বাংলাদেশের দ্রুত এগিয়ে চলা অর্থনীতির প্রতিচ্ছবি এখন শুধু পরিসংখ্যানেই নয়, দৃশ্যমান হচ্ছে স্থাপত্যেও। রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় নির্মাণাধীন ‘Dhaka Tower’ সেই পরিবর্তনেরই এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠছে।
নেদারল্যান্ডসের বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান OMA-এর ডিজাইন করা এই ভবনটি বাংলাদেশে তাদের প্রথম প্রকল্প। প্রায় ১৫০ মিটার উচ্চতার এই আকাশচুম্বী ভবনটি নির্মাণ শেষ হলে দেশের অন্যতম উঁচু ভবন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

বর্তমানে প্রকল্পটি পুরোপুরি নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে। ২০২৩ সালে এর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এবং এখনো কাজ চলমান। ডেভেলপার শান্তা হোল্ডিংস-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, টাওয়ারটি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। অর্থাৎ, এটি এখনো একটি চলমান প্রকল্প হলেও ইতোমধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি তৈরি করেছে। এমনকি স্পেস বিক্রয়ের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।

ঢাকার শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত তেজগাঁও এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে আধুনিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতেই দাঁড়াচ্ছে ঢাকা টাওয়ার। স্থাপত্যের দিক থেকে ভবনটি একেবারেই ভিন্নধর্মী। দুটি ত্রিভুজাকৃতির ফ্লোর প্লেটকে একটি কেন্দ্রীয় কোর দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে, যা ভবনটিকে দিয়েছে অনন্য জ্যামিতিক রূপ। এই নকশা প্রাকৃতিক আলো ও খোলা দৃশ্য নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভবনটির অবস্থান হাতিরঝিল লেকের তীরে হওয়ায় এখান থেকে পাওয়া যাবে শহরের মনোরম দৃশ্য। উপরের অংশে থাকবে রেস্টুরেন্ট ও পাবলিক অবজারভেশন ডেক, যা সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে।
ঢাকা টাওয়ারের ভিত্তি অংশটিও বিশেষভাবে পরিকল্পিত। প্রচলিত টাওয়ার-পোডিয়াম ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে এটি পিরামিড আকৃতির বেজ ব্যবহার করেছে, যেখানে রয়েছে বড় বড় অ্যাট্রিয়াম, খোলা জায়গা, খুচরা দোকান ও সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা।

প্রকল্পটির নকশায় স্থানীয় সংস্কৃতির ছোঁয়াও স্পষ্ট। ভবনের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত ডিজাইন মোটিফে ঢাকার জলাভূমি ও জলভিত্তিক ভূপ্রকৃতির প্রতিফলন দেখা যাবে, যা আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের সংযোগ তৈরি করে।

সব মিলিয়ে ঢাকা টাওয়ার এখনো সম্পূর্ণ না হলেও, এটি ইতোমধ্যেই একটি পরিবর্তনশীল অর্থনীতির, এবং একটি ভবিষ্যৎমুখী নগর পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠছে। নির্মাণ শেষ হলে পরিবেশ ও নগরের সাথে এর সম্পর্ক এই শহরের আত্মপরিচয়কেও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।

প্রজেক্ট ক্রেডিটস
স্থপতি: OMA
পার্টনার: ইযাদ আলসাকা
প্রকল্প পরিচালক: ক্যারল প্যাটারসন
প্রকল্প স্থপতি: জোনাথন টেলক্যাম্প
স্থানীয় স্থপতি: DWm4 Architects
স্ট্রাকচার: Meinhardt Group
এমইপি (MEP): Meinhardt Group
ফ্যাসাড ইঞ্জিনিয়ার: Meinhardt Facade Technology
ল্যান্ডস্কেপ: One Landscape
লাইটিং: Lightbox
ফায়ার কনসালট্যান্ট: IGnesis Consultants




















