Kaba Ghor

পবিত্র কাবা ঘরের নির্মাণশৈলী

ইসলামিক স্থাপত্যের অভাব নেই দেশে, বিদেশে। তবে ইসলামের সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপত্য বলতে গেলে বলতে হবে কাবা ঘরের কথা। যথন গোটা বিশ্বেই সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি তখনই শুরু হয়েছিলো। ইসলামের শীর্ষ এই তীর্থ স্থানের নির্মাণ কাজ।

কালে কালে নানা পারিবর্তন, সংযোজন আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে বদলেছে নকশা, ডিজাইন আর উপকরণ। প্রথম নবী আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত কাবার নির্মাণে যত পরিবর্তন আর সংযোজন হয়েছে তার সর্বশেষ রূপই আমরা বর্তমানে দেখতে পাই।

কাবার বর্তমান রূপ

বহুবার পুন:প্রতিষ্ঠা ও সংস্কারের পর যে কাবা আমরা পেয়েছিলাম আমাদের আখেরি নবীর সংস্কারের মধ্য দিয়ে আজ সে কাবাই মুসলিমের ইবাদতের কেন্দ্রবিন্দু। পৃথিবীর যে প্রান্তেই মুসলমান থাকুক সবার কিবলা হিসেবে ধরা হয় মসজিদুল হারামের কেন্দ্রে অবস্থিত পবিত্র কাবা ঘরকে।

এটি কালো রঙের বিশেষ কাপড় ‘কিসওয়া’ দিয়ে আবৃত থাকে কাবা ঘর। এই কিসওয়া যা প্রতিবছর পরিবর্তন করা হয়। কাবার উচ্চতা প্রায় ১৩.১ মিটার এবং এর চারটি কোণের আলাদা নাম রয়েছে—রুকনে ইয়ামানি, রুকনে ইরাকি, রুকনে শামি ও রুকনে হাজরে আসওয়াদ।

কাবার স্থাপত্যশৈলী ও গঠন

কাবা ঘরের চার বাহু দৈর্ঘে্য সমান। সহজ ভাষায় এটি বর্গাকৃতির। চার দেয়ালের উচ্চতা গড়ে প্রায় ৪৫ফুট। সাধারণ হিসেবে যা চার তলা ভবনের সমান। পূর্ব দেয়াল ৪৮ ফুট ৬ ইঞ্চি, পশ্চিম দেয়াল ৪৬ ফুট ৫ ইঞ্চি, উত্তর দেয়াল (হাতিমের পাশ) ৩৩ ফুট এবং দক্ষিণ দেওয়ালে (কালো পাথর কর্নার থেকে ইয়েমেনি কর্নার) ৩০ ফুট।

কাবা ঘরের মেঝে মার্বেল ও চুনাপাথর দিয়ে তৈরি। ভেতরের দেয়ালের পরিমাপ ১৩ মি × ৯ মি (৪৩ ফুট × ৩০ ফুট), ছাদের অর্ধেক পথ টাইল্ড, সাদা মার্বেল দিয়ে তৈরি। মেঝে স্থলভাগ থেকে প্রায় ২.২ মি (৭ ফুট ৩ ইঞ্চি) উপরে অবস্থিত যেখানে তাওয়াফ করা হয়।

কাবাঘরের দুটি দরজা ও একটি জানালা ছিলো। বর্তমানে শুধু একটি দরজা রাখা হয়েছে। ভূমি থেকে ২.৫ মিটার (৪.২ ফুট) উচ্চতায় যার দৈর্ঘ্য ৩.৬ মিটার (১১.৮ ফুট) ও প্রস্থ ১.৬৮ মিটার (৫.৫ ফুট)। দরজাটি বাদশা খালিদ ২৮০ কেজি স্বর্ণ দিয়ে তৈরি করেন।

কাবা ঘরের প্রবেশের পথে  ছয়টি শিলালিপিসহ বেশ কয়েকটি শিলালিপি রয়েছে। কাবার ভেতরে রয়েছে তিনটি স্তম্ভ। একটি এবং অন্য দুটি স্তম্ভের মাঝখানে রাখা আছে একটি ছোট বেদি। বাব উত-তওবাহ বা ডান পাশের দেয়ালে আছে একটি সিঁড়ি। এ সিঁড়ির মাধ্যমেই যাওয়া যায় কাবার ছাদে। ছাদ এবং সিলিং আলাদাভাবে দুই স্তরে বিন্যস্ত। স্তরগুলো স্টেইনলেস স্টীল- ক্যাপড এবং সেগুন কাঠ দিয়ে তৈরি।

কাবা ঘরের ধারাবাহিক সংস্কার

প্রথম কাবা নির্মাণের পর তা বহুবার সংস্কার হয়েছে। যুগে যুগে কাবার সংস্কার যেভাবে করা হয়েছে তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

কাবা, প্রত্যেক মুসলিমের ধর্মীয় আবেগ। আল্লাহর প্রতি ভয় আর ভালোবাসায় প্রত্যেক মুসলিম সিক্ত সবসময়। তবে আরও অনেক দীর্ঘ ইতিহাস আছে কাবা ঘরের। আছে অনেক গল্প, অনেক ঘাত, প্রতিঘাত এবং লড়াইয়ের ইতিহাসও। কালক্রমে কাবার দায়িত্ব নিয়েছেন অনেক নবী। আখেরী নবী মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ সংরক্ষণ করেছেন কাবা এবং উপহার দিয়ে গেছে অগণতি মুসলিমকে।

Related Posts

আধুনিক বাড়ির নকশায় গৃহস্থালি কাজ ও করিডরের বিবর্তন

একটি বাড়ির নকশায় করিডর বা চলাচলের পথকে সাধারণত খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বসার ঘর, শোবার ঘর,…

আধুনিক বাড়ির স্বপ্ন: মানুষকে স্বাধীন করার প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার সংকট

আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ, আরামদায়ক ও স্বাধীন করে তোলা। বিংশ শতাব্দীতে স্থপতি…

পরিবেশগত নৈতিকতার আলোকে স্থাপত্যের ১০টি প্রধান চ্যালেঞ্জ

স্থাপত্য কেবল ভবন নির্মাণ কিংবা নান্দনিক নকশা তৈরির শিল্প নয়; এটি মানুষের জীবনযাত্রা, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবীর…

হাসপাতালে রোগী-কক্ষে ঘরোয়া আবহ দিচ্ছে কোয়ালুর নতুন ফার্নিচার

হাসপাতালের রোগী-কক্ষ বলতে আমাদের চোখে সাধারণত ভেসে ওঠে সাদা দেয়াল, ঠান্ডা আলো আর যান্ত্রিক পরিবেশ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে…

01~1
previous arrow
next arrow

Bandhan Cover

সর্বশেষ

Trending Posts

Gallery

বায়তুর রউফ জামে মসজিদ স্থপতি মেরিনার অনন্য স্থাপত্যকর্ম
করিডোর
house
01
হাসপাতালে রোগী-কক্ষে ঘরোয়া আবহ দিচ্ছে কোয়ালুর নতুন ফার্নিচার
10
09
ফর্ম ফলোজ ফিকশন: ফাংশনের বাইরে ছয়টি ডিজাইনের অনুসন্ধান
প্রকৃতির দামও হিসাব করছে ভুটান: জিডিপির পাশে জিইপি