরের পর্দাগুলো।

খাবার ঘর

চাইলেই তো আর বারবার খাবার টেবিল বদলানো যায় না। কিছুটা পরিবর্তন আনা যায়। মাঝখানে মাটি বা সিরামিকের কারুকাজ করা ফুলদানিতে তাজা ফুল রাখুন ঈদের দিনে। টেবিলক্লথ হিসেবে প্লাস্টিকের ওয়ালপেপার ব্যবহার করুন। তবে এ ক্ষেত্রে কাপড়ের টেবিলক্লথের ওপর সাদা ওয়ালপেপার বিছানো ভালো। পুরোনো ধারণা ভেঙে টেবিলের পায়া পর্যন্ত চারধারে কুঁচি করা ক্লথ ব্যবহার করা যেতে পারে।

শোবার ঘর

শোবার ঘরে আনা যেতে পারে শৈল্পিক পরিবর্তন। নতুন বেডকভার। সঙ্গে থাকতে পারে নতুন কিছু শোপিস। ঘরের দেয়ালে কাঠের শেলফ তৈরি করে রাখা যেতে পারে লেদারের তৈরি, মাটি, বাঁশের তৈরি শোপিস। আবার টেলিভিশনটাকে শো করতে এর ক্যাবিনেট বানিয়ে তার নিচে ছোট থেকে বড় কিংবা বড় থেকে ছোট করে শোপিসগুলো সাজিয়ে রাখা যেতে পারে। ঈদের দিনে বেডরুমে যেটা অবশ্যই দরকার তা হলো বেডকভারের পরিবর্তন।

ছোটদের ঘর

ছোট্ট ঘরটা সাজানো দরকার একদম তার মনের মতো করেই। কারণ, শিশুরা সব সময়ই কল্পনাপ্রবণ। কল্পনার রাজ্যেই যেন তাদের নিত্য বসবাস। যেহেতু ঘরেই কাটে তাদের বেশির ভাগ সময়, তাই ছোট শিশুর ঘরটিকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যা তাদের কল্পনাশক্তিকে বাড়িয়ে মানসিক বিকাশে সহায়তা করবে। ছোটদের ঘরের সাজ কেমন হবে, তা নির্ভর করে শিশুটি ছেলে না মেয়ে তার ওপর। ঈদের জন্য তাদের ঘরের লাগানো যেতে পারে নতুন কার্টুন। তাদের বেডকভারে থাকবে পারে নানা রঙিন নকশা।

উৎসবে ছোটদের ঘর

আয়োজনের এপিঠ-ওপিঠ

ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন হাউসগুলো সেজেছে অন্দরসজ্জার বিভিন্ন সামগ্রী এবং উপহার সামগ্রীর নিয়ে। ড্রয়িংরুমে নতুন কুশন ও কুশনকভার, ডাইনিং টেবিলে একটু অন্য রকম ডাইনিং ম্যাট, ট্রে, বেডরুমে নতুন বেডকভার, এগুলো যেন উৎসবের দিনটির চাহিদা। এগুলো তো থাকছেই, এ ছাড়া ঘর সাজানো বা উপহার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ওয়ালম্যাট, ফটোফ্রেম, রকমারি মোম, আকর্ষণীয় নোটবুক, মোবাইল ব্যাগ, বিভিন্ন রকমের লেদার আইটেম, মিরর, টেবিল ল্যাম্প, পটারিসহ আরও অনেক কিছু।

যেখানে পাবেন 

ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড বেডকভার ও পর্দার মার্কেটের জন্য বিখ্যাত। নিউমার্কেটেও পেতে পারেন বাহারি রং এবং নানা দামের পর্দা ও বেডকভার। সস্তায় ভালো পেতে চাইলে চলে যেতে পারেন পুরান ঢাকার ইসলামপুরে। এ ছাড়া আড়ং, যাত্রা, নিপুণ, চরকাসহ অন্যান্য দোকানেও পেতে পারেন আপনার মনের মতো পর্দা ও বেডকভার। সাজিয়ে নিতে পারেন নিজের একান্ত বসতটি। আর এভাবেই উৎসবের রঙে রাঙিয়ে নিতে পারেন আপনার আপন নিবাসকে।

তানজিনা আফরিন ইভা

প্রকাশকাল: বন্ধন ৪০ তম সংখ্যা, আগস্ট ২০১৩

+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top