জি.এম. বাংলো

জি.এম. বাংলো

স্থাপনায় দৃষ্টিনন্দন ল্যান্ডস্কেপিং

প্রজেক্টের নাম

জি.এম. বাংলো  

পাহাড়তলী টেক্সটাইল এন্ড হোসিয়ারী মিলস

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

নির্মাতা

স্থপতি আসাদুজ্জামান চৌধুরী

স্থপতি আশরাফুল ইসলাম শোভন

স্থপতি সিনথিয়া শবনম

স্থপতি অনিকেত চৌধুরী

প্রজেক্টের ধরন

একক পরিবারের বাসযোগ্য একীভূত দ্বিতল বাসভবন।

অবস্থান

এটি শিল্প এলাকার আবাসিক জোনে অবস্থিত। সাইটটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ১২০ মিটার উঁচুতে। বৃত্তাকার পাহাড়ি রাস্তার কারণে স্থাপনাটি মোটামুটি চারপাশ থেকে দৃশ্যমান। সাইটের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে দৃশ্যমান বিস্তৃৃত সমুদ্র এবং ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে সবুজ পাহাড়।

জি.এম. বাংলোর একাংশ

আইডিয়া

বাড়িটি ওই শিল্পকারখানার সর্বোচ্চ কর্মকর্তার জন্য বরাদ্দ। তাই সীমিত বাজেটের মধ্যে থেকে পুরো স্থাপনাকে ব্যবহারকারীর স্ট্যাটাস সিম্বল হিসেবে গড়ে তোলা এবং সাইটের ভৌগোলিক বিষয়সমূহ বিবেচনাপূর্বক প্রাকৃতিকভাবে আলো-বাতাসসমৃদ্ধ করে আরামদায়ক এবং উপভোগ্য বাসস্থানে রূপ দেওয়া।

স্বীকৃতি

স্থাপনাটির স্থপতি ২০০৮ সালে ভারতের বিখ্যাত জে কে সিমেন্ট কর্তৃক আয়োজিত 18th Architect of The Year Awards প্রোগ্রামের আওতায় Focus Countries ক্যাটাগরিতে Young Architect of The Year হিসেবে দুর্লভ সম্মাননা অর্জন করে। এবং একটি গৌরবোজ্জ¦ল প্রজেক্ট হিসেবে Indian Institute of Architects-এর জার্নালে ২০০৮ সালের নভেম্বর সংখ্যায় স্থাপনাটি স্থান করে নেয়।

জি.এম. বাংলোর আভ্যন্তরীন নান্দনিক রূপ

বিবরণভবনের অভ্যন্তরীণ স্পেসগুলোতে ড্রয়িংরুম, ডাইনিংরুম এবং ফ্যামিলি লিভিংয়ের মধ্যে একটা চমৎকার ভিজুয়াল লিংকেজ তৈরি করা হয়েছে Propotional Double Heighted স্পেসের মাধ্যমে। একই সঙ্গে বেডরুমসমূহের গোপনীয়তাও রক্ষা করা হয়েছে আমাদের সামাজিক কৃষ্টি বিবেচনা করে। দক্ষিণ-পশ্চিমের সমুদ্রবায়ুকে উপভোগ করার জন্য বেডরুমসমূহ দক্ষিণ-পশ্চিমে স্থাপন করা হয়েছে, একই সঙ্গে বড় ক্যান্টিলিভার ব্যালকনি এবং স্ক্রিন ওয়াল দিয়ে সরাসরি সূর্যরশ্মি থেকে বেডরুমগুলোকে আড়াল করা হয়েছে। পশ্চিমে একটি বৃষ্টি বারান্দা আছে, যেটা সরাসরি মাস্টার বেডের সঙ্গে সংযুক্ত। একটি উপভোগ্য বাসস্থান হিসেবে এই বারান্দায় দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যাবে রোমাঞ্চকর বৃষ্টি। বাড়িটির পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে সাজানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ল্যান্ডস্কেপিং মাধ্যমে এবং সামনেই আছে সুসজ্জিত ওয়াটার বডি এবং ফোয়ারার আদলে পানি পরিসঞ্চালনের ব্যবস্থা, যার শব্দ বর্ষাকালের বৃষ্টির কথা মনে করিয়ে দেয়। এই ওয়াটার বডি একই সঙ্গে স্ট্যাটাস সিম্বল এবং কিডস্ পুল হিসেবে কাজ করে। মূলত খোলামেলা ধাঁচের এই বাড়ির বড় বড় জানালা দিনের বেলা এটাকে আলো-ঝলমলে করে রাখে। রাতের বেলার ঔজ্জ্বল্যের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে লুকায়িত আর্টিফিশিয়াল লাইটিং। বাড়িটির নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে সহজলভ্য নির্মাণসামগ্রী এবং বাজেট বিবেচনায় রয়েছে সামান্য কিছু আমদানি করা নির্মাণসামগ্রীর বুদ্ধিদীপ্ত গাঁথন।

জি.এম. বাংলোর আলো আধারি রূপ

প্রকাশকাল: বন্ধন ৩৬ তম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৩

Related Posts

ইলেকট্রনিক মিউজিক ও স্থাপত্যের উত্তরাধুনিক ভাষার অদৃশ্য স্রোত

প্রকল্প পরিচিতি প্রকল্পের নাম: HATCH: SUBCURRENT (Main Stage)প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা: ইছহাক সিকদার, মৈনাক আহমেদ মৃদুল ও রাশাদ ওয়াজাহাতস্থপতি: প্রতীতি…

রাস্তা থেকে রেস্তোরাঁ: কাপ-পিরিচে মন হাল্কা করার স্থাপত্যের গল্প

শুরুর কথা কিছু গল্প শুধু বলার জন্য না, শোনার মানুষটাও দরকারএক কাপ চা, দুইটা মন…একজন বলবে, আরেকজন শুধু…

তাপসহনীয় নগর পরিকল্পায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বুয়েট

তাপসহনীয় নগর পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেয়েছে বুয়েট ও তার একদল শিক্ষার্থী। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকা তাপ…

তারুণ্যের কর্ম-বিনোদনের কেন্দ্র যুব উদ্ভাবন পার্ক

দিন বাড়ছে। মানুষ বাড়ছে। বাড়ছে না বসতি আর খেলার মাঠ। সংকীর্ণ শহুরে নাগরিক জীবনে প্রজম্নের চালচিত্র পাল্টাচ্ছে দিন…