স্থাপত্য অফিস বললেই সাধারণত মনে আসে কাচঘেরা বড় ভবন, খোলা ডেস্ক আর শহরের চড়া ভাড়া। জার্মানির মিউনিখভিত্তিক স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান “অপোজিট অফিস” (Opposite Office) সেই প্রচলিত ধারণাকে উল্টে দিয়েছে একেবারে আক্ষরিক অর্থেই।
তারা তাদের সাম্প্রতিক কর্মস্থল স্থাপন করেছে একটি গাছের ওপর! মাত্র এক বর্গমিটার আয়তনের এই ক্ষুদ্র, কার্যকরী কর্মস্থলটির নাম দেওয়া হয়েছে “বাউমহাউস অফিস” (Baumhaus Office)।

মিউনিখের চড়া অফিস-ভাড়া
অপোজিট অফিস তাদের সাম্প্রতিকতম কর্মস্থল খুলেছে জার্মানির ভাইমারে অবস্থিত ঐতিহাসিক বাউহাউস-ইউনিভার্সিটেট ভাইমার (Bauhaus-Universität Weimar) ক্যাম্পাসের একটি গাছের ভেতরে।
“বাউমহাউস অফিস” (Baumhaus Office) নামের প্রায় এক বর্গমিটার আয়তনের এই কাঠামোটি একেবারেই বাস্তবঘেঁষা একটি সমস্যার জবাব দেয়। আর তা হলো, মিউনিখ শহরের চড়া অফিস-ভাড়া।
স্টুডিওটির কাজের বেশিরভাগই হয় বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে। তাই স্থপতিরা ভাবতে শুরু করেন একটি আন্তর্জাতিক স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানের কি সত্যিই বড় কোনো স্থায়ী অফিসের দরকার আছে? এই প্রশ্নের জবাব হিসেবেই তৈরি হয় দুই-তিনজন স্থপতির জন্য এই ছোট্ট, উঁচুতে বসানো কর্মস্থলটির যা সাময়িকভাবে বসানো হয়েছে ক্যাম্পাসের একটি গাছে।

গোটের হাতে লাগানো গাছ
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যে গাছটির ওপর এই অফিসটি স্থাপন করা হয়েছে, সেটি ভাইমার শহরের সবচেয়ে পুরোনো গাছগুলোর একটি। কথিত আছে যে এই গাছটি লাগিয়েছিলেন জার্মানের মহাকবি স্বয়ং গোটে। এভাবে একটি অস্থায়ী, পরীক্ষামূলক স্থাপত্য-কাঠামো জড়িয়ে যায় ভাইমারের গভীর সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও।

ভাইমারে অপোজিটের দুটি চলমান প্রকল্প
বাউমহাউস অফিসটি স্থাপন করা হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন অপোজিট অফিস ভাইমারে দুটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। “ফিকশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারস” (Fictional Infrastructures), যা প্রদর্শিত হচ্ছে এম বুকস গ্যালারিতে, এবং “লাস্ট ফেলো টু” (Last Fellow II), যা প্রদর্শিত হচ্ছে এসিসি গ্যালারিতে (ACC Galerie)।
অর্থাৎ, এই ক্ষুদ্র গাছবাড়িটি নিছক একটি প্রতীকী স্থাপনা নয়। এটি সরাসরি স্টুডিওর চলমান কাজের একটি বাস্তব কার্যকরী কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

একটি ডেস্ক, একটি ছাদ, একটি গাছ
একটি ডেস্ক, একটি ছাদ আর তার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাছ। এর বেশি প্রায় কিছুই নেই বাউমহাউস অফিসে। এই সরলতার মধ্য দিয়েই কাঠামোটি একটি মৌলিক প্রশ্ন তোলে, স্থপতিদের আসলে কাজ করতে কতটুকু জায়গা লাগে? প্রকল্পটি ইঙ্গিত দেয় যে উত্তরটি হয়তো গড়পড়তা অফিস-ভাড়ার চুক্তি যতটা ধরে নেয়, তার চেয়ে অনেক কম।

মিউনিখের ব্যয়বহুল অফিস-বাজারের বিপরীতে ভাইমারের ঐতিহাসিক বাউহাউস ক্যাম্পাসের একটি গাছে, সম্ভবত গোটের হাতে লাগানো গাছেই, বসানো এই এক বর্গমিটারের কর্মস্থলটি আমাদের দেখিয়ে দেয় যে সৃজনশীলতা ও পেশাদারিত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম স্থানটি কখনো কখনো আক্ষরিক অর্থেই একটি গাছের ডালে খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
তথ্যসূত্র:
ডিজাইনবুম
















